ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

জামাত-শিবির অনেক ডিজিটালাইজড – ডিজিটাল জামাতি কার্যকলাপের অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে ইন্টারনেট দুনিয়ার। বাংলা ব্লগের শুরু থেকেই ব্লগে ব্লগে জামাত-শিবির সমর্থকদের পদচারণা দেখা গেয়েছিল। মিথ্যাচার, অপপ্রচার,ইতিহাস বিকৃতির এজেন্ডা বাস্তবায়নে জামাতপন্থীদের সক্রিয় হতে দেরি হয়নি। তবে এতে একভাবে হিত সাধিত হয়েছিল। এ না হলে ব্লগে আরো দীর্ঘ সময় খোশগল্পের কেন্দ্রস্থল হয়ে থাকত। চেতনা, ইতিহাস বিস্তৃতির উপলব্ধি জাগতে সময় বয়ে যেত। ’পেইড ব্লগার’ আখ্যান শুরু হয়েছিল জামাত-শিবিরমনা ব্লগারদের কারণেই। এ কথা সকলেই বলেন, জামাত-শিবিরের কর্মীদের আসলেই অর্থায়ন করা হত ব্লগে দলীয় প্রচারণ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অপপ্রচার চালনার জন্য। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বরাবরই কিছু অন্তসারশূন্য, হিপনোটাইজড কর্মীদের লেলিয়ে দেয়া হয়েছিল এবং এখনো হয়, যারা খুব বেশি দূর কখনই এগুতে পারেনি সচেতন ব্লগারদের আবেগ আর যুক্তির মিশেলে গড়ে ওঠা তীব্র প্রতিবাদের মুখে। ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলে, সেখানেও জামাত-শিবির কর্মীদের ছোঁক ছোঁক করতে দেরি ঘটেনি। হোক না সেটা কোন ইসলামিক বাণী প্রচারণামূলক গ্রুপ, হোক না সেটা কোন চুটকি শেয়ার করার ফেসবুক ফ্যান পেইজ, কৌশলে কৌশলে জামাতিরা ছেয়ে যাচ্ছিল অনলাইনে।

ব্লগ, ফেসবুকে জামাতিদের উদ্দেশ্য কী? সহজ বিষয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করা। জনমতের অপব্যবহার করা। তথ্যসূত্রহীন এবং বিস্তারিত বক্তব্যহীন ছবি ব্লগে, ফেসবুকে প্রচার করে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা বহুবার চলেছে। ৩০ লাখ শহীদের পরিসংখ্যানকে ভ্রান্তি বলে প্রচার করার মত ধৃষ্টতাও দেখানো হয়েছে বহুবার। জাতীয়পর্যায়ের ইস্যুগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে নগ্নভাবে।উদ্দেশ্য সরকারকে বিব্রত করা। ফেলানি ইস্যুতে সচেতন নাগরিকরা সচেতনভাবেই সরকারের সমালোচনা করেছিল। জনগনের এই অবস্থানকে কৌশলে ব্যবহার করেছিল জামাতপন্থীরা অনলাইনে। জামাতি সমাবেশের একটি অন্যতম সংস্করণ ছিল একটি বাংলা ব্লগ – সোনার বাংলাদেশ ব্লগ। অবশ্য একে আজ জামাতমনাদের ব্যর্থ প্রজেক্ট বলা যেতে পারে।

এ সরকারের মূল ব্রত ডিজিটাল বাংলাদেশ। কিন্তু সকলেই সরকারের ডিজিটাল অদূরদর্শিতার কথা বলেন। সরকারি ওয়েব সাইটগুলোর চেহারা আকর্ষণীয় নয়। তথ্য অনিয়মিত আপডেট হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যহীন – এ রকম অভিযোগও আছে। সরকার ব্লগ, কিংবা ফেসবুকের পজিটিভ দিকগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় এখনও বিশেষ কোন ভূমিকা রাখেনি। তরুণদের রাজনীতিতে ইতিবাচক অর্থে আকৃষ্ট করতে, রাজনৈতিক প্রচারণায় সোশ্যাল মিডিয়াকে সুস্থভাবে ব্যবহার করতে সরকার ‍উদাসীন।

