ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

 
enimg-175671-2010-10-08

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একাত্তরের পঁচিশ মার্চ রাতে পঞ্চাশ হাজার থেকে একলক্ষ নিরস্ত্র ঘুমিয়ে থাকা মানুষকে হত্যা করেছে, যা গণহত্যার ইতিহাসে বর্বরতম হত্যাকান্ড। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহবান জানাই- সকল গণহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়াজ তুলুন,গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সমস্ত পৃথিবীর ঘরে ঘরে সবরকম হত্যাকান্ডের অবসানের জন্য সচেতনতা গড়ে তুলুন।

দুনিয়ার বহু দেশে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু সব দেশে বিচার হয়নি। মানবিক সঙ্কটে থাকা ক্ষতিগ্রস্তরা বিচারের জন্য কেঁদে মরছেন। বাংলাদেশের গণহত্যার বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলো স্বীকার করেনা । ২৫ মার্চের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়ে জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ, বাংলাদেশের গণহত্যাকে স্বীকার করে নিন। আমরা চাই না জাতিসংঘ বধিরতা ও উটপাখি নীতি অবলম্বন করে থাকুক।

বাংলাদেশের মানুষের জন্য যথেষ্ট হতাশার কারণ যে, এই দেশে নয় মাসে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সংঘবদ্ধ জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি সারাবিশ্ব দেখেছে। একাত্তরে পাকিস্তানের হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে তখনই বিশ্বজনমত তৈরি হয়েছে অথচ তা গণহত্যা হিসেবে জাতিসংঘ স্বীকার করেনি,ঘৃণা প্রকাশ করেনি। এমন ঘটনায় সারাবিশ্ব শোকে কাতর হয় তবুও জাতিসংঘের বোধোদয় হয় না। বিশ্বের শতাধিক দেশে গণহত্যা হয়েছে কিন্তু তার স্বীকৃতি নেই। হাতে গোনা ছাড়া কোনো দেশে গণহত্যার বিচার হয়নি।সব দেশের গণহত্যাকে থামাতে হলে জাতিসংঘের শক্ত মেরুদন্ড রয়েছে তার প্রমাণ দেখাতে হবে। বিচারের মাধ্যমে এই অন্যায় অপকর্মের প্রতিবিধান করতে উদ্যোগী হতে হবে।

বাংলাদেশে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তার ভুরি ভুরি প্রমাণাদি ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বজুড়ে। শুধু এতটুকু বলি,মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে নিউইয়র্ক টাইমস শিরোনাম করে- ‘রক্তই যদি কোনো জাতির স্বাধীনতা অর্জনের মূল্য বলে বিবেচিত হয়, তবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই অনেক বেশি মূল্য দিয়ে দিয়েছে।’

`Pogrom in Pakistan` শিরোনামে লন্ডনের SUNDAY TIMES June 20,1971 এ পূর্ণপৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তারিত বিবরণ ছাপে এবং সত্যতা স্বীকার করে যে, ইয়াহিয়া সরকার বাংলাদেশে ঘৃণ্যতম গণহত্যা চালিয়েছে। সংবাদপত্র লিখেছে এরকম- “a new campaign of terror has been unleashed in Bangladesh, killing teachers, journalists, writers, magistrates, doctors, Hindus and Awami Leaders. Gestapo-like activities are rampant; this is chiefly the work of the Razakars- a group of armed Biharis and armed forces personnel- who carry on, with the tacit approval of senior officers, extortion, kidnapping of girls, raping, prostitution camp is run- the object being to provide girls for officers and during parties.”
তৎকালীন বৃটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং লিখেছেন- ২৫ মার্চ তিনি ঢাকায় অবস্থান করে যে গণহত্যার চিত্র দেখেছেন এবং পরবর্তী নয় মাস যদি সারা বাংলাদেশে তা একইভাবে অব্যাহত থাকে, তাহলে নিহতের সংখ্যা সন্দেহাতীতভাবে ৩০ লাখেরও অধিক হবে।