ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

স্বভাবগত ভাবেই মানুষ খুব আবেগপ্রবণ । মূলত মানুষের আবেগ আছে বলেই স্নেহ , মায়া , ভালবাসার বন্ধনে একে অপরকে বাঁধতে পারে । আবেগের ঘনত্ব নির্ভর করে সম্পর্কের ওপর। কোন কোন সময় সম্পর্কহীন অযৌক্তিক আবেগেও মানুষ নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। আমার বন্ধু রুপম হঠাৎ করে বুঝতে পারে পাশের ফ্লাটের তমার প্রতি তার অন্যরকম একটা ফিলিংস জন্ম নিয়েছে । সে এর কোন কারণ খুঁজে পায়না । কিন্তু যতই দিন যায় তমার প্রতি তার আবেগের ঘনত্ব বাড়তেই থাকে। একদিন রুপম আবিস্কার করে সে তমাকে ভালোবেসে ফেলেছে ।

খুব বেশিদিন লাগেনি তার অযৌক্তিক আবেগী ভালবাসার আকাশ থেকে ধপাস করে মাটিতে আছড়ে পড়তে । ধকলটা সামলাতে অনেক সময় লেগেছিল আমার বন্ধুটির । এতো গেলো রুপমের কথা। শিউলি, আমার পাড়ার সহজ সরল মেয়েটি মনের অজান্তেই ভালোবেসে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আসিফকে । জগতের শ্রেষ্ঠ মানুষ ভেবে মন প্রাণ সপে দিয়েছিলো । কিন্তু একদিন আসিফের শুধু একটা আচরণে শিউলির মনের ঘনীভূত আবেগ বাস্পের ন্যায় শুন্যে মিলিয়ে গেলো । সহজ সরল মেয়ে শিউলি পারেনি এই আঘাত সহ্য করতে। উপরের দুইটি ঘটনা আমাদের অনেকের মনকে বিষাদগ্রস্থ করে তুলতে পারে । একটা প্রশ্ন কিন্ত মনে হতে পারে, আসলে আবেগ কী? আমার কাছে আবেগকে শূন্য জগতের ঘণীভূত বায়ুর মতোই মনে হয়। যা ভালোবাসা নামক প্রভাবকের সাহায্যে ঘনীভূত হয় আবার ঘৃণা নামক উচ্চতাপমাত্রায় বাষ্পীভূত হয়ে মিলিয়ে যায় মহাশূন্যময়।