আওয়ামী লীগের দলীয় ওয়েব সাইটটি (লিংক) যদি দেখা যায় তো একে অনেক ’এ্যাকটিভ’ সাইট বলা যাবে না। যদিও প্রতিদিনের কোন না কোন প্রধান আপডেট প্রতিবেদন দেখা যায় সাইটটিতে। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটি ঘুরে আসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু এটা হতাশাজনক যে, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সাইটটিকে প্রথম দর্শনেই আদ্যোপান্ত নির্জীব মনে হয়। সাইটের অন্যান্য পাতাগুলো হয় লিংক বিহীন অথবা অসম্পূর্ণ। ফটোগ্যালারি হিসেবে ফ্লিকারের লিংক পাওয়া গেল – molwa.gov.bd’s photostream । ফ্লিকারের ছবি আপলোড এক্টিভিটি কেবলমাত্র সেপ্টেম্বরের। এবং ফটো ভিউ এর পরিসংখ্যান খুবই কম। অর্থ্যাৎ এই লিংকের প্রচার-প্রচারণা নেই বললেই হয়। এমনকি যে আয়োজনের ছবি ফ্লিকারের সংযোজিত হয়েছে, সে আয়োজনের উপস্থিত ব্যক্তিবর্গরা ও খোদ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়েরর প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রত্যেকে যদি একবার করে উক্ত ফ্লিকার লিংকের এ্যালবামের প্রত্যেক ছবিতে একবার করে চোখ বুলান তো ফটো ভিউ সংখ্যার আরো অ-নে-ক বেশি হওয়ার কথা ছিল!

তবুও ফ্লিকারে ছবি সংরক্ষণকে সাধুবাদ জানাই এবং মূল ওয়েবসাইটেও যে এই ছবি আপডেট থাকা উচিৎ ছিল সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য মূল আগ্রহের জায়গাতে হতাশ হতে হবে একেবারে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া এবং এ সম্পর্কিত আলোচিত ঘটনা-সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সাইটে অনুপস্থিত! এই সাইট দেখে বোঝার উপায় নেই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকে, অপপ্রচারকে তুলে ধরতে আদৌ কোনরকম ভূমিকা রাখে কিনা!

www.sectorcommandersforum.org , ওয়েবসাইটটিকে ইনএ্যাকটিভ পাওয়া ছিল দু:খজনক। তবে সেক্টরকমান্ডারস ফোরামের একটি ফেসবুক পাতা খুঁজে পাওয়া গেল। অবশ্য এখানেও আশ্চর্যজনকভাবে প্রচারণার অভাব দেখা যায়। ফেসবুকে কারণে-অকারণে সময় কাটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে আজকের প্রজন্ম। স্ট্যাটাস/ছবি আপডেট-শেয়ার এখন এক ক্লিকের কাজ। বুঝে হোক না বুঝে হোক কোন কোন ফেসবুক ফ্যান পেইজে-পোস্টে-ছবিতে লাইক দেয়া এখন হুজুগ। তরুণ প্রজন্মের এই ‍হুজুগে মনোভাবকেও সঠিকভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। কিন্তু এই ফেসবুক পাতায় মাত্র ৯৬টা লাইক দেখে হতাশ হতে হয় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম আর ফেসবুক প্রজন্ম, উভয়কে নিয়েই। এই পাতার কিছু নিয়মিতভাবেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত দেশিয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচী, সংবাদ ও ছবি আপডেট হচ্ছে। তবে এই পোস্টগুলোতে লাইক-মন্তব্য-শেয়ার সংখ্যা কোনভাবেই উল্লেখযোগ্য নয়!

