ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

নানা ইস্যুতে সরকার আর বিরোধী দল সভা-সমাবেশে হুঙ্কার দিলেও রাজপথ শান্ত ছিল। তবে জামাত- শিবিরের তান্ডবে হঠাৎ করেই শান্তিপূর্ণ রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। জঙ্গি কায়দায় পুলিশের হাতিয়ার কেড়ে নিয়ে তা দিয়েই পুলিশ পেটাচ্ছে শিবির ক্যাডারা। রক্তাক্ত হচ্ছে পুলিশ। জামাতিদের এমন তান্ডবে দেশের সচেতন মানুষ পুলিশেরই পক্ষ নিয়েছে মনে হয়। গণমাধ্যম কর্মীরা নানাভাবে পুলিশের ওপর হামলায় অংশ নেওয়া শিবির কর্মীদের চিহ্নিত করেও দিচ্ছে। তাতে কি? পুলিশ বলে কথা। তারা শিবিরের তান্ডবে নাস্তানাবুদ হলেও, শিবিরের সহিংসতার মধ্যে জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় অনেকটা ব্যর্থ হলেও সাংবাদিকদের ছাড়ছে না এই পুলিশ!

এই জামাতি তাণ্ডবের ঘটনা নিয়েই সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন দুই গুণধর ওসি। রাজপথে জামাতি মার খেয়ে তারা নিরাপদে গিয়ে তেজ ঢালেন গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর। এর একটি ঘটনা খোদ রাজনীতির মতিঝিল থানায়। আর অপরটি ঢাকার বাইরে রংপুর সদর থানায়। জামাতিদের সঙ্গে পেরে ওঠতে না পেরে হয়তো এই দুই থানার গুণধর ওসি হুমকি দিলেন দুই সাংবাদিককে। তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে মতিঝিলের ওসি হায়াতুজ্জামান মোল্লা দৈনিক যায়যায়দিনের অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক তানভীর হাসানকে পায়ে গুলি করার হুমকি দেন। আর রংপুর সদর থানার ওসি আলতাফ হোসেন বাংলানিউজের রংপুর প্রতিনিধি সাজ্জাদ বাপ্পীকে তুলে নিয়ে নিজেই বিচার করার হুমকি দিলেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়- ৫ নভেম্বর সোমবার মতিঝিলে তান্ডব চালায় জামায়াত শিবির ক্যাডাররা। বাঁধা দিতে গেলে তারা পুলিশের ওপরও হামলা চালায়। পরের দিন ৬ নভেম্বর যায়যায়দিনের সাংবাদিক তানভীর হাসান এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার খোঁজ-খবর নিতে মতিঝিল থানায় যান। সাংবাদিক তানভীর ওসি হায়াতুজ্জামানের কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে ওসি ওই সাংবাদিককে গুলি করার জন্য থানায় কর্তব্যরত সেন্ট্রিকে নির্দেশ দেন।

বিভিন্ন পত্রিকায় দেওয়া তানভীর হাসানের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সেদিন তিনি ওসির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার কক্ষে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। একপর্যায়ে ওসি হায়াতুজ্জামান নিজেই কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় তানভীর নিজের পরিচয় দিয়ে তার থানায় যাওয়ার উদ্দেশ্য জানালে অজ্ঞাত কারণে ওসি প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হন। ওসি পুলিশের গণমাধ্যম শাখা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেন। কিন্তু সেখানে মামলার বাদী ও আসামীদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা নেই জানালে ওসি আরও ক্ষেপে যান। ওসি সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নাম-ঠিকানা দিয়ে কি করবি? বাদীর বাসায় জামায়াত-শিবির কর্মী পাঠাবি? এই সেন্ট্রি, শালা সাংবাদিকের পায়ে গুলি কর।’

