ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

আজ ভোর ছ‘টায় একাত্তর জার্নাল দেখছি। এক পর্যায়ে বাংলা ট্রিবিউনের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করলেন উপস্থাপক। মেহেরপুর জেলা শহরের তোফাজ্জেল মিয়া। ফল দোকানদার। দোকান বিক্রি করে দিতে হয়েছে ছেলের চিকিৎসার খরচ মেটাতে। ‘ডুশিনি মাসকুলার ডিসট্রফি’ নামের এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত পরিবারের তিন সদস্য। একাত্তর জার্নালে সংযুক্ত হয়ে তাঁর চিকিৎসক বললেন, এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন, রাষ্ট্র যেন এই তিন জনের চিকিৎসার ভার গ্রহণ করে। আর না হলে ওষুধের মাধ্যমে যেন তাদের মৃত্যুর অনুমোদন দেয়া হয়।

১৯ জানুয়ারি তিনি এই আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন। একাত্তর জার্নালে সংযুক্ত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক খায়রুল হাসান। তিনি এই আবেদনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাঁকে অফিসে ডেকে নিয়ে কথা বলেছেন তিনি এবংবিভাগীয় কমিশনারকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। মোঃ তোফাজ্জেলও সংযুক্ত ছিলেন ঐ অনুষ্ঠানে। আবেগে ভারাক্রান্ত তিনি কথা বলতে পারেননি তেমন। ভারতের হোমিওপ্যাথির চিকিৎসকরা মোঃ তোফাজ্জেলকে জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় এ রোগের আরোগ্য সম্ভব। বলে রাখি, মোঃ তোফাজ্জেলের স্ত্রী শিরিনা বেগম একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।

এমন যন্ত্রণাকাতর আবেদন রাষ্ট্র গ্রহণ করেই নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না। জেনেও নিশ্চুপ থাকতে পারেন না রাষ্ট্রের ধনাঢ্য শিল্পপতিগণও। প্রথমত মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মাগুরা, যশোর, খুলনা অঞ্চলে বহু শিল্পপতি রয়েছেন। ধনী ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী থেকে শুরু করে খেলোয়াড় পর্যন্ত। এই মানবিকতার ডাকে দ্রুত সাড়া দিতে পারেন মাগুরার সন্তান সাকিব আল হাসান, যশোর নড়াইলের ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ খ্যাত মাশরাফি।

মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপনি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অতিদ্রুত উদ্যোগ নিতে চেষ্টা করবেন আশা করি। অন্যান্য দেশে নাকি এর চিকিৎসা নেই তবুও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অন্যান্য দেশের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে এর প্রতিকারের কী ব্যবস্থা নেয়া যায় তা দেখবেন।

ঘটনাটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে একজন নিঃসম্বল পিতা তিন তিনটি প্রাণের আত্মাহুতি চান তাদের মঙ্গলের কথা ভেবে। কারণ উনি নিজে যদি বেঁচে না থাকেন তবে অসহায় সন্তান-নাতিদের দেখভাল কেউ করবে না, তাঁর বদ্ধমূল ধারণা জন্ম নিয়েছে। এমন নির্মম ঘটনা রাষ্ট্রের জ্ঞাতসারে ঘটে গেলে এই দুরপনেয় কলঙ্কের দায় রাষ্ট্র ও জনগণের ললাটে কলঙ্কতিলক হিসেবে রয়ে যাবে চিরকাল। বাংলাদেশ এবং এই দেশের জনগণ নিশ্চয়ই এমন দুঃসহ যাতনার অভিশাপ থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেতে সময় নষ্ট করবে না।