ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

ভাষা বীজগণিতের তালে চলে না— তা সবারই জানা। তবে যত বেতালই হোক, ইংরেজির মতো আউরা-কাউরা ভাষা দুনিয়ায় আর থাকার কথা নয়। নিয়তই বিস্তর ঝামেলা বাধে শব্দ নিয়ে, অর্থ নিয়ে, উচ্চারণ নিয়ে। এমনিতেই ছাব্বিশ হরফে চুয়াল্লিশ রকম উচ্চারণের জ্বালা, তার উপর আবার ইন-এট-বাই-টু-অন ইত্যাদি ধনটন মিলিয়ে এক শব্দের দুই-তিনশো ধরন ধারণ। সত্যিই, খুব এলোমেলো বিষয়।

.

ছেলেটাকে শেখানো হলো, LOSE HEART মানে ‘ভেঙে পড়া বা আশাহত হওয়া’। সে তার মনের মাধুরি মিশিয়ে বন্ধুকে সান্ত্বনা দিয়ে লিখলো PLEASE DON’T LOSE YOUR HEART। ঝামেলাটা পাকিয়ে ফেললো। বোঝাতে চাইলো ভেঙে পড়ো না, আর হয়ে গেলো ‘প্রেমে পড়ো না’। ঘর থেকে মায়ের সাথে বাইরে যাওয়ার ঠিক আগে যদি কেউ বলে, ‘আই এ্যম গৌয়িং আউট উইদ মাই মাদার’, তখন যেমন বুঝি, ‘করিম ইজ গৌয়িং আউট উইদ করিমন দিজ ডেইজ’— এরকম বাক্যে অর্থ তেমনটি নয়। এখানে বুঝতে হবে, ‘করিম বর্তমানে করিমনের লগে প্রেম করতেছে।’ ‘গ্রিল কাইট্টা চোর ঢুকছে ঘরে’? তাহলে ‘ব্রেক ইনটু’। কিন্তু ‘সংসার খান ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের লাহান ভাইঙ্গা খানখান’ হলে, তাকে কিন্তু ‘ব্রেক আপ’ বলতে হবে। এরকম আরও হাজারো উদাহরণ রয়েছে।

.

প্রেপোজিশন সহযোগে একই শব্দগুচ্ছের একাধিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রায়শ দেখা যায়, এদের একটি ব্যবহার লিটার‍্যাল; অন্যগুলো ইডিওম্যাটিক। ‘আমার মাথাব্যথা করছে’ এবং ‘ও নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই’—এই দুই বাক্যে যেমন  ‘মাথাব্যথা’কে দুভাবে ব্যবহার করি আমরা, ইংরেজিতেও তেমন প্রচুর হয়ে থাকে। যেমন, ‘টেইক অফ’ মানে ‘খুলে ফেলা’। টেইক অফ দ্য শুজ’ (জুতা খুইল্যালাও)। এখানে আক্ষরিক। আবার ‘টেইক অফ’ মানে সফল হওয়া। হিজ বিজনেস ইজ টেইকিং অফ (তার ব্যবসার অবস্থা ফাডাফাডি)। এখানে ইডিওম্যাটিক। তবে সব ক্ষেত্রে এমন দ্বৈতরূপ জায়েজ নয়। কেনো নয়, সেটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আক্ষরিক এবং রূপক দুটোকেই সব ক্ষেত্রে বৈধতা দেবার দাবি জোরালো হতে পারে। যেমন, আমাদের ‘অসামরিক’ আছে,’ বেসামরিক’ও আছে। কিন্তু ‘অসম্ভবের’ পাশাপাশি ‘বেসম্ভব’ কেনো সম্ভব নয়?

Learning-2

.

কথা বলছিলাম অভিন্ন শব্দের বিবিধ অর্থের উৎপাত নিয়ে। এগুলোর কারণে এক দিক দিয়ে অবশ্য ভালোই হয়েছে। একটা শব্দকে তাইরে-নাইরে করে করে একশোটা মানে’র এই যে প্রাচুর্য বা দারিদ্র্য, তা দিয়ে কিন্তু কাজের কাজটা, মানে ‘কথা বলাটা’ দারুণ হয়ে যাচ্ছে সহজেই। আর এভাবেই এসব ‘ফ্রেইজাল ভার্ব’ তাদের বহুবিধ ব্যবহারে ইনফরমাল ভাষার বৈচিত্র্যে অবদান রেখে চলছে।  ‘গাড়ি নষ্ট হলো’ মানে ‘ব্রেক ডাউন’। আবার ‘দুঃসংবাদে কান্নাকাটি’ –তাতেও ‘ব্রেক ডাউন’। সুন্দর না?

.

সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাও কম নয়। শব্দের এসব আওলা এ্যপ্লিকেশন আমাদের মস্তিষ্ক যতক্ষণে পুরোটা সংরক্ষণ করে, ততক্ষণে দেহমন টাস্কি ভক্ষণ করে অচেতন হবে কিনা-– গ্যারান্টি নেই। এ ধরনের শব্দের মধ্যে সবচেয়ে খাচ্চর টাইপ ইংরেজি শব্দ বোধ হয় গেট (GET)। ওরে বাপরে বাপ!

গেট মানে পাওয়া (আই গট জিপিএ পাইভ)

গেট মানে দেওয়া (প্লিজ, গেট মি এ্য গ্লাস অব ওয়াটার)

গেট মানে যাওয়া (ওয়েন ডিড য়্যু গেট হৌম)

গেট মানে বুঝতে পারা (সরি, আই ক্যান্ট গেট য়্যু)

গেট মানে পরিশোধ করা (আই উইল গেট দ্য ড্রিংস)

গেট মানে বিরক্ত করা (ইট রিয়েলি গেট্‌স মি ওয়েন য়্যু সে সৌ)

গেট মানে আঘাত করা (দ্য বুলেট গট হিম ইন দ্য লেগ)

গেট মানে কনফিউজ করা (ইউ গট মি দেয়ার মাই ডিয়ার)

এই গেট-এর সাথে ইন-এ্যট-বাই-টু-অন-ফর যুক্ত হয়ে কতদূর, তা দেখতে ডিকশনারিতে গেলে মাথা পিনপিন করে। উল্লেখিত আট রকম ছাড়াও আরও ৩২৩খানা ব্যবহার রয়েছে গেট-এর!

.

স্টেপ (STEP)-এর রয়েছে ৪২-৪৪টি বিভিন্ন প্রয়োগ। শুধু বিয়াল্লিশ আর চুয়াল্লিশ কিংবা তিনশো চুয়াল্লিশ— যা-ই হোক, আওলা লেগে যেতে পারে, মানে ভুল-টুল হয়ে যেতে পারে কখনও কখনও। সাত-আট বছর আগে একবার আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী— তখন যিনি ছিলেন— গার্মেন্ট শ্রমিকদের ‘ছাঁটাই’কে ইংরেজিতে কইতে গিয়ে ‘লে অফ’-এর পরিবর্তে ‘লে আউট’ কয়ে ফেলেছিলেন। আমরা কিছু মনে করিনি। এরকম হয়।

.

এবার আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে এক প্রেস ব্রিফিং-এর সময় উপস্থাপক কিঞ্চিত আওলা বাঁধিয়ে ফেলেছেন। দুই প্রধানমন্ত্রীকে মঞ্চ থেকে নেমে আসতে অনুরোধ জানাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “May I now request the two prime ministers to step down?” (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীদ্বয়, দয়া করে ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন কি? 😛 )। তিনি বলতে পারতেন, May I now request the two prime ministers to step off? উপস্থাপক ভদ্রলোক ‘অফ’ এর জায়গায় ‘ডাউন’ মেরে দিয়ে যে অভদ্রচিত উচ্চারণ করেছেন, তাতে তার চাকরি থাকে কিনা কে জানে!

.

মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ একা থাকতে পারে না। মানুষে মানুষে সন্ধি হয়, দ্বন্দ্ব হয়। ভুল হয়। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। মানুষ ভুল কথা কয়, মিছাকথাও কয়। মিছাকথা অব দ্য পিপ্‌ল, বাই দ্য পিপ্‌ল, ফর দ্য পিপল, শ্যাল নট পেরিশ ফ্রম দি আর্থ। আমরা প্রতিদিন কত্তো কিসিমের কথার চর্চায় অংশগ্রহণ করে থাকি– তার হিসেব কে রাখে!

.

তবে আর যা-ই হোক, প্রেস ব্রিফিংয়ের সেই রসিক উপস্থাপনার ফলে বিনোদনের পাশাপাশি আমার মতো অনেকেরই এই শব্দের (স্টেপ) ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হবার সুযোগ মিললো, সেও বা কম কী? আমরা আর জীবনেও এই ভুল করবো না। তবু মানুষ মাত্রেরই স্লিপ অব টাং হয়ে থাকে। স্লিপ অব টাং তো আর এনভায়রনম্যান্ট মেইন্টেইন করে চলে না। তবু কথা থেকে যায়। কারণ কবি বলেছেন,

ভুলভাল বলে তুমি ধরা খেয়ো না

ভুল থেকে শিখে নিতে ভুল করো না।


উপস্থাপকের সেই মারাত্মক ভুলের উচ্চারণটুকু —