ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, ডিসেম্বর ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দিল্লির বাসে গণধর্ষণের শিকার সেই মেয়েটির শেষকৃত্য যখন চলছে, তখন পূব আকাশে উঁকি দিচ্ছে নতুন দিনের সূর্য।

এই নতুন দিনে মেয়েটির পরিবারের মতো ক্ষোভ আর শোকে স্তব্ধ পুরো ভারতবাসীর বুঝি একটিই প্রার্থনা- আর কারো যেন এমন পরিণতি না হয়।

বিবিসির খবরে বলা হয়, রোববার ভোর সোয়া ৪টায় একটি বিশেষ বিমানে করে সিঙ্গাপুর থেকে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে পৌঁছায় সেই তরুণীর মরদেহ। হাজারো মানুষের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর ঘন্টাখানেকের মধ্যেই মেয়েটির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সিনেমা দেখে ফেরার পথে দিল্লির একটি বাসে গণধর্ষণের শিকার হয় ২৩ বছর বয়সী সেই মেডিকেল ছাত্রী। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক বন্ধুকেও ব্যাপক মারধর করে ধর্ষণকারীরা। গণধর্ষণের পর মেয়েটিকেও ব্যাপক মারধর করা হয়।

এরই এক পর্যায়ে চলন্ত বাস থেকে তাদের দুজনকেই ছুড়ে ফেলা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা দুজনকে পরে ভর্তি করা হয় দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে।

তিনটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পরও অবস্থা ক্রমেই সঙ্কটাপন্ন হয়ে ওঠায় মেয়েটিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ২৭ ডিসেম্বর। এর তিন দিনের মাথায় শনিবার ভোরে মারা যায় মেয়েটি।

ধর্ষণের ঘটনার পর ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল পুরো ভারত। লড়াকু মেয়েটির মৃত্যুর খবর যখন পৌঁছায়, পুরো ভারতজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

দিল্লি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সর্বাঙ্গে ব্যথা নিয়েও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দুইবার জবানবন্দি দিয়েছিল মেয়েটি। ধর্ষণের ওই ঘটনা এবং ধর্ষণকারীদের বিস্তারিত বর্ণনাও দিয়ে যান তিনি।

ধর্ষণকারীদের যে বিচার চান, তাও ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছিলেন ওই তরুণী।

ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী মারা গেলেও তার পরিবার চায়, তার এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হলেও ভারতের ভূমি যেন নারীদের জন্য নিরাপদ হয়। যেন আর কারো জন্য এই ধরনের পরিণতি না আসে।

চলন্ত বাসে সেই গণধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। মেয়েটির মৃত্যুর ফলে হত্যা মামলার আসামি হিসাবে এখন তাদের মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, একটি সোনালি রঙা কফিনে বন্দি মেয়েটির লাশ নিয়ে একটি গাড়িবহর বিমানবন্দর থেকে দিল্লির জানকপুরি এলাকায় চলে যায়। ওই এলাকাতেই মেয়েটির পরিবারের বসবাস, কিছুদিন আগে পরিবারের সবার সঙ্গে মেয়েটিও সেখানেই ছিল।

এই নৃশংস ঘটনা প্রবল নাড়া দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে।

মেয়েটির এই মৃত্যুকে ‘বীরের মৃত্যু’ অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। ধর্ষকদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অঙ্গীকারও তিনি ব্যক্ত করেছেন।

ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।

সোনিয়া বলেন, “আমাদের দেশের সব নারীকে সুরক্ষা দিতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের পূর্ণ শক্তি এবং আইন ও প্রশাসনের শক্তি দিয়ে লড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত আমাদের।”

“ওই তরুণীর লড়াই বৃথা যাবে না”, বলেন তিনি।

সংগ্রামী এ তরুণীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার রাতে ইন্ডিয়া গেটসহ পুরো ভারতজুড়ে প্রদীপ জ্বালায় ভারতবাসী। সেই মোমের শিখায় মিশে ছিল ক্ষোভ, ধর্ষকদের প্রতি ঘৃণা।

মোমবাতি হাতে ইন্ডিয়া গেইটের কাছে দাঁড়ানো এত তরুণীর অন্য হাতে দেখা যায় একটি পোস্টার, যাতে লেখা- ‘সে মরেনি, শুধু চলে গেছে সেই দেশে, যেখানে ধর্ষণ বলে কিছু নেই।’

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এবি/জেকে/১০৪৯ ঘ.

২৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পিনাকী ভট্টাচা‌র্য বলেছেনঃ

    ভারতীয় হিসাবে আমিও দুঃথিত, লজ্জিত, ক্ষুব্ধ। শুধু আইন নয়, নারীদের জন্য এই পৃথিবীকে নিরাপদ করতে গেলে শুধু শাস্তি দিলে হবে না, বদলাতে হবে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি।

  2. masud বলেছেনঃ

    হিজাব করেন ইনশাল্লাহ আমার মা বোনেরা আল্লাহর হেফাজত থাকবেন।
    পুলিস,সিকিউরিটি কোনও কিছুই মেয়েদেরকে রককা করতে পারবেনা। এমন ড্রেস পরিধান করবেননা যাতে বডিএর সব স্পষ্ট বুজা যাই.

  3. Nazamul Hoque বলেছেনঃ

    মানুষ সৃস্টির সেরা জীব । সেরা জীব হিসেবে এ ধরনের নিকৃস্ট কাজ আমরা করতে পারিনা। আমি নিন্দা জানাই এবঙ দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছি।

  4. দেওয়ান মাহমুদ বলেছেনঃ

    এ কোন বীভৎস রাষ্ট্র ! কতটা ঘুনে ধরা সমাজ ! দুর্নীতিপ্রবণ, শঠ, দুরাচারী, আর প্রবঞ্চক রাজনীতিকসর্বস্ব গণতন্ত্রের এ কোন্‌ ভয়াবহ মূল্য দিতে হচ্ছে ভারতের জনগণকে? ধিক এহেন গণতন্ত্র, ধিক ভারতের রাজনীতিক, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা আর পুরুষ সমাজকে। আমার মতে এই জঘন্য ধর্ষন, নির্যাতন, হত্যা এবং এটিসহ সবকটি অনুরূপ অপরাধ শুধু একা ঐ মদ্যপ বাস ড্রাইভার, আর অন্যান্য ধর্ষকরাই করেনি, সমগ্র ভারতের পুলিশ, বিচারব্যবস্থা, আইনসভা তথা সকল এমপি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত এই অপরাধে পরোক্ষভাবে জড়িত। কারণ তদের দায়িত্ব ছিল পূর্বাপর ধর্ষণের অপরাধগুলোর বিচার করা। মান্ধাতার আমলের আইন পরিবর্তন করা। নারীর প্রতি বান্ধব আইন প্রণয়ন করা, নারীর প্রতি বৈরী চলমান বিচার ও সাক্ষ্য ব্যবস্থা পাল্টানো ও ঘুষখোর পুলিশদেরকে শাস্তি দেওয়া। তার কিছুই ভারতের সরকার, পার্লামেন্ট, বিচারালয় করেনি। এমনকি দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি যিনি নিজেও একজন নারী সেই শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধীও এ বিষয়ে ক্ষমতায় থাকার এতেদিনেও কোন উদ্যোগ নেননি। তাই তাঁদের সবাইকেই এ দায় নিতে হবে। এহেন সব বর্বর ঘটনার পর এখন বিদেশী কোন নারী ভারতে যেতে সাহস পাবেন কি ? ভারতীয় নারীরাই বা এখন কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন ? ভারতীয় পুরুষ সন্তানদের বাবা-মা দের প্রতি আমার প্রশ্ন – কী শিক্ষা দিয়ে বড় করছেন আপনার পুত্র সন্তানদের ? ভারতের আইন প্রণেতাদের কাছে