ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

31_Bus_Fitness_Less_190117_0006
প্রারম্ভিকাঃ

গণপরিবহন হল সাধারণ মানুষের পরিবহন। যে পরিবহনে মানুষ অল্প খরচে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। গণপরিবহনে সব শ্রেণিপেশার লোকজন যাতায়াত করে। সম্প্রতি এই খাতটি সবচে বেশি আলোচনা সমালোচনায় উঠে এসেছে। এই আলোচনা বা সমালোচনার পিছনের কিছু বিষয় তুলে আনার চেষ্টা করেছি এই নিবন্ধে।

সবচে লাভজনক খাত হল এই পরিবহন খাত। ব্যবসায়িক ভাবে যদি বিক্রিত পণ্যের হিসেব ধরা হয়, প্রথমে পণ্য কিনতে হয়, তারপর তা গুদামজাত করতে হয়, এরপর চাকচিক্যময় শো-রুমে তুলে সুন্দর কথার মধ্যদিয়ে বা বিজ্ঞাপন দিয়ে সেই পণ্য বিক্রি করতে হয়, সর্বশেষ সেই টাকা ক্যাশ করে মূল মালিকের কাছে পৌঁছাতে হয়।

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে না গিয়ে সহজে আয় করা যায় এই পরিবহন খাতে। ব্যাংক থেকে বা ঋণ করে একটা বাস নামিয়ে তা মালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত করে স্ট্যান্ডে রাখলেই ড্রাইভার-হেলপার-কনডাক্টররা মিলিতভাবে নিয়ে বাসের ভাড়া বাবদ প্রতিদিনের নির্ধারিত টাকা মালিককে রাতেই বুঝিয়ে দেয়।

সাধারণ পণ্যের ক্ষেত্রে যেই টাকা ক্যাশ হয়ে মূল মালিকের হাতে আসতে মাসের উপর সময় লেগে যায়। পরিবহন খাতে সেই টাকা প্রতিদিন মালিক নিজের হাতে বুঝে পাচ্ছে। এতে করে মালিকরা লাভবান হচ্ছে দ্রুত।

বিনিয়োগঃ

কারা মূলত এই খাতে অর্থবিনিয়োগ করেন? পরিসংখ্যান বলছে, এই খাতে অর্থ বিনিয়োগকারীরা হলেন,

  • পরিবহনখাতে বিনোয়গকারী ব্যবসায়ী,
  • পরিবহন মালিক সমিতির ব্যবসায়ী বা লোকজন,
  • শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন,
  • অর্থবিত্ত সম্পন্ন লোকজন,
  • রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগকারী কিছু ব্যবসায়ী,
  • স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা,
  • রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা ক্ষুদ্র নেতা,
  • মূলধারার রাজনৈতিক কর্মী,
  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তা,
  • পরিশেষে ড্রাইভার, হেলপার, কনডাক্টর মিলিত শক্তি।

প্রকৃত ঘটনাঃ

যে খাত এতো লাভবান সেই খাতে মৌমাছি সবচে বেশি এইটাই স্বাভাবিক। পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয় বা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে গেলে বোঝা যায় প্রকৃত দৃশ্যপট। সরেজমিনে দেখা যায় প্রতি মাসেই প্রকৃত বাসমালিকদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের বাগ্‌বিতণ্ডা মিটানোর জন্য বাসমালিকরা দফায় দফায় মিটিং করছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মালিকদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের হাতাহাতি পর্যন্ত বেঁধে যায়। পরিবহন মালিক সমিতির সকল সদস্য মিলে এই বাগ্‌বিতণ্ডা সমাধা করতে না পেরে দুই শ্রেণির লোকজনদের আলাদা করে দেয়। সায়েদাবাদ, গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে এইসব ঘটনা প্রায়শই দেখা যায়।

কি নিয়ে এই দ্বন্দ্ব? কি নিয়ে তাদের মধ্যকার হাতাহাতি বা বাগ্‌বিতণ্ডা? বিষয়টা তো একদমই সরল। বক্র কোনো গতিপথই এর মধ্যে নেই। পরিবহন মালিকের কাছ থেকে ড্রাইভার-হেলপার-কনডাক্টররা মিলে বাস নেয়, তা চালিয়ে রাতে বাসের ভাড়া পরিশোধ করে মালিকের টাকা মালিককে বুঝিয়ে দিবে আর ড্রাইভার-হেলপার-কনডাক্টররা নিজেদের পাওনা টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে নিবে। বিষয়টা পড়তে এবং শুনতে যতটা সহজ মনে হয় আসলে ততটা সহজ নয়। এর মধ্যে রয়ে গেছে শুভঙ্করের আসল ফাঁকি। সেই ফাঁকিটা আসলে কী?

