ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

FB_IMG_1486023278287চাঁদপুর হাইমচর উপজেলা। উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাশীন দলের নেতা। সারাদেশের বিবেককে কাঁপিয়ে দিয়ে উনার একটি ছবি বাংলাদেশের প্রায় সবকটি পত্রিকা এবং সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দেশের মানুষের কাছে এইসব বিকৃত মানসিকতার মানুষেরা জন প্রতিনিধি হয়ে আমাদের দেশের শাসন ব্যাবস্থায় কি অবদান রাখছে তারই জলন্ত প্রমাণ এই ছবি। অভিযুক্ত এই ব্যক্তিটি হলে হাইমচর উপজেলার চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামি লীগের সাধারন সম্পাদক নুর হোসেন পাটোয়ারী।

উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় এই ন্যাক্কার জনক ঘঠনা টি ঘটেছে। বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন খুব সুন্দর ভাবে। কিন্তু এরপরেই ঘটে আসল ঘটনা, যখন সেই জনপ্রতিনিধি স্কুলের বাচ্চা কয়েকজন ছাত্রের হাতের উপর শুয়ে থাকা এক ছাত্রের উপর দিয়ে হেঁটে পাড়  হলেন। শুধু তাই নয় পাটোয়ারী সাহেব যেন নিরাপদে নামতে পারেন সেজন্য আরেক শিক্ষার্থী হাঁটু গেড়ে হাত পেতে বসেছিলো যাতে উপজেলা চেয়রম্যান আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারন সম্পাদক সাহেব যেন তার হাতে পা রেখে মানব সেতু থেকে নামতে পারেন।

এই ছবি তুলে নিয়ে এক অবার্চীন সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে দিলে দ্রুত খবরটি চারিদিকে ছড়িয়ে পরে এবং নিন্দার ঝড় উঠে।

এই ছবি নিয়ে যখন সারা দেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে তখন সেই উপজেলা চেয়ারম্যান সাফাই গেয়ে বলেছেন এই  ব্যাপারে তার কোন দোষ নেই। স্কুলের শিক্ষার্থীরা পদ্মা সেতুর মডেল বানিয়ে আমাকে তারা সেই সেতু দিয়ে পার করিয়েছে। আমাকেও তারা সেই ইভেন্টের একজন সদস্য বানিয়ে ছিলো।

পদ্মা সেতুর ইভেন্ট বানানোর যখন পরিকল্পনা হয় তখন নিশয় সেই স্কুলের শিক্ষকরাও ছিলেন। তারা নিশ্চয় এই  ইভেন্ট প্রদর্শনের ব্যাপারে অবহত ছিলেন। সেক্ষেত্রে বলাই যায় উপজেলা চেয়ারম্যান এই ছাত্রদের উপর দিয়ে হেটে যেমন অপরাধ করেছেন এবং কান্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন ঠিক একইভাবে স্কুলের সকল শিক্ষক এই অপরাধে অপরাধী।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চেয়েরম্যানের এই কীর্তিকলাপে যখন সারাদেশে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে ঠিক তখনই  আরো একটি ঘটনা ঘটেছে জামালপুর জেলার মেলান্দহে। একই রকম ঘটনা ঘটিয়েছেন স্কুলের এক জমিনদাতা। গত  ২৯শে জানুয়ারী এক জন জমিন দাতা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের এবং এক স্কুল শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে এসে ছাত্রদের তৈরী মানব সেতুর উপর দিয়ে হেঁটে যান। এখানেও প্রধান অতিথি হয়ে আসা  স্কুলের  জমিনদাতা দিলদার হোসেন যেমন দায়ী তেমনি স্কুলের শিক্ষকবৃন্দও একই ভাবে দায়ী। এ ব্যাপারে স্কুলের  প্রধান শিক্ষক বলেছেন যে স্কুলের স্কাউট ছাত্রদের কসরতের অংশ হিসেবে তৈরী করা মানব সেতুর উপর দিয়ে হেঁটেছেন কিনা না জানি না, তবে ছাত্রদের কাধের উপর দিয়ে হেটে গেছেন এটা সত্য। তাহলে প্রধান শিক্ষক সাহেব এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা এই কসরত বন্ধ করলেন না কেনো এই প্রশ্ন থেকেই যায়।

আমাদের দেশ যখন ধীরে এগিয়ে চলেছে ঠিক সেই সময়ে প্রাগৈতিহাসিক আমলের মতো স্কুলের বাচ্চাদের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো এমন মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, দলগুলো এমন মানসিকতার নেতাদের মনোনয়ন দেন। এ দৈন্যতা, এই হীনতা আমরা কি দিয়ে ঢাকবো। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিনিয়ত কি পিছন দিকে হাঁটছে?

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাইমচরের ঘটনা তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এক তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। অন্যদিকে মেলান্দহের ঘটনায় এমন তদন্ত কমিটি গঠনের কোন খবর আসে নাই।