ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

শুনে রক্ত গরম হয়ে যেতে পারতো। ভাগ্যিস আমার লেখা বইটই নেই। কেউ খুব সরব। কারও কারও মুখে তালা। এদিকে আমার হয়েছে জ্বালা। শীতল জ্বালা। মাথায় ঝিম ধরে রক্ত এখন হিম। ফুটন্ত গোলাপ– জীবনেও শুনিনি নাম। এই বই নাকি দাবানলের মতো ছড়িয়েছে পাঠককুলের মাঝে। লেখক বইমেলায় অপাঙক্তেয়; অথচ তিনি নাকি দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় ঔপন্যাসিকদের একজন। তার অটোগ্রাফের জন্য নাকি ভিড় লেগে যায়।

.বিদেশি মিডিয়ার সূত্রধরে দেশে আসা বিস্ফারিত নিউজখানা দেখে এই প্রবীণ লেখককে জানতে ইচ্ছে হলো। একটি বই বাংলাপিডিএফ থেকে ডাউনলোড করে নিয়ে বেশ খানিকটা পড়লাম। নাম ‘মেঘের কোলে রোদ’। ‘বিশ্বসাহিত্য ভবন’ থেকে ২০০১-এ প্রকাশিত। ধ্রুব এষ করেছেন প্রচ্ছদ। বইটি দেখি আবার প্রিয় লেখক আনিসুল হককে উৎসর্গ করা। কাবিআ’র সাক্ষাৎকার দেখলাম টিভিতে। ভিলেনের নাম হয় কাবিলা। ইনি হলেন কাবিআ। না, ব্যক্তিগত আক্রমণে অন্তত আমি কোনোদিন মাতিনি, আজও মাতবো না। এই লেখকের বই পড়ে নাকি মেয়েরা রক্ত দিয়ে চিঠি লিখে পাঠায়! এখনও অনেকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চায়! না, এখানে কারও বিরুদ্ধে বিষোদাগার করতে আসিনি। এতোদিন ধরে পৃথিবীর আলো-বাতাস খেয়ে ভব্যতা কম শেখা হয়েছে– এমন তো নয়।

.

যা হোক, বলছিলাম সাক্ষাৎকারের কথা। ওখানে তিনি আবার লুকোচুরি না করে মনের কথাটা বলে দিয়েছেন। তরুণরা বিদ্যাপীঠে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে, এদের আচার-ব্যবহার শালিনতা–এগুলো তার মনে আঘাত করে। কোরআন হাদিসের আলোকে, মানুষের  চরিত্র তৈরি হবার জন্য, সুগঠিত হবার জন্য যা যা প্রয়োজন সেগুলোকে তুলে ধরবার জন্য তিনি কলম ধরেছিলেন বলে জানান। প্রজেক্ট। হ্যাঁ, তিনি একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়ে লেখালেখি শুরু করেছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারে প্রকাশকও বলছেন, তার ভক্ত পাঠক অনেক। ষাঁড়ে সর্বনাশ। এতো জাত গেলো রে!

Untitlsffsed

কাসেম সাহেবের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি হোক। তাতে কার কী? কিন্তু এগুলো কী? এগুলো মানে দেখছেন না? এই আতিকা, দাড়ি-টুপিওয়ালা ডাক্তার ভাই, বোরখা, নাদের আলি, হালিম, বুবু– কী ক্ষেতমার্কা নাম দেখেছেন? আর এই ওয়াজ-মাহফিল টাইপের উপন্যাস মানে তো গোদের উপর বিষফোঁড়া। এসব লেখা কেউ পড়ে এই দেশে এখনও? এটা কি আমরা ভাবতে পারি? এই যে এসব পড়ে মানুষ বিপদগামি হচ্ছে, আধুনিক প্রগতিশীল চিন্তাধারা থেকে সরে যাচ্ছে, তাতে জঙ্গিবাদে দেশ ছেয়ে যাওয়া পর্যন্ত কি সরকার চেয়ে চেয়ে দেখবে না কি? ধর্ম যারযার, ঠিক আছে। তো ধর্মকে নিয়ে উপন্যাস লিখতে হবে কেনো? নাস্তিক্যবাদ নিয়ে বস্তুনিষ্ট, বৈজ্ঞানিক আলোচনা ভিন্ন কথা। ডাক্তার কেনো ধর্মের লেবাস নিয়ে থাকবে? তার থাকবে ডাক্তারের পোষাক। আমার কিন্তু এখন রক্ত মাথায় চড়ে যাচ্ছে।

.

এগুলোর বিপরীতে আসুন কামান দাগাই। কতো চমৎকার সব বিষয় নিয়ে লেখা কতো লেখকের বই পড়ে আছে, আর এই কোথাকার কোন্‌ কাসেম এখন হিরো! হিরো আলমের বাপ! মিডিয়ার যতো আজাইরা কাম। তবে আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমারা মানুষের রুচির স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আমারা জাত-বেজাত বুঝি না। বর্ণবাদ, গোষ্ঠীবাদ, ইনসুলারিটি ছোটলোক শিক্ষিতের কাজ। আমরা কি তেমন নাকি? কিন্তু তাই বলে একজন কাসেম নামধারী বয়স্ক লোক টুপিওয়ালার বই এতো বিক্রি কেনো হবে এই দেশে? আর কী আশ্চর্য! এ নিয়ে আবার আন্তর্জাতিক ফাজলামো! সহ্য আমরা কতো করবো আর? দেশটা কি কারও বাপ-দাদার?

.

আসুন,  এখন চুপ থাকার সময় নয়। আসুন, কাসেমকে জঙ্গি বানিয়ে পুলিশে দিয়ে দেশ ও জাতির অশেষ কামিয়াবি হাসিল করি।