ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 
20151002_133054

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নন্দনকানন নুহাশপল্লীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিডিনিউজ২৪.কম এর আমার ব্লগে ‘নো ফ্রি লাঞ্চ ও হুমায়ূন আহমেদের নন্দনকানন নুহাশপল্লী’ শিরোনামে একটি আর্টিকেল লিখেছিলাম।

ঐ লেখায় নুহাশপল্লীর বাণিজ্যিকীকরণ ও বাড়ির মূল ফটকের বাইরে বনের জমির ওপর চিকন রাস্তা দিয়ে গিয়ে লেখকের সমাধি পরিদর্শনের ব্যবস্থার সমালোচনা করে আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ স্থান পেয়েছিল। লেখাটি হুমায়ূন আহমদের দ্বিতীয় পত্নী এবং নুহাশপল্লীর বর্তমান অধিপতি মেহের আফরোজ শাওনের দৃষ্টিতে পড়লে তিনি ঐ লেখার টিকেটিং বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি তাঁর নিজস্ব প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। লেখাটির দায়দায়িত্ব যেহেতু আমার তাই ফেসবুক ইনবক্সে দেয়া শাওনের সেই প্রতিক্রিয়ার মূল অংশ প্রকাশ করবার দায়িত্বও বোধ করছি।

মেহের আফরোজ শাওন আমার লেখার লিংকটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন,
না জেনে অনেক কিছুই অনেকে লিখে। কিন্তু আমার ধারণা ছিল অন্তত একবার জেনে নেয়ার মত ভদ্রতা আপনি করবেন। নুহাশপল্লীতে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার যে হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকতেই হয়েছিল এবং স্বয়ং হুমায়ূন আহমেদ এই নিয়ম করে গেছেন এই তথ্য ভালমতো জেনে নিবেন আশা করি। ভালো থাকুন।
এবং আমার আমার সম্পর্কে এইরকম বাজে ধারণা নিয়ে লেখালেখি যিনি করতে পারেন তাকে আর যাই হোক বন্ধু তালিকায় রাখার মত মহৎ আমি হতে পারিনি। দুঃখিত।

আমি বললাম ফেসবুক বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেয়ার অধিকার আপনার আছে! সমালোচনা সইবার শক্তিও আপনার নিশ্চয় আছে?
শাওন বললেন, সমালোচনা ছিল কি এটা!!! আজেবাজে কথা লেখার অধিকারও হয়ত কিছু সাংবাদিকের আছে।
আমি বললাম, আমাদের হুমায়ূন স্যার বেঁচে থাকলে হয়ত আমাকে বাদ দিতেন না, বরং বলতেন, ফারদিন, নুহাশপল্লীতে এসে এক কাপ চা খেয়ে যেও! হুমায়ূন স্যার এতোটাই মহৎ ছিলেন।
শাওন বললেন, হুমায়ূন স্যারের মহত্ত্ব নিশ্চয় অন্যের কাছ থেকে আমার জানতে হবে না!

হুমায়ূন আহমেদ কী চাইতেন, ভালো মত জেনে নিবেন আশা করি। নিজের লেখাটা আবার একটু পড়ে দেখবেন প্লিজ! তারপর ভেবে দেখবেন, এটা কি সমালোচনা নাকি সরাসরি আক্রমণ?

Screenshot_2015-11-02-17-30-34

শাওনের কথাবার্তার পরপরই আমার ইনবক্সে চ্যাটিং এ আসেন এলআর নির্ঝর নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন, হুমায়ূন আহমদের ৯০ দশকের জনপ্রিয় প্রেমের উপন্যাস ‘কৃষ্ণপক্ষ’ -যার কপিরাইট গুলতেকিন খানের নামে; সেই উপন্যাস অবলম্বনে শাওনের নির্দেশনায় নির্মাণাধীন ‘কৃষ্ণপক্ষ’ সিনেমা ইউনিটের একজন সদস্য বলে।
তিনি বললেন, আপনার লেখাটার তথ্যে অনেক ভুল। টিকেট সিস্টেমটা হুমায়ূন স্যার নিজেই করে গেছেন। আপনার লেখার হাত অনেক ভালো। শুধু তথ্যগত ভুল না থাকলে এটা একটা ভালো লেখা হইত।
আমি বললাম, আমি নিজের চোখে যা দেখেছি, তাই লিখেছি। আমি নিজের মত প্রকাশ করতে পারব না এটা কি সংবিধানে লেখা আছে?
তিনি বললেন, অবশ্যই পারবেন এবং খারাপ লেখা হিসেবে আমি পাঠক হিসেবে এটা বর্জন করলাম, এটা আমার পাঠক হিসেবে রাইট।
আমি বললাম, আপনি খুব ভালো পাঠক। ভালো থাকুন।

মেহের আফরোজ শাওন ও এলআর নির্ঝর অনেক ভুলের কথা বললেও শুধুমাত্র ২০০ টাকার টিকেটের বাইরে আমার লেখার আর কোনো ভুল ধরিয়ে দিতে পারলেন না।
লেখক হুমায়ূন আহমদকে ভালোবেসে যারা তাঁর সমাধিতে যাবেন, তাদেরকে কেন মূল ফটক এড়িয়ে বনের জমির ওপর দিয়ে নির্মিত অন্ধকার চিকন পথ ধরে যেতে হবে- এই জবাব শাওন দিতে পারলেন না।
হুমায়ূনের একান্ত ব্যক্তিগত অবসর যাপনের নিভৃত বাড়ি বা লেখালেখি ও চলচ্চিত্র চর্চার প্রিয় জায়গাটি কেন পিকনিক স্পটে পরিণত করা হবে এই কথার জবাবও শাওনের কাছে ছিল না।
স্কুল কলেজে অধ্যয়নরত হুমায়ূনপ্রেমী যেসব শিক্ষার্থীদের লেখকের একটি প্রিয় বই কিনতে ১০০ টাকা ব্যয় করতেও হিমশিম খেতে হয়, সেই তারা যদি হিমু বা রূপা সেজে হুমায়ূনের সমাধিতে যায়, তবে সেই কম বয়সী আবেগী দর্শনার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকার টিকেট ধরিয়ে দেয়াটা কি জীবিত হুমায়ূন মানতে পারতেন। কিংবদন্তী লেখক অকালে মারা যাওয়ার পর যে নুহাশপল্লী হতে পারত হুমায়ূন তীর্থ, সেখানে এখন টাকার বিনিময়ে পার্টি করতে পারার বিষয়টিও কি হুমায়ূন ফয়সালা করে দিয়ে গিয়েছিলেন। এর জবাব কি আছে মেহের আফরোজ শাওনের কাছে? যে নুহাশপল্লীর প্রতিটি কণায় প্রিয় মানুষটির ছাপ রয়েছে তার অযত্ন দেখলে হুমায়ূন ভক্তের আবেগের ফল্গুধারায় বিষাদের নহর বয় বৈকি!

এসব প্রশ্নের উত্তর শাওনের জানা নাই নিশ্চয়। আমার মত এই সাধারণ হুমায়ূন ভক্তকে ফেসবুকের বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিলেই দিবালোকের মত সকল সত্য কঠিন অসত্যে পর্যবশিত হয়ে যাবে না। লেখকের অন্যতম প্রধান চরিত্র মিসির আলীকে এসবের মধ্যে টানতে পারলে হয়ত তিনি সবকিছুর ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে নুহাশপল্লীর একচ্ছত্র মালকিন শাওনের মনের অবস্থাটা আয়না বানিয়ে আমাদের চোখের সামনে ধরতে পারত। তখন আমরা বুঝতে পারতাম, লেখক মারা যাওয়ার পর শাওন নুহাশপল্লীর চেরাগের দৈত্যকে জাগাতে পেরেছেন কিনা। হুমায়ূন স্যার বলতেন, পৃথিবীতে আসার সময় প্রতিটি মানুষই একটি প্রিয় আলাদিনের প্রদীপ নিয়ে আসে। কিন্তু খুব কম মানুষই সেই প্রদীপ থেকে ঘুমন্ত দৈত্যকে জাগাতে পারে!

