ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

জনপ্রিয়তা কিংবা সর্বজনগ্রাহীতা তৈরি হয় একজন মানুষের চরিত্র, ব্যবহার, চালচলন, বাচনভঙ্গি ইত্যাদি প্রত্যেকটি গুনাবলীর সমন্বয়ে। কিন্তু আমাদের সমাজের মানুষগুলো যারা শিক্ষিত তারা এখনও শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষিত, সামাজিকভাবে শিক্ষিত নয়।

আমাদের নারীসমাজ তাদের উদ্ভট পোশাকদ্বারা কাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় এবং কোন সমাজে জনপ্রিয় হতে চায়, তা আমার বোধগম্য নয়। তবে যে সকল নারীরা উদ্ভট টাইট ফিট অথবা অতিরিক্ত ঢিলাঢালা স্যালোয়ার পরে, তা শুধুমাত্র তারা নিজেদের বুদ্ধিতে নয়; টিভিতে নাটক ও সিনেমার বিভিন্ন অভিনেত্রীদের অনুকরণ করে।

এবার আসা যাক টিভি সিনেমা ও নাটকের কথায়। বর্তমান যুগের নাটক ও সিনেমা নির্মাতারা সম্পূর্ণভাবে পেশাদার ও ব্যবসায়ী। আর তাদের নাটক বা সিনেমায় উপার্জন বেশী হওয়ার জন্য তারা কিছু উত্তেজক পোশাক ব্যবহার করে। সেইসব উত্তেজক পোশাক ভদ্র সমাজ গ্রহণ করে সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় করছে। এজন্য কাহিনীনির্ভর চলচ্চিত্রের বিচারে এখনো উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেন এর ছবি সর্বোৎকৃষ্ট।

আমরা ব্রিটিশ শাসনামলে ব্রিটেনের রাণীদের পোশাক অনুসরণ করতে পারি। আসলে যুগের বিবর্তনে মানুষ সভ্যতার পাশাপাশি অসভ্যও হচ্ছে বটে।

প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের সমাজে নারীরা কেন ইন্দিরা গান্ধীর পোশাক অনুকরণ করে না? কেন ব্রিটেনের রাণীর পোশাক অনুকরণ করে না? কেন তারা শুধু অভিনেত্রীদের উদ্ভট পোশাক অনুকরণ করে?

স্মার্টনেস বোঝা যায় কারো চালচলন ও বাচনভঙ্গী দ্বারা, সেইসাথে থাকতে হবে রুচিশীল পোশাক। উদ্ভট পোশাক কখনই স্মার্টনেস এর পরিচয় বহন করে না। এখানে একটা বিষয় থেকে যায় যে, সমাজে যেটা প্রচলিত সেটা কি উদ্ভট ধরা যাবে? অবশ্যই ধরা যাবে। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হল একঘেয়েমি কোন কিছু ভালো লাগে না। তাই নারীরা কিছুদিন অতিরিক্ত টাইট স্যালোয়ার পরে আর কিছুদিন সার্কাসের জোকারের মত অতিরিক্ত ঢিলাঢালা স্যালোয়ার পরে। দুরকমই আসলে নাটক সিনেমার ফল।

নাটক সিনেমা দেখে সবাই নিজেকে নায়িকা ভাবতে শুরু করে নায়িকাদের মত পোশাক পরা শুরু করে। কিন্তু সত্যিকারের নায়িকাদের কেউ অনুসরণ করে না।

মাদার তেরেসা, কল্পনা চাওলা, হিলারি ক্লিনটন, অং সান সু কি, চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা, মালালা ইউসুফজাই এঁরা হলেন সত্যিকারের নায়িকা। সকল নারীসমাজ যেন এদেরকে অনুকরণ অনুসরন করতে পারে সেদিকে গুণীজনদের খেয়াল করা উচিৎ। চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাতাদের সেরকম মানসম্মত পোশাক ব্যবহার করা উচিৎ যেন সমাজ বিকৃত না হয়।

ঈদ- মোবারক।