ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

অনেকদিন পর সেদিন ভাষার লিঙ্গদোষ-সঙ্গদোষ বিষয়ক লেখাটিতে বেশ চওড়া (তবে মূল পোস্টের চেয়ে বড়ো নয় এমন :P) মন্তব্যে জুলজুব ভাইকে দেখতে পেয়ে আনন্দে আটখানা হয়েছি। মন্তব্যের এক জায়গায় তিনি প্রফেসর ড. মুক্তি সান্যাল (ভারতি কলেজ, দিল্লি ইউনিভার্সিটি)-এর একটি সাক্ষাৎকারের লিংক যুক্ত করেছেন। পরের কথায় যাবার আগে ওই সাক্ষাৎকার থেকে সান্যালের বক্তব্যের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরছি-

.

“Globalisation has, in many ways, led to the slow death of many languages of the world. Today, there are many Indians who invest in learning English and other foreign languages at the expense of their own mother tongue or native languages. This trend, I believe will impact the cultural and the mental abilities of Indians in the long run. ….. “One should not grow forgetting one’s roots because then, it somehow affects the person’s sense of self-esteem. People with low self-esteem will also have low confidence levels and in a way that would affect the entire personality and growth. That is why, in developed countries in the world, so much is done to promote mother tongues of immigrants,”

(বিশ্বায়ন নানাভাবে পৃথিবীর বহু ভাষাকে বিলুপ্তপ্রায় করে তুলেছে। বর্তমানে ভারতের অনেকেই তাদের মাতৃভাষা বা স্বভাষাকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করে ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষা শেখার পেছনে অর্থব্যয় করছেন। আমি মনে করি, এই প্রবণতা আখেরে ভারতীয়দের সাংস্কৃতিক এবং মানসিক সক্ষমতার উপর প্রভাব বিস্তার করবে।…. নিজের শেকড়কে ভুলে যাওয়া উচিৎ হবে না কারণ তাহলে কোনো না কোনোভাবে এটি ব্যক্তির আত্মমর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। আর আত্মমর্যাদার ঘাটতির সাথে সাথে আত্মবিশ্বাসও এমন মাত্রায় নেমে যাবে যা তার পুরো ব্যক্তিত্ব এবং উন্নতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। সেকারণেই উন্নত দেশগুলোতে অভিবাসিদের মাতৃভাষার প্রতি উৎসাহী করতে প্রচুর কাজ করা হচ্ছে।)

.

শিক্ষকতায় দীর্ঘ চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই অধ্যাপক তাঁর দেশের মানুষের ভাষাশিক্ষার বর্তমান চিত্র দেখে আশঙ্কিত বোধ করেছেন, যদিও দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের তুলনায় বেশ এগিয়ে। ইংরেজিতে ইন্ডিয়ানদের সন্তোষজনক দক্ষতা উন্নত দেশগুলোর শ্রমবাজারে তাদেরকে একটি শক্ত অবস্থান পাইয়ে দিয়েছে। আবার নিজেরা ইংরেজিতে ঝুঁকে পড়েও তাদের হিন্দি ভাষাটিকে (প্রায় অর্ধেক জনগণের মাতৃভাষা) পৃথিবীব্যাপি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। আমরা বাংলা ভালো করে শিখতে পারিনি। কিন্তু নাটক আর সিনেমা দেখে হিন্দিটা কেমন রপ্ত হয়ে যায় আমাদের। আবার স্কুল-কলেজে এতো ইংরেজি পড়েও আমাদের হিন্দি দক্ষতার মাত্রায় সেটিকে আজও নিয়ে যেতে পারিনি। সুতরাং ওই অধ্যাপকের আশঙ্কার বাস্তবতা বরং আমাদের দেশে আরও বেশি পাকাপোক্ত হচ্ছে। এদিকে, যখন ইংরেজি না জানার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীর চাকরি হচ্ছে না, মেধাবি শিক্ষার্থির কোথাও কোনও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ মিলছে না, কর্মচারির বেতন বাড়ছে না, পদোন্নতি হচ্ছে না, ভালো সঙ্গী জুটছে না, তখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলার মোহাব্বতে ত্রিশ লক্ষ শহীদ যদি বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে মুক্তিযুদ্ধ করতে চলে আসে বাঙালির চৈতন্যে, তবে কাকে দোষ দেবো?

.