একই দিন বাংলানিউজের রংপুর জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ বাপ্পীকে ‘তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দিলেন রংপুর সদর থানার ওসি আলতাফ হোসেন। ওই সাংবাদিকের অপরাধ- তিনি রংপুরে জামায়াতের তাণ্ডবের বর্ণনা লিখতে গিয়ে লিখেছেন :‘ মঙ্গলবার সকালে শিবিরকর্মীরা রংপুর শহরের শাপলা চত্বর থেকে একটি মিছিল বের করলে পুলিশের বাঁধা পেয়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় শিবিরকর্মীদের ধাওয়ায় পুলিশ পিছু হটলে রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি আলতাফ হোসেনের ওপর বোমা হামলা চালায় শিবিরের কর্মীরা। এতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। এ সময় শিবিরকর্মীদের পা জড়িয়ে ধরে তিনি প্রাণভিক্ষা চান। এর পরেও শিবিরের উন্মত্ত কর্মীরা তাকে বেধড়ক মারপিট করে এবং বোমা ফাটায়। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন।’ -এতেই ক্ষেপে যান ওসি। ওই নিউজ ওয়েব সাইডটির পরের ফলোআপ নিউজে বুঝা যায়- শিবিরের পায়ে ধরার কথা লিখায় ওই ওসি ক্ষেপে গেছেন। তিনি এতোটাই ক্ষেপে গেলেন- ওই সাংবাদিককে ধরে নিতে পুলিশ পাঠালেন। শুধু তাই নয়, জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে একই মামলায় আসামী করলেন ওই সাংবাদিককে। তাকে শিবির ক্যাডার বানানোর চেষ্টা করা হলো। যদিও সাজ্জাদ বাপ্পী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে বাংলানিউজের খবরে জেনেছি।

প্রশ্ন হলো- পুলিশ পেটালো জামায়াত-শিবির। আর দুই গুণধর ওসি ক্ষেপে গেলেন সাংবাদিকদের ওপর। এটা কেমন কথা। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লাখো যুবকের মতো আমারও, হয়তো ওই দুই সাংবাদিকের কাছেও জামায়াতের তৈরি এমন ধ্বংসলীলা পছন্দ হয়নি। এজন্য রংপুরের সাংবাদিক জামায়াতের হিংস্রতার বিবরণ দিয়েছেন তার লেখায়। আর ঢাকার সাংবাদিক জামায়াত শিবিরের সেদিনকার হিংস্রতার নেপথ্যের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন মতিঝিল থানায়। আর উল্টো ক্ষেপে গেলেন দুই ওসি!

সাংবাদিকদের এমন হুমকির পরও যদি জামায়াত-শিবিরের তান্ডব থামতো-তাহলে দোষের কিছু ছিল না। জামাতি হিংস্রতা থামাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাধীনতার পক্ষের ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তো অনেক হুংকার দিলেন। কই, তবুও তো থামছে না জামায়াত-শিবিরের তান্ডবলীলা। এ লেখাটা তৈরি করার সময় খবর পেলাম- (১০ নভেম্বর, সন্ধ্যায়) রাজধানীর মিরপুর, রাজশাহী, সিলেট ও চাঁদপুরে আবারও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে শিবির। এমন খবর শুনতে অবশ্য কষ্ট হয়। তাই বলতে চাই, গণমাধ্যম-পুলিশ বৈরিতা নয়, পুলিশ-জনতা মিলেই এ দানবদের ধ্বংসে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা চাই।

১১ নভেম্বর, ২০১২


১৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. হামজা বলেছেনঃ

    মিসিল করা মৌলিক অধিকার সেটা কী করে তান্ডব হয় বুজতে পারলামনা
    সাড়ে তিন বসর মিসিল করেলে পুলিশ জামাত শিবিরকে কোনও কারণ সারা মেরেসে আর কত মানুষ সজ্জ করবে আর মিসিলে বাধা না দিলে তো হয় দেকবেন পুলিশ মার খায়ওয়া তো দূরের কথা একটি গাছের পাতও ছিরবেনা সবার মৌলিক অধিকার পায়ওয়ার অধিকার আছে

  2. সোহেল রানা বলেছেনঃ

    একটা জিনিস বুঝান তো ভাই ,ওসি সেদিন মারাত্নক আহত হয়ে থাকলে বাংলানিউজের রিপোর্টারকে হুমকি দিল কেমনে?……………হলুদ সাংবাদিকতা করলে এরকম তো হবেই…………..

  3. আরীফ বলেছেনঃ

    ১। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের এ আচরণ কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য নই।
    ২। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী -প্রতিমন্ত্রীর দলীয় লোকদের ঝাপিয়ে পড়ার নির্দেশকে নাগিরক অধিকার বা সাংবাদিকতার কোন জায়গা থেকে আপিন সমর্থন করেন ?
    ৩। বাংলাদেশের পুলিশের দোষ দিয়ে লাভ কি? তারা সব দলের চামচামি করেত ক্লান্ত। সরকারের কথা শুনে জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধাঁ দিতে গিয়ে পুলিশ মার খেয়ে বেসামাল হয়ে গেছে।
    ৪। তান্ডব লীলা শুধু স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবির করেনি, অতীতে আওয়ামীলীগ (২৮ অক্টোবর), বিএনপি অতীতে চালিয়েছিল।
    ৫। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলেই রয়েছে আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত গলদ। তাই তথাকথিত রাজনীতির বিরোধীতা না করে নিজের দল থেকে সংস্কারের চিন্তা করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দলের অন্ধ সমর্থন না করে দেশের কল্যানে নিজ দল গড়ার চেষ্টা করতে হবে।