নিরীক্ষের ঘটনাঃ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও মালিক-শ্রমিক সংগঠনের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ২৩.৫ লাখ যানবাহনের মধ্যে ফিটনেসবিহীন যানবাহন রয়েছে ৩ লাখের বেশি। আর গোটা ঢাকা শহরে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১.২৫ লাখ। এরমধ্যে ৩০ শতাংশ বাস চালকের কোনো লাইসেন্স নেই। মূল বাস চালক ব্যতীত হেলপার বা কনডাক্টররা বাস চালাচ্ছে।

প্রতিবছর বিভিন্ন সময় ফিটনেসবিহীন গাড়ি ধরার জন্যে মোবাইল টিম পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি আটকায়। যেইসব গাড়ির ফিটনেস নেই সেইসব গাড়ি নির্ধারিত থানা নিজেদের কবলে নিয়ে নেয়।

মজার ব্যাপার হল, একটি ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালিয়ে যেইসব মালিকরা নিজেদের পকেট পুড়ছিল তারাই এখন ভিন্ন পরিকল্পনা করে কথিত ‘সিটিং সার্ভিস’ নামে চিটিং সার্ভিস পরিবহন নামিয়েছে। বিষয়টা একটু বিশদে বলি, একটি ভালো মানের গণপরিবহন কিনতে মালিককে ২৫ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। এই বিনিয়োগের পর গাড়িটি সর্বোচ্চ ২০ বছর নির্ধারিত রুটে চলাচল করতে পারে। এই বিশ বছরের মধ্যে গাড়িটিকে বিভিন্ন সময় পরিবর্তন বা সংযোজন করতে হয়। বিশ বছর পর গাড়িটি অকেজো বা ফিটনেসবিহীন হয়ে পড়বে অর্থাৎ গাড়িটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

ঢাকা শহরের বেশিরভাগ গণপরিবহনেরই বিশ বছর অতিক্রান্ত হয়ে পড়েছে। যেহেতু মালিকদের নতুন গাড়ি নামাতেই হবে তাই তারা অতিদ্রুত নির্ধারিত লাভের বেশি আয়ের জন্যে ‘সিটিং সার্ভিস’ চালু করেছে। যার নীতিগত কোনো বৈধতা নেই। বাস মালিকরা রাজনৈতিক প্রভাবের বলে সড়ক পরিবহনের বিভিন্ন খাতে অর্থ লেনদেন করে একরকম অবৈধভাবে নিজেদের ক্ষমতা বলে তা টিকিয়ে রেখেছে। এই শুভঙ্করের ফাঁকিটা কারো কাছে পরিষ্কার না দেখে সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত পরিবহন খাতে প্রতারিত হচ্ছেন।

আড়ালে অবৈধ চিটিং ব্যবসা, নামে সিটিং সার্ভিসঃ

রাজধানীর যেসব রুটে এখন সিটিং সার্ভিস চলছে তার মূলত কোনো অনুমোদন নেই। তাদের নেই কোনো বৈধ ভাড়ার তালিকা। তারা একশ্রেণির রাজনৈতিক অসাধু নেতাদের ইন্ধনে এই সিটিং সার্ভিস চালিয়ে যাচ্ছে। যাতে করে খুব অল্প সময়ে মোটা অংকের টাকা জনগণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতে পারে।

যে কোনো রুটে নতুন ভাড়া সংযোজিত হলে সড়ক পরিবহন বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তার অনুমোদন নিতে হবে এবং সেই তালিকাতে, নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যমর্তী ভাড়া কত হবে তা স্টপেজ সহকারে উল্লেখ থাকবে। সর্বশেষ অনুমোদিত কর্মকর্তার সাক্ষর সহ সিল ও তারিখ দেয়া থাকবে। সবচে বড় দুঃখের বিষয় হল এইসব সিটিং সার্ভিসের বিধিমোতাবেক কোনো ভাড়ার তালিকা নেই। তারা নিজেদের ইচ্ছামাফিক কিছু দূরত্ব হিসাব করে ভাড়ার টিকেট ছাপিয়ে নিয়েছে। এইসব টিকেট দেখিয়ে তারা সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটা দিনে দুপুরে ডাকাতি করার মতো।

যেহেতু তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো ভাড়ার তালিকা নেই এবং নির্ধারিত দূরত্বে ভাড়ার তালিকা থাকলেও তা মানছে না অতএব তারা অবৈধ। এইখানে বলা ভালো, যেকোনো রুটে নতুন ভাড়া সংযোজন হলেই তা সড়ক পরিবহন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ও অনুমতি সাপেক্ষে হবে। কারো ইচ্ছামাফিক বা পছন্দমাফিক প্রেস থেকে বানিয়ে আনা টিকেটে হবে না। এই বিষয়ে যে কেউ ভোক্তা অধিকার আইনে এইসব অবৈধ সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে তিনি সাথে সাথে ক্ষতিপূরণ পাবেন।

