ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

” একজন সুরঞ্জিতের মৃত্যু ও আমজনতা সমাচার ” শিরোনামের ব্লগ পোস্টটি পড়িবার পর লেখক মহোদয়ের বরাবরে দুইচারি কথা লিপিবদ্ধ করিবার খোয়াইয়েশ দমন করিতে পারিলাম না ।

তিনি লিখিয়াছেন ——-
“সুরঞ্জিত সেনের মৃত্যুর খবর প্রচার হওয়ার সাথে সাথেই আমাদের দেশের সোনার ছেলেরা তার সমন্ধে ঢালাও ভাবে ফেসবুকে স্টাটাস দেওয়া শুরু করে দিল ।”

প্রথমত ধরিয়া লইলাম লেখক সোনার ছেলে নন । তিনি কিসের ছেলে তাহা তিনি কোথাও ব্যক্ত করেন নাই ।

যাহাই হউক মানিলাম আপনি একজন ব্লগার, জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান ভ্রাতা , আপনার অতি উৎকৃষ্ট নিবন্ধখানা পাঠ করিয়া যাহারপরনাই চমৎকৃত ও আহ্লাদিত হইয়াছি। এই বিডিব্লগ ইহলোকের আলো বাতাস দেখিবার পর আপনিই এই প্রথম একজন দাওয়াতের মর্মবাণী আমাদিগকে শুনাইলেন । এই হেতু আমি আহ্লাদিত বোধ করিতেছি। কিন্তু জনাব আপনার নিবন্ধের কিঞ্চিত অংশ আমার মস্তিস্ককূহরে প্রবেশ করিতেছেনা বিধায় আপনার নিকট আরোও বিশদ ব্যাখ্যার আরজি পেশ-এ-খেদমত করিতেছি । গোস্তাখী মাফ করিবেন ।

“এখন আসি আমজনতার দিকে । যারা তেনাকে হিন্দু হওয়ার কারণে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেছেন তাদেরকে বলতেছি আপনি কতবার তার হেদায়েতের জন্য তার কাছে গিয়েছিলেন? ফেরাউন নি:সন্দেহে সুরঞ্জিতের চেয়েও নিকৃষ্ট ছিলেন এতে কোন সন্দেহ নাই ।”

প্রথমত আপনার নিবন্ধ হইতেই উদ্ধৃতি দিয়া সবিনয়ে প্রশ্ন করিতেছি যে , আপনি কি ইহা বুঝাইতে চাহিয়াছেন যে , সুরঞ্জিত বাবুতো নিকৃষ্ট ছিলেনই , তথাপি তিনি ফেরাউন হইতে নিকৃষ্ট ছিলেন না ।

যেমন আমি হয়তো আপনাকে বুঝাইতে পারিনাই , ধরুন আপনি মৃত্যুবরণ করিলেন — আমরা আপনার সুনাম করিতে যাইয়া বলিতে শুরু করিলাম — আঃহ ! মরহুম আসাদুজ্জামান ভাই নিঃসন্দেহে ইয়াহিয়া খান কিংবা টিক্কা খানদিগের ন্যায় নিকৃষ্ট ছিলেন না । তাহার অর্থ দাঁড়াইবে আপনার উৎকৃষ্টতা জাহির করিতে যাইয়া একজন উত্তম ব্যক্তিকে তুলনায় উল্লেখ না করিয়া অতি ঘৃণ্য ব্যাক্তির সহিত তুলনা করিলাম । তখন ইহা অত্যন্ত মর্মপীড়ার কারণ হইবেনা কি ?

