ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

FB_IMG_1497205864418

আতিক, নূরন্নবী, মামুন ও তালহা! দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার শিশু ছাত্র। কেমন মায়া ভরা মুখটা ওদের। একরঙা পাঞ্জাবি পরা প্রথম দু’জন রোজাদার।

আমরা মা-বাবা কিংবা পারিবারিক আবহে থেকে স্বজনদের আদর যত্নে বড় হয়েছি। দাদু-নানুদের কাছে রূপকথার গল্প শুনতে শুনতে মায়ের শরীরের ঘ্রাণ শুঁকে ঘুমিয়ে পড়েছি। পুকুরে ঝাপ দিয়েছি। গায়ে কাঁদাজল মেখে মায়ের বকুনি খেয়েছি। বিকাল হলেই মন দিয়েছি ডাংগুলি, গোল্লাছুট খেলা অথবা ঘুড্ডি ওড়ানোয়। ভোরে গ্রামীণ মসজিদের খতিব এবং আমাদের ওস্তাদের কাছে পবিত্র কুরআন পড়াটাও শিখে নিয়েছি।

কিন্তু এই মাছুম বাচ্চারা মাদ্রাসার লিল্লাহবোর্ডিং-এ হুজুরের তত্ত্বাবধানে থেকে কেউ হাফেজি পড়ে; আর কেউবা সাধারণ লাইনে মক্তবে পড়ে। ওদের ভালো থাকা ও ভালো খাওয়া নির্ভর করে স্থানীয় গণ্যমান্য দানশীল ব্যক্তি অথবা প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক অনুদানের ওপর। শিক্ষকদেরও উপায় একটাই।

এই শিশু শিক্ষার্থীরা পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা বা মূল্যবোধের কিছুই পায় না। দেশের নাগরিক হিসেবে ন্যূনতম সুবিধাবঞ্চিত ওরা। তবু দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া জীবনের সাথে যুদ্ধ করে প্রায় সবাই স্বল্পশিক্ষায় হলেও মানুষ হয়ে ওঠে ওরা। যদি এদেরকে সঠিকভাবে রাষ্ট্রীয় গাইডলাইন ও সুযোগসুবিধা দিয়ে বড় করে তোলা যেত, নিশ্চিতই লোভ, হানাহানি ও প্রতিহিংসার পরিবর্তে সকলের হার্দিক সহবাসে দেশটা আরও সুন্দর হয়ে উঠত।

মাদ্রাসা বলতে মৌলবাদ ও উগ্রবাদের আখড়া এই ধারণা পাল্টানোর দায়দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞানীদের। ইন্ডিয়ান বিশ্ববিখ্যাত মাদ্রাসাগুলোতে মুসলিমের চেয়েও বেশি শিক্ষার্থী থাকে হিন্দুরা। সেখানকার সমাজে বহু হিন্দু গুণি মানুষ আছেন যারা ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স-মাস্টার্স।

আমরাও চাই এমন একটা দিন আসুক মাদ্রাসা শিক্ষাটাও হবে ইংলিশ মিডিয়ামের মতো আন্তর্জাতিকমানের। মাদ্রাসার এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও পবিত্র কুরআন ও হাদিস শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত ও কলাবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠুক। একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও আলেম হওয়ার পাশাপাশি হোক দেশবরেণ্য বিজ্ঞানী, বিচারপতি, অধ্যাপক বা দেশপ্রেমী রাজনৈতিক নেতা।
দেশের মাদ্রাসা হোক আধুনিক শিক্ষায়তন। এখানকার পরিশ্রমী শিক্ষার্থীরা হোক সর্ববিদ্যায় জ্ঞানী ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সদাশয় মানবিক।
………….
একটা সামান্য মৌসুমী ফল কাঁঠাল উপহার দিয়েই যে শিক্ষার্থীদের মায়া ভরা মুখটায় আনন্দের ঝিলিক এঁকে দেয়া যায়, সুযোগ বা উপায় থাকলে ওদের জন্য খেলার মাঠ দিতাম, ফল ও ফুলের বাগান দিতাম, গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি/বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক দিতাম। আধুনিক পাঠকক্ষ ও আবাসস্থল দিতাম। ওরা মানুষ হলে সুনাম এই সেশটার, সুনাম আমাদের। ওদের জন্য সকলপক্ষের উদার নজর প্রসারিত হোক।

ফারদিন ফেরদৌস
সুখেরছায়া
১১ জুন ২০১৭।