নদের ধারে পৌষের কুয়াশা সকাল

/

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ বাস স্টেশনের পাশেই ব্রিজটা– নিচে তার ব্রহ্মপুত্রের শীর্ণ ধারা। চরের জমিতে ধানের, সব্জির চাষ। উড়ে এসে জুড়ে বসা কিছু গুল্মের বাড়ন্ত শরীর সবুজ। পাখিদের হৈচৈ-প্রেম-অভিমান, বাতাসে শীত শীত ঘ্রাণ, বরফ জলে শূন্য সাম্পান, নারীদের স্নান, অভিজ্ঞ কৃষক হেকমত আলী’র ব্যস্ততা আর দুরন্ত মেয়ে টুম্পা’র কৌতুহলী চোখ। সূর্যের মুখ তখনো আড়ালে ভীষণ। পৌষের তেইশ… Read more »

মাকড়শা ও শিশিরের অনিন্দ্য শিল্পিতা!

/

২০১৫ সালের অক্টোবরে মাকড়শা ও শিশিরের যুগলবন্দিতার শিল্প সৌন্দর্য নিয়ে নিপুণ জালের বুনন কারিগর মাকড়শা! শিরোনামে একটি আর্টিকেল লিখেছিলাম। তেমন মাকড়শা জাল ও শিশিরিকা এবার ডিসেম্বরেও আমাকে যারপরনাই মুগ্ধ করল। ভূমি’র গহ্বরের আলো-আঁধারিতে আপন খেয়ালে জাল বুনে চলে মাকড়শা। সবুজ পত্রপল্লব তাকে চারপাশে সাজিয়ে তোলে। আর সাত সকালে শিশির এসে সেই নিপুণ জালে এঁকে দেয়… Read more »

শীতলক্ষ্যা ও পাড়ের গাছগাছালি

/

পানি শুকিয়ে তলা শক্ত হলে পরে আমরা বলি, এ নদী মরে গেছে। বুড়িগঙ্গার পানি শুকোয়নি। শুকোয়নি যখন, মাটিও নরম রয়েই গিয়েছে। কিন্তু তাই বলে বেঁচে আছে কি? বুড়িগঙ্গা নামে বুড়ি হলেও একসময় ছিল মৎসগর্ভা। ছিল একধরণের ডলফিনও। পাড়ের লোকেরা তাকে শুশুক বলেই ডাকতো। শুশুক তো দূরের কথা, আজ মাছেরও অস্তিত্ব নেই। বুড়ি আজ বুড়ি হয়েছে।… Read more »

তাহার পুষ্প-বৃক্ষ প্রেম এবং উহার সংক্রমণ

/

একদিন তাহার বিবাহ হইলো। প্রথম নাইওর হইতে আসিবার কালে পুঁটলাদির সঙ্গে দুইখানা ক্যাকটাস, গোটা পাঁচেক গোলাপ আর চন্দ্রমল্লিকার গাছ এবং আরও কী কী লতাটতা লইয়া উঠিলেন গাড়িতে। পতি তাহার এই সকল বৃক্ষকেন্দ্রিক আবেগের কদর বুঝিতে অপারগ ছিলেন। তাই বিরক্ত, বিস্মিত হইয়াছিলেন; মৃদু স্বরে বলিয়াছিলেন– এইসব কাঁটা-গুল্ম লইয়া ঝামেলার কী দরকার আবার? কিন্তু তাহাকে নিবৃত করা… Read more »

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও পাখির সেলফি

/

১৬ ডিসেম্বর’১৬ গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। সেখানে পাখির খাঁচায় ঢুকতেই দেখলাম- বড় সাদা পাখিটা বসে বসে শীতের রোদ পোহাচ্ছে। মনে হলো এটা পেনিক্যাল অথবা সারস? ভাবলাম সেলফিটা তোলার এটাই মোক্ষম সুযোগ। ওমা! কাছে যাওয়া মাত্র ওর বিশাল ঠোঁট এগিয়ে তেড়ে আসলো। মেয়েকে বললাম, দাঁড়াও ছবি তুলি। ও প্রথমে ভয়ে কাছে যেতে চাইলো না। আমিও নাছোড়বান্দা… Read more »