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার ও নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুটা এখনও রহস্যাবৃত। সেসময় নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক দর্পণ কবীর লেখকের মৃত্যু বিষয়ে কিছু তথ্য মিডিয়ায় উপস্থাপন করেছিলেন। সেসব বেদনাদায়ক দুর্ঘটনার স্মৃতি আমরা বিস্মৃত হতে পারলেই বাঁচি। আমেরিকায় হাসপাতাল থেকে লাশ আনার সময়ে সব তথ্য দিতে হয়। লাশ কোথায় কবর দেওয়া হবে তাও লিখতে হয়। লেখক মারা যাওয়ার পর লাশ বুঝে নেওয়ার সময় বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে আমেরিকার বেলভ্যু হাসপাতালে লিখিত অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করেছিলেন শাওন। কিন্তু ঢাকায় ফিরেই নুহাশপল্লীতে দাফনের জন্য গোঁ ধরেন তিনি।

হুমায়ূন আহমেদ এই মেঘ এই রৌদ্র ছায়াতে লিখেছিলেন, মিথ্যা হলো শয়তানের বিয়ের মন্ত্র। মিথ্যা বললেই শয়তানের বিয়ে হয়। বিয়ে হওয়া মানেই সন্তান-সন্ততি হওয়া। একটা মিথ্যার পর আরো অনেকগুলি মিথ্যা বলতে হয়, এই কারণেই পরের মিথ্যাগুলি শয়তানের সন্তান। হুমায়ূন আহমেদকে পরিবারের সবার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে নুহাশপল্লীতে দাফনের পর থেকে শাওন যা যা বলছেন, তা যে শয়তানের বিয়ের মন্ত্র না-এটা কে বলতে পারে?

aysa

হুমায়ূনের মা আয়েশা ফয়েজ জীবৎকালে নিজের ছেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমার ছেলে কখনই চায়নি নুহাশপল্লীতে কবরস্থান হোক। সে নুহাশপল্লীকে শান্তিনিকেতন বানাতে চায়নি। সে নিজেও বলে গেছে তার কবর নূহাশপল্লীতে না হোক। যাই হোক এসব কথা এখন বলে লাভ নেই। হুমায়ূন কখনোই মরতে চাইতো না। আমাকে বার বার বলতো মানুষের আয়ু এতো কম কেন? মানুষ আরো বেশি বছর বাঁচে না কেন? কি আফসোস ছিল তাঁর!
তাছাড়া হুমায়ূনের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশ্বজিৎ সাহার লিখিত ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলো’ বইতেও প্রমাণসহ আছে। কারণ আমেরিকাতে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসার লোকাল গার্ডিয়ান ছিলেন বিশ্বজিৎ সাহা। এ কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সকল তথ্য দিতে বাধ্য ছিল।

২০১৩ সালে নভেম্বরে হুমায়ূন আহমদের জন্মদিন উপলক্ষে প্রথম আলোতে ‘আলোর মশাল’ শিরোনামে বাবাকে নিয়ে একটি স্মৃতিচারণমূলক আবেগি লেখা লিখে নুহাশ হুমায়ূন।
সেখানে ও লিখে, আমার বয়স তখন এগারো। একমাত্র চেনা পথটা ধরে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছি। যাচ্ছি আমার মায়ের বাসা থেকে বাবার বাসায়। অনেকে জানতে চায়, বাবা-মা আলাদা হয়ে গেলে বাচ্চাদের কেমন লাগে। এ প্রশ্নের কোনো জবাব আমার জানা নেই। সত্যি বলতে কী, এটা আমার কাছে অবাক করা কোনো ব্যাপারও নয়। কারণ এই একটা মাত্র জীবনই আমার চেনা। পেছন দিকে যত দূর মনে পড়ে, সব সময়ই ব্যাপারটা এ রকমই ছিল। আমার বোনেরা বলে, একসময় একটা বিশাল সুখী পরিবার ছিল আমাদের। কিন্তু সেসব আমার কাছে গল্পই, প্রায় রূপকথা। আমার মনে পড়ে না, মা-বাবাকে কখনো একসঙ্গে দেখেছি। আমার কাছে এটাই জীবন। আমিও সুখী একটা পরিবারই পেয়েছি, শুধু একটু বিচ্ছিন্ন, এইটুকুই পার্থক্য। আর এই বিচ্ছিন্নতা তো একটা অস্থায়ী অবস্থা, তাই না? একটা বড় ঝগড়া, কিছুদিন তো সময় নেবেই ঠিক হয়ে যাওয়ার জন্য।
কিন্তু উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁর নাতনি গুলতেকিন খানের পুত্র নুহাশ হুমায়ূনের সবকিছু ঠিক হয়ে যাওয়ার সে স্বপ্ন কোনোদিন পূরণ হয়নি। চার সন্তানের মা গুলতেকিনের ৩০ বছরের সুখের সংসার জোড়া লাগেনি কার জন্য শাওন? দায়টা নিশ্চয় লেখক হুমায়ূন আহমদের একার ছিল না!

418585_162674963868263_961279807_n

আমাদের কথা হলো, হুমায়ূন আহমেদ যদি শাওনের নিজ নামে নুহাশপল্লীর ৪০ বিঘা সম্পত্তি লিখে দিয়ে গিয়ে না থাকেন, তবে তো এর মালিক নুহাশ, বিপাশা, শীলা বা নোভারাও। নুহাশপল্লীর রক্ষণাবেক্ষন কিংবা পরিচালনার ক্ষেত্রে কি হুমায়ূনের ঐ আগের ঘরের পুত্র কন্যাদের মতামত নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন মেহের আফরোজ শাওন? উত্তর না হওয়ার সম্ভাবনা একশ ভাগ।

নুহাশপল্লীর অন্তরাল নিয়ে লিখবার খেসারত হিসেবে শাওন এই লেখককে তাঁর বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর কথা হয় শাওন পূর্ববর্তী সময়কালের হুমায়ূন আহমদের সবচে’ প্রিয়ভাজন শক্তিমান ও জনপ্রিয় এক অভিনেতার সাথে। যিনি নন্দনকানন নুহাশপল্লীর ভিত্তি গড়তে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে একনাগাড়ে বলে যান তাঁর কষ্টের কথা।
স্যার চলে যাওয়ার পরে আমি স্যারের কবর জিয়ারত করতে গেছি। আমি নুহাশপল্লীর প্রধান গেট দিয়ে ঢুকি নাই। সামনে গিয়ে দেখলাম স্যারের কবরে যাওয়ার জন্য একটি চিকন রাস্তা এবং সেটি ফরেস্টের জায়গার ওপর দিয়ে চলে গেছে। তাহলে এই বড় রাস্তাটি কার জন্য? এই বিশাল গেটটি কার জন্য? এই চিকন রাস্তা দিয়ে কারা যাবে হুমায়ূন আহমদের কাছে? যারা হুমায়ন আহমেদকে ভালোবাসে তারাইতো যাবে! যারা স্যারকে ভালোবেসে স্যারকে দেখবার জন্য যাবেন, তাদের জন্য আমি জঙ্গলের মধ্য দিয়ে জঙ্গলের জায়গার ওপর একটি চিকন রাস্তা রেখে দেব? আমি প্রথমেই এই কষ্টটা পাইছি। আমি দুঃখ পেয়ে চলে এসেছি! কষ্টে আর যাইনি।
স্যার যে চেয়ারে বসতেন সেই চেয়ারটি কেন প্রিজার্ভ করা হবে না! স্যার যে জায়গায় বসে লিখতেন, সেই ঘরটা কেন প্রিজার্ভ করা হবে না! আমি মনের দুঃখে সেখানে যাই না। স্যারের জন্য দূর থেকেই দোয়া করি।
স্যারের চেয়ারে কেন পিকনিক পার্টির লোকজন বসবেন? স্যার যে বৈঠকখানায় বসে লিখতেন, সেখানে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিলেই কেন স্যারের বৈঠকখানায় বসে লাফঝাপ করা যাবে? নাচা যাবে, গাওয়া যাবে? দুঃখটাতো এই জায়গায়।
যদি আমাকে বলতেন, আপনি নুহাশপল্লীর কেয়ারটেকার হলে কি করতেন? আমি বলতাম, আমি এগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করতাম। মানুষ দেখে যেত। সিকিউরিটি থাকতো। সুন্দরভাবে দেখে চলে যাও। দিস ইজ নট এ্যা পিকনিক প্লেস! যখন হুমায়ূন স্যার বেঁচে ছিলেন, তখন নুহাশপল্লী একভাবে ব্যবহার করা হবে। এখন স্যার বেঁচে নেই, এখন নুহাশপল্লী ব্যবহার করা হবে শ্রদ্ধার জায়গা হিসেবে, পূজার জায়গা হিসেবে! এটা আমার যুক্তি। স্যার যখন বেঁচে ছিলেন সেটিতো ভিন্ন সময়। এখন স্যার নেই। যেখানে স্যারের কবর, স্যার শুয়ে আছেন। সেখানে আমরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাব। অথচ সেখানে আমরা ডিসকো নাচ নাচব, মিউজিক সিস্টেম ছেড়ে দিয়ে। হোয়াই? স্যার বেঁচে থাকা আর মারা যাওয়া কি এক জিনিস? আমার যদি ক্ষমতা থাকতো তবে আমি বলতাম, এটা পিকনিক প্লেস নয়, এটা হবে হুমায়ূন আহমদের তীর্থকেন্দ্র। সাহিত্যিক, অভিনয় শিল্পী বা নাট্যকারদের তীর্থকেন্দ্র।

