ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

বিয়ের প্রায় ১০ মাস পরে হঠাৎ ঠিক করলাম অনেক চাকরি করা হয়েছে, এবার একটু মন ভরে পাগলামি করা যাক! উঠলো বাই, তো কটক যাই! পরের দিনই চললাম পাসপোর্ট নিয়ে পরিচিত একজন ট্যুরিজম কোম্পানির মালিকের কাছে। উনি বলছিলেন গ্র্রুপে যেতে, খরচ তুলনামূলক কম পরবে। মাথা খারাপ! সেই ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে গ্রুপের সাথে দৌঁড়ে সারাদিনে ১০টা জায়গা দম না ফেলে দেখা! সে আমাদের পোষাবে না। তাই ঠিক হলো; আমরা দুজনেই যাবো; উনি আমাদের ভিসা, ট্রেনের টিকেট আর হোটেল বুকিং দিয়ে দেবেন। সন্দেহ ছিল এত অল্প সময়ের ভেতর আদৌ ভিসা পাওয়া সম্ভব কিনা। ভাগ্য সহায় ছিল, ভিসা পাওয়ার খবর পেলাম,সেই অনুযায়ী সব বুকিং ও দেয়া হয়েছে। ভিসা যেদিন হাতে পাবো, সেদিন রাতেই আমাদের বাস। তাড়াতাড়ি গোছগাছ শুরু করতেই আমার পিতৃদেব বিশাল বাগড়া দিয়ে জানালো যে, আমাদের মতো ছোট ছোট দুজন বালক-বালিকার নাকি একা যাওয়া ঠিক না! বুঝুন অবস্থা…! এরকম কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থাতেই রওনা হলাম এবং তারা দুজনেই আমাদেরকে বাসে উঠিয়ে দিয়েও গেলো! শুরু হলো পথ চলা…।

লোটাস টেম্পল

আমাদের সব কিছুই প্ল্যান করা। সকালে বর্ডার পার হয়ে কলকাতা হোটেলে পৌঁছতে দুপুর হবে আরকি! হোটেলও বুকিং দেয়া। দুপুরে হোটেলে পৌঁছে রাতে ট্রেন ধরার আগে একটু ঘোরাঘুরি করলে আর দোষের কি! তো ডিসেম্বর মাস, ২০১১। বাসে উঠেই দিলাম ঘুম। এটা আমার ছোটবেলার অভ্যাস। আমার বর আমার এই ঘুমকে দুই চোখে দেখতে পারে না! তারপরেও কি আর করা, ঘুমের মাঝেই টের পেলাম বাস নড়ে না তো নড়েই না! অনুসন্ধান করে জানা গেল, এমন কুয়াশার কুয়াশা যে ভোরের আগে বাস আদৌ নড়তে পারবে কিনা সন্দেহ আছে! অগত্যা অপেক্ষা শুরু। সেই সাথে বাবাই এর টেনশন কি হবে কি হবে! আর আমি? বাবাই আছে না? সে থাকতে আবার আমার টেনশন কি! আমি মহানন্দে তার কাঁধে মাথা দিয়ে বিশাল ঘুম। বাসটা থেমে থাকায় অবশ্য ঘুমটা যারপরনাই আরামের হলো!