ভুক্তভোগী ও প্রতারণাঃ

সাধারণ মানুষজন যারা প্রতিদিন গণপরিবহনে যাতায়াত করে নিত্যদিন কাজেকর্মে যোগদান করেন, নিত্য বা অনিত্য কাজ সমাধা করার লক্ষ্যে যারা প্রতিনিয়ত গণপরিবহন বা লোকাল বাসের উপর ভরসা করেন সেই বিশাল শ্রেণির মানুষজন প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন পরিবহন খাতের কাছে। এরা প্রতিদিনের ভুক্তভোগী।

তাছাড়া নারীদের উন্নয়ন, নারীদের পৃষ্ঠপোষকতা, নারীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সত্যিকার অর্থে যদি কেউ ভেবে থাকেন তবে তিনি দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছর এক বক্তব্যে তিনি পুরুষদের আহবান জানান বাসার কাজেকর্মে নারীদের সহযোগিতা করার। প্রধানমন্ত্রী নারীদের বিষয়ে সবসময় সচেতন থাকেন এবং নারীদের বিষয়ে যেকোনো রকম কটাক্ষ তিনি সহজে মেনে নেন না।

যে দেশে নারীরা সবরকম ক্ষমতার মূলে, সেই দেশে নারীদের এতো অবহেলা কেন? ‘সিটিং সার্ভিস’ নামক পরিবহনে নারীদের জন্যে ৬ থেকে ৯টি আসন বরাদ্দ থাকলেও তার প্রতিটিতে পুরুষরা যখন উঠে বসে পড়ে যখন নারীদের আর উঠতে দেয়া হয়না বা নারীদের জন্যে গাড়ি দাঁড়ায় না। এতে করে নারীরা কর্মক্ষেত্রে আসা যাওয়া করতে গিয়ে ভয়ানক বিপত্তির মুখে পড়েন, যা বর্ণানাতীত। প্রধানমন্ত্রীর চাওয়াকে বাস মালিক সমিতি বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে। তবে তা দেখবে কে?

বাস মালিদের প্রতারণার একটি উদাহরণ দিলে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ‘এয়ারপোর্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিবহন’ গুলিস্তান-আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যাতায়াত করে। গুলিস্তান থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত প্রতিটি সিটের মূল্য তাদের হিসাব অনুযায়ী ৩৫ টাকা (প্রতি কিমি অনুযায়ী এই ৩৫ টাকা অনেক বেশি)। বাসে সিট সংখ্যা ৪০টি। গুলিস্তান থেকে বাসটি যাত্রা শুরু করে ‘ওয়েবিল’-এ কতজন যাত্রী আছে তা কাগজে লিখে নিচ্ছে।

শুরুর সব যাত্রী আব্দুল্লাহপুর যাবে না। কিছু যাত্রী শাহবাগ নেমে যাবে। গুলিস্তান থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ১৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। শাহবাগ থেকে কিছু যাত্রী এয়ারপোর্ট নেমে যায়। তাদের কাছ থেকে ৩৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। এরপর একই সিটে এয়ারপোর্ট থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। এতে করে একটি নির্দিষ্ট সিটের মূল্য দাঁড়ায় ৫৫ টাকা। একে তো ৩৫ টাকা ভাড়া আদায়েরই কোনো অনুমোদন নেই তার উপরে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ৫৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে ৩/৪ জন যাত্রীকে কন্ডাক্টর দাঁড়িয়েও নিয়ে যায়। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে তখন তাদের নামিয়ে দেয় অনেক সময় যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। এতো গেল একটি নির্দিষ্ট রুটের কথা। বলা ভালো, সবচে বেশি সংখ্যক ভাড়া অনুমোদনহীনভাবে আদায় করা হয় মিরপুর রুটে।

আর যাত্রীরা যখন প্রতি সিটের হিসাব চায় তখন ড্রাইভার, কন্ডাক্টর শুরু করে অসভ্য আচরণ। মাঝে চেকাররূপী সন্ত্রাসীরা উঠে যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেয়। কি পরিমাণ ঔদ্ধ্যত হলে তারা এইরূপ আচরণ করতে পারে। যে ড্রাইভার, হেলপার, কন্ডাক্টর, চেকার, মালিকের বেতন এবং লাভ হয় জনগণের টাকায় তাদের এইরূপ অসভ্য বর্বর আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রতিটি রুটে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে, কম যাত্রী পেলে বাস ছাড়া যাবে না। সব রুটে ‘ওয়েবিল’টা এই কারণেই চালু করা হয়েছে যাতে করে কতজন যাত্রী নির্দিষ্ট স্টপেজে উঠল তার হিসাব বাস মালিক পর্যন্ত পৌঁছায়। অবশ্য সিটিং সার্ভিসের নামের এইরূপ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা আজকের নয়। চেকার, কন্ডাক্টর আর ড্রাইভার মিলে টাকা কম দিতে দিতে বহু বাস মালিককে তারা পথে বসে বসিয়ে দিয়েছে।

 

স্টুডেন্ট পাস বা হাফ পাসঃ

সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ তাঁর শাসনামলে, সবচে বেশি সুবিধা দিয়েছিলেন ছাত্রদের। কারণ তিনি জানতেন ক্ষমতায় থাকতে হলে ছাত্রদের উত্তপ্ত করা যাবে না। তাদেরকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে, যদিও এই ছাত্ররাই পরিশেষে এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।

এরশাদ সরকারের আমলে ছাত্ররা নিজেদের পরিচয় পত্র দেখিয়ে অর্ধেক ভাড়ায় যেকোনো গণপরিহনে চড়তে পারতো, অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করে সিনেমা দেখতে পারতো। এরশাদ সরকার সকল ছাত্রদের জন্য এই নিয়ম তৈরি করেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে। সময়ের স্রোতে অনেকে পদে এসেছে গিয়েছে। ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া পরিশোধের ব্যাপারে কোনো সরকার কখনো কিছুই বলেনি। এরশাদ সরকারের তৈরিকৃত সেই নিয়ম এখনো বহাল তবিয়তে বিভিন্ন গণপরিবহনে চললেও নব্য আগত সিটিংরূপী চিটিং পরিবহনগুলো তাদের বাসের গায়ে ‘হাফ পাস নাই’ এই কথাটা লিখে রেখেছে। ছাত্ররা যখন অর্ধেক ভাড়া দিতে যাচ্ছে তখন ঘটছে বিপত্তি। পরিবহন শ্রমিকদের বক্তব্য, তাদের কোম্পানী হাফ পাস নিতে নিষেধ করেছে। ছাত্রদের বক্তব্য, কোম্পানী এই আইন জারি করার কে? যে আইন সরকার ছাত্রদের জন্যে করে দিয়েছে, তা হঠানোর কোম্পানী কে? এই নিয়ে মাঝে মাঝে কিছু ছাত্রদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের হাতাহাতিও বেঁধে যায়। ছাত্রদের তীব্র দাবী তাদের স্টুডেন্ট পাস বা হাফ পাস দেয়া হোক, না হয় যেকোনো মুহূর্তে তারা তীব্র আন্দোলনে যেতে পারে।

 

উ-তে উপসংহারঃ

পরিসংখ্যান বলছে, সারাদেশে গত ১২ বছরে সাড়ে ৫১ হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৭,২২৬ জন। আহত হয়েছেন ৯৩,৫০৬ জন। পরিবহন খাত দুর্নীতিগ্রস্ত খাত। এই খাতে সংশ্লিষ্ট লোকজনের অবৈধ লেনদেনের কারণে একটি ফিটনেসবিহীন গাড়ি ছাড়া পেয়ে যায়, একজন চালক লাইসেন্স পেয়ে যায়, যার কোনো লাইসেন্স নেই সে বাস চালায়, বাসের হেল্পার বা কনডাক্টর নির্ধারিত ভাড়া নিয়ে কথা বললে যাত্রীদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে, এরাই একসময় ক্ষমতার বলে অন্ধ হয়ে সাধারণ যাত্রীদের চাকার নিচে মেরে ফেলে আর পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা কর্তা ব্যক্তিরা চুপচাপ দেখেন কিছুই বলেন না। আর যখনি সেই বাস চালককে তার কৃতকর্মের জন্যে আদালত থেকে শাস্তি দেয়া হয় তখন পরিবহন খাতের সকল লোকজন অবান্তর অবৈধ ধর্মঘট ডেকে সবার চরম দুর্ভোগের রাস্তা তৈরি করে।

প্রতিটি ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। নিউটনের তৃতীয় সূত্র, পরিবহন খাতে জরুরী ভিত্তিতে প্রযোজ্য। শোষণ মেনে নেয়া বাঙালির নীতিতে নেই, যেকোনো সময় সকলে ভয়ানক বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তাই আশা করি, খুব শীঘ্রই অবৈধ ভাড়া নেয়া বন্ধ হবে, পরিবহন খাতের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে।

 

বিনয় দত্ত

লেখক, নাট্যকার ও গণমাধ্যমকর্মী