প্রশ্ন – শুধু হত্যা করলেই মৃত্যুদন্ড কেন, কেন ধর্ষনের শাস্তি মৃতুদন্ড নয়? ধর্ষন কি হত্যার চাইতে কোন অংশে ক্ষুদ্র বা তুচ্ছ অপরাধ ? এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সংবাদ মাধ্যমের প্রতি অনুরোধ, আপনারা ধর্ষনের শিকার নারীর পরিবর্তে ঐ সব নরপশু ধর্ষকদের ছবি এবং পরিচয় প্রকাশ করুন, বারংবার প্রচার করুন যাতে করে সবাই তাদের ঘৃণা জানাতে পারে অবিরত। এখন পর্যন্ত ঐ নরপশু বাস ড্রাইভারসহ তার দুস্কর্মের সহযোগী ঐ প্রতিটি ধর্ষকের ছবি কেউ ছেপেছে বলে জানা নেই। ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলো কেবল অসহায় সেই নারীর কথাই বার বার বলে বা লিখে তাঁর পরিবারকে আরও যন্ত্রনার দিকে ঠেলে দিচ্ছ। ভারত সরকার তাঁর পিতাকে দিয়ে টেলিভিশনে বার্তা প্রচার করে বিক্ষোভরত জনতাকে শান্ত হবার অনুরোধ জানিয়েছে। এর দ্বারা নির্যাতিত ঐ মেয়েটির পরিবারকে আরেক দফা নির্যাতন করলো ভারত সরকার। সচেতন ও বিবেকবান বিশ্বজনতার প্রত্যাশা – বাংলাদেশের বিডিনিউজ২৪.কম বা প্রথম আলোর মতো সংবেদশীল প্রতিষ্ঠানগুলো এ ভ্রান্ত নীতিসমূহ পরিবর্তনে সকলকে উদ্বুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে। হতে পারে এ ধর্ষনকারীরা ভারতের অপরাধী, কিন্তু সমগ্র বিশ্ব মানবতা এবং নারী সমাজের শত্রু এরা। নরপিশাচগুলো পশুর চাইতেও অধম, কারণ সৃষ্টিজগতের কোন পশু তার নারী প্রতিপক্ষকে এভাবে নির্যাতন করে না। বর্বর, নির্মম ও জঘন্য এ অত্যাচারের শিকার এবং এর হুমকিতে থাকা ভারতীয় নারীসমাজের প্রতি অনুরোধ – প্রত্যেকে হাতে একটি করে অস্ত্র রাখুন। ছুরি, কাঁটা, ক্ষুর, ড্যাগার, বোমা বা বিষ যাই হোক না কেন। সম্ভব হলে লাইসেন্স করা পিস্তল রাখুন সাথে। চলতি পথে, গাড়িতে, ট্রেনে, বাসে, ট্রামে, মেট্রোরেলে, স্টেশনে, বাসস্ট্যান্ডে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অফিসে বা ঘরবাড়ীতে ধর্ষণকারী এগিয়ে এলে বা যে কোন পুরুষকে তার আচরণ বা চাহনী দেখে সম্বাব্য ধর্ষণকারী বলে বুঝতে পারামাত্র তাকে আঘাত করুন। তার আক্রমণে অসহায় বোধ না করে তাকেই প্রথম আক্রমণ করুন। মনে রাখবেন, offence is the first defense. দয়াময় সৃষ্টিকর্তা (যিনি সকল বিচারকের শ্রেষ্ঠ বিচারক), তিনি ঐ বর্বর নরপশুদের পরকালসহ পৃথিবীতেই উপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন এবং আপনাদেরসহ সমগ্র পৃথিবীর নারী সমাজকে সর্বদা রক্ষা করুন, কায়মনোবাক্যে এই প্রার্থনা করি। – দেওয়ান মাহমুদ।

  5. আনু মোস্তফা বলেছেনঃ

    একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় জীবনের করুন এই পরিসমাপ্তি দুঃসহ বেদনার। পাঠক হিসেবে দিল্লীর নিপীড়িত মেয়েটির ঘটনাপ্রবাহ অনুসরণ করতে গিয়ে জানলাম ভারতে এই ধরনের ভয়ংকর অপরাধের শাস্তি কঠোর নয়, দৃষ্টান্তমুলকও নয়। তুলনায় বাংলাদেশের আইনই অনেক বেশি কঠোর। মেয়েটিকে হারিয়ে ভারতবাসী আজ বেদনার্ত। কাঁদছে গোটা ভারত। বাংলাদেশের সচেতন মানুষও সমব্যাথী। মেয়েটির পরিবার ও শোকার্ত ভারতবাসীর প্রতি আমাদের সকরুণ সমবেদনা রইল। শোকের ¯্রােতে ভাসছে যে পরিবারটি তাদের প্রতিও আমাদের সহমর্মিতা। আমরা অপরাধীদের শাস্তিটা দেখার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

  6. যোদ্ধাবাজ্‌ বলেছেনঃ

    দুঃখজনকভাবে যেটি লক্ষ্য করলাম, পুরো কলামে কোথাও মেয়েটির নাম নেই!!



    আমাদের সবাইকে সঠিক নৈতিকতার আলোকে চলার ক্ষমতা দিক। এই ঘৃণ্য ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি কোথাও না হয়, সেইদিকে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। আমি একটি কথা বিশ্বাস করি; “একটি পরিবারের সঠিক নৈতিক আদর্শই পারে একটি দেশকে সুন্দর করতে”।

    ১০
  7. Rabi বলেছেনঃ

    আমিতো জন্ম থেকেই সমাজকে দেখি।
    কবে তার নামের স্বার্থকতায়
    হয়ে উঠবে, সমবন্ঠনের তীর্থ,
    ধুয়ে যাবে আর্ত্ম চিৎকার,
    চারপেয়ো মানুষগুলো হাটতে শিখবে দু’পায়ে।
    আর আমার স্বপ্নে তুমি আসবে,
    আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলে।

    ১১
  8. মেহেদী হাসান আজাদ বলেছেনঃ

    ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে, “Justice delayed is justice denied” অর্থাৎ বিচার বিলম্বিত মানে সুবিচার অস্বীকৃত। আমরা এই ঘটনার রাতারাতি বিচার দেখতে চাই, দৃষ্টান্তমূলক বিচার, সৌদি আরবের মত প্রকাশ্যে, যেন কালক্ষেপন করে অপরাধীদেরকে শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার কোন পথ তৈরী না করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ বিক্ষুদ্ধজনতার দৃষ্টির আড়াল হলেই অপরাধীদেরকে ভিন্ন দরজা দিয়ে মুক্তি দিয়ে দিবে কোন রাজনৈতিক সরকার, যেন এমনটি না হতে পারে এবার।

    ১৩
  9. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    ভারতবাসির সঙ্গেই আমাদের প্রার্থনা – আর কারও যেন এমন পরিণতি নাহয়। ধর্ষিতা মেয়েটি এইবার পরম শান্তিতে ঘুমোক –
    “যেখানে ধর্ষণ নেই।”
    মৃতের পরিবারেরও আশা যে –
    “আমাদের সন্তানের মৃত্যু ভারতকে নারীদের জন্য নিরাপদ করতে অবদান রাখবে, এটাই আমাদের আশা।”
    (সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রাঘবন গণমাধ্যমে মৃতের পরিবারের এই আশাবাদের কথাটি জানান।) – অনলাইন নিউজ
    আমাদের বাংলাদেশে এমন ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। মেয়েদের নিরাপত্তাবিধানে আরও অনেক সতর্কতা জরুরী আজ বাংলাদেশে।

