ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

যক্ষা হলে রক্ষা নেই এ কথাটি সত্য নয়, এমন একটি কথা সরকার বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই প্রচার করছে। এক সময় মানুষে যক্ষা রোগ হলে জীবেনের আশা ছেড়ে দিতো কারণ যক্ষা রোগের চিকিতসা ছিলো সময় সাপেক্ষ, অর্থ সাপেক্ষ এবং পুষ্টি সম্মত খাদ্যের সাপেক্ষ। এই তিনটির সমন্বয় সাধনেই একজন যক্ষা রোগী রক্ষা পেতে পারতো বা নিশ্চিন্ত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসতে পারতো।

এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, সরকারের ঐকান্তিক চেষ্টা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রচেষ্টায় যক্ষা রোগের নিশ্চিন্ত মৃত্যু ঠেকানো গেছো। মানুষ কে সচতন করে তোলার এক পরিকল্পনা সফলতার সাথেই এগিয়ে চলেছে। সরকার প্রায় ৪৪টি এন জি ও এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্য কম্পলেক্স এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পলেক্স এর মাধ্যমে গন সচেতনতা এবং চিকিতসার ব্যবস্থা করেছে। এবং এর ফলও হাতে নাতে পাওয়া গেছে। কিন্তু তারপরেও পরিসংখ্যান হিসেবে বাংলাদেশে যক্ষা রোগের অবস্থা এখনো নাজুক। বিশ্বের যক্ষা অধ্যুষিত ২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ।

এখনো প্রতি লাখে ৪৮ জন মানুষ যক্ষা রোগে মারা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে যক্ষা রোগ ১৫ বছর থেকে ৫৪ বছরের রোগীর সংখ্যা বেশি। যক্ষা রোগের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীর বাদ এই দক্ষিন পুর্ব এশিয়ায়। তবে আফ্রিকার কিছু দেশেও এই যক্ষা রোগের প্রাদুর্ভাব আছে। ন্যাশনাল টিবি কন্ট্রোলের সুত্র মতে দেশে ফুসফুসের যক্ষা আক্রান্ত রোগীর হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মতে সারা বিশ্বে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ যক্ষা রোগে আক্রান্ত, এর মধ্যে ৩০ লাখ রোগীই চিকিতসা সুবিধার বাহিরে। প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ যক্ষা রোগে মারা যায়।

যক্ষা নিয়ে প্রচার প্রচারনা বাড়লেও যক্ষা রোগ প্রতিরোধে সাফল্য তেমন আসেনি। অপুষ্টি, কুসংস্কার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, শিক্ষা এবং চিকিতসার অপর্যাপ্ততাই এর প্রধান কারণ। যক্ষা রোগের সবচেয়ে বড়ো অন্তরায় হচ্ছে চিকিতসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। একটানা ছয়মাস চিকিতসা না করাতে পারলে রুগীর ভালো হবার সম্ভাবনা থাকে না। বরঞ্চ বারবার এই চিকিতসার বিঘ্ন ঘটলে যক্ষা রোগ জটিল আকার ধারন করে। যার ফলে চিকিতসা ব্যয় ২৬ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং সুস্থ্য হবার সম্ভাবনা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে। সরকার আগামি ২০৫০ সাল নাগাদ লাখে একজন যক্ষা রোগী নিশ্চিন্ত করার ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় টিবি কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষের মতে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ রোগীকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এবং কর্তৃপক্ষ বলছে এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ রোগীকে সুস্থ্য করে তোলা হয়েছে।

আমাদের দেশের অধিক জনসংখ্যা, ঘন বসতি এবং অশিক্ষা – অপুষ্টির কারণে যক্ষার মতো প্রানঘাতি এবং সংক্রামক রোগের হাত হতে মুক্ত হতে সময় লাগছে। যক্ষার মতো অসুখকে বিদায় করতে হলে দেশের সকল সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষিত করে তুলতে হবে।