ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

সরকারের মধ্যে এক ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। কখন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বা কোন সময়ে নিলে সুবিধা হয় সে ব্যাপারে সরকারের সকল পর্যায়েই এক হ-য-ব-র-ল অবস্থা। গতরাত্রে সরকার পরিবহন খাতে এক সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে পনেরো দিনের জন্য। অথচ গত দুই দিন ঢাকা মহানগরীতে নগর পরিবহনে এক চরম অব্যবস্থার সৃষ্টি হয়।

ঢাকা মহানগরীতে চালুকৃত নগর পরিবহনের মধ্যে প্রথম থেকেই এক ধরনের নিয়ন্ত্রনহীনতা ছিল। পরিবহন ব্যবসায়ীদের দাপটে সাধারণ যাত্রীরা ছিলো বা আছে জিম্মি। যখন ইচ্ছে বাস চালানো, বন্ধ রাখা, ভাড়া বাড়ানো, সিটিং সার্ভিস করা আবার যেখানে সেখানে থামিয়ে যাত্রী উঠানো। এছাড়া যাত্রী উঠানো নামানোয় ছিলো তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনিচ্ছা।

তাদের এই দৌরাত্মে বাংলাদেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক জগলুল চৌধুরীকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য নাম না জানা ব্যক্তিকেও মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে, পঙ্গু হতে হয়েছে আরো অনেক অসহায় যাত্রী সাধারণকে। সরকার পুরোপুরি এই সেক্টরের কাছে জিম্মি। দুর্ঘটনায় মানুষ মেরে ফেললেও তাদের জন্য কোন শাস্তি রাখা যাবে না। সরকার এতোটাই অসহায় এই পরিবহন খাতের কাছে।

21_Public-Sufferinransport_

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী পরিবহন খাতে পরিবর্তন আনার অনেক চেষ্টা করেও সফল হতে পারছেন না বা তাকে সফল হতে দেওয়া হচ্ছে না। সারা বিশ্বে যখন পরিবহন খাতের এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন হয়েছে সেখানে আমরা প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছি।

আশির দশকে বা তারও আগে ঢাকা নগরীর দুয়েকটা সড়ক ছাড়া অধিকাংশই ছিলো এক লেন বা সর্বোচ্চ দুই লেনের; তখনো পরিবহন খাত ছিলো শৃংখলাপূর্ণ। রুট ছিলো অনেক কম, বাসের সংখ্যা ছিলো অপ্রতুল, বেশিরভাগ রুটে মুড়ির টিন নামক বাস চলাচল করতো। বিআরটিসি সহ কিছু পাবলিক বাস নগরের বিভিন্ন রুটে যাত্রী বহন করতো। পক্ষান্তরে এখন ঢাকা নগরের প্রায় সব রাস্তাই আজ চার লেন, ছয় লেন বা আট লেনে রুপান্তরিত হয়েছে, বাস এবং রুটের সংখ্যা কল্পনাকেও ছাড়িয়েছে। অবশ্যই স্বীকার্য যে ঢাকা নগরীর জনসংখ্যা আজ সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে মানুষ ঢাকা নগরের দিকেই ছুটে আসছে।

শিল্প কারখানা, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইন আদালত, প্রশাসন সব আজ ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। যার ফলে মানুষের জীবন-জীবিকার তাগিদে এই ঢাকামুখীনতার লাগাম টানা যাচ্ছে না। ফলে অন্য সবকিছুর মতোই পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়েছে সীমাহীন।

বিআরটিএ’র মতে ঢাকা নগরে সিটিং সার্ভিস চালানোর কোন অনুমতি কাউকেই দেওয়া হয়নি। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় অফিস টাইমে বা খুব বেশি রাশ টাইমে পরিবহনগুলো সিটিং সার্ভিসে পরিণত হয় এবং মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। যাত্রী সাধারণ হয়ে পরে অসহায়, জিম্মি।

অফিস ছুটির সময় নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করে। প্রায় বাসই নারী যাত্রীদের তুলতে চায় না। আর যদিও বা কেউ কেউ উঠেন তাদের পড়তে হয় অবমাননাকর যৌন হয়রানিতে। বিদ্রুপ কটাক্ষ তো ডাল-ভাত।

এহেন পরিস্থিতিতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ নগর পরিবহনে সিটিং সার্ভিস বিরোধী এক অভিযান শুরু করে। অথচ সেই প্রচেষ্টা বা অভিযান দুইদিনের মধ্যে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। সড়ক মন্ত্রী নগর পরিবহনের ক্ষেত্রে এক নির্দ্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়নের কথাও বলেছেন। কিন্তু সেই আগের অবস্থাতেই বিআরটিএকে ফিরে যেতে হয়েছে। সিটিং সার্ভিস বিরোধী অভিযান মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে আবারো পরিবহন খাতের কাছে আত্মসমপর্ন করেছে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।