ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আমদের জাতির জন্য লজ্জাজনক ঘটনা যে আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শ্যামল কান্তি স্যারকে পুলিশ প্রেফতার করেছে। পুলিশ বিশেষ করে আমাদের দেশের পুলিশ যে কোন ব্যক্তিকেই তাদের ক্ষমতা খটিয়ে প্রেফতার করতেই সিদ্ধহস্ত। পুলিশ শ্যামল কান্তি স্যারকে গ্রেফতার করেছে কারণ  উনার বিরুদ্ধে নাকি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আছে। তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন এমপিও ভুক্তির কথা বলে ঘুষ নিয়েছেন। আহা কি বিশাল অপরাধ! তিনি যদি এই ঘুষ গ্রহণ করে থাকে তবে তাকে আগে ঘুষ নেওয়ার জন্যে নয় বরঞ্চ তিনি এতো বড় কাজ করতে গেলেন কেনো, সেজন্যেই তাকে গ্রেফতার করা উচিত। এমপিও ভুক্তির জন্য সমাজের সব এমপি মন্ত্রী মহোদয়রা আছেন। তারা ঘুষ উপঢৌকন গ্রহণ করে জনগনকে কৃতার্থ করবেন। অথচ তিনি একজন সামান্য শিক্ষক হয়ে এতো বড়ো দায়িত্ব নিতে যেয়েই তো বিপদে পড়েছেন!

স্যার শ্যামল কান্তি ভদ্র আপনার মতো ভালো মানুষের জন্যে তো বাংলাদেশ শেষ হয়ে গেছে! আপনাদের মতো শিক্ষকদের ভরসা ছিলো বাংলাদেশের জাতির জনক কন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সেই ভরসার স্থলের দরজাটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতার সমীকরণে তিনি আজ আর এইসব ছোট-খাটো বিষয়াদি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। নারীকে বন্দী করা, শিক্ষাকে মাদ্রাসাকরণের কাজ, আগামি উনিশে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসা এসব নিয়ে তিনি এতো ব্যস্ত, সেখানে সামান্য স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভদ্রের খবর রাখা সত্যিই খুব দুরূহ।

এর উপরে শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র ভদ্র অনেক বড় অন্যায় করে স্বপদে ফিরে এসেছেন। আওয়ামী লীগের অন্দর মহলের ছেলে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বপদে ফিরেছেন। এমন বেয়াদবি করেও বেঁচে থাকা, নারায়নগঞ্জে চাকরি করা সবকটাই অসাধ্য সাধন তিনি করেছেন জনগনের ভালবাসা নিয়ে। তাই এতো সব অপরাধের জন্য শাস্তি তাকে পেতেই হবে।

পুলিশ ক্ষমতাবানদের হুমুকেই চলে, জনগনের পয়সায় চলা পুলিশ জনগনের ভালবাসা, সমর্থন কিছুই আমলে নেয় না।  তারা ক্ষমতার ড্রয়িং রুমে বসা  নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে এবং তাদের নির্দেশেই মামলা রজ্জু করে যে কোন ব্যক্তির নামে। তেমনি শ্যামল কান্তি স্যারের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রেফতারের ঘটনাও মেনে নেওয়া যায় না।

সমস্ত শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীসহ সকল বিবেকবান মানুষের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নামা উচিত। মিথ্যা মামলায় যারা তাকে ফাঁসিয়েছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়া উচিত।