রোটাং পাসে তুষার বৃষ্টিতে আমরা

যে বাস ভোর বেলা বেনাপোলে পৌঁছানোর কথা সেই বাস পৌঁছালো দুপুর নাগাদ। সেখানকার যাবতীয় কাজ শেষ করে ঐখানেই এক হোটেলে খেয়ে নিলাম। ওপারের বাস ধরার জন্য সময় অামাদের হাতে এতই কম ছিল যে টাকা ভাঙ্গানোর উপায়ও ছিলনা। তো বাবাই বললো, ‘থাক অসুবিধা নেই। আমাদের হোটেলের কাছ থেকে করে নেয়া যাবে।’ কপালের বিরাট ফেরে পরলাম জ্যামে! সে কি জ্যাম গাড়ি নড়ে না। এদিকে আমাদের ট্রেনের টিকেট হোটেলে রাখা রয়েছে, অথচ অবস্থা এমন যে হোটেলে যাওয়ার সময়ও নেই আর। হোটেলে গেলে ট্রেন মিস্ নিশ্চিত! উত্তেজনা তুঙ্গে। বাবাই এর সাথে কথাই বলা যাচ্ছে না। রক্ত চক্ষু করে তাকাচ্ছে! ভাবটা এমন যে রাস্তায় কুয়াশা থেকে শুরু করে জ্যাম আমার করা নীল নকশাতেই ঘটেছে। চুপ করে থাকাকেই অধিক বুদ্ধিমানের মতো কাজ মনে করলাম। যাই হোক, ভাল যে কাজটা আমরা বর্ডারে করেছিলাম সেটা হলো সিম কেনা। সেই সিমের সুবাদেই ঢাকায় ট্যুরিজমের মালিকের সাথে কথা বলে টিকেট স্টেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা হলো। অল্প যে রুপি ছিল তা দিয়ে ট্যাক্সি করে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত যেতে পারলাম। গিয়ে দেখি ট্রেন লেট। বাবাই আমাকে বসিয়ে টাকা ভাঙ্গাতে গেল এবং ফিরে এলো ভগ্ন হৃদয়ে। আমার দিকে তাকিয়ে সে দুঃখিত গলায় জানতে চাইলো যে, তোমার খুব ক্ষুধা লেগেছে না? ক্ষুধা তো এমন লেগেছিল যে… যাক চেপে গেলাম। টাকা থেকেও যে খাবার কেনা যায় না, ক্ষুধার্ত থাকতে হয় সেই প্রথম বুঝেছিলাম। এক বুক আশা নিয়ে ট্রেনে উঠলাম যে কোন না কোনভাবে অবশ্যই টাকা ভাঙ্গানো যাবেই।

ট্রেনে উঠে দেখলাম আমার সিট আর বাবাই এর সিট ভিন্ন জায়গাতে। একে তো পেটে ক্ষুধা, তার ওপরে এই প্রহসন! ৩ সিটের কম্পার্টমেন্ট, ১ টা আমার, অন্যগুলো রাজস্থানি পরিবারের যারা কেউই সিট বদলে রাজি নয়। আবার দুজন থাকাও তো শোভন নয়! চলে গেল সে তার সিটে। বিশ্বাস করুন, সে চোখের সামনে থেকে সরে যাওয়া মাত্রই তীব্র দাঁতে ব্যাথায় আক্রান্ত হলাম যে চোখে পানি চলে আসলো। কি করবো কি করবো, গিয়ে ওর সিটের কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। ও টের পেয়ে তো হতভম্ব! সাথে ঔষধ আছে, কিন্তু সেটা খালি পেটে খাওয়া যাবে না এবং আমাদের কাছে কোন রুপি নেই। সে দিশাহারা। ট্রেনের ভেতর শুয়ে পরা সব যাত্রীই আমাদের কর্মকাণ্ডে উৎসুক কিন্তু কেউ যেন ঠিক কথা বলতে চাইছে না! এমন সময় এক ভদ্রলোক, পরিবার নিয়ে তিনিও বেড়াতেই যাচ্ছেন, জানতে চাইলেন সমস্যা এবং বললেন আমরা চাইলে তার কাছ থেকে টাকা ভাঙ্গাতে পারি। সেই মুহূর্তটা ছিল খুবই আবেগঘন, বর তার স্ত্রীকে টাকার অভাবে খাওয়াতে  পারছিল না, তখনই কিছু টাকার ব্যবস্থা করে স্ত্রীর জন্য কিছু খাবার কিনতে পারার যে আনন্দ সেটা আসলে বাংলা সিনেমা দেখে কখনও বুঝতে পারিনি। যদিও রসিকতা করছি, কিন্তু সেই মুহূর্তে তার চেহারায় যে আনন্দ আমি দেখেছিলম সেটা অমূল্য!