এবার সেই মন্তব্যে জুবায়ের ভাইয়ের কথায় ফেরা যাক। তিনি লিখেছেন,

“ধরি, একটি কাকের জন্য দু’টি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ আছে। প্রশিক্ষণ ১ – কাক হয়ে কোকিলের মত ডাকতে পারার প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ ২ – কিভাবে আরও ভালোভাবে ‘কা কা’ করা যায়, সেই প্রশিক্ষণ।

কাকের মনে হতে পারে, “কোকিলের ‘কুহু কুহু’ অনেক সুন্দর — যেহেতু সুযোগ আছে, যাই না কোকিলকন্ঠী হবার অভিজাত প্রশিক্ষণটি নিয়ে আসি।” কাক যদি এ রকমটা ভাবে, তবে তা পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর হবে। পৃথিবীর জন্য কোকিলের ‘কুহু কুহু’ করার যে প্রয়োজনীয়তা, সেই একই রকম প্রয়োজনীয়তা কাকের ‘কা কা’ করা। কোকিলের ‘কা কা’ করা পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর, আবার কাকের ‘কুহু কুহু’ করাও পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর।

.

উপরোক্ত ঘটনাটির মত প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটবে, যদি বাংলা ভাষাভাষীরা অন্য ভাষাকে অগ্রাধিকার দেয়। যেমন — যে ভাষায় দখল নাই, সে ভাষায় যদি জ্ঞানার্জনের সূচনা করে।

পৃথিবীর জন্য সব ভাষাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রথমত একটি* ভাষাকে আত্মস্থ করা। তা না হলে চিন্তার ক্ষমতা এবং সৃষ্টির শক্তিটা ব্যক্তির পক্ষে সঠিকভাবে ধারণ করা সম্ভব নয়। একটি ভাষা, যেমন বাংলা ভাষা, সঠিকভাবে আত্মস্থ করে ফেলার পর, প্রয়োজনে অন্য যে কোন ভাষা, যে কোন সময়, শিখে নেয়া যায়।

নিজেকে বিকশিত করার সবচেয়ে উর্বর সময় শৈশব এবং কৈশোর। এই সময়ের পর, মানুষের মানসিক কাঠামোকে উপযুক্ত রূপ দেয়া অপেক্ষাকৃত কঠিন। এই সময়ের মধ্যে, একটি সুবিধাজনক ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেকে মজবুত করে গড়ে নেয়া অনেক ফলপ্রসূ। তাতে পরবতীতে যে কোন ক্ষেত্রে নিজের উন্নত মানসিক গঠনকে কাজে লাগাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।”

.

আমি তাঁর এই বক্তব্যের সাথে একমত। তবে একটু যোগ করি (দ্য রাইজ অব দ্য সিটিজেন জার্নালিজমের ভিডিওর স্মৃতিচারণপূর্বক), জীবন-জীবিকার প্রশ্নে সুবিধাজনক ভাষা হিসেবে আমাদেরকে ইংরেজির প্রতি ঝোঁকতেই হবে, যেহেতু উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বাণিজ্য আর বিনোদনের প্রবাহে আধুনিক মানুষ হিসেবে আমাদের অংশীদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে। বাঙালির সামর্থ্য থাকলে তার সন্তানকে ইংলিস মিডিয়ামে পড়াবে, তাতে অবশ্যই দোষের কিছু নেই। সামর্থ্য না থাকলে বাংলা মিডিয়ামে পড়াবে, তাতেও কিছু ধ্বসে পড়ার নেই। কিন্তু ইংরেজির লোভে পড়ে, স্বভাষার সুস্থ বিকাশের সুযোগ যখন একেবারেই লুপ্ত করে দেওয়া হয়, সমস্যাটার শুরু তখনই। এইটুকু পড়ে মনে হতে পারে, তাহলে বাংলা মিডিয়ামে পড়লে যেহেতু ইংরেজির ওরকম আগ্রাসন থাকছে না– ভালোই তো। কিন্তু এখানেও সমস্যা। একটি নয়; দুটি। প্রথমত, এদেশে (অল্প কিছু ব্যতিক্রম বাদে) বাংলা মিডিয়ামেও সঠিক বাংলার চর্চাটা আসলে হচ্ছে না। উপরন্তু, এরা ইংরেজিও শিখছে না।

.

