ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

বিগত কতক দিবস ধরিয়া বহুল প্রচারিত আন্তরজালভিত্তিক পত্রিকা বিডিনিউজ চব্বিশ ডট কম এর ব্লগে অতিশয় বিজ্ঞ ব্লগারগণ নারীজাতির একটি ক্ষুদ্র পরিধেয় বস্ত্রখন্ড* লইয়া আপন আপন জ্ঞানের ভান্ডার উপুড় করিয়া অপরাপর সল্পজ্ঞানসম্পন্ন পাঠকদের জন্য তাহাদের মনিমুক্তা সমমূল্য জ্ঞানরাশি উজাড় করিয়া তবেই নিস্তার পাইতেছেন । না উল্লেখ করিলেই নয় , ইহাতে আমার নিজেরও উক্ত বিষয়ে সম্যক ধারনালাভ হইতেছে। কেহ এই ফুরসতে কবিতা লিখিয়া , আবার কেহবা দর্শন শাস্ত্রের ছাঁচে ফেলিয়া , এমনকি কেহ কেহ ধর্ম বিদ্যার গভীরতা পারদর্শিতা প্রদর্শন করিবার মওকা হাতছাড়া না করিয়াই নিষ্ক্রান্ত হইতেছেননা ।

বিষয়টি অত্যন্ত আগ্রহোদ্দীপক বিধায় , ওড়না সংক্রান্ত আলোচনায় কেহ পিছপা হন নাই । কে নেই এই “টানাটানিতে” ? — ইঞ্জিনিয়ার , ডাক্তার , দার্শনিক ,পুলিশ , বিজিবি ,সাংবাদিক , নাগরিক সাংবাদিক, ছাত্র , হুজুর — লক্ষনীয়ভাবে সকলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ওড়না । হবেইবানা কেন?

উল্লেখ্য, আরোও একটি শ্রেণীর ব্লগার আছেন যাহারা প্রগতিশীলতার ধারক বাহক , তাহারাইবা এই সুযোগ কাজে লাগাইবেননা কেন ? তাহারাওযে সকল বিষয়েই নিজ মস্তিষ্কে অত্যুন্নত জ্ঞান ধারন করিয়াই প্রগতিশীলতার ঝান্ডা উড্ডীন রাখিয়াছেন বাংলাদেশে ( নাকি বাঙলাদেশে ? ) । এমনকি এই জমিনে ইসলামধর্মকে হেফাজত করিয়া রাখিবার ঠিকাদারি চুক্তিতে যাহারা আত্মনিয়োগ করিয়াছে , তাহারাও অত্যন্ত জজবা সহকারে নসিহত প্রদান করিতেছেন যে ধর্ম এবং উক্ত বস্ত্রখন্ডটি যে এক সূত্রে বাঁধা । ইহাতে আমাদের ন্যায় আম্রব্লগার-পাঠকদের বিনা পুঁজিতে লাভের পাল্লা ভারী হইতেছে ।

*বস্ত্রখন্ডটির নাম ওড়না ।

বস্ত্র খন্ডটির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয়তা এবং অপ্রগতিশীলতা লইয়া দেশব্যাপী আলোচনা করিবার সুযোগ সৃষ্টি করিয়াছে বিদ্যালয়ের নিম্নশ্রেনির একটি পুস্তক , ইহা সকলেই অবগত আছেন ।

ইত্যাদি সকল জ্ঞানগর্ভ আলোচনা সমূহের পাঠ লইয়া আমি চিন্তামগ্ন হইয়া পড়িয়াছি ঐসকল আলোচকবৃন্দের নিকট আমার মানসপটে উদিত হওয়া দুইটি প্রশ্ন কিরূপে উপস্থাপন করিব ? ইহাতে ধর্মনাশ হইবে কিনা ? বা প্রগতিশীলতার অগ্রযাত্রার প্রতি কটাক্ষ হইবে কিনা ? ইত্যাদি ইত্যাদি ভাবিয়া ব্যাকুল হইয়া পড়িয়াছি ।একবুক সাহস লইয়া আপনাদের নিকট প্রশ্ন সহকারে হাজির হইলাম ।

আমার মানস পটে উদিত হওয়া প্রশ্নসমূহ নিম্নরুপঃ-

প্রশ্ন নং ১/ ওড়না নামক বস্ত্রখন্ডটির পরিধানের প্রয়োজনীয়তা কী ? এবং ওড়না কি এমন কোন পরিধেয় যে তাহা পরিধান না করিলে শরীরের কোন একটি অংশ অশালীনতার সহিত প্রকাশ্যে গোচরীভূত হইবে ?