    ১৬
  10. টিপাই টিপুনি বলেছেনঃ

    দিল্লীতে যে মেডিকেল ছাত্রীটি ধর্ষকদের কারণে মারা গেছে, চিরকালই এ ধরণের কাজ নিন্দার। তবুও তা হচ্ছে। তবে তার সে ধর্ষণ নিয়া ভারত-বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে যে তুমুল প্রতিক্রিয়া হয়েছে, ঠিক এমনটিই যদি সব ধর্ষণের ক্ষেত্রে ঘটতো তা’হলে নিশ্চয় এতোদিনে পৃথিবী থেকে ‘ধর্ষণ’ নামক শব্দটি মিথ হয়ে যেতো।
    এইতো তার কিছুদিন আগে আমাদের এখানেই রাজধানীর দক্ষিণখানে ইভা নামের এক ইন্টারনি ডাক্তারও যে ধর্ষিতা হয়ে মৃত্যু বরণ করলো, কোথায় ছিল আমাদের নারীবাদীরা? কোথায় ছিল আমাদের জাগ্রত জনতা? অথচ একই ঘটনার শিকার ভারতের যে তরুণীকে নিয়ে আমাদের ব্লগ, আমাদের ফেসবুক, আমাদের নারীবাদী, আমাদের পত্রিকার এডিটোরিয়াল, আমাদের বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সর্বত্রই কি তোলপাড়। হোক না তোলপাড়, কিন্তু আমাদের বাড়ির পাশেই যে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়ে মরলো, তাকে নিয়ে কেন ন্যুনতম ছিঁচকে কাঁদুনিও নেই। এ কোন জাগ্রত বিবেক? পত্রিকায় সেটা নিয়ে নিউজ পর্যন্ত হতে চায় না। হলেও কোন কোনাকানচিতে। যাতে কারো চোখেই না পড়ে। এ কোন বিবেক! কোথায় ছিল আমাদের ফেসবুকের বন্ধুরা। কোথায় ছিল আমাদের সকল ব্লগ ও ব্লগার, কমেন্টররা? সরকার কি তাদের সে বিষয়ে কিছু বলতে সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছিল? এই রহস্যজনক মৌনতা থেকেই তো বোঝা যায়, এরা আসলে কি চায়। এরা আসলে কাদের দালাল। এরা যে বিবেকের দালাল নয়, সেটাই স্পষ্ট হয়ে যায়, এই যে উদাহরণ তুলে ধরলাম, তাতেই |
    আজও পত্রিকায় নিউজ, গণধর্ষণের শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী এখন হাসপাতালে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আর এই ধর্ষণ সহযোগিতায় একজন তরুণীও জড়িত! কোন দেশে আছি! এই নিউজটাও সমকাল ছাড়া প্রথম আলোসহ বেশকিছু পত্রিকায় চোখে পড়ার মতো নিউজ করেনি। কেন? এরা আসলে কি চায়? এরা আসলে কাদের দালাল? সে তো কিছুই বোঝা যাচ্ছে না!

