ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

4f90b2e2340a74a68f2c7695ff048886-59413e784d690

১.
জার্মান দার্শনিক নিতসে প্রথম Superman বা ‘অতিমানব’-এর কল্পনা করেন। তাঁর মতে মানুষ নৈতিক শক্তি ও প্রাণশক্তির চরম বিকাশসাধনের মাধ্যমে অতিমানবে পরিণত হতে পারে। আত্মশক্তি বৃদ্ধি ও অগ্রগতিই হল মানুষের অতিমানব হওয়ার সাধনার পদ্ধতি ও লক্ষ্য! অনেকে ধারণা করেন, এই মতবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েই ইতালীতে ফ্যাসিবাদী মুসোলিনি ও জার্মানিতে হিটলারের অভ্যুদয় ঘটে। যদিও ধ্বংসাত্মক ও অকল্যাণকর অতিমানব সৃষ্টি নিতসের চিন্তায় ছিল না। নিতসের দর্শনের অন্তর্নিহিত উদ্দ্যেশ্য ছিল মানুষের চূড়ান্ত কল্যাণকর গঠন ও বিকাশ।

২.
নিতসের নিগূঢ় দর্শনতত্ত্বের ধার না ধেরে বাঙালিমাত্রই এখন মুসোলিনি ও হিটলারকে গুরু মেনেছে। খাবারে ভেজাল দিয়ে, নকল ওষুধ বাজারজাত করে, গলাকাটা নকল ডাক্তার সেজে সবাই হিরো হতে চাইছে। এখানে হিটলারের শিষ্যরা খাল ভরাট করে দখল করে, ড্রেনে আবর্জনা ফেলে বন্ধ করে দিয়ে বৃষ্টির জলে দুর্বিপাকে ফেলে সাধারণ মানুষকে। অচল নৌকা চালায় মহাসড়কের লজ্জার জোয়ারে। লোভের বর্জ্যে সব নদী এখন কৃষ্ণবর্ন। মাছেদের বড় দুর্বিপাক। বনের গাছ খায়, জমি খায় বনখেকো আর মাটিখেকো। দ্রব্যের মিথ্যাদামে ভোক্তাকে ফাঁসিয়ে দেয় ছ্যাঁচড় কালোবাজারি।

বড় হিরোরা সবুজ পাহাড় কাটে। লোপাট করে বৃক্ষ ও শস্য। নানা ছলছুতোয় আগুন দেয় পাহাড়ের আদিরক্ষকে। রাগে-দু:খে-অপমানে পাহাড় গিয়ে ধসে পড়ে নিজ সন্তানের বুকে। শতপ্রাণ কেড়ে নেয় নিরুপায় মা।

এইসব বিচিত্র হিরোদের ‘ঈশ্বরপিতা’রাও সুন্দরবনের বুকে ঢালে রামপালের বিষ। সেই বিষেই একদিন মানুষ আর ম্যানগ্রোভেরও উঠবে নাভিশ্বাস!

Bandarban Road PiC_04

৩.
দেশটাকে শুষো আর মানুষের রক্ত কর পান যারা, তোমাদের শিক্ষা দিতে প্রকৃতি আজ খড়গহস্ত। আকাশের কান্নায় ডুবে যায় বসতভূমি। ধসে পড়ে সুস্থির পাহাড়ও।

হিরোদের পাপের ভাঁড়ারের নিদান কেবল শুরু। যেদিন আকাশফুঁড়ে বজ্র নামবে, তেড়ে আসবে ক্ষ্যাপাটে সমুদ্রও, সেইদিন হিটলারের মতো আত্মহনন নিয়তি হবে অভিশপ্ত তোমাদের! অথচ ন্যায়নিষ্ঠা আর সেবাপরায়ণতায় হতে পারতে নিতসে’র অতিমানব। করতে পারতে প্রাণশক্তির চরম বিকাশ। কল্যাণ হতো তোমার আর এই পোড়াভূমির সুবর্ণসন্তানদের। কিন্তু শয়তানকে বন্ধু করেছ তাই তোমার আর ফিরবার পথ নেই- হে ‘তুচ্ছমানব’!

তবু খুঁজছি একজন ‘অতিমানব’! অতীত অন্ধকার গিলে খেয়ে যিনি আমাদেরকে ফেরাবেন সামনের সুশোভন আলোয়! মিথ্যার অতল সমুদ্র থেকে খুঁজে দেবেন সত্যের সুন্দর সূচ! মুক্ত করে দেবেন হীনপ্রকোষ্ঠে বন্দি থাকা মানবিক অধিকার!

ফারদিন ফেরদৌস
সুখেরছায়া
১৪ জুন ২০১৭।