ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

কেমন আছেন সকলে? শ্রদ্ধেয়া শিরিন আপা, আইরিন আপা,জুবায়ের ভাই,শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাই,সুকান্ত দাদা,বাংগাল ভাই, শ্রদ্ধাভাজন হৃদয়ে বাংলাদেশ ভাই, জাহেদ ভাই,আব্দুর রাজ্জাক ভাই, নিতাই দাদা,নাজনীন খলিল আপা,লিলিয়ান আপা,মাধুরী শিকদার আপা,গালিব ভাই,জহিরুল চৌধুরী ভাই,রীতা দিদি, সুলতানা আলগীন আপা, আশরাফ মহি উদ্ দ্বীন ভাই,আতা স্বপন ভাই, মনোনেশ দাদা,শহীদ শওকত ভাই,কাজী রাশেদ ভাই,অনুজ প্রতিম শফিক মিতুল, নুর ইসলাম রফিক ভাই,সাজ্জাদ ভাই,জয়নাল ভাই,ফারদিন ফেরদৌস ভাই,সুমিত বণিক ভাই,দিবেন্দু ভাই ছাড়াও আমার আরও অনেক অনেক প্রিয় ব্লগার আছেন তাঁদের খবর বেশ কিছুদিন হলো জানি না।

বাসায় কাজ করছি। হঠাৎ ১৩ অক্টোবর সকাল ১১.৪০ মিনিটে(সম্ভবত) বুকের মধ্যে অস্বস্তি বোধ হয়।বুকে খুব কষ্ট হয়নি তবে ঘেমে নেয়ে উঠেছি,শরীর একেবারে অসাড়তায় চলে গেছে।মনে হচ্ছে আর হাতে একেবারেই সময় নেই পৃথিবীকে দেবার। আমার প্রিয়তমা স্ত্রী ব্লগার (http://blog.bdnews24.com/author/Daimond) সাঈদা খান। তাঁকে বললাম আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে মনে হচ্ছে,তুমি আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্হা করো।সে নিজে ভয় পেয়েছে অথচ আমাকে অভয় দিচ্ছে-তোমার অ্যাটাক হয়নি, এখনই হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্হা করছি।

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক এ নেয়া হলো।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বললেন- ভয়ঙ্কর এ্যাটাক হয়েছে,এখনই Angiogram করে স্টেন্ট লাগাতে হবে (দু‘দিন পর জেনেছি)।মেইন আর্টারিতে ব্লক।বন্ড সিগনেচার দিতে হয়। আমার প্রিয়তমা কাঁদছে,কাঁপছে তাঁর হাত আমি দেখতে পাচ্ছি একটু দূর থেকে। সে স্বাক্ষর দিলো। আমি একবারের জন্যও জ্ঞান হারায়নি। Angiogram চলছে।মিনিট দশেকের মাথায় আমার কেন জানি মনে হলো আমার বুকের মধ্যে রিং পরানো হচ্ছে।আম্মাকে মনে পড়েছে একবার।মনে পড়ল আমার একমাত্র অনুজ বিদেশে বসবাসরত ড.তাহসিনুল হককে যার আমার জন্য প্রাণ দিতে কুন্ঠাবোধ নেই। স্ত্রীকে স্রষ্টার কাছে রেখে নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছি বিদায় হবার।আমি নির্বিকার।

চিকিৎসক অবাক হয়েছেন এমন ডিসিপ্লিনড সাদামাটা জীবনে কেমন করে সম্ভব।এমনই হয়, মানুষ সবসময় সবকিছু বলতে পারে না কেন হয়!!!আগের চেয়ে অনেক সুস্হ আছি।এখন কিছু বেঁধে দেয়া নিয়মের মধ্যে আছি। ব্লগারদের জন্য শুভকামনা।দেশের মানুষের জন্য শুভকামনা।নির্যাতিত হিন্দু, সাঁওতাল,রোহিঙ্গা মুসলিম সকলের জন্য শুভকামনা।