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র আরেকটি ফেসবুক গ্রুপ দেখা গেছে – Communal atrocities by BNP and Jamat-e Islami (2001-2005) । এর সদস্য সংখ্যা বেশ। আপডেটও করা হয় নিয়মিত। তবে ফেসবুকে এই গ্রুপ নিয়ে আলোচনা তেমন দেখা যায় না।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সাইটটিকেও যথেষ্ট ইন্টারএ্যাকটিভ করে তোলা জরুরী। এর রিসেন্ট নিউজ ও আপকামিং ইভেন্ট অংশটি একদমই হালনাগাদকৃত নয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণে সর্বজন সম্পৃক্ততা এই সাইটে লিবিবদ্ধ করা যেতে পারে ছবি-ভিডিও-অডিও সহযোগে। জাদুঘরের নির্মাণকাজের অগ্রগতির বিভিন্ন খবর যুক্ত হতে পারে এই সাইটি নিয়মিতভাবে। সাম্প্রতিককালে ব্লগাররাও গিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। তুলে দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য ব্লগারদের উদ্যোগে সংগৃহিত অনুদান। জনসম্পৃক্ততার, জনমতের সম্পৃক্ততার এইরকম আরো দৃষ্টান্ত সাইটে নিয়মিতভাবে যুক্ত হওয়া জরুরী।

http://www.genocidebangladesh.org/, অনলাইনে খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাগার হিসেবে সমাদৃত হলেও এই সাইটটিকে পুনরায় হালনাগাদ করার প্রকল্প হাতে নেয়া জুরুরী। এর অডিও-ভিডিও বিভাগগুলোতে আরো দুর্লভ প্রামাণ্যচিত্র যুক্ত হতে পারে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার, বীরাঙ্গনাদের নিয়ে প্রতিবেদন সংযুক্ত হতে পারে আরো।

বর্তমানে প্রচার-প্রচারণায় সরব রয়েছে http://www.icsforum.org/ সাইটটি। স্বেচ্ছাশ্রমের উপর নির্ভর করে বলে হয়ত, নিয়মিত সাইটের প্রথম পাতায় কোন আপডেট দেখা যায় না, তবে অনলাইনে এর সদস্যদের সরব দেখা যায়।

মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে অনলাইনে সরকারি-বেসরকারি প্রচার-প্রচারণার এই যখন হাল তখন স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধীতাকারীরা কী করছে, তার ধারণা এই লেখার শুরুতেই কিছুটা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিককালে, অর্থ্যাৎ পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে এই অপশক্তি তাদের অপপ্রচারণায় যথেষ্ট কৌশলী এবং আন্তর্জাতিক প্রবণ। জামাত-ই-ইসলামি তাদের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটটিকে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে অপপ্রচার চালাতে, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভিন্ন ভাবে উপস্থাপিত করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে রীতিমত উঠেপড়ে লেগেছে। জামাত-ই-ইসলামির এই অফিসিয়াল সাইটের লিংক – http://www.jamaat-e-islami.org/

এই সাইটটিকে কেবলমাত্র জামাতের ওয়েব সাইট না বলে, জামাতের অনলাইন পত্রিকা বলা যুক্তিযুদ্ধ। কারণ সাদামাটা ভাবে নিজের নীতিমালা, যোগাযোগ তথ্য দিয়ে একটি সাইট করা জামাতের মুখ্য উদ্দেশ্য নয় এখানে। বরং এই সাইটটি নিজেদের চক্রান্ত চরিতার্থ করার একটি উত্তম স্থান করে তুলছে জামাত। লক্ষ করে দেখুন -

