ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

গত রমজান মাসের শেষে, ধোবাউড়ার ঘোষগাঁও বাজারের গাড়িতে ভাড়া জিজ্ঞেস না করেই উঠেছিলাম। সুপারভাইজার টিকেটে পাঁচশো টাকা লিখে টাকা চাইলেন। জানতে চাইলাম, ভাড়া যখন তিনশো-আড়াইশো তখন পাঁচশ টাকা কেন? জানালেন, এটা ঈদের বকশিস। পাশে বসা যাত্রীদের জিজ্ঞেস করে জানলাম সবাই বকশিস দিয়েছেন । সুতরাং আমারও বকশিস দিতেই হবে। ঈদের প্রথম বকশিসটা অনিচ্ছা আর রাগ নিয়েই দিতে হবে ভাবিনি। দেখলাম ডাবল ভাড়া দিয়েও বাসভর্তি মানুষগুলোর মুখে ঈদের হাসি লেগে আছে। কিন্তু  মুখে হাসি হাসি ভাব আনার চেষ্টা করেও আনতে পারলাম না। পাশে একজন মহিলা বসেছিলেন। ঢুপ করে ব্যাগটা সিটে রেখেই ভাড়া কেন বেশি এই নিয়ে অনবরত প্যাঁচাল পারছেন অনেক আগে থেকেই। উনি ছাড়া কারো কোন অভিযোগ না থাকায় বকশিস আদায়কারীরা আরামে টাকা গুণে গুণে টিকিট চেক করছেন আর বিক্রি করছেন।

এরপর না হয় ধোবাউড়া পৌঁছালাম । এবার ফেরার সময় শেরপুরের  নালিতাবাড়ি থেকে টিকিট কাটবো তাই কাউন্টারে গেলাম। এবার টিকেট লিখেও দিল ছয়শত টাকা ! কিন্তু নরমাল ভাড়া তিনশো টাকা । এবারও রাগ নিয়ে জানতে চাইলাম, ভাড়া ছয়শ কেন? টিকিট কাউন্টারের ব্যস্ত লোকটি  আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন, ভাই ঢাকা থেকে ফেরার সময় খালি গাড়ী ফিরতে হয়, সুতরাং ছয়শ টাকা না নিয়ে উপায় নেই! ভাবলাম, ভালোই তো! ঈদ শুরুতে বাড়ি আসলাম বকশিস দিয়ে, ফিরছি ফিরতি পথের খালি সিটে বসা ভুতের ভাড়াসহ এখনকার ভাড়া দিয়ে!

এখন কোরবানি ঈদে বাড়ি যাবো ভেবে স্ট্যাশনে গেলাম, গিয়ে শুনি সব জায়গার ভাড়া ছয়শ টাকা! কিন্তু স্টেশনে কারোর কোন অভিযোগ নেই । যে যা পারছে ভাড়া আদায় করছে, যাত্রীরা চাপের মুখে চুপচাপ বাসে বসে গাড়ি ছাড়া অপেক্ষায়!

76_mohakhalibusterminal_020114_03

শুনেছি ঈদে ভাড়া যাতে না বাড়ায় এর জন্য বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাংবাদিক স্টেশনে দাঁড়িয়ে দেখে, পুলিশ দেখভাল করে, মাঝে মাঝে দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী-মিনিস্টাররা বাস স্টেশনে গিয়ে অভিযান চালান। কিন্তু ’ডাবল’ ভাড়ার হয়রানি থামলো  কই? অভিযোগ করার কেউ নেই নাকি অভিযোগ শোনার কেউ নেই?

বাস ভাড়া বেড়ে যাওয়াটা ঈদের  স্বাভাবিক রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, অনিয়ম সবার সামনে ঘটাচ্ছে, সব কর্মস্তরের মানুষেরা ’ডাবল’ ভাড়া দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাচ্ছে দেশ-গ্রামে কিন্তু প্রশাসন এতোটাই নিশ্চুপ মনে হচ্ছে গণপরিবহন মানেই আমাদের ভাগ্না/ভাই বকশিস চাইলে তাদেরকে দেওয়াটাই স্বাভাবিক ! তাই এবারও ডাবল ভাড়া দিয়ে যাবো-ফিরবো আগামীতেও । বোধয়  প্রতিবাদ করতে নেই । প্রতিবাদ করলেই হেনস্তা হওয়ার সম্ভাবনা আছে রাস্তাঘাটে ।

এইসব স্পিড মানিরও অবদান। স্পিড মানিটা কিন্তু আসছে সেঈ বকশিসের এমাউন্ট থেকেই! রশির এই প্রান্ত জনগণের গলায় বাধা অপরপ্রান্ত রাক্ষসদের পেটে। ঐদিকে পেট বড় হচ্ছে আর এইদিকে পাবলিকের গলায় ফাঁস সজোরে আঁটকে যাচ্ছে। কার্টুন আঁকতে পারলে  এঁকে  দেখাতাম।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে  কথাগুলো এক্কেবারেই অফটপিক। সবকিছুকে স্বাভাবিক না ভাবলে আপনি অনুভব করতেই পারবেন না আপনি কতোটা সুখে আছেন ! কিন্তু সমস্যা একটাই- কোনকিছুই স্বাভাবিক নাই । ঈদ মোবারক ।