ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

অনেক রোজাদার ব্যক্তি আছেন, যারা রোজা রাখেন কিন্তু ঘুষ খাওয়া থেকে বিরত থাকেন না। আপনি সৎ না হয়ে রোজা রাখলে তো সেটা লোক দেখানো রোজা রাখা হল। আর লোক দেখানো রোজা রেখে কখনই সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করা যায়না। আগে ১০০ ভাগ সৎ ব্যক্তি হন, তারপর রোজা রাখেন। অসৎ ব্যক্তির রোজা রাখা আর না রাখা সমান কথা।

আমাদের দেশে যত অপকর্ম হয়, তার ৯৫% ঘুষ দ্বারা ধামাচাপা দেওয়া হয়, আবার অনেক নিরাপরাধকেও ঘুষের মাধ্যমে অপরাধী হিসাবে ফাসিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে মামলার দালাল, চাকুরীর দালাল, বেতন বিল উত্তোলন, এজি অফিস, পুলিশ স্টেশন, সেটেলমেন্ট অফিস, ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের তদবীর ইত্যাদি যেসকল জায়গায় যারা ঘুষ খেয়ে থাকেন; তারা কি রমজান মাসে ঘুষ খাওয়া থেকে বিরত থাকেন? থাকেন না। কিন্তু তারা আবার রোজাও রাখেন, অন্যদিকে ঘুষও খান। আরও বলেন যে সামনে ঈদ টাকাটা একটু বাড়িয়ে দিন।

প্রশ্ন হচ্ছে ঘুষখোর, সুদখোর, দুর্নীতিবাজরা সৎ না হয়ে যদি রোজা রাখেন, তবে কি সেই রোজাতে কি সৃষ্টিকর্তা তাকে বেহেশতের দ্বার উন্মোচন করে দিবেন? আপনি একদিকে পাপ করছেন অন্যদিকে পাপ মোচন করার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছেন, তাহলে কি আপনি ধার্মিক? অবশ্যই না।

আপনি ১০০% সৎ না হলে আপনি কিসের ধার্মিক? কারণ ধর্মগ্রন্থ সর্বদাই সৎ হতে বলে আর পাপকর্ম হতে বিরত থাকতে বলে। আপনি যদি পূণ্যবান ও সৎ ব্যক্তি না হতেই পারলেন তবে তো আপনার রোজা, উপবাস, নামাজ, পূজা, প্রার্থনা সবই অনর্থক হয়ে গেলো।

“শুনি মরিলে পাবো বেহেস্তখানা, তা শুনেতো মন মানেনা। বাকির লোভে নগদ পাওনা কে ছাড়ে এই ভুবনে” —লালন সাঁইজি।