ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কল্যানপুর বাস ষ্ট্যান্ড থেকে একটু এগিয়ে ৫ নম্বর সড়কের তাজ মঞ্জিল। স্থানীয়দের কাছে ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত। কেউ বলেন ‘ঢেউ মার্কা’ বাড়ি। গত সোমবার (২৫ জুলাই ২০১৬) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই সময় পুলিশের অপারেশন স্টর্ম-২৬ এ ৯ জঙ্গি বাসাটির মধ্যেই নিহত হয়।

Jahaj bari

আশির দশকে কাস্টমসের হিসাবরক্ষক আতাহার আলী এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। তিনি ওই বাড়িতে থাকেন না। থাকেন যাত্রাবাড়ী এলাকায় তার অন্য একটি বাড়িতে।

সবাই জঙ্গি নিয়ে ব্যস্ত। সামান্য হিসাবরক্ষক কি করে জাহাজের আদলে সুবিশাল এই বাড়ি নির্মান করে ফেললেন সেটার খোঁজ কেউ করছে না। সরকারী চাকুরী করে (সেটা যে কোন পদবীতেই হোক না কেন?), সৎ উপার্জন দিয়ে আর যাই হোক এধরনের বাড়ী কোন আমলেই করা সম্ভব নয়। পত্রিকার খবরে জানা যাচ্ছে যাত্রাবাড়ীতে তার আরও একটি বাড়ী আছে। এসব খবরের বাইরে আতাহার আলী সাহেবের আরো অগাধ সহায় সম্পত্তি থাকাটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। কোন সেই যাদুর চেরাগ তিনি হাতে পেয়েছিলেন? নাকি হিসেবে ভুল করতেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর বের করার সময় এসেছে। শুধু জঙ্গির পেছনে ঘুরলে জঙ্গি সমস্যা দূর হবে না। যেতে হবে আরও গভীরে। ১২ টি ইউনিটের ওই বাড়ির মাসিক ভাড়া কমপক্ষে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ বিশ হাজার টাকা। একটু দেখা দরকার এই বাড়ির হতে আয় বাবদ হিসাব রক্ষক সাহেব বছরে কত টাকার আয়কর দিতেন? নাকি এখানেও হিসাব ভুল করতেন? আমাদের সব প্রশ্নের উত্তর দরকার।

স্বয়ং দুদক প্রধান বলছেন যে দূর্নীতি’র টাকা জংগীবাদের উৎস। আমি সেটা সমর্থন করি। তবে উনি যেভাবে বলেছেন পুরোপুরি সেভাবে নয়। দূর্নীতি, নষ্টামি আর ভন্ডামি দিয়ে যেভাবে দেশ চলছে সেটা আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ নয়। বর্তমান সময়ে জংগীবাদ তো একটা সাময়িক ইস্যু মাত্র যেটা অন্য সব ইস্যুকে আড়াল করে দিচ্ছে। আসল ইস্যু হল দেশ কোথায় যাচ্ছে? পদ্মা সেতু আর ফ্লাইওভার মানেই স্বপ্ন পূরন নয়। এটা হচ্ছে আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখার মত। দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর পরিবারতন্ত্রের রাহু গ্রাস যে আমার স্বপ্নের দেশটাকে কত টুকু গিলে ফেলেছে সেটার হিসাব কিভাবে বের করা হবে? নাকি হিসাব মিলানো যাবে না?