    ১৭
  11. টিপাই টিপুনি বলেছেনঃ

    দিল্লীতে যে মেডিকেল ছাত্রীটি ধর্ষকদের কারণে মারা গেছে, চিরকালই এ ধরণের কাজ নিন্দার। তবুও তা হচ্ছে। তবে তার সে ধর্ষণ নিয়া ভারত-বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে যে তুমুল প্রতিক্রিয়া হয়েছে, ঠিক এমনটিই যদি সব ধর্ষণের ক্ষেত্রে ঘটতো তা’হলে নিশ্চয় এতোদিনে পৃথিবী থেকে ‘ধর্ষণ’ নামক শব্দটি মিথ হয়ে যেতো।
    এইতো তার কিছুদিন আগে আমাদের এখানেই রাজধানীর দক্ষিণখানে ইভা নামের এক ইন্টারনি ডাক্তারও যে ধর্ষিতা হয়ে মৃত্যু বরণ করলো, কোথায় ছিল আমাদের নারীবাদীরা? কোথায় ছিল আমাদের জাগ্রত জনতা? অথচ একই ঘটনার শিকার ভারতের যে তরুণীকে নিয়ে আমাদের ব্লগ, আমাদের ফেসবুক, আমাদের নারীবাদী, আমাদের পত্রিকার এডিটোরিয়াল, আমাদের বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সর্বত্রই কি তোলপাড়। হোক না তোলপাড়, কিন্তু আমাদের বাড়ির পাশেই যে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়ে মরলো, তাকে নিয়ে কেন ন্যুনতম ছিঁচকে কাঁদুনিও নেই? এ কোন জাগ্রত বিবেক? পত্রিকায় সেটা নিয়ে নিউজ পর্যন্ত হতে চায় না। হলেও কোন কোনাকানচিতে। যাতে কারো চোখেই না পড়ে। এ কোন বিবেক! কোথায় ছিল আমাদের ফেসবুকের বন্ধুরা। কোথায় ছিল আমাদের সকল ব্লগ ও ব্লগার, কমেন্টররা? সরকার কি তাদের সে বিষয়ে কিছু বলতে সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছিল? এই রহস্যজনক মৌনতা থেকেই তো বোঝা যায়, এরা আসলে কি চায়। এরা আসলে কাদের দালাল। এরা যে বিবেকের দালাল নয়, সেটাই স্পষ্ট হয়ে যায়, এই যে উদাহরণ তুলে ধরলাম, তাতেই |
    আজও পত্রিকায় নিউজ, গণধর্ষণের শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী এখন হাসপাতালে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আর এই ধর্ষণ সহযোগিতায় একজন তরুণীও জড়িত! কোন দেশে আছি! এই নিউজটাও সমকাল (পত্রিকাটির এই ন্যয়তার জন্য প্রশংসা করছি) ছাড়া প্রথম আলোসহ বেশকিছু পত্রিকায় চোখে পড়ার মতো নিউজ করেনি। কেন? এরা আসলে কি চায়? এরা আসলে কাদের দালাল? সে তো কিছুই বোঝা যাচ্ছে না! হয়তো কোনোদিন বুঝাই যাবে না!

    ১৮
  12. টিপাই টিপু নি বলেছেনঃ

    প্রথম আলো’র বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছিলাম তাতে দেখছি ব্যাটাদের খুব দ্রুতই টনক নড়েছে! আজ তারা রিপোর্টটি প্রথম পাতায় ঠাঁই দিয়েছে। গতকাল যা ছিল দ্বিতীয় পাতার এক কলামে….আমার দেওয়া ‘অজ্ঞেয়র দালাল বা অদৃশ্যের দালাল’ উপাধিতে তা’হলে খুবই অশ্বস্তিবোধ করেছে! যাইহোক, তবুও ভালো যে তারা আজ রিপোর্টটি প্রথম পাতায় নিয়ে এসেছে। ধন্যবাদ, প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ

    ১৯
  13. সাখাোয়াত েহােসন বলেছেনঃ

    আসুন ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই৤ ঘৃণা করি এই অপকমেৃর৤ আর আহ্বান জানাই সকল মানুষকে, যে এই রকম অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে৤

    ২১
  14. JASIM UDDIN বলেছেনঃ

    যখন জাহাঙ্গীর নগর বিসবিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেন্চুরী করছিল থখনও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নিশ্চুপ ছিল আর এখন আবার সারা দেশে ধর্ষক রা সক্রিয় তখন ও তারা নিশ্চুপ!!!!!!!!!!!!!!!
    পুলিস,সিকিউরিটি কোনও কিছুই মেয়েদেরকে রককা করতে পারবেনা। হিজাব করেন ইনশাল্লাহ আমার মা বোনেরা আল্লাহর হেফাজত থাকবেন।এমন ড্রেস পরিধান করবেননা যাতে বডিএর সব স্পষ্ট বুজা যাই…………

    ২২
  15. shayan বলেছেনঃ

    একই ঘটনা বাংলাদেশেও ঘটেছে, কিন্তু আমরা কী করতে পেরেছি সে জন্য। আমাদের মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান আছেন একজন। লিমনের ঘটনাটা নিয়ে অনেক লম্ফ জম্ফ পারলেন, কিন্তু ধর্ষণের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটার পরও তার কোনও কার্যক্রম নাই। সত্তিই সেলুকাস।

    ২৩

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...