ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আগে আমরা প্রতিদিন শুনতাম প্রতিমুহুর্তে সন্তান জন্ম নিচ্ছে, সন্তান জন্ম নেবার হার ছিলো প্রায় তিন চার। সেই সন্তান জন্মের হারকে কমানোর জন্য সারা পৃথিবী বাংলাদেশকে সাহায্য দিতে শুরু করেছিলো সেই ষাটের দশকে। নানা রকম বিজ্ঞাপন, ঔষধ, কনডম, ইঞ্জেকশন, অপারেশন পদ্ধতি আর বিভিন্ন লোকবল নিয়োগ দিয়ে এই সন্তান উৎপাদন হার কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা হয়েছে।

সেই সময় বাংলাদেশের এক ক্ষণিক কালের শিক্ষামন্ত্রী সামরিক রাষ্ট্রপ্রধানকে বলেছিলেন, পরিবার পরিকল্পনায় যে অর্থ আমরা খরচ করছি সেখান থেকে ২৫ ভাগ অর্থ শিক্ষা বাজেটে দিলে সন্তান জন্মের হার এমনিতেই কমে আসবে। কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা দিয়ে কিছুই হবে না। অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা রাষ্ট্রপতি সেই কথায় কান দেননি। কারণ তাহলে মার্কিন সাহায্য থেকে তাকে বঞ্চিত হতে হবে। যাহোক, বাংলাদেশের সেই অবস্থা এখন নেই। জন্মহারের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশ খাদ্য সমস্যার সমাধানের পথে এগিয়েছে, জনসংখ্যা সমস্যাকে সংকট হিসেবে না ভেবে আজ জনসম্পদ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

দেশ এগিয়ে চলেছে একথা এখন শত্রুরাও স্বীকার করতে বাধ্য। অথচ এই এগিয়ে যাওয়া কোনমতেই মেনে নিতে পারছে না এক শ্রেণীর মানুষ, একশ্রেণীর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, যেভাবেই হোক পিছনে টেনে নিয়ে যাবার এক অশুভ পায়তারা শুরু হয়েছে দেশব্যাপী। এই অশুভ পায়তারা শুধুমাত্র একশ্রেণীর মানুষ বা তাদের রাজনৈতিক দলগুলো করছে তা কিন্তু নয়। সরকার এবং প্রগতির পক্ষে যেসব রাজনৈতিক দল আছে তারাও পরোক্ষ-প্রত্যক্ষে এই পিছনে নিয়ে যাবার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে।

আমার পরিচিত এবং খুব ঘনিষ্ঠ, ক্ষমতাশীন দলের এক জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এর স্ত্রী জামায়াত পরিচালিত এক এনজিও’র কোষাধ্যক্ষ এর পদ অলংকৃত করছে। শুধু তাই নয়, সে জামায়াতের কাজ গুলোকে সাফাই গেয়ে বেড়াচ্ছে। এটা আমার চাক্ষুস দেখা। এই ভাবে সারাদেশে সরকার দলের লোকেরাও সেই হেরে যাওয়া দলের সাথে কাজ করে যাচ্ছে জেনে বুঝে, আবার কিছুটা না জেনে। এখানে ধর্মের দোহাইটা সবচেয়ে বেশি কাজ করছে। আর এভাবেই ধীরে ধীরে পুরো সমাজ, জাতি এবং রাষ্ট্র এক অন্ধকার পথের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে করে মনে হচ্ছে আরো এক শোকাবহ আগস্টের মুখোমুখি হতে হবে জাতিকে। সেই সাথে পুরো দেশ, পুরো জাতি ফিরে যাবে এক অন্ধকার দশকে।

ইদানিং প্রতিদিন সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন। তিন বছরের শিশু থেকে শুরু করে নব্বই বছরের বৃদ্ধাও রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণের হাত থেকে এবং এইসব ধর্ষণে যুক্ত হচ্ছে মৌলানা থেকে শুরু করে সব স্তরের পুরুষ।

গতকাল বাড্ডায় সাড়ে তিন বছরের শিশু ধর্ষিত হয়ে খুন হয়েছে, আজ আবার তিন বছরের শিশু। তিন চার পাঁচ বছরের শিশুকে দেখে কোন সুস্থ্য পুরুষের কামোত্তেজনা জাগ্রত হবে একথা বিশ্বাস করা কঠিন। কিন্তু তাই ঘটছে।

সেক্ষেত্রে দুটো বিষয় সামনে আসছে- সেটা হয় মিডিয়ার বাড়াবাড়ি, অথবা কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ঘটছে এসব ঘটনা।

পাঠকদের মনে আছে কিনা জানা নেই। ছিয়ানব্বইয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পরেই বিএনপির মুখপাত্র বলেছিলো একটা দিনো আওয়ামী লীগকে শান্তিতে দেশ শাসন করতে দিবে না। সেই জায়গায় এখন আরো যোগ হয়েছে জামায়াতের প্রতিশোধ লিপ্সা। সরকার দলের কিছু চিহ্নিত দুর্বৃত্ত আর সরকার দলে যোগ দেওয়া বিএনপি-জামায়াতের কিছু নেতা কর্মীকে কিছুতেই এইসব ধর্ষণ, নির্যাতন আর লুটপাটের ঘটনা থেকে রেহাই দেওয়া যায় না। সরকার দলীয় এবং সরকারে আশ্রয় পাওয়া এই সব বদমাইশেরা সরকারে অর্জিত সাফল্যগুলোকে নস্যাত করে তুলতে উঠেপরে লেগেছে।

পঁচাত্তরের পর থেকে নারীদের ঘরের ভিতর ঠেলে দেওয়া, বোরকা হিজাবে মুড়ে রাখার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো এখনো সেই প্রক্রিয়া থামেনি। ছলে বলে কৌশলে যেভাবেই হোক নারীকে যদি বন্দী করে ফেলা যায় তাহলেই প্রগ্রতি উন্নতি সব প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। তাই প্রথম এবং প্রধান টার্গেট নারী।

নারীকে ঘায়েল করার প্রথম কৌশল হলো ধর্মীয় বিধিনিষেধ, শারীরিক হ্যারাসমেন্ট এবং শেষ অস্ত্র হলো ব্যাপকভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটানো। এবং সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো যারা নারী স্বাধীনতার বিপক্ষে, তারা কিন্তু তাদের লক্ষ্যে সফল হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই ধর্ষণ আর নির্যাতনের বিরোধীতা করতে যেয়ে নারী সমাজ প্রথমেই সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করছে এবং সাথে রাষ্ট্রকে অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করছে নিজেদের অজান্তেই।

আমাদের দেশের একদল প্রগ্রতিবাদী সরকারে আরেক দল বিরোধী শিবিরে। এদের শক্তিহীনতা, দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থা আর দোদুল্যমনতা দেশ বিরোধীদের চক্রান্তকে আরো উৎসাহী করে তুলছে। সরকার তার আকাশ চুম্বী উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার পরেও এই নারী ধর্ষণ, নির্যাতন আর কিছু লুটপাটের কারণে আজ সব কিছু প্রশ্নবিদ্ধ। তাই সরকারকেই এই প্রশ্নবিদ্ধ জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটা কথা খুব সত্য, আওয়ামী লীগ যখন জিতে তখন সে একাই জিতে যায় মনে করে, কিন্তু যখন হারে তখন সবাই কে নিয়েই হারে।