ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

অামরা ডিজিটাল যুগে পদার্পন করে নিজেরাও এত বেশি ডিজিটালাইজ হয়ে গেছি যে তার প্রতিদান নিত‍্যদিন কেউ না কেউ দিচ্ছি। অামাদের প্রাত‍্যহিক জীবনের এক বৃহৎ অংশ বিনোদন, অার বিনোদনের একটি অন‍্যতম মাধ‍্যম হচ্ছে সিনেমা বা চলচ্চিত্র জগৎ। কিন্ত এ জগতে নেমেছে পাহাড় ভাঙ্গা ধ্বস। একটি সুন্দর ও অাদর্শ সমাজ ব‍্যবস্থাপনায় চলচ্চিত্র বহুমুখী ভূমিকা রাখতে পারে।

কিন্ত অপ্রিয় হলেও কথাটি সত‍্য যে, কিছু কিছু নির্মাতার বিনোদন খোরাক বাস্তব জীবনে বয়ে এনেছে ধ্বংসলীলা! উনাদের অভিনব কায়দায় কিছু সিনারী জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয় যাতে করে দিন দিন দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিলার কিংবা কিডন্যাপার। নাটকীয় কায়দায় গুম কিংবা হত‍্যা।

অাজ সাংবাদিক, কাল পুলিশ অফিস‍্যারের স্ত্রী, পরশু কোন কলেজ কিংবা স্কুলের ছাত্রী, অথবা রাজনীতিতিদ- এসকল বিভৎস ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলছেই। এসকল ঘটনার পিছনে যদিও কোন না কােন গভীর রহস্য সুপ্ত, কিন্ত মূল ট্রেনিং পাচ্ছে চলচ্চিত্র জগত থেকে। কোন কিছু ঘটনা করার পর কোন কায়দায় অাত্মগোপন করে অপরাধী জীবন বাঁচাতে পারে তা-ও শিখছে এ জগত থেকেই। অাইন শৃঙ্খলা বাহিনী টপ নিউজের চাপেই হোক কিংবা কর্তব‍্য পালনেই হোক কয়েক সপ্তাহ এ‍্যাকশান! তারপর অাবার যে যার গতিতেই পথচলা।

প্রশ্ন হতে পারে চলচ্চিত্র কি বাস্তবতার ঊর্ধে? কিংবা বাস্তবতা বহির্ভুত? না, কিছু বাস্তবতায় চলচ্চিত্র অাবার কিছু চলচ্চিত্রই বাস্তবতা। অামি নবীন নির্মাতাদের অাহবান করবো এমন কিছু উপস্থাপন করুন যাতে এ দেশের তরুণ সমাজ বদলে যায়, সৃষ্টি হয় ইতিবাচক কিছুর সমাহার!

যেমনি অামাদের চলচিত্র জগৎ তেমনি সুরের ভুবন, একটি সুন্দর গানের কলি মানুষের মনের মাঝে যুগের পর যুগ স্থান করে নিতে পারে। কিন্ত ডিজিটাল গান শুনলে মন ও শরীর শিউরে ওঠে। কান ঝাঁলা পালা লাগে-

“ওরে ও কুতকুতি মাইয়‍্যা/ কাছে এলে হয়ে যাবে ব্রেক ফেল/ মিলেমিশে অামি এক মক্কেল!”

যেমন অাক্কেল তেমন মক্কেল। কি অার বলবো অামার ডিকশনারিতে কোন মর্মার্থ নেই, পাঠকারী কাছে হয়তো থাকতে পারে…।