প্রিয় মেহের আফরোজ শাওন, আমার লেখার সমালোচনার জবাব হুমায়ূন ভক্ত এই খ্যাতিমান অভিনেতার জবানিতেই আপনি নিশ্চয় পেলেন।
নুহাশপল্লীর বর্তমান অবস্থার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে আমার ঐ লেখাটিকে একটি পূণ্যের কাজ বলেও তিনি অভিহিত করেছিলেন।

আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘অধ্যাপক’ গল্পে বলেছিলেন, বামাচরণবাবুর সমালোচনায় আমার নিজের মধ্যে একটা আত্মবিরোধ, নিজের প্রতি নিজের একটা বিদ্রোহভাব জন্মিয়াছিল। আমার সমালোচক অংশ আমার লেখক অংশকে গোপনে আঘাত দিতেছিল। আমার লেখক অংশ বলিতেছিল, আমি ইহার পরিশোধ লইব; আবার একবার লিখিব এবং তখন দেখিব, আমি বড়ো না আমার সমালোচক বড়ো।
মনে মনে স্থির করিলাম, বিশ্বপ্রেম, পরের জন্য আত্মবিসর্জন এবং শত্রুকে মার্জনা— এই ভাবটি অবলম্বন করিয়া গদ্যে হউক পদ্যে হউক, খুব ‘সাবলাইম’-গোছের একটা কিছু লিখিব; বাঙালী সমালোচকদিগকে সুবৃহৎ সমালোচনার খোরাক জোগাইব।
আমার লেখা পড়বার পর শাওন আপনার মধ্যেও নিশ্চয় এই গল্পের বামাচরণবাবুর মনোভাব ভর করে থাকতে পারে! তাই হুমায়ূন ভক্তদের আবেগের বাইরে গিয়ে আপনি আরও হুমায়ূনকেন্দ্রিক আমিত্বকে বেগবান করুন। যাতে রবীন্দ্রনাথের একালের অধ্যাপকেরা ‘নুহাশপল্লী’ নিয়ে সাবলাইম শ্রেণির অধিকতর সমালোচনাযোগ্য গাঁথা রচনা করতে পারেন। আর আপনার সেই সমালোচক অধ্যাপকেরা আপনার বন্ধু নয়; হবেও না!

11825666_10206501897602148_9193125638861188498_n
হুমায়ূন স্যার বলতেন, পৃথিবীতে অনেক ধরণের অত্যাচার আছে। ভালোবাসার অত্যাচার হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ানক অত্যাচার। এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে কখনো কিছু বলা যায় না। শুধু সহ্য করে নিতে হয়।

নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমদের সমাধির এপিটাফে লেখা আছে
‘চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে
নিয়ো না নিয়ো না সরায়ে’।

ভালোবেসে চরণ ধরবার হুমায়ূনের এমন করূণ আকুতি সেকি কেবলই আপনার জন্য শাওন? নুহাশ, তাঁর মা বোন কিংবা আমাদের মত ভক্তের ভালোবাসার অঞ্জলি কি এতোটাই তুচ্ছ! দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমটাকে না রুখে সত্যকে আপন আলোয় উদ্ভাসিত হতে দিন!

লেখকঃ সংবাদকর্মী, মাছরাঙা টেলিভিশন।
০৫ নভেম্বর ২০১৫
facebook.com/fardeen.ferdous
twitter.com/fardeenferdous