ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

মন্ত্রিসভা গতকাল একটি যুগোপযোগী আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। ‘প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৬’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অনেক আগেই এই আইন করেছে, আমরা দেরিতে হলেই যেহেতু আইনটি করেছি, তাও আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে হলেও এটি মেনে চলা উচিত। যদিও আমাদের দেশে কখনোই শুধু আইন করলে কাজ হয় না, বাস্তবায়ন হয় না সেই আইনের। আইনটি বাস্তবায়নের জন্য বিধি করতে হয়। আমরা সেই বিতর্কে না যাই।

পশু-পাখি শুধু তাদের বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করার জন্যও খুব প্রয়োজনীয়। গত দুদিন আগে রাস্তা থেকে একটি আহত বাজপাখি উদ্ধার করেছিলেন আমাদের এক সহকর্মী। তাকে সেবা করা হলো। পরে আমি উদ্যোগী হয় তাকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যখন পাখিটি নেয়ার জন্য বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ পরিদর্শক আসলেন, তার সাথে কথায় কথায় জানলাম অনেক অজানা কিছু।

এখানে শুধুমাত্র একটি তথ্য জানিয়ে রাখি। শুধুমাত্র পেঁচা নাকি দশ বছরে আমাদের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ করে। এই গবেষণার বিস্তারিত প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করবো, তাই এখানে লিখলাম না। তবে এই পরিসংখ্যান থেকে অন্তত ধারণা করে নিন, আমরা যেসব প্রাণীকে তাচ্ছিল্য করি- তারা আমাদের জন্য কত অবদান রাখছে আমাদের অজান্তে?

এবার আইনটির খসড়ার বিষয়ে আসি। আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। যে কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ প্রতিরোধ ও প্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে ‘প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৬’ করছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় প্রাণীর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণকে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অনধিক ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর সর্বনিম্ন ৬ মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইনের খসড়ায় প্রাণী বলতে মেরুদণ্ডী প্রাণীকে বোঝানো হয়েছে।

এ সংক্রান্ত নিউজে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন আগ্রহী পাঠকরা। আমরা শুধু এতোটুকু বলতে পারি, আইন করে তো আসলে পশু-পাখি রক্ষা করা যাবে না। এ জন্য প্রয়োজন আমাদের উপলদ্ধি। একবার ভাবনু, এখন আমরা বসন্তে কোকিলের ডাক শুনি না। আর কয়েক বছর হয়তো আর কাকের ডাকও আমরা শুনতে পারবো না। পাখিবিহীন প্রকৃতি কেমন বিরান হবে অন্তত একবার ভাবনু।

 

লেখক: সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক।