ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

আজ সোমবার দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা মিয়ানমার সফরে আসছেন । সারাবিশ্বের চোখে তিনি ক্ষমতাবান রাষ্ট্রপতি । গেল নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে তিনি অনেকবার বলেছেন- এ লড়াই মধ্যবিত্তের বাঁচার লড়াই, মেহনতি মানুষের সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নের লড়াই….. । তাঁর সামনে নানা চ্যালেঞ্জ । ওবামার নির্বাচনী রণনীতি নিয়ে বিশ্লেষণ চলবে হয়ত আরও বেশ কিছুদিন । মিয়ানমার সফর সেই রণকৌশল এর অন্যতম নিশ্চয় ।

ওবামা যখন মিয়ানমার আসছেন তখন অং সান সু চি আর গৃহবন্দি অবস্থায় নেই । ইতোমধ্যে মার্কিন মুল্লুক বেড়িয়ে এসেছেন । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একদা যেমন ব্রিটিশ কলোনি ছিল তেমনি মিয়ানমারও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে ছিল দীর্ঘকাল । মিয়ানমারের জনগণ ব্রিটিশ ঔপনিবেশ থেকে মুক্তি পেলে কি হবে, নিজ দেশের জুন্টা সরকারের শাসন নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পায়নি । এখন অবশ্য বলা হচ্ছে সংস্কারবাদী বেসামরিক সরকার যার প্রকৃত চেহারা হলো সেনা সমর্থিত নির্বাচিত সরকার । মিয়ানমারের গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া এমনিতেই প্রশ্নবিদ্ধ তার ওপর রয়েছে জাতিগত সহিংসতার নোংরা খেলা যা ঐ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়ে আসছে ।

বারাক ওবামা যখন কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মিয়ানমার সফরে আসছেন তখন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা – রাখাইন জাতিগত সংঘর্ষের মীমাংসার উদ্যোগ না নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বিতাড়িত করার পথ বেছে নিয়েছে আর ওবামা সেখানে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলতে আসছেন । শুধুই গণতন্ত্রের বার্তা প্রেরণের জন্য ওবামার মিয়ানমার সফর নাকি এ অঞ্চলের খনিজ সম্পদ, জলজ সম্পদ হস্তগত করার আকাঙ্খা, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দখলে নেয়াসহ ইত্যাকার স্বার্থ জড়িয়ে আছে ।

মিয়ানমারে যে রোহিঙ্গা নিধন চলছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সে বিষয়ে কতখানি সরব ভূমিকা নেবেন । এদিকে বারাক ওবামার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের নেতাদের ওপর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, গণহত্যা বিষয়ে কঠোর চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা মার্কিন প্রশাসনের কাছে জোর দাবী করেছে । এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে তাদের বৈঠক হয়েছে । মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যতম শীর্ষ উপদেষ্টা গণহত্যা বিশেষজ্ঞ সামান্হা পাওয়ার সেই বৈঠকে ছিলেন । মানবাধিকার কর্মীদেরকে এমন আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে মিয়ানমার সফরে ওবামা মানবাধিকার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য দেশটির প্রেসিডন্ট থিয়েন সেইনকে কঠোর চাপ প্রয়োগ করবেন । দীর্ঘকাল জুন্টা শাসনে থেকে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সংস্কার পুরোমাপে বাস্তবায়ন না হতেই ওবামার এই সফর নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে ।

রাখাইন বৌদ্ধরা মিয়ানমার সরকারের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদেরকে নির্মম নির্যাতন করেছে । হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানো হয়েছে । তখন দেশটির সেনাবাহিনী, পুলিশ নিরব থেকেছে । সহিংসতার কারণে বাড়িঘর ছেড়ে আসা লক্ষাধিক মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ । এসব বিষয় ছাড়াও বারাক ওবামা রোহিঙ্গাদেরকে নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত না করার ব্যাপারে অনমনীয় ভূমিকা রাখবেন কিনা । রোহিঙ্গাদের থেকে কেড়ে নেয়া নাগরিকত্ব কীভাবে ফেরৎ দেয়া হবে- সে বিষয় তাঁর আলোচনার এজেন্ডায় থাকবে কিনা । রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাস্তহারা কাচিন জনগোষ্ঠীকে নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতির সুস্পষ্ট বক্তব্য আলোচনায় উঠে আসবে কিনা তা লক্ষ্যনীয় ।

সমস্যার স্হায়ী সমাধানে মনোযোগ দিতে বারাক ওবামা, থিয়েন সেইন এবং সু চিকে কি পরামর্শ দেবেন তা চরম উৎকণ্ঠার সাথে সময় গুনে যেতে হবে এই অঞ্চলের জনগণকে । মোদ্দাকথা, রোহিঙ্গা এবং কাচিন জনগোষ্ঠীর প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে । এটা তাদের জন্মগত অধিকার ।

যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার (বার্মা) সম্পর্ক শুধুমাত্র যেন বাণিজ্যিক না হয় । বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শর্ত থাকতে হবে জাতিগত দাঙ্গা স্হায়ী নিরসনের ।

তথ্যসূত্র:

ছবি: রয়টার্স ও বিডিনিউজ২৪.কম থেকে