ভাবছেন যাক টাকার সমস্যার সমাধান এবার নিশ্চিন্ত? মোটেই না। আমরা আবারও কুয়াশাজনিত জটিলতায় পড়লাম। তাই পরের রাতও ট্রেনেই কাটাতে হলো। এমনকি তার পরের দিন দুপুরেও পৌঁছাতে পারলাম না। ঠিক করলাম চণ্ডিগড়ে নেমে গিয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাকি পথ যাবো। যেমন ভাবা তেমনই কাজ নেমে পড়লাম। মাইক্রো চলতে শুরু করলো পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যের রাজধানি চণ্ডিগড়ের মধ্য দিয়ে। কি ছিমছাম সেই শহর! সিমলার উদ্দেশ্যে যেই পাহাড়ে উঠতে লাগলো গাড়ি, তখনই পরলাম আবার জ্যামে। সেটি ছিল রাস্তা বড় করবার জ্যাম। আবারও দাঁতে ব্যাথায় আক্রান্ত হলাম এবং আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে জানাচ্ছি সেটি ছিল আক্কেল দাঁতের ব্যাথা। ব্যাথায় মুচড়ে যাওয়া আমাকে নিয়ে যখন সে ভাবছে ফিরেই যাবে, সে সময় আমরা পৌঁছলাম সিমলাতে। সন্ধ্যা মিলিয়ে গিয়েছে তখন।

বিয়াস নদী

প্রচণ্ড শীতে কাঁপতে কাঁপতে মল স্কয়ারের দিকে রওনা দিলাম। একদম ওপরে উঠে যখন নিচে তাকালাম অসম্ভব সৌন্দর্যের দিকে চোখ আটকে গেলো। যতদূর চোখ যায় পাহাড়ের ওপর গভীর অন্ধকারে যেন সারি সারি তারা মিটমিট করে জ্বলে রয়েছে,সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য!  হাজারটা পরিবারের সুখ-দুঃখের ছোট ছোট গল্পগুলো যেন সেই মিটমিটে আলোরই প্রমাণ বয়ে বেড়াচ্ছে! পরের দিন রওনা দিলাম হিমাচল প্রদেশের রাজ্য মানালির দিকে। এত চোখ জুড়ানো সুন্দর যে আমি বারবার সেখানে যেতে চাইবো। ইন্ডিয়ান খাবার আমার খুবই পছন্দের। আর সেটা যদি সেইখানেই বসে খাওয়া যায় তার তুলনা মেলা ভার। আসলে  কোথাও যাবার আগে আমার বর ট্যুরিস্ট স্পটগুলো দেখে, সেগুলো নিয়ে স্টাডি করে আর আমি? আমি করি সেখানকার খাওয়া নিয়ে স্টাডি। আগেই বলেছি আমি বেশ ভালই ভোজনরসিক! কুল্লুতে গাড়ি থামিয়ে অনেক শীতের পোশাক কিনলাম। বিয়াস নদর ধার ঘেঁষে যেতে যেতে প্রায় রাত হয়ে গেলো মানালিতে পৌঁছতে। মানালি সমভূমি কে প্রায় ২০৫০ মিটার উঁচুতে। এত উঁচুতে এত সুন্দর খরস্রোতা নদী, যার শব্দ অনেক দূর অবধি ভেসে বেড়ায়। হোটেলটার চারপাশ রাতে তো বোঝা যায়নি, ভোরবেলা যেই রুম থেকে বারান্দাতে বের হয়েছি। পাহাড়ের চূড়া দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়লাম আবার!  গাড়ি করে রওনা দিলাম হিমালয়ের পূর্ব পীর পাঞ্জাল রেঞ্জ এর প্রায় ৩৯৭৯ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত রোটাং পাসের উদ্দেশ্যে। এটি মানালি থেকে প্রায় ৫১ কিমি দূরে। পথিমধ্যে এক জায়গাতে গাড়ি থেমে গেলো এবং ড্রাইভার দাবি করলো যে যদি পাহাড়ে সুরক্ষিত থাকার পোশাক ভাড়া না নিই তবে সে গাড়ি স্টার্ট দিবে না। মহা গ্যাঞ্জামের পর বাধ্য হয়েই পোশাক ভাড়া নিতে হলো অনেকগুলো রুপি খরচ করে।

রোটাং পাস, মানালি

ওপরের সৌন্দর্য বর্ণনাতীত। হঠাৎ ঝিরিঝিরি তুষার পরা শুরু করতেই মনে হলো ম্যাগি নুডলস খাবো। তুষার পরার মধ্যে ধোঁয়া ওঠা ঝাল ম্যাগি নুডলসের যে কি স্বাদ সেটা বোঝাবো তার সাধ্য কি! তবে কিনা বিয়াসের পাড়ে পাথরের ওপরে বসে নদীর গর্জন শোনার আনন্দও তো কিছু কম নয়! সেই নদীর পাড়ে বসেই  বাবাই বললো, ‘চলো গাড়ি বাদ দিয়ে বাসে করে দিল্লী চলে যাই’। স্ট্রিট ফুড যা যা পেয়েছি, সব খেয়েছি। রাতের বেলা এসব দোকারগুলো মানালিতে এতই জমজমাট থাকে যে মনে হবে যেন সারাক্ষণই কোন উৎসবে মেতে আছে সবাই।

হোটেল থেকে ভিউ, মানালি

পরের দিন রাতের বেলা বাস ধরে চললাম দিল্লীর দিকে। ভোর রাতে দিল্লীতে গিয়ে পৌঁছালাম। হোটেলে পৌঁছে হঠাৎ মনে হলো খোঁজ নেই কিভাবে আগ্রাতে যাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আমরা দুজন। বাস স্টপেজ থেকে লোকাল বাসের টিকেট কেটে রওনা দিলাম। কারণ ভলভো বাস কাউন্টার কোথায় আমাদের জানা ছিল না, খোঁজ করার সময়ও ছিলনা। মাঝখানে খানিকক্ষণ খাওয়ার জন্য বাস থামলো একটি ধাবাতে। আমি যারপরনাই পুলকিত। রাস্তার পাশে ধাবা অার সামনে আলু পারাটা, চিকেন মাসালা আর মটর পনির। আহ!

আগ্রা ফোর্ট

আবার পথ চলা শুরু। আগ্রা পৌঁছাতে বিকেল হয়ে গেলো। পরিমরি করে ছুটলাম মহান তাজমহলের দিকে। দীর্ঘ লাইন পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। এটা শুনে হয়তো সবাই আমাকে পাগল মনে করবেন। তাও এটি সত্য যে তাজমহল আমাকে কোনদিনই আকৃষ্ট করেনি। বরং আগ্রা ফোর্টের সেই একরত্তি জায়গাটি আমাকে আকৃষ্ট করেছে বারবার যেখানে বন্দি থেকে সম্রাট শাহজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তাজমহল আমার সুন্দর লেগেছে আগ্রা ফোর্টের শাহজাহানের কবিতা লেখার জায়গাটি থেকে! সবাই বলে ভরা পূর্ণিমায় নাকি তাজমহলের শোভা অপরূপ। আমি বলি ভরা পূর্ণিমায় আগ্রা ফোর্টের বিশালত্ব দেখতে দেখতে সেই সময়কার দৃশ্য যেন ফুটে ওঠে যখন রাতের বেলা মশাল জ্বেলে প্রহরিরা পাহারা দিতো। আগ্রা ফোর্টের বিরাট ফটক দিয়ে ঢুকলে দেয়ালে এখনও সেই মশালের আগুনের কালো দাগ চোখে পড়বে।