১। জামাতের এই সাইটটি বাংলা-ইংরেজি-আরবি তিনটি ভাষাতেই প্রচার হচ্ছে। অর্থ্যাৎ দেশীয় কর্মীদের কাছে যেমন জামাত এই সাইটটি উপস্থাপন করছে, তেমনি করছে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে, একই সাথে মুসলিমদেশগুলোর কাছেও জামাত নেতাদের পক্ষে সক্রিয়তা গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে এই সাইট। এটা স্পষ্টত যে, নিয়মিতভাবে বাংলা-ইংরেজি-আরবি তিনটি ভাষাতেই প্রতিবেদন আপডেট করার জন্য জামাতের কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। বাংলা-ইংরেজি পোস্ট আমাদের মধ্যকার সাধারণ পাঠকের পক্ষে পড়ে বোঝা সম্ভব। কিন্তু আরবি পাঠ সম্ভব নয়। বাংলা-ইংরেজি প্রতিবেদনগুলো পড়লেই বোধগম্য হয়, জামাতি প্রোপাগান্ডা কাকে বলে। জামাতের মরিয়া হয়ে ওঠা কোন পর্যায়ের হতে পারে। আশংকা হচ্ছে, জামাত বরাবরই ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এই সাইটটির আরবি অংশে যদি বাড়িয়ে-রং চড়িয়ে কোন প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়? যদি ধর্মকে আরো নগ্নভাবে ব্যবহার করা হয়, ট্রাইব্যুনালের উপর বিশ্বের চাপ তৈরীতে?

২। এই সাইটিতে গোলাম আযমের বক্তব্য/ভাষণ প্রচার করা হচ্ছে। গোলাম আযমের অপরাধ নিয়ে সংশয় প্রকাশের সুযোগ নেই। গোলাম আযম সর্বজনস্বীকৃত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী। এ্যই জাতি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে স্বচ্ছভাবে চায়, আগামির ইতিহাসের সঠিক লেখনীর স্বার্থেই। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, জামাতকে ছাড় দেয়া হবে, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ভাষণ প্রচারণায়। এ ধরণের কার্যকলাপ উস্কানিমূলক হয়ে উঠবে, জামাত তার কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করবে এইসব ভাষণ প্রচার করে।

৩। ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে গড়ে ওঠা জামাতকে মাদ্রাসাগুলোর মোড়ল সাজা থেকে বিরত করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এভাবে শিবির ও জামাতের প্রতি আকৃষ্ট করার কৌশল এসব।

৪। এই সাইটের প্রথম পাতাতেই রয়েছে ভিডিও গ্যালারি। এই অংশে দেখা যাবে অপর যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ভাষণ ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামাতের প্রচার প্রচারণা।

৫। এই সাইটের প্রথম পাতায় বাংলাদেশের মানচিত্র রয়েছে। তাতে বিভাগীয় মাউস নিয়ে উক্ত বিভাগে জামাতের-শিবিরের কার্যক্রমের খরর পাওয়া যায় এবং জামাতি এই সাইটে এই প্রচারণাই চালানোর চেষ্টা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিপক্ষেই সবার অবস্থান।

৬। সাম্প্রতিককালে বিরোধী দলীয় নেত্রী, যিনি ক্রমাগত জামাতের আমীর হয়ে উঠছেন, এক সমাবেশে সচিত্র বর্ণনা করেন, আওয়ামী লীগ আর জামাতের পূর্বেকার কোন যোগাযোগের কথা। জামাতও লুফে নিচ্ছে সেসব, তুলে দিচ্ছে তাদের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে – লিংক

৭। এই সাইটের গ্যালারিতে আজকাল প্রকাশিত হচ্ছে মহাফেজখানা থেকে খুঁজে আনা ছবি। কে কখন জামাতে আমীরের সাথে হাত-পা-গলা মিলিয়েছিলেন, তার ছবি উপস্থাপন করে জামাতে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলে চাইছে আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে।

