ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

genocide_1971

জাতিগত অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে আমরা যে প্রতিরোধ যুদ্ধের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলাম ঠিক সেই সময় আমাদেরকে নির্মূল করতে যারা একের পর এক মানবতাবিরোধী অপরাধ করার দুঃসাহস দেখালো তাদের বিচার না করার কোনো কারণ ও যুক্তি থাকতে পারে না।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের সচিত্র প্রতিবেদন বৃটিশ টেলিভিশনে দেখানো হলে জামায়াতের মুখপত্র ‘দৈনিক সংগ্রাম‘ ১৯ জুলাই লিখলো-এগুলো ঘূর্ণিঝড়ের ছবি।

ব্যাপক গণহত্যার বিভীষিকাময় চিত্রকে জামায়াত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলো।বিভৎস জেনোসাইডকে জামায়াত কেন অস্বীকার করল? কারণ জামায়াত এবং তার কর্মীবাহিনী নিজেরাই এই নিষ্ঠুর অপকর্মে যুক্ত ছিলো বলে।শত প্রতিকূলতার মধ্যে বাংলাদেশে যখন যুদ্ধাপরাধী মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারকার্য চলমান এবং প্রমাণ হচ্ছে তাঁরা এই দুশমনির জন্য সরাসরি দায়ী তখন তাদের দাবী এমন অপরাধ তাঁরা নাকি করেনি,তাই বেকসুর খালাস চায়।

নৈতিকতা হলো বিশ্বজনীন সর্বজনীনতা।অন্ততপক্ষে মানবতাবিরোধী অপরাধের ব্যাপারে তো বটেই।১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩(১) নং ঘোষণায় এবং ৩১ অক্টোবর ১৯৪৭ সালে ১৭০(২) নং ঘোষণায় যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তি ও extradition ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য বিশ্বের সকল রাষ্ট্রকে আহ্বান জানানো হয়।জাতিসংঘের আর্থ-সামাজিক পরিষদের ২৮ জুলাই ১৯৬৫ সালের ১০৭৪ ডি(৩৯)নং ঘোষণা এবং ৫ আগস্ট ১৯৬৬ সালের ১১৫৮(৪১)নং ঘোষণায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শাস্তির দাবি জানানো হয়।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১২ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালের ২১৮৪(২১)নং ও ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালের ২২০২(২১)নং ঘোষণায় মানবতাবিরোধী অপরাধকে ধিক্কার দেয়া হয়।

এছাড়া নৈতিকতা ও বিবেকের প্রতিফলনই হলো সকল রাষ্ট্রের কাছে সবসময় শান্তিকামী জনগণের আবেদন থাকবে-মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী যারা,তাদের বিচার সম্পন্ন করুন।

একাত্তর থেকে এই পর্যন্ত জামায়াত ও তার কর্মীরা যত হত্যা, লুটতরাজ, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরে বাধ্যকরণ থেকে শুরু করে যা যা করার সব অপরাধই করেছে,করছে।এ সবই তাঁরা করছে পবিত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে,ইসলামের নামে।আসলে তাঁরা ইসলামকে অপমান করছে।একজন স্বঘোষিত মাওলানা তো ‘তফসিরে কোরআন মাহফিল‘,‘তফসিরে কোরআন ক্লাস‘নিয়ে অডিও-ভিডিও ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন।হিন্দুদের বিষোদগার করা তাঁর মজ্জাগত অভ্যাস যা একাত্তরেও করেছেন হিন্দুদেরকে নিয়ে।

Second International Conference on Genocide,Truth and Justice
30-31July, 2009 এ অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রুমানা ইসলাম তাঁর Trial of War Criminals of 1971: An Appraisal পঠিত প্রবন্ধে লিখেছেন-

If the war criminals of 1971 is not brought into justice,then when our future generation will go through the pages of history and find with dismay and utter surprise and inquire us why the peoples who were responsible for killing about thirty lac people with brutality,rape of two lac women and the killings of the brightest sons of this soil-the intellectuals were not put into justice,on that day those of us who are demanding the trial of war criminals of 1971 today at least will not have to hide our faces with shame,disgrace,embarrassment and humiliation.At least we can say,”Yes,we wanted justice”.