ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
1

হিমালয় সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে বিস্তীর্ণ পাথুরে বেসপ্লেটের উপর। এই পর্বতমালার কোলঘেঁষে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য নিয়ে গড়ে উঠেছে প্রাচীন দুর্গনগরীর জনপদ-পঞ্চগড়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে এই জনপদটি নিজস্বতায় দীপ্তময়। আবহাওয়া ও অবস্হানগত কারণে,এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও যথেষ্ট। প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর রডোডেনড্রন জন্মানোর ফলে এ জেলার বিস্তীর্ণ প্রান্তরে এখন বাণিজ্যিক ভাবে চা এর চাষ শুরু হয়েছে। অর্গানিক চায়ের স্বাদের জন্য এ জেলার নাম দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও সুনাম কুড়াচ্ছে।

এতসব কিছুর পরেও এই জেলা শহর যে কারণে বিখ্যাত তা হলো পাথর।এ জেলায় পাথরের চাষ হয়  রীতিমত।পাথরের খনির জন্য পঞ্চগড়ের সুনাম রয়েছে। নদী ও সমতল ভূমিতে সমান হারে পাথর পাওয়া যায়। এসব পাথর জেলার চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে সরবরাহ হয়। বর্ণীল এই পাথুরে শহরের মানুষ পাথর তুলে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবিকা নির্বাহ করছে। সাধারণ ভুমিহীন মানুষের নদীর ঠাণ্ডা জলে ডুবে পাথর উত্তোলনের দৃশ্য মোহিত করার মত। চাওয়াই, ডাহুক, করতোয়া কিংবা গোবরা বা মহানন্দায় নিয়মিত পাথর শ্রমিকেরা পাথর তুলে।

কিন্তু সবচেয়ে ভীতির কথা হলো, একদল অসাধু, মুনাফাখোর দুর্বৃত্ত বেশি টাকা আয়ের নেশায় ব্যবহার করছে ড্রেজার মেশিন। সমতলে ব্যবহার করছে বোমা মেশিন। এসব মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ফলে মাটির গভীরতম স্তরে শূন্যস্হান বা সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়। এতে স্বল্প মাত্রার চেয়ে একটু বেশি ভূমিকম্পন অনুভুত হলে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কার জন্ম হচ্ছে। ২০০৯ সালে এসব মেশিনের বিরোধিতা করতে গিয়ে একজন নিহতও হয়েছেন। প্রশাসন মাঝে মাঝে ফোঁসফাঁস করলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে হয় না। ফলে যে লাউ সেই কদু অবস্হার সৃষ্টি হচ্ছে। উপরন্তু এসব অবৈধ মেশিন সরকার দলীয় কিছু সুবিধাভোগীরা ব্যবহার করছেন। ফলে,সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে ভয় পাচ্ছেন। যদিও এর মধ্যে নাট্য সংগঠন ভূমিজ “রাঙামাটি ও সিলেটে অনেক হারিয়েছি, তেঁতুলিয়া হারাতে চাই না ”  স্লোগান কে সামনে রেখে মঞ্চায়ন করেছে – নাটক,”আঙুল ও একটি কলাগাছ”।

বাংলাদেশের সবচেয়ে ভুমিকম্পপ্রবণ জেলা পঞ্চগড়কে এসব নব্য হায়েনাদের থাবা হতে বাঁচাতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে মানচিত্র হতে হারিয়ে যেতে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না বোধ করি। তাই পাথরের দেশ হায়েনার থাবায় ধ্বংসের হাত থেকে মুক্তির জন্য প্রশাসন তথা সকলের শুভ দৃষ্টি কামনা করছি।