ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

নীল নীল আম্রকানন: আমঝুপি নীলকুঠি

[ছবি ক্যাপশন: মেহেরপুরের আমঝুপি নীলকুঠি]

চারদিকে আম বাগানের নিবিড় গাঢ় ছায়া। চেনা-অচেনা অজস্র পাখির কলতান। অক্টোবরের শুরুতেই ঘন সবুজ ঘাসের চাদরে আদর খাওয়ার ধান্ধায় মাখামাখি হালকা কুয়াশা। মধ্য-দক্ষিণ ভাগে কাজলার কোল ঘেষে একতলা হলুদ কুঠিবাড়ি। ১৮১৮-১৮২০ সন। বৃটিশ বেনিয়ারা সবে জেঁকে বসতে শুরু করেছে বাংলার সমৃদ্ধ কৃষিপল্লীগুলোতে। ওদিকে ইউরোপ জুড়ে রেনেসাঁ আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে সাদা মানুষের মগজে মগজে। তাদের লোহিত শিল্পবিপ্লবে ‘নীলে’র আকাল। এদিকে মেহেরপুরে একে একে তৈরী হচ্ছে নীলকুঠি। আমঝুপি, বামন্দি, ভাটপাড়া। সোনাফলা মাটিতে অস্ত্রের মুখে কৃষকদের দিয়ে চাষ করানো হচ্ছে ‘নীল’। ‘নীল গাছ’ পচা পানি জ্বালিয়ে তৈরী হচ্ছে নীল রঙ। চলে যচ্ছে সুদূর ইংল্যান্ডে। কিন্তু কৃষকের পেটে অন্ন নেই। ক্ষুধার জ্বালা উসকে দিচ্ছে ক্রোধ। বিদ্রোহের ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে….। কী জীবন্ত এই চিত্রকল্প! নীলকুঠির সবুজ প্রান্তরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, নীল চাষিরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে বেনিয়াদের উপর সড়কি বল্লম হাতে। পাশেই মরা কাজলায় পাটজাগের তীব্র গন্ধে হয়তো সম্বিৎ ফিরে পাবেন। ১৯৭৮ সনে টুরিস্ট স্পট হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও অযত্নে অবহেলায় আজ নিদারুণ গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে আমঝুপি নীলকুঠি এলাকা। একটু চেষ্টা করলেই আমাদের অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় এ স্পটটি ঘিরে এ অঞ্চলে টুরিজম শিল্প ফুলে ফেঁপে উঠতে পারে।

যাবেন নাকি আমঝুপি? ঢাকা থেকে দূরত্ব নেহাত কম নয়। জেআর, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, রয়েল এক্সপ্রেস কিংবা এসএম পরিবহনে অন্তত ছ’ঘণ্টা লেগে যাবে। ভাড়া পাঁচশ টাকা। অবশ্য জেআর’র এসিতে কিছুটা আরামে যাওয়া যাবে। মধ্যরাতের গাড়িতে চেপে বসলে সরাসরি পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ-মাগুরা-ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা হয়ে আমঝুপি পৌঁছে যাবেন ভোরে। মেহেরপুর শহরের চার কিলোমিটার আগেই নেমে পড়তে হবে, আমঝুপি বাজারে। তারপর কয়েক কদম পদব্রজে বা রিক্সায়। মেহেরপুরে রাত্রি যাপনের ভাল ব্যবস্থা নেই। নীলকুঠি দেখে ঐদিনই মুজিবনগর বেড়িয়ে আসতে পারেন। ২৫ কিলোমিটারের লোকাল বাস। তারপর ৭০ কিলোমিটার পশ্চাদপসরণ করে এসে কুষ্টিয়া শহরে রাত্রিযাপন। কুষ্টিয়ায় লালনের আখড়া কাছেই। রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহও খুব দূরে নয়। এক চান্সে এগুলো দেখে রাতের বাসেই আবার ফিরে আসতে পারেন।