ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

গ্রামীণ ফোনের হাজারো অনিয়ম, প্রতারণার কথা ইদানিং কয়েকটি পত্রিকায়-ব্লগে উঠে এসেছে। সবুজ বাংলার আলো-বাতাস গায়ে মেখে, হাজারো মেহনতি মানুষের কষ্টের টাকায় নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে এখন চলছে লুটে পুটে খাওয়া দাওয়া। ব্যবসা ফেঁদেছেন, লাভ তো করবেনই, তাই বলে এভাবে? একের পর এক নিত্য নতুন কৌশলে, আকারে – প্রকারে শুধুই লুটপাট। দেখার কেউ নেই, শোনার কেউ নেই। আমাদের কথা যে দেখবে, যারা দেখবে, যে শুনবে, যারা শুনবে, তারা কোন না কোন ভাবে এই দুষ্ট চক্রের সাথে সম্পর্কিত। হয় নগদ নারায়ন নিয়েছেন নতুবা অন্য কিছু (ক্যাশ অর কাইন্ড)। আমার এই স্ক্রিন শটটির দিকে খেয়াল করুন।

গ্রামীন ফোনের বিল সংক্রান্ত ফিরতি এসএমএস

সেপ্টেম্বরের ১ -২ তারিখে ছুটিতে ময়মনসিংহ থাকার সময় ক্রেডিট কার্ডের বিল সংক্রান্ত ব্যাপারে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করি। প্রথমবার প্রায় নয় মিনিট কথা হয় এবং কথা শেষে গ্রামীন ফোনের ফিরতি এসএমএসে জানানো হয় কত মিনিট কথা হয়েছিল, কত টাকা খরচ হয়েছে এবং ব্যালেন্স কত আছে ইত্যাদি। অনেক ক’টা ফোন করতে হবে তাই তাড়াহুড়ো করে গ্রামীন ফোনের সেই ম্যাসেজটা ভাল করে পড়ে মিলিয়ে দেখিনি। আমরা অনেকেই সেটা করি না। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারের ছেলেটি আমাকে কিছুক্ষন পর আবার ফোন করতে বলেছিল। পাঠক জেনে রাখুন এটা একটা নতুন কৌশল। কলের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য এরকম যে কোন সার্ভিস প্রভাইডারের কাস্টমার কেয়ারে আজকাল ফোন করলে ওরা ইনিয়ে বিনিয়ে আপনার কলটি দীর্ঘায়িত করবে নতুবা আবার ফোন করতে বলবে। এতে ওদের লাভ, মোবাইল সেবাদাতা কোম্পানীর লাভ। ৫০% -৫০%। যাহোক আমি ৩০ মিনিট পর আবারো ফোন করি এবং আগের মতই অনেক ঘাট পেরিয়ে, অনেক ভেরিফিকেশন, কাউন্টার ভেরিফিকেশনের পর একটু আগে কাস্টমার কেয়ারের যেই ছেলেটির সাথে কথা বলেছিলাম, তার সাথেই কানেক্ট হই। আবারও ভেরিফিকেশন, কাউন্টার ভেরিফিকেশন পর্ব। আমি ধৈর্য্য হারিয়ে একটু সুর গরম করার পর মাত্র ২০ সেকেন্ডে আমার কাজটি হয়ে যায়। অথচ এর জন্য আমাকে ৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ড অনর্থক ঝুলিয়ে রাখা হয়। শুধুই এটুকু হলে আমি আজ এতদিন পর এই বিড়ম্বনার কথা লিখতাম না। ২০ সেকেন্ডে যেই কাজটি করে দেয়া হল, প্রথমবারেই সেটা করা সম্ভব ছিল। অথচ গ্রামীণ ফোন এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের পারস্পরিক লাভের কারনে ২ বারে প্রায় ১৫ মিনিট সময় আমাকে ব্যয় করতে হল, বিলতো আছেই।

কথা শেষ হবার পর ফিরতি এসএমএস এল। ৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে মোট বিল দেখানো হয়েছে ১৫ টাকা। প্রতি মিনিট ২ টাকা ৪৩ পয়সা! আমি খানিকটা কনফিউজড হয়ে আমার নিশ্চিন্ত প্যাকেজের কলরেট কত সেটা দেখার জন্য গ্রামীণ ফোনের ওয়েব সাইটে লগ ইন করলাম। প্রতি মিনিট প্রায় ৮০ পয়সা ভ্যাট সহ, কিন্তু আমার কলে কেটে নেয়া হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সার উপরে যেটা কোন প্যাকেজের মধ্যেই পড়ে না।

এবার কল করলাম গ্রামীণ ফোনের কাষ্টমার কেয়ারে। ১০-১২ মিনিট পর লাইন পেলাম, জানানো হলো, আমার বিলটি এখনো কাষ্টমার কেয়ারের সার্ভারে এসে পৌঁছায়নি। ত্রিশ মিনিট পরে কল করতে বললো। ৩০ মিনিট পর আবারো ১৫ মিনিটের ওয়েটিং টাইম কাটিয়ে কাষ্টমার কেয়ারের এজেন্টের সাথে সংযুক্ত হলাম। ওরা স্বীকার করলো যে ভুল হয়েছে, সুতরাং নিকটস্থ গ্রামীন ফোন সেন্টারে গিয়ে অভিযোগ জানাতে হবে এবং এটা যে আমারই ফোন তার প্রমানাদি সাথে নিয়ে যেতে হবে। কথা প্রসংগে এর আগের কলটির কথাও জেনে নিলাম। ৮ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে ২১ টাকার উপরে কেটে নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ সেবারে পরেরটার চেয়েও বেশী। ২০০২ সালে রেজিস্ট্রি করে কেনা এবং ২০০৬/৭ সালের দিকে পুনঃরেজিষ্ট্রি করা ফোনের রেজিষ্ট্রেশনের কাগজপত্র তথা সীমের মালিকানার ডকুমেন্ট আমি কোথায় পাবো? ২০০৬/৭ থেকে এই অবধি আমি বাংলাদেশে কমপক্ষে ৬ টি জেলায় এবং দেশের বাইরে কমপক্ষে ৪টি দেশে কাজ করেছি, থেকেছি। সিমের ডকুমেন্ট না চেয়ে বাঘের দুধ আনতে বললেও ভাল হতো। আর কিছু বলার নেই। দুই দিন পর ছুটি কাটিয়ে এনটেবেতে ফেরত এসেছি। যেহেতু সিম সাথে নিয়ে এসেছি তাই এরপর কি হয়েছে জানিনা।

সব ব্লগারকে অনুরোধ করবো, যদি আপনারাও এরকম প্রতারণার স্বীকার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করুন যাতে আমরাও সচেতন হই। প্রতিবাদ, বা অন্য কোন পদক্ষেপের কথা বলবো না। অনেক আগে অনলাইনে সবাই মিলে একদিন গ্রামীন ফোন ব্যবহার না করার জন্য একটা পদক্ষেপের কথা আলোচিত হয়েছিল। সেটা সফল হয়নি বলেই মনে পড়ে। বাস্তবতার কারনে সেটা সম্ভবও না। গ্রামীণ ফোনও সেটা জানে। তাই আর সে পথে যাব না। অন্য কোন পদক্ষেপের কথা আলোচনা করে দেখা যেতে পারে। সবাই ভাল থাকুন আর গ্রামীণ ফোনের বিলের দিকে খেয়াল রাখুন।