ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ক্যালেন্ডার দেখে যদি হিসাব করা যায় আগামি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে বাকী মাত্র একবছর চার মাস। চারিদিকে নির্বাচনের ডামাডোল তাই বাজতে শুরু করেছে। আগামি সংসদ নির্বাচন অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপুর্ণ। এই গুরুত্ব শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলো জন্যেই নয়, সার্বিকভাবে জাতির জন্যেও অনেক গুরুত্ববহন করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবেও এই নির্বাচনের গুরুত্ব কোন অংশেই কম নয়।

সারাবিশ্বব্যাপী ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠির উত্থান সোজা সরল রাজনৈতিক সমীকরণগুলোকে নিয়তই বদলে দিচ্ছে। অনেকদিনের চেনা মিত্র পরিনত হচ্ছে শত্রুতে আবার শত্রু হয়ে উঠছে পরম মিত্র। ধর্মীয় উগ্রবাদ মানুষের, রাষ্ট্রের চিরচেনা ভাবমূর্তিগুলোকে বদলে ফেলছে হঠাৎ করেই। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বের সকল সমীকরণে গুরুত্ব বহন করছে। এই গুরুত্ব বহন করছে বলেই বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব রাজনৈতিক পটভূমিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধুমাত্র বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে আটকে থাকছে না।

গত দশ বছরে বাংলাদেশ এবং বিশ্বে ঘটে যাওয়া বহু ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনীতিও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক হয়ে পরেছে।

গত দশম সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধি দল নিজেদের জেদ এবং বোকামিতে অংশগ্রহণ না করতে পারায় নিজেরা রাজনৈতিকভাবে যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আজ তারা মরিয়া। এই মরিয়া ভাব তাদের যৌক্তিক-অযৌক্তিক সকল পন্থা গ্রহনে বাধ্য করছে। তাই বোম্বাইয়ের ডন দাউদ ইব্রাহিম থেকে শুরু তাদের পুরানো দোসর আইএসআইসহ সকল জঙ্গি-অজঙ্গি কানেকশনকে কাজে লাগাতে দ্বিধা করছে না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুরুব্বীদেরকেও ন্যায়-অন্যায় বিভিন্নভাবে কাজে লাগানোর জন্য বিভিন্ন লবিষ্ট নিয়োগে পাগল হয়ে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে গেছেন ছেলের সাথে সলাপরামর্শ করে পথ খুঁজতে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন নিজেদের গ্রহনযোগ্যতা প্রমানে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করেছেন। সরকারি দলও বসে নেই চুপচাপ। ২০২১ সালকে টার্গেট করে তারা আবার ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নির্বাচনকে সামনে রেখে তার রাজনৈতিক আদর্শের বিপরীতে অবস্থানরত রাজনৈতিক দল বা গ্রুপগুলোর সাথে বিভিন্ন দেনদরবার চালানো শুরু করেছে। এতে করে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেও মাটিতে ধুলিসাৎ করে দিতে কুন্ঠিত হচ্ছে না।

এই নীতি বিসর্জনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে একেবারে কোমলমতি শিশুদের পাঠ্যসূচিতে হেফাজতের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। যার ফল ভোগ করতে হবে গোটা বাংলাদেশকে, যে বাংলাদেশের জন্য তার প্রতিষ্ঠাতাকে বুকের রক্ত দিতে হয়েছে গোটা পরিবারসহ। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রাণ দিতে হয়েছে ত্রিশ লাখ মানুষকে। সেই বাংলাদেশকে নিছক ক্ষমতার জন্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে কারো বিবেকে বাধছে না।

কওমী মাদ্রাসার মতো অবৈজ্ঞানিক ভাবে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি সরকার। প্রতিদিন জামাতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের দলে স্থান দিয়ে চলেছে। অন্যদিকে দলীয় ক্যাডারদের অপরিসীম মাস্তানিতে সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে তুললেও কোন প্রতিকার করছে না। নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বে নাম করলেও নারী ধর্ষণ আজ জাতীয় সমস্যায় পরিনত হয়েছে।

এমন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে দেশটির ভাগ্য। বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা তার আদর্শের উপর রাখতে পারবে নাকি সেই পুরানো শকুনের দলের হাতে পড়ে আবার ধর্ষিত হবে। এখানে অবশ্য প্রশ্ন আসতেই পারে বর্তমান শাসক দলের আমলেও বাংলাদেশের জন্মলগ্নের আদর্শ আজ প্রতিদিন ধর্ষিত হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এই শাসক দলকে ক্ষমতায় রেখেও বা জনগণ কী পেতে পারে?