এক সময় মনে করা হতো (এখনও অনেকে মনে করেন) শিশুকে মাতৃভাষার সাথে অন্য ভাষা শেখালে তার ভাষাজ্ঞান এবং মানসিক বিকাশ ব্যাহত হবে। ইউরোপ আমেরিকাতেও প্রাথমিক স্তরের গোড়ায় শিশুকে ভিন ভাষা শেখানোতে তীব্র আপত্তি ছিলো সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষকগণের। ভাষাতত্ত্ববিদগণও তেমনটিই বিশ্বাস করতেন। রবীন্দ্রনাথ কিংবা তাঁর সেজদাদা নিশ্চয়ই সেরকম ধারণা দিয়ে প্রভাবিত হয়ে থাকবেন। কবির শৈশব স্মৃতিচারণে তাই এই বিখ্যাত উক্তিটি আমরা পেয়েছি-  আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তার পরে ইংরেজি শেখার পত্তন। কথাটার সাদামাটা মানে হতে পারে, শিশুকে দুটি ভাষা একত্রে শেখানোর চেষ্টা অনুচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক অনেক গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, একই সাথে একটি শিশু দুই, তিন, চার কিংবা তারও বেশি ভাষা সফলভাবে শিখতে সক্ষম। শিশুদের দ্বিভাষিকতা (bilingualism) নিয়ে গবেষণা করেছেন অধ্যাপক Colin Baker, যিনি তাঁর বই The Care and Education of Young Bilinguals: An Introduction for Professionals-এ লিখেছেন: Raising children bilingually is sometimes believed to cause language delay, though evidence does not support this position. Raising children bilingually neither increases nor reduces the chance of language disorder or delay। এদিকে ২০০৬ -এ প্রকাশিত Center for Applied Linguistics এর একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়: Although many parents believe that bilingualism results in language delay, research suggests that monolingual and bilingual children meet major language developmental milestones at similar times। Cornell Language Acquisition Lab এর গবেষণা থেকে আরও একটি তথ্য: Although some parents and educators may have concerns about the potential for confusion, bilingual children do not suffer language confusion, language delay, or cognitive deficit. গবেষণার এসব তথ্যকে সত্য বলে মেনে নিয়েও আমি রবিঠাকুরের সেজদাদা কিংবা জুবায়ের ভাইয়ের মতের সাথে একমত পোষণ করি। কথাটি এই মূহুর্তে পাঠকের কাছে দ্ব্যর্থবোধক মনে হতে পারে, তবে বাকিটুকু পড়লে আশা করি সেরকমটি মনে হবে না।

.

প্রথমত, শিশুর শিক্ষা বিদ্যালয়ে নয়, শুরু হয় তার ঘরে। ঘরে যদি কারও দুটো ভাষার নিয়মিত চর্চা হয়, তাহলে দুটোকেই শিশুর শিখতে কোনো সমস্যা নেই। এক্ষেত্রে দুটোই তার মাতৃভাষা। তবে মাতৃভাষা একটি হলেও বিত্তবান অভিভাবক  পর্যাপ্ত প্রাইভেট টিউশনের ব্যবস্থা করে ভালো ফল পেতে পারেন, তবে এক্ষেত্রে শিশুটির দ্বিতীয় ভাষাটি আয়ত্ব করার গতি তুলনামূলক শ্লথ হবে। দ্বিতীয়ত, শিশুর ঘরে যদি একটি ভাষার চর্চা হয়, এবং সে যদি শৈশবেই ভাষাঞ্চল পরিবর্তন না করে (বাবা-মায়ের বিদেশ গমনের সুবাদে বা অন্য কোনো উপায়ে), আর এমতাবস্থায় তার প্রথম ভাষাটির সঠিক চর্চার সুযোগ না পেয়ে যদি সে অন্য কোনো ভাষা শিখতে শুরু করে, তখন তার নতুন ভাষাটির বিকাশ বিপর্যয়ের শিকার হতে বাধ্য। আর এর সাথে যদি যুক্ত হয় দ্বিতীয় ভাষাটি শেখানোর উপযুক্ত প্রশিক্ষক আর পরিবেশের অভাব তবে অবস্থা হবে আরও ভয়াবহ। বহুদিন থেকেই আমাদের দেশে সে অবস্থাটি বিদ্যমান। সুতরাং দুটো ভাষাকে সমান্তরালভাবে শিশুর পক্ষে শেখা কোনো কঠিন ব্যাপার নয় যদি শিশুটিকে দুটো ভাষারই যথেষ্ঠ এক্সপৌজার তথা অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ দেওয়া হয়।

.