প্রশ্ন নং ২/ পুরুষগণ কিহেতু নিম্নাঙ্গে পরিধেয় বস্ত্রের অভ্যন্তরে জাঙ্গিয়া ( ত্রিভুজাকৃতির একটি ক্ষুদ্র বস্ত্র , যাহার সন্মুখ অংশে একটি বিশেষ অঙ্গের জরুরী নির্গমনের পথ বর্তমান ) পরিধান করে ? এবং জাঙ্গিয়া কি এমন কোন অত্যাবশ্যকীয় পরিধেয় , যাহা পরিধান না করিলে পুরুষগণের কোন অংগবিশেষ অপ্রয়োজনে সর্বসম্মুখে প্রদর্শিত হওয়ার ভয় বিদ্যমান ?

যদি না হয় ———–

এখন সম্পূরক প্রশ্ন করা কেন সমীচীন হইবেনা ? যে ,

১ / যাহারা প্রগতিশীলতার ধারক বাহক হইয়া , দার্শনিকতার কৌলীন্যে চিন্তান্বিত হইয়া সমাজে ওড়নার পশ্চাতপদতার যুক্তিতে সরব , তাহারা নিম্নাঙ্গের প্রধান পরিধেয় বস্ত্রের অভ্যন্তরে জাঙ্গিয়া পড়াকে কেন বাহুল্য জ্ঞান করিয়া জাঙ্গিয়া পরিধান করা হইতে বিরত থাকিবেন না ? যদি তাহারা জাঙ্গিয়া পরিধান না করেন ,এবং ইহাতে তাহাদের একটি বিশেষ অংগের নড়নচড়ন পরিধেয় বস্ত্রের উপর দিয়া জনসম্মুখে প্রদর্শিত হয় , ইহাতে প্রগতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হইবে কিনা ?

২/ যাহারা বাংলার জমিনে ইসলাম ধর্মকে কায়েমে হেফাজত করার জেহাদে শামিল হইয়া শহীদ হইবার প্রত্যয়ে বজ্রমুষ্ঠি আসমানে নিক্ষেপ করেন , তাহারা ওড়নার প্রয়োজনীয়তা এবং ইহার আকার আকৃতি কেমন হইবে তাহা নির্ধারণে দিনরাত গবেষনায় রত আছেন । সেই সকল মরদে মুমিনগণ (৯৯%) কেন নারীর ওড়না পরিধান প্রয়োজনীয় বলিয়া নিজেরা জাঙ্গিয়া পরিধান করা হইতে বিরত রহিয়াছেন ?

হে মরদে মুমিন , আপনারা যখন আপনাদের ঢিলাঢোলা সালোয়ার-কুর্তা জাঙ্গিয়াবিহীন পরিধান করিয়া বুক ফুলাইয়া হাটিয়া চলেন , আপনাদের সালওয়ারের কোমর-দড়ির ঈষৎ নিম্নে একটি ছোট বস্তুর ডান বাম নড়াচড়া চোখে পড়িতে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়না ।

আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন রহিল , আপনারা জাঙ্গিয়াকে অপ্রয়োজনীয় বস্ত্রখন্ড বিবেচনা করিয়া বিশেষ অঙ্গের নড়াচড়া প্রদর্শনপূর্বক হাঁটাচলা করিতে পারিলে , নারীর জন্য এই বাড়তি বস্ত্রখন্ডের জরুরত নাই বলিতে এতো কুন্ঠাবোধ করিতেছেন কেন ?

**** শিরোনামের সহিত বিষয়বস্তু সামঞ্জস্য আছে কিনা , বিচার প্রার্থনীয় ।
*** পাঠকসংখ্যার ( হিট) বিবেচনায় পরবর্তী সংস্করণ প্রকাশিত হইবে ।