ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

প্রায় মাসখানেক হয়ে গেল ডয়েচল্যান্ড (Germany) এসেছি, কয়েকদিনেই বুঝতে পেরেছি এই দেশের লোকজন আরাম ও শান্তি প্রিয়। লোকজন কাজ করে কম, রিলাক্স মুডে থাকে বেশি। বড় কয়েকটি শহর বাদ দিলে পুরো জার্মানির অন্য শহরগুলো প্রায় ঘুমন্ত থাকে। নেই কোন গাড়ি শব্দ, লোকজনের কোলাহল বা ট্র্যাফিক জ্যামের কথা মাথায় আসে না। এরা খুব সকালে উঠে ঠিক আমাদের দেশের গ্রামের কৃষকদের মত সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করে আর দুপুরের পরে বিশ্রাম। জার্মানিতে শনি ও রবিবার দুইদিন ছুটি আর মঙ্গল ও বৃহস্পতি বার পুরোদিন,  বাকী সোম, বুধ ও শুক্রবার অর্ধেক দিন কাজ করে।

এরা পরিবেশ এর প্রতি বেশ মনোযোগী। এখানে সব হয় কিন্তু ধুলো ওড়ে না। এখানে সবসময় রাস্তা মেরামতের কাজ চলে। চলে সুয়ারেজ পাইপলাইন মেরামতের কাজ কিংবা পানির লাইন বসানোর কাজ, সবই হয় কোন মানুষকে কষ্ট না দিয়ে। এরা ছুটির দিনে রাস্তার কাজ বেশি করে কারণ লোকজনের যাতায়াত কম থাকে। এক্সাভেটর দিয়ে মাটি, বালু, পাথর মানুষের মাথার উপর দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে কিন্তু নিচে একটু ধুলিকণাও পড়ছে না।

এখানে সবচেয়ে বেশি যে কাজে মনযোগ দিতে হয় তা হল গাড়ি চালানো। এখানে ১০০ কিমি বেগে গাড়ি চললেও বোঝা যাবে না যে আপনি এত দ্রুতগামী গাড়িতে আছেন।  এখানে লেন কেউ পালটায় না। বড় শহর ছাড়া অন্য শহরগুলোতে ট্র্যাফিক লাইট খুব কম, সেখানে প্রচুর গাড়ি চলে কিন্তু গাড়ি চাপা খাওয়ার ভয় নেই। আপনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে দূর থেকে গাড়ির ড্রাইভার আগেই গাড়ি স্লো করে দেবে। গাড়ির দিকে তাকালে দেখবেন ড্রাইভার আপনাকে রাস্তা পার হতে বলছে। ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থেকে যদি মনে হয় আপনার হাতে সময় নেই তাহলে ট্র্যাফিক লাইট পোস্টে একটি বাটন আছে হাত দিয়ে চাপ দিলেই রাস্তার লাইটে লাল লাইট জ্বলে উঠেছে আর পথচারির সবুজ বাতি আপনাকে যেতে বলছে। এখানে পথচারির সুযোগ বেশি একটি গাড়ি বা বাসের যাত্রির চেয়ে। এখানে সবচেয়ে চালাক হচ্ছে ট্যাক্সি ড্রাইভার কখন যে এরা আপনার পকেট ফাঁকা করে দেবে টেরই পাবেন না। এত আস্তে গাড়ি চালায় যে ভাড়া বেশি না উঠে উপায় নেই।

আমার মনে হয় জার্মানরা সব চেয়ে বেশি ভালোবাসে ওদের ভাষাকে। কেউ ওদের যদি বলে আপনি কি ইংরেজিতে কথা বলতে ইচ্ছুক? ওরা খুব গর্বের সাথে বলে, আমি ইংরেজিতে কথা বলতে পারি না। চোখে-মুখে লজ্জার কোন ছাপ নেই বরং গর্বের হাসি। আর আমাদের দেশে ইংরেজিতে কথা বলতে না পারলে নিজেকে অনেক ছোট মনে করি বা রাগ উঠলে বাঙালি ইংরেজিতে গালি দিয়ে প্রকাশ করে যে আমি কি হয়ে গেছি! আমাদের বিভিন্ন রকম ভাষা শিখতেই ব্রেনের বেশি ভাগ জায়গা দখল হয়ে যায় আর ব্রেনের যে অন্য অংশ আছে সেগুলো ঠিক মত কাজ করবে কিভাবে? আগে মানুষের জীবন পরে না হয় ভাষা, এখানে একটাই নীতি সবার আগে মানুষের জীবন। এখানে সবার একটাই চেষ্টা মানুষের জীবনকে কত সহজ করা যায় আর আমাদের চেষ্টা জীবনকে কত জটিল করা যায়।