জনাব এইবার আসি আপনার কথিত হেদায়েত প্রসঙ্গে , আপনি আমজনতাকে প্রশ্ন করিয়াছেন তাহারা হেদায়েতের দাওয়াত লইয়া কয়বার সুরঞ্জিত বাবুর দরওয়াজায় কড়া নাড়িয়াছেন ।

জনাব, সুরঞ্জিত বাবু পৈত্রিক সুত্রে হিন্দু হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়া ৭২ বর্ষ ইহলোকে অবস্থান করিয়া স্বর্গলোকে যাত্রা করিয়াছেন । তিনি জ্ঞানে গরিমায় শিক্ষা দীক্ষায় অতি উৎকৃষ্ট মানের একজন মানুষ হইয়াই তাঁহার জীবন পরিচালিত করিয়াছেন।যতদূর জানা গিয়াছে , তিনি লোকদিগের মধ্যে নিজ অর্জিত জ্ঞান বিতরন করিতেন , লোকেরা কখনও তাঁহাকে জ্ঞান দান করিতে গিয়াছেন কিংবা হেদায়েতের দাওয়াত দিতে হইবে এই রূপ প্রয়োজন কেহ বোধ করেন নাই ।

এই ৭২ বর্ষে ৭৩ এঁর অধিক সংখ্যক পীরে কামেল মুরশিদ সিলেটে আসা যাওয়া করিয়াছেন , কেহ কখনো সুরঞ্জিত বাবুকে হেদায়েত করিবার ইচ্ছা পোষণ করেন নাই । আমার মনে হয় তাঁহারা জ্ঞান করিয়াছিলেন যে , সুরঞ্জিত বাবুতো ভিন্ন একটি ধর্মের অনুসারী , তাহাকে তাহার মত চলিতে দিন । বরঞ্চ পীর কামেল মুরশিদ আলেম ওলামাগণ দেখিয়াছেন মহান রবের নাম , সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ পাকের পবিত্র নাম ( করিম, রহিম,খালেক, মালেক, বাতেন জাহের, আজম, মতি, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি) নিজের নামে ধারণ করিয়া দুনিয়ার সর্ব প্রকারের অপবিত্র কর্ম যাহারা করিতেছে তাহাদেরই আগে হেদায়েতের দাওয়াত দেওয়া উচিত । বুজুর্গ গণ সেই মতেই হেদায়েতের দাওয়াত দিয়াছিলেন। বুজুর্গ আলেম কামেল গণ কোনদিনও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান বা ভিন্ন ধর্মীয় কোন ব্যক্তির নিকট হেদায়েতের দাওয়াত লইয়া যাওয়াকে শোভন মনে করেন নাই । যাহাদিগের অনুসৃত ধর্ম তাহাদিগকে শান্তিতে পালন করি্তে দিবার জন্য শান্তির বাণী ছড়াইয়া গিয়াছেন ইসলামের মুনি ঋষিগণ । মুসা ফেরাউনের যুগের হেদায়েত এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামানায় করিতে গেলে বা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজ্যে করিতে গেলে প্রাসঙ্গিক হইবেনা ।

যেরূপ আজি হইতে কুড়ি বা ত্রিশ বর্ষ পূর্বে যে সমস্ত আলেম ওলামা গণ ওয়াজ নসিহতে হেদায়েত করিতেন এই বলিয়া যে , যে ব্যাক্তির গৃহে টেপ রেকর্ডার কিংবা টেলিভিশন যন্ত্র রহিয়াছে তাহাদের গৃহে ফেরেশতা প্রবেশ করেনা , আজিকে তাহাদের অনেকেই জীবিত আছেন এবং তাহাদের গৃহে বর্তমানে কক্ষে কক্ষে এল ই ডি টেলিভিশন যন্ত্র ডিভিডি সহ শোভা পাইতেছে । জীবিকার প্রয়োজনে সেসকল আলেম ওলামাগণ বর্তমানে তাঁহাদের ওয়াজ নসিহত ডিভিডি চাক্কিতে ভরিয়া ইউ টিউবে উরধ ভরাট ( আপ লোড ) করিতেছেন । তাহাদিগকে জিজ্ঞাসিতে মনোবাঞ্ছা হয় , ফেরেশতা গণ তাহাদের গৃহে অবস্থান করিতেছেন কিনা ।

সুতরাং ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল ওয়াজ ফরমাইতে হইবে নতুবা হিতে বিপরীত ঘটিবার সমূহ সম্ভাবনা ।

