ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

একটু পিছনের দিকে খেয়াল করলেই আমরা দেখতে পাই জুলাই থেকে শুরু হওয়া চলমান অর্থবর্ষে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে টিউশন ফি এর বিপরীতে এই সারে সাত শতাংশ হারেভ্যাট বাবদ কর্তন হয়ে আসছিলো। নিঃসন্দেহে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়মিত জমাও হয়ে আসছিল। কারণ মূসক কর্তন করা হলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারী হিসেবে জমা দিতে হয়, এটাই আইন।  সে হিসেবে যেহেতু আড়াই মাস আগে থেকে ভ্যাট কর্তনের হারটি কার্য্যকরী হয়েছে, সুতরাং তা এক কথায় রাষ্ট্রের কোষাগারে নিয়মিত জমা হত, সেটা ধরে নেওয়া অমূলক নয়।

 

হা, একথাও ঠিক, একই সাথে আন্দোলনও চলছিলো। তবে প্রথম দিকে একটু জোড়ালো থাকলেও গত সপ্তাহের শুরু অবধি সে আন্দোলন ব্যাপক জনগোষ্ঠির সমর্থন পায়নি এবং তা ছিল অতি মাত্রায় দূর্বল। এক কথায় সেটা হয়ে পড়েছিল বিচ্ছিন্ন আন্দোলন। আর এই রকম আর কিছুদিন গেলে সে আন্দোলন মিয়িয়ে যেতো সেটা সকলের বোধগম্য।

 

কিন্তু বিপত্তিটা বাধলো কখন, যখন, গত সপ্তাহের শেষদিকে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায় আর বেশ কিছু শিক্ষার্থীর সাথে জনৈক শিক্ষককে গুলিবিদ্ধ করে আহত করে। শিক্ষকের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে পারে নি। মেনে নিতে পারার কথাও নয়।
vat
আহত শিক্ষকের রক্তাক্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়ে পরে “ভাইরাল”। ছড়িয়ে পরে সারা দেশে, দেশের বাইরেও।

 

ঠিক পরের দিনই আন্দোলন ব্যাপকতা পায়, ছড়িয়ে পড়ে বনানীর ভার্সিটি পল্লীতে, মিরপুরে, ধানমন্ডিতে, উত্তরায়। এর পরের দু-তিন দিন এখনও সবার চোখের সামনে ভাসছে। পুরো ঢাকা শহর প্রতিটি পল অনিশ্চয়ত আর আতংকের মধ্যে কাটিয়েছে, এই যেন কোথায় না কিভাবে আবার হিংসা ছড়িয়ে পড়ে! এই ভয়ে শহরবাসী ছিলেন ত্রস্ত।

 

সুতরাং এ কথা খুবই স্পষ্ট, ইচ্ছে করেই হোক, সিদ্ধান্তের দুর্বলতার কারণেই হোক কিংবা কিছু সদস্যের অত্যুতসাহী ভূমিকার কারণেই হোক, ভ্যাট ইস্যুতে সরকারকে তার অবস্থান বদলাতে ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করছে পুলিশই !

 

প্রশ্ন হলো এইভাবে শহরবাসীকে গত চার-পাঁচ দিন ধরে যে আতঙ্কিত হয়ে প্র্রহর কাটাতে হলো কতিপয় পুলিশকর্মীর চাটুকারী সিদ্ধান্তের কারণে এর দায় কী পুলিশ নেবে কিংবা একটা চলমান আর গৃহীত ও স্বীকৃত সরকারী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করে সরকারকে যে হেনস্তা হতে হলে এর জন্য দায়ী পুলিশকর্মীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হবে না কেন?