মোটামোটি গভীর রাতে দিল্লীতে পৌঁছি। পরের দিন সকালে মেট্রো দিয়ে কুবুব মিনারে উপস্থিত হই। এটি ২৩৮ ফুটের এমন একটি স্তম্ভ বা মিনার, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ইটনির্মিত মিনার বলে সুপরিচিত। কুতুবুদ্দিন আইবেকের আদেশে ১১৯৩ খ্রিষ্টব্দে এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। একাধিক হিন্দু এবং জৈন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ থেকে এই মিনার নিৰ্মিত হয় বলে কথিত আছে। অনুমান করা হয় যে ভারতে ইসলাম শাসনের প্ৰথম দিকে বহিরাগত আক্ৰমণে এই মন্দিরসমূহ ধ্বংসপ্ৰাপ্ত হয়েছিল। এর আশে পাশে আরও বেশ কিছু প্রচীন এবং মধ্যযুগীয় স্থাপনা এবং ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যারা একত্রে কুতুব কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত। ভারতীয়-মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন বলে কুতুব মিনার বেশ উল্লেখযোগ্য।

এরপর গেলাম ইন্ডিয়া গেটের সামনে, এটি ভারতের জাতীয় স্মৃতিসৌধ।  প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও তৃতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধে নিহত ৯০,০০০ ভারতীয় সেনাদের স্মৃতি রক্ষার্থে এই স্মৃতিসৌধটি নির্মিত হয়। এরপর তাড়াহুরা করে গেলাম বাহাই সম্প্রদায়ের অত্যাধুনিক নির্মাণশৈলীর আরাধনা স্থল লোটাস টেম্পল। এটি বাইরে থেকে দেখতে পদ্ম ফুলের মতো বলেই এর নামকরণ হয়েছে লোটাস টেম্পল। দারুণ অসাম্প্রদায়িক একটা পরিবেশ! সকল ধর্মের মানুষ ঢুকতে পারে । যার যেভাবে ইচ্ছা সেখানে প্রার্থনা করতে পারে, কোন বাধা ধরা নিয়ম নেই। সব ধর্মের মানুষ এখানে একসাথে বসে নিজের নিজের প্রার্থনা করে।

 

এরপরের দিনের যাত্রা খ্রিষ্ট্রিয় সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রাচীর-বেষ্টিত শহরে মুঘল সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক নির্মিত রেড ফোর্টের দিকে। ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এই দুর্গটি ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানি। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা এই দুর্গটিকে একটি সামরিক ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করত বলে এখানে ব্রিটিশ স্থাপত্যও চোখে পড়বে। দিল্লি গেটের বাইরে একটি বড়ো মুক্তাঙ্গন রয়েছে। এটি এককালে দিওয়ান-ই-আম-এর অঙ্গন রূপে ব্যবহৃত হত। এখানে ঝরোখা নামে একটি অলংকৃত সিংহাসনে বসে সম্রাট জনসাধারণকে দর্শন দিতেন। এই স্তম্ভগুলি সোনায় চিত্রিত ছিল এবং সোনা ও রুপোর রেলিং দিয়ে সাধারণকে সিংহাসনের থেকে পৃথক করে রাখা হত। প্রাসাদের সম্মুখ ফটক পর্যটকদের জন্য কেনাকাটার স্থল হিসেবে এখন বেষ জনপ্রিয়!

এবারের ফেরার গল্প। ভোর রাতে ট্রেন ধরবো বলে হোটেল ছেড়ে দিয়ে স্টেশনে গেলাম এবং জানলাম কুয়াশার কারণে আবারও ট্রেন লেট। তবে এবারে কখন ট্রেনটি দিল্লীতে পোঁছাবে তা বলা যাচ্ছে না। অগত্যা হোটেলে প্রত্যাবর্তন। পরের দিন প্রায় সন্ধ্যায় আমাদের ট্রেনে ওঠার সৌভাগ্য হয়েছিল বৈকি!