  4. razz বলেছেনঃ

    সাংবাদিক ভাই এরকম দলীয় সাংবাদিকতা করলে ।।,আজ ই এ পেশা ছেড়ে দিন,নিরপেক্ক সংবাদ পরিবেশন করুন ।সাংবাদিকতার মান সম্মান আপনারাই নষ্ট করছেন।।,এজন্য আপনাদের আজ এ অবস্থা .

    ১০
  5. nasar ahmad বলেছেনঃ

    আমাদের উচিত সবাই দেশের জন্য চিন্তা করা এই দরনের কথা বলা ঠিক নয় যা দেশ কেই বিপদের মুখে ফেলে দিবে ধর্জ ধরুন দুআ করুন দেশর জন্য|দনন্য বাদ |

    ১১
  6. *আমি বাংলাদেশী বলেছেনঃ

    সাংবাদিকতা একটা মহান পেষা। কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা তততাই জঘন্য। সাংবাদিক সাহেব বলেছেন রংপুরের ওছির উপরে শিবিরের কর্মীরা বোমা মেরেছে আবার তাকে বেধরক পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে। আবার পরক্ষনে সেই অছিই সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছে। কথাটা পরস্পর বিরোধী হয়ে গেল। আমার মনে হয় সাংবাদিক সাহেব নিজ চোখে দেখে সাংবাদিকতা করেন না উনি দেখেন হানিফ, সুরঞ্জিত, কামরুলের চোখ দিয়ে। হলুদ সাংবাদিকতা পরিত্যাগ না করলে পুলিশ কেন জনগন ও আপনাদের মতো জঘন্য সাংবাদিকদের ঘৃণা করবে। জামাত শিবির মিছিল করলেই সেটা হয়ে যায় তাণ্ডব আর ছাত্র লীগের সন্ত্রাসী কাজ কর্ম কে বলা হয় প্রতিবাদ। এরকম এক চোখা নীতি পরিহার করুন। জনতা জেগে উঠেছে। আর মার খাবেনা এবার প্রতি শোধ নেয়ার পালা। দেশের ভাল চাইলে সকলের প্রতি সমান আচরন করুন। দেশটা আরও ভালো থাকবে।

    ১২
  7. টাচ মাই ড্রিম বলেছেনঃ

    ওসি সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নাম-ঠিকানা দিয়ে কি করবি? বাদীর বাসায় জামায়াত-শিবির কর্মী পাঠাবি? এই সেন্ট্রি, শালা সাংবাদিকের পায়ে গুলি কর।’
    ============================================
    সোহেল রানা বলেছেন: 6
    রাত ১০:৫৬, রবিবার ১১ নভেম্বর ২০১২
    একটা জিনিস বুঝান তো ভাই ,ওসি সেদিন মারাত্নক আহত হয়ে থাকলে বাংলানিউজের রিপোর্টারকে হুমকি দিল কেমনে?……………হলুদ সাংবাদিকতা করলে এরকম তো হবেই…………..
    ===========================================

    ১৩
  8. anik chy বলেছেনঃ

    এসময় শিবিরকর্মীদের ধাওয়ায় পুলিশ পিছু হটলে রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি আলতাফ হোসেনের ওপর(!) বোমা হামলা চালায় শিবিরের কর্মীরা। এতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন (1)। এ সময় শিবিরকর্মীদের পা জড়িয়ে ধরে তিনি প্রাণভিক্ষা চান। এর পরেও শিবিরের উন্মত্ত কর্মীরা তাকে বেধড়ক মারপিট করে (2)এবং বোমা ফাটায়(3)। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন-এই রিপোর্টের মধ্যে অবশ্যই সততার প্রশ্ন থেকে যায়, উপরের ১ নং উক্তি থেকে বুঝা যায় তখনই ওসি আহত হন, ২ নং উক্তি থেকে বুঝা যায় তাকে আবার মারা হয় এবং ৩ নং উক্তি অনুসারে আবার বোমা মারা হয়, এটা কেমন ওসি যে এভাবে উপর্যুপরি মারার পরে ও সে দিব্যি অফিস করছে, মনে হচ্ছে পুরা কাহিনীটা রিপোর্টারদের দেয়া ভিউস, কোনো নিউস না…….

    ১৪

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...