ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 
FB_IMG_1502618954650

১.
আবহাওয়া অফিসের এনালিসিস থেকেই জানা যাচ্ছে, গেল কয়েকদিনে বাংলাদেশের মানচিত্রটা ধীরে ধীরে কেমন নীল হয়ে ওঠেছে। বিষের রঙও নীল। শুকনো মওসুমের জলের হাহাকার বর্ষায় হয়ে ওঠে বিরাট উপদ্রুব। পড়শিরা জল ছাড়ছেন আর আমরা একে একে জলের অতলে হারাচ্ছি আমাদের ভূমি, বৃক্ষ, প্রাণবৈচিত্র‍্য ও মানুষ। বন্যায় ভুগছি আমরা। বিশেষকরে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের মানুষ এখন বাণভাসির যন্ত্রণায় মারাত্মকভাবে নিপতিত। ইতোমধ্যে এসব এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে; মারা যাচ্ছে মানুষ। কিন্তু মিডিয়ায় সে খবর তেমনভাবে আসছে কোথায়? তারা এখন ব্যস্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী, প্রধান বিচারপতি আর গরু বিতরণের মহোৎসব নিয়ে! জলমগ্ন মানুষের করুণ আর্তি তাদের মোহর লেগে যাওয়া কর্ণকুহরে পৌছে না! হয়ত পৌছবেও না! বিপন্ন মানবতার ট্রাজিক গল্প কোনোদিনই হুজুগে মিডিয়ার পছন্দ নয়!

51_Flood_Dinajpur_130817_0002

২.
পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় বাংলাদেশে কোরবানি ঈদের পর একদিনে সবচে’ বেশি গরু জবাই হয় জাতীয় শোক দিবসে। ব্যবসায়ী নেতাদের টাকা খরচ করে হামদোমের উৎসব পালনের এটা একটা সুবর্ণ সুযোগ। যিনি যত বেশি গরু বিলাতে পারবেন তার তত গৌরব। কর্মীরাও হৈহোল্লোড় আর নেতার নামে ধ্বনি দিতে দিতে নিজেদের পরগণায় গরু নিয়ে গিয়ে উৎসব সাজায়। উদ্দেশ্য নাকি কাঙালি ভোজ! আমার প্রশ্ন একটাই, দেশের সব মানুষ কি সত্যিই আজন্মের কাঙাল? তাদের জীবনাচরণের কোনো পরিবর্তন হয় না? তবে যে ঘটা করে মধ্যম আয় উচ্চ আয়ের গপ্প শোনানো হয়, তারবেলা?
আসলে শোকের নামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কচি ষাঁড়ের হাড়-মাংস দিয়ে ভুঁড়িভোজ করেন। এই খাদক শ্রেণিটাকে কেউ যদি কাঙাল বলেন, বলতেই পারেন।
তবে এই বাজে ঐতিহ্য পরিবর্তন করাটা জরুরি সভ্যতার জন্যই। যেই দিনটিতে দেশের স্বাধীনতার স্থপতি, অবিসংবাদিত নেতা ও বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ঘাতকের বুলেটে নির্মমভাবে স্বজনসহ শাহাদাত বরণ করেছেন, সেই শোকের দিনে গরু নিয়ে কাড়াকাড়ি, খাবার নিয়ে কামড়াকামড়ি যারা করেন এবং যারা এই বিষয়টিতে মৌন সায় দেন তাদের লজ্জাবোধ নেই জানি। কিন্তু সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা লজ্জিত ও স্তম্ভিত হই বারবার!

Gazipur--3-(2)

৩.
অবিলম্বে গরু বিতরণের নামে উৎসবের মোচ্ছব বাতিল ঘোষণা করে সেই টাকা বাণভাসি মানুষের খাদ্য, আশ্রয়, অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করার দাবি জানাই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার্ত অসহায় মানুষেরা না খেয়ে থাকবে আর আপনারা গরুর বিরিয়ানি খিচুড়ি নিয়ে মাতমের নাটক করবেন তা হবে না। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ‘আত্মসমালোচনা, আত্মোপলব্ধি ও আত্মসংযম’ আয়ত্ব করুন।
এরইমধ্যে খবর পাওয়া গেছে নেতারা এখন কারবালার স্মৃতি ও আশুরার আদলে নিজেদেরকে ক্ষতবিক্ষত করতে করতে শোকর‍্যালি করছেন! আর এভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্য শোক পালনটা যে বেমালুম পথ হারাচ্ছে আওয়ামী লীগ কি তা টের পায়? আপনারা সব করেন, টাকা নিয়ে সুইস ব্যাংকের ভল্টে রাখেন, ব্যাংক দেউলিয়া করে দেন, শেয়ার বাজার নি:শেষ করে দেন, রিজার্ভ ফিলিপাইনে পাঠান, নানা বিষে জর্জরিত করে বাংলাদেশটাকে নীল করে দেন, আপনাদের সম্ভাবনার কথা মনে রেখে কিচ্ছুটি বলব না; দয়া করে শোকের নামে গরু জবাই করে উৎসব পালন আর কারবালার মাতমে গা ভাসিয়ে আমাদের আমজনতার ভালোবাসার বঙ্গবন্ধুকে খেলো করবেন না। দোহাই আপনাদের।

লোক দেখানো মাতম নয়, শোক হোক অন্তর্নিহিত শক্তি!

ফারদিন ফেরদৌস
সুখেরছায়া
১৪ আগস্ট ২০১৭