৮। তুরস্ক সরকার গোলাম আযমকে শীর্ষ ইসলামিক নেতা মান্য করে, এবং তার মৃত্যুদণ্ড হলে সামাজিক জীবনে ইসলামিক চর্চায় ভারসাম্যহীনতা আসবে এমনটাও মনে করে। সে কারণে গোলাম আযমের মত যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার আবদার সাম্প্রতিক কালের আলোচিত সংবাদ-লিংক। গৌরবের কথা, বাংলাদেশ সরকার এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিবাদ এসেছে নির্মূল কমিটি থেকেও- লিংক। তুরস্কের এই আহবান জামাতের জন্য পোয়াবারো খবর, তাই জামাতি অফিসিয়াল সাইটে তড়িৎ জায়গা করে নিয়েছে এই সংবাদটি – dVQj লিংক

৯। ইনু-নিজামীর করমর্দনের ছবি প্রকাশ করেও নতুন বিতর্কের সূচনা করে দিচ্ছে এই ওয়েব সাইট।

জামাত-ই-ইসলামির একটি ফেসবুক পাতা রয়েছে – লিংক, এখানে দেখা যাবে ইসলামের নাম সামনে রেখে জামাত তাদের প্রোপাগান্ডা আর এজেন্ডা বাস্তাবায়নের চেষ্টা অনলাইনে কিভাবে অব্যাহত রেখেছে। শিবির জামাত ইসলামি নামে এদের অপর আরেকটি ফেসবুক পাতা দেখুন – লিংক

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বাধাপ্রাপ্ত করা, চিহ্নিত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য তাদের বক্তব্য/ভাষণ প্রচার করে দলীয় কর্মীদের উদ্বুদ্ধকরণ তথা বিশংখলা সুষ্টিতে ইন্ধন দেয়ায় জামাত-ইসলামি অনলাইনে তাদের ওয়েব সাইট ও ব্লগ-ফেসবুক ব্যবহার করছে। বিচার প্রক্রিয়াকে এভাবে চক্রান্ত করে বাঁধাগ্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। নৈতিকতা, গণতন্ত্রের যে ছাড় জামাত জাতি থেকে প্রাপ্ত হচ্ছে, তার সম্পূর্ণই অপব্যবহার করছে এই যুদ্ধাপরাধী দলটি। এদের ইনভেস্টমেন্ট শক্তিশালী। তাই অনলাইনে এদের কার্যক্রম সচল ও অভিনব। সাম্প্রতিককালে বিচারপতির স্কাইপি কথোপকথন জামাতের পেতে রাখা জাল সম্পর্কেই জানান দেয়।

স্কাইপি হ্যাকিং -কে রাষ্ট্রদ্রোহীতার পর্যায়ে গণ্য করা হচ্ছে । অনুমতিবিহীনভাবে পত্রিকায় সংলাপ প্রকাশের প্রেক্ষিতে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও প্রকাশক হাসমত আলীর বিরুদ্ধে যেমন রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হয়েছে। এই পোস্টে জামাত-ই-ইসলামির বর্তমান প্রোপাগান্ডার যে তথ্যপ্রমাণ সংযুক্ত হয়েছে, সেখানেও জামাত-ই-ইসলামির এই উদ্দেশ্যমূলক কার্যকলাপকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাতারে ফেলা উচিৎ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলাদেশের জনতার দাবি। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব এই বিচারকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং অচিরেই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের আপনি প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত, কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। এই বিচার ব্যবস্থাকে ঘিরে জামাতের সকল অনলাইন কার্যকলাপকে তাই নজরে আনতে হবে। এই অপপ্রচারগুলোকে রুখতে হবে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার এই ধৃষ্টতার জন্য এসব ওয়েব সাইট ও ফেসবুক পাতাগুলোকে চিহ্নিত করে অচিরেই আইনি ব্যবস্থা গৃহিত হোক, এটা এখন সময়ের দাবি।

৩৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    অত্যন্ত জরুরী একটি পোস্ট। এবঙ অত্যন্ত সময়োচিত। তথ্যচিত্র সমেত ডিজিটালাইজড জামায়াতীদের অবস্থানটি পরিস্ফুট হয়েছে। সেইসঙ্গে সরকারের ডিজিটাল উদাসীনতা