কচুর কথা

/

কচু একধরনের কন্দ জাতীয় গাছ। আমরা কচুর দেখা পাই রাস্তার পাশে, বাড়ির কানাচে, পতিত জমিতে। অনাদরে-অবহেলায় প্রায়শঃই কচু হয়ে থাকতে দেখা যায় কচুকে। কচুর জাত-বৈচিত্র্য আছে এবং কোনো কোনো জাতের কচু আমরা চাষ করে থাকি। বনে-জঙ্গলে জন্মায় বুনোকচু। বুনোদের প্রতি আমাদের বিশেষ বিরাগ থাকায় আমরা বুনোকচু কচু-কাটা করি না। আমরা কাটি ও কামড়াই মুখীকচু, ওলকচু,… Read more »

নিলাম নাকি নিধন?

/

দক্ষিণ চট্টগ্রামে আমার বাড়ি পাহাড়ে ঘেরা সবুজ অরণ্যে, ভালো করে শ্বাস নিতে পারি। চোখের সামনে ঘটা কথাগুলো বলব- বাংলাদেশের সম্পদ পাহাড় কে রক্ষা করার জন্য সরকার সামাজিক বনায়ন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিল এবং তা প্রয়োগও হয়েছে। যাদের কে বনায়ন দেওয়া হয়েছে এখন তারাই বন দস্যু। রাতের আঁধারে বন কর্মকর্তাদের ফাঁকি দিয়ে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছ। বলতে… Read more »

অতিথি পাখিদের স্বাগতম!

/

অতিথি পাখিরা হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে চলে আসে আমাদের দেশে। এরা একটু উষ্ণতার জন্য আমাদের দেশে আসে আশ্রয়ের জন্য অতিথি হয়ে। আর বাঙ্গালী জাতি হল অতিথি প্রিয় জাতি। তাই আমরা যেন সেই অতিথি পাখিদের প্রতি সু-ব্যবহার করি। তারা যেন আমাদের কাছে ভক্ষণের শিকার না হয়। আর এই শীতে যখন অতিথি পাখিরা আমাদের দেশে… Read more »

শ্যামাসুন্দরী খাল বাঁচাতে সোচ্চার নগরবাসী

/

এক সময় মানুষের কাছে আশীর্বাদ বলে গণ্য হতো রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এখন তা পরিণত হয়েছে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে রংপুর শহরের অধিকাংশ এলাকা ছিল জঙ্গলাকীর্ণ নিম্নাঞ্চল। শহরে ম্যালেরিয়া, পাণ্ডুরোগ ও প্লিহা রোগের প্রাদুর্ভাব ছিলো অতিমাত্রায়। রাজা জানকি বল্লভ ছিলেন রংপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান। তিনি ১৮৮১ সালে রাজা উপাধি… Read more »

২৭০ মিলিয়ন বছরের সাক্ষী ‘গিংকো বিলোবা’

/

চীনের বিভিন্ন স্থানে শীতকালে এক ধরনের হলুদ পাতার প্রতি ছবিপ্রেমীদের আকর্ষণ অনুভব করা যায়। ধারণা করা হয়, এই ধরনের পাতা যে বৃক্ষ থেকে ঝরে পড়ছে তার শেষ বংশধররা এই চীনেই টিকে আছে। তাদের এই বংশের বয়স ২৭০ মিলিয়ন বছর। সেই সময়ে যেসব বৃক্ষ বা লতাগুল্মের জন্ম হয়েছিল, প্রকৃতির বিবর্তনে আজ তারা কেউ বেঁচে নেই। সবাই… Read more »