ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

মুক্তিযুদ্ধে নিরস্ত্র জনগণকে যখন নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তখন একটি সার্বভৌম দেশের ‘অভ্যন্তরীণ প্রশ্ন’ তুলে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইট কমিশন চুপ থেকেছে। এই সুযোগে বাংলাদেশের অসংখ্য নিরীহ বেসামরিক মানুষকে পাকহানাদার বাহিনী নির্বিচারে হত্যা করে চলেছে। পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর সহায়তায় গণহত্যা,নারী নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াও ও অন্যান্য অপরাধ করেছে জামায়াত গোষ্ঠীভুক্ত রাজাকার,আলবদর ও আলশামস বাহিনী।প্রমাণ হয়েছে এরা সকলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বেতনভোগী সহযোগী সদস্য।এরা শিক্ষক,চিকিৎসক,আইনজীবী,সাংবাদিকসহ বিশিষ্ট নাগরিকদেরকে হত্যায় নিয়োজিত থেকেছে।১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংস গণহত্যা, সেসময় অনেক বেশি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেয়েছে। দেখা যাক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বাংলাদেশে সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞ, নারীধর্ষণ, গণহত্যার রিপোর্ট কীভাবে পরিবেশন করেছিল।

লন্ডনের DAILY TELEGRAPH পত্রিকার একজন eye witness, Simon Dring March 30,1971 তারিখে ভয়ংকর ২৫মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন- “Caught by surprise,some 200 students were killed in Iqbal Hall when their rooms were sprayed with Machine gun fire……… the military removed many of the bodies but the 30 bodies still there could never have accounted for all the blood in the corridors of Iqbal Hall.” তিনি আরো লিখেছেন- “ the Army shot every person in the old city burnt people inside their homes,the biggest massacre was in the Hindu locality. The Army then rushed to its next target,the centre of Sheikh Mujib`s supporters. The carnage continued till the night.”

৭১এর ২৬মার্চ সকল বিদেশি সাংবাদিক যখন ঢাকা থেকে বহিস্কৃত হলেন তখন ‘The DAILY TELEGRAPH` এর সাংবাদিক সাইমন ড্রিং হোটেল ইন্টারকনের এক কক্ষে নিজেকে লুকিয়ে রেখে বহিস্কার আদেশ এড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন।যখন ২৭মার্চ সকালে অঘোষিত কার্ফ্যু সাময়িক তুলে নেয়া হয়,২৫মার্চ মধ্যরাত থেকে ঢাকায় যে ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল সাইমন ড্রিং তা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

THE BULTIMORE SUN পত্রিকায় April 4,1971 তারিখে লেখা হয়-“clues as to how coolly the west Pakistanis had calculated their plan to shoot and burn the Bengalis into submission are provided by the personal actions of some west Pakistani politicians at the Hotel Inter-continental on the night the holocaust started.”

ইংল্যান্ডের হাউস অব লর্ডস এর সদস্য লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন- “ from a humanitarian view, it has been greatest calamity in suffering since the bomb fell on Hiroshima, From a political view, it has been the most ruthless denial of democracy since Hitler.“

TIME Magazine এর Dan Cog gins প্রথম আমেরিকান সাংবাদিক যিনি বাস ট্রাক ও বাইসাইকেলে ঢাকার অপ্রসিদ্ধ এলাকার রাস্তাসমূহ ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।২৬মার্চ অন্যান্য বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি ঢাকা থেকে বহিস্কৃত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা সফর করে লিখেছেন- “ the tales of brutality are seemingly endless……… An old man who decided his Friday prayers were more important than the curfew, was shot to death as he walked into a Mosque.”

April 24, 1971 `HINDUSTAN STANDARD` এভাবে লিখেছে-“ It was obvious that the university had been a major target. A premeditated massacre appears to have been conducted from a master list of victims prepared possibly as early as last fall. Leading teachers as well as artists musicians and writers associated with Bengali literature and culture were the victims.”

তখন লন্ডনের SUNDAY TIMES পত্রিকায় একাত্তরের ১৩ জুন `GENOCIDE` শিরোনামে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। করাচীতে মর্নিং নিউজের সহকারী সম্পাদক এন্থনি মাসকারেনহাস সরকারী যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেন। তিনি লন্ডনের সানডে টাইমসেরও সংবাদদাতা ছিলেন। তিনি পাকহানাদার বাহিনীর সাথে থেকে যা দেখেছেন, তা ঐ নিবন্ধে এভাবে বর্ণনা দিয়েছেন-
শহর ও গ্রামগুলোতে সংঘবদ্ধ আর্মির হত্যা ও জ্বালাও-পোড়াও অভিযানে গিয়ে বিদ্রোহী নির্মূলের দৃশ্যগুলো দেখেছি।পুরো গ্রামকে শাস্তির শিকার হতে দেখেছি।দিনের শেষে অফিসার্স মেসে তথাকথিত সাহসী ও মর্যাদাবান মানুষের হত্যাযজ্ঞের অবিশ্বাস্য হাসি শুনেছি।

`Pogrom in Pakistan` শিরোনামে লন্ডনের SUNDAY TIMES June 20,1971 এ পূর্ণপৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তারিত বিবরণ ছাপে এবং সত্যতা স্বীকার করে যে, ইয়াহিয়া সরকার বাংলাদেশে ঘৃণ্যতম গণহত্যা চালিয়েছে। সংবাদপত্র লিখেছে এরকম- “a new campaign of terror has been unleashed in Bangladesh, killing teachers, journalists, writers, magistrates, doctors, Hindus and Awami Leaders. Gestapo-like activities are rampant; this is chiefly the work of the Razakars- a group of armed Biharis and armed forces personnel- who carry on, with the tacit approval of senior officers, extortion, kidnapping of girls, raping, prostitution camp is run- the object being to provide girls for officers and during parties.”

R. Prentice যিনি বৃটিশ পার্লামেন্টারি ডেলিগেশন এর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারত সফর শেষে July 16,1971 তারিখে NEWS STATESMAN সংবাদপত্রে লিখেছেন- “ everywhere we went we questioned refugees at random; everywhere they were told similar stories. The army have come to their village or a nearby village. People were shot or mutilated, house and farms burnt. Women were raped, the soldiers had looted…………This was still happening.”

ভারতে শরণার্থী শিবির সফর শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর Edward Kennedy, August 26,1971 এ বলেছেন-“ refugees told stories of atrocities,of slaughter,of looting, burning, harassment and abuse by west Pakistan soldiers and collaborators…… we must demonstrate to the Generals of west Pakistan and to the people of the world that the United States has a deep and abiding revulsion of the monumental slaughter that has ravaged East Bengal.”

মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃটিশ টেলিভিশনে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলে দৈনিক সংগ্রাম ১৯ জুলাই লেখে, এগুলো ঘূর্ণিঝড়ের ছবি।