ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 
কিছুদিন আগের গল্প, ’আগে যদি জানতাম তবে মন ফিরে চাইতাম’ গানের জনপ্রিয় শিল্পী লাকি আকন্দের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনেক মানুষের মন জোগানোর  প্রয়োজন পরেছিল। এইসব কিংবদন্তিদের অমর কীর্তিগুলোকে আমরা পেটের ভেতর পুষে রাখলেও কীর্তিমানদের কাছে ’মন ফিরে চাইতাম’ লাইনটি চেপে রাখা অভিমান হয়েই দাঁড়িয়েছে । বাংলাদেশের আনাচেকানাচে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া আপনার কঠিন হবে যে কিনা গানের এই লাইন আর সুরটি জানে না । দেশমাতৃকার আদর ভালোবাসা বাড়িয়ে দিতে উনাদের অবদান যতটুকু, ততটুকু দেশের দায়িত্বে থাকা মানুষেরা এদের প্রতি যত্নবান নয়। কেন নয় তা হেনরি কিসিঞ্জারের “তলা বিহীন ঝুড়ি” বাক্য দিয়ে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন বোধ করিনা।
কলসিন্দুর১
ময়লা গায়ের রঙ , গায়ে লাল সবুজের পোশাক পরা মেয়েদের পায়ের জাদুতে দেশের জন্য কিছুদিন আগে একটা ইতিহাস তৈরি হয়েছে । চেয়ারে বসা মানুষদের জন্য কয়েকটা ঝাঁঝালো ভাষণ তৈরি হয়েছে, মিডিয়ার জন্য খবর তৈরি হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য দু’মিনিটের প্রশান্তি সৃষ্টি হয়েছে, ফুটবল বিশ্বে বাংলার মেয়েরা ত্রাসে পরিণত হয়েছে আর সেই যাদুকরদের জন্য আমরা লোকাল বাস তৈরি করেছি ! আশা করি ধন্যবাদটা কাউকে বাদ দিয়ে দেওয়ার মতো মানসিকতা রাখবেন না সেই কলসিন্দুরের মেয়ে অথবা ফুটবল কন্যারা। ভুল হয়তো দেশের সবার নয় । ভুল বরং মেয়ে ফুটবলারদেরই, যারা দুরন্তপনা শরীর-মন নিয়ে রাজনৈতিক ভাষণ না শিখে একট বল নিয়ে বাইশ জনের কাড়াকাড়ির মতো আকাম করে যাচ্ছেন! তাই নয় কি?
Screen Shot 2016-09-07 at 6.10.58 PM
বাংলাদেশে যখন মেসি এসেছিলো টিকিট কিনতে দীর্ঘ লাইন দেখেছি । কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে দু’একদিনের জন্য ঢাকা শহরে নিজেকেও হান্ড্রেড পার্সেন্ট সেফটি মনে করেছি। ইন্টারন্যাশনাল ব্যাপারটাই আলাদা! আর ন্যাশনাল মানেই ’কলসিন্দূর যাও কাদামাখা মাঠে ফুটবল প্র্যাকটিস কর, এই ধর পাঁচশো টাকা মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে আরাইশো টাকার লোকাল বাসে চড়ে গ্রামে ফিরে যাও। পারলে আরও কম দামি বাসে উঠ জল-চায়ের খরচটা চালানো যাবে’ । আজ হেনস্তা হওয়া সোনার মেয়েদের জন্য কর্তৃপক্ষরা এমন একটি ’বিহাইন্ড দ্যা সিন’ তৈরি করেছিলো বলেই হয়তো আক্ষেপটা ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। সব কিছুর পরেও কেউ না কেউ ঘটনাটিকে মামুলি ভেবে হয়ত বলবেন, ’ভাই উনারা ফুটবল জিতেছেন বলে তো আর দেবতা হয়ে যান নাই’ । বলতেই পারেন । এই সব মুখস্ত বিদ্যা, মুখস্ত কথা দেশের নীতি নির্ধারকরা আমাদের রক্তে বপন করে দিয়েছেন, দেশ বিশ্লেষক হিসেবে আমাদের সবারই ভাবনা চিন্তার কমতি নেই । কিন্তু দেবতা চিনতে ভুল করাটাও  আমাদের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে । এই মাটি আর মায়ের জন্য যারা দেবতা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তাঁরা যখন আমাদের কাছে পান্তা ভাত তখন বাসে বসা ট্রাউজার- জার্সি পরা মেয়েদেরকে উক্তত্য করতেও সমস্যা কোথায়?
আহ! লোকাল বাসটাও যদি সেই মেয়েদের জন্য স্পেশাল করে দেওয়া যেতো ! লোকাল বাসের সামনে অথবা পেছনে একটা পুলিশ গাড়ি ভেউ ভেউ শব্দ করে দৌড়াতো, তখন ঢাকাইয়া জ্যামবহুল  রাস্তার কোন এক লোকাল বাসে বসে  গরম বাতাসে রাস্তার কোন এক জায়গায় তাঁদের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিলেও একটা ভালোলাগা বুক থেকে বেড়িয়ে আসতো। এভাবে প্রতিদিনই অনেকের জন্য রাস্তা ছেড়ে জ্যামে আটকে থাকি। এই ইচ্ছাটা পূরণ হলে বরং নিজের আটকে থাকা লজ্জাটা গলা ছেড়ে বেড়িয়ে যেতো ।

ফেসবুকঃ Nengminza Bapon