বাংলাদেশের ইংলিশ মিডিয়ামের যে শিশুটিকে আমরা চমৎকার বাংলা ও ইংরেজি বলতে শুনি তার দ্বিভাষিকতা কিন্তু শুধু ক্লাসরুমের ফসল নয়; হয় পরিবারের লোকেদের মাধ্যমে থেকে নয়তো প্রাইভেট টিউশনের মাধ্যমে কিংবা উভয়ের মিশ্রণে এটির অর্জন সম্ভব হয়েছে। এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, শিশুর দ্বিভাষিক হয়ে ওঠার পেছনে তার আর্থসামাজিক পরিবেশের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশে যেহেতু ঘরে ঘরে বাইলিঙ্গুয়াল পরিবেশ নেই, বা বহুমূল্য টিউশনের পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের খরচ যোগানোর সামর্থ্য নেই অভিভাবকদের, তাই আগে বাংলাটাকেই ভালো করে শেখানোর প্রতি মনযোগি হতে হবে। আর এদেশের ইংরেজি শেখা যতোদিন গ্রামারের কতিপয় চর্বিত চর্বন, নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ এবং রচনা মুখস্ত করা আর তথাকথিত ‘কমন পড়া’ থেকে মুক্তি না পাবে, ততোদিন পর্যন্ত প্রজন্মের ইংরেজির উৎকর্ষ অর্জন স্বাপ্নিক অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে না। ভালো শিক্ষকের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তবে কারিকুলাম আর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অসুস্থতা অটুঁট রেখে যতোই সে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করা হোক, ফলাফল ভালো হবার কথা নয়। আমাদের দেশভর্তি জিপিএ ফাইভ সেই খারাপ ফলাফলে ‘ভালো’ নামের কলঙ্ক হয়ে লেপ্টে আছে।

.

এখন কথা হলো, মাতৃভাষার দুর্বল পারঙ্গমতা নিয়েও যে শিশুরা ভবিষ্যতের সুখের প্রয়োজনে ইংরেজি শেখে, ইংরেজি ভালো পারে, তাদের ব্যাপারটি কেমন? প্রথম কথা হলো, এরা ভালো পারে না; পারে বলে যেটি মনে হয়, সেটি ভ্রম– “খালি কলসির বেশি বাজনা’। এরকম কোনো শিক্ষার্থির সাথে ইংরেজিতে কিছুক্ষণ বাতচিত করলে ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়ে ওঠবে।  দ্বিতীয় কথা হলো, এরা নিঃসন্দেহে শেকড়ভোলা সন্তান, ভ্রান্তিময় অহমে আক্রান্ত হয়ে এরা সমাজ থেকে গুটিয়ে রাখে নিজেদেরকে। বাঙালি হয়ে জন্মেছে বলে গ্লানি অনুভব করে। আত্মমর্যাদার ঘাটতির সাথে সাথে এদের ‘আত্মবিশ্বাসও একদিন এমন মাত্রায় নেমে যাবে যা পুরো ব্যক্তিত্বকে কলুষিত করে তুলবে।’ এরা বিপদগামী। দেশপ্রেমহীন। একদিন দেশকে, মা-বাবাকে বেমালুম ভুলে দূরে সরে যাবে নিমক হারামি করে। আর দেশে থাকলে সংস্কৃতিকে, ভাষাকে কলুষিত করবে, বাংলার সাথে ইংরেজির জগাখিচুরি বানিয়ে বিশ্রি উচ্চারণে দেশের বাতাসকে কলুষিত করবে। আমরা ইতোমধ্যে এরকম উদাহরণ দেখেছি। আরও উদাহরণ তৈরি করছি। আরও দেখতে থাকবো, করতে থাকবো। উল্লেখ্য, এরা ছাড়াও বাকিদের জন্য যে শিক্ষাব্যবস্থা দেশে চালু রয়েছে, আর যেভাবে দেশব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভাষাচর্চা  চলছে, তাতেও খুব খুশি হবার মতো কিছু ঘটছে বলে মনে হওয়ার কারণ নেই। পাশাপাশি আরও দুটি কথা মনে রাখা দরকার, একটি হলো, শিশুর ভাষা বিকাশে ব্যর্থতার দায় স্কুলের অবকাঠামো, অর্থনৈতিক অবস্থা কিংবা শিক্ষকের উপর চাপিয়ে দিয়ে আরাম পাওয়াটা অন্যায়। দ্বিতীয়টি হলো, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আর শিক্ষার ভবিষ্যৎ একসূত্রে গাঁথা।

.

জুবায়ের ভাইয়ের কথাটি দিয়েই শেষ করতে চাই- ’বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সুবিধাটা বাংলার পক্ষে। প্রকৃতি প্রদত্ত সুবিধার চেয়ে বড় কোন সুবিধা নাই। যুগে যুগে যারা এগিয়ে গেছে, তারা এই সুবিধাকে পুঁজি করেছে। স্পষ্টতই বাংলা ভাষার সমাজে অন্য ভাষাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত নয়।’