এবং বর্তমানে আমরা যাহারা ডিজিটাল আলেম ওলামা আছি আমাদেরও তাহাই করা উচিৎ । অযথা হিন্দু , খ্রিস্টান , বৌদ্ধ বা অবিশ্বাসীদের দাওয়াতের জন্য ধাওয়া করা উচিৎ নহে । আমাদিগের উচিৎ আমরা নিজগণ সর্ব অগ্রে হেদায়েত প্রাপ্তদের তালিকাভুক্ত হইবার তরে ব্রত হই ।

এই অধম জানিতে পারিয়াছে যে বর্তমানে সৌদি আরব নামক ম্যামলেকাতে কম বেশী ১৫ লক্ষ অমুসলমান রহিয়াছে যাহারা যুগ যুগ ধরিয়া সেই রাস্ট্রে বসবাস করিতেছে । সউদ বংশের রাজাদের মাথায় যদি আমাদের ন্যায় হেদায়েতের দাওয়াতের ভূত সওয়ার হইত , তাহা হইলে এক রাত্রিতে একটি বিরাট ওয়াজ মাহফিল এর এন্তেজাম করিয়া সকল অমুসলমানদের বাধ্যতামূলক হেদায়েত নসিব ঘটাইতেন ।

আল্লাহ পাক যদি কাল কেয়ামতের দিনে সৌদি বাদশাহগণ কে জিজ্ঞাসা করেন , ওহে বাদশাগণ তোমাদিগকে লক্ষ কোটী বিলিয়ন ব্যারেল তরল সোনা দান করিয়া অসীম ক্ষমতার অধিকারী করিয়াছিলাম , তোমাদিগের রাজ্যে বসবাস করিয়া মিলিয়ন মিলিয়ন মানব বেদ্বীন হইয়া হেদায়েত প্রাপ্ত না হইয়া কিরূপে মরিল ? আফসোস , আফসোস ! কি জবাব তাহারা দান করিবে ? —– এইরূপ কি হইবে জনাব ?

” আফসোস! বড় আফসোস! কাল হিসাবের দিনে আল্লাহ যদি জিজ্ঞেস করে আপনার উপর দায়িত্ব থাকার পরেও কেন লোকটা বেদ্বীন হয়ে মারা গেল সেদিন কি জবাব দেবেন? ”

জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান ভ্রাতা, এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের যিনি সৃষ্টিকর্তা, যিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা সেই আমাদের রব, আমাদের প্রভু আমাদের আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যদি এরূপ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন, তাহারও জবাব আছে। মাথা নত করিয়াই তাঁহাকে উত্তর দেওয়া যাইবে, ইয়া রব — আমাদিগকে এই রূপ দুঃসাধ্য সাধনের পরীক্ষায় না ফেলিয়া আপনিইতো ফয়সালা করিয়া দিতে পারেন । ইহার পর হইতে মুসলমান বিনা সকল বেদ্বীনগণের সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা বিলুপ্ত করিয়া দিন । দেখা যাইবে আজি হইতে দ্বিশতবর্ষ বাদে আর কাহাকেও বেদ্বীন হইয়া মরিতে হইবেনা । কারণ দ্বিশত বর্ষে বেদ্বীনগণ ইহলোক হইতে বিলুপ্ত হইয়া যাইবেন । তখন সকলেই দ্বীনের হেদায়েতপ্রাপ্ত হইয়াই মরিতে থাকিবে। ইহা কি বেহুদা কল্পনা নহে জনাব
ভাই সকল, স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা এরূপ করিতেছেন না, তখন আমরা কেন এরূপ চুক্তি লইব? যে, হেদায়েতের দাওয়াত দিয়া দুনিয়ার সকল বেদ্বীনকে দ্বীনদার বানাইয়াই পরলোকে পাঠাইবার বেহুদা খোইয়াইয়েশ মস্তিষ্কে লালন করিব?

প্রস্তর যুগের ওয়াজ নসিহত ডিজিটাল যুগে করিলে চলিবে কেন ভাই সকল?

আসুন আমরা সকলে সিধা হইয়া যাই ।

বেদ্বীন গণের চিন্তায় বেসামাল না হইয়া আমরা নিজ দ্বীনের প্রতি সুবিচার করিতেছি কিনা তাহার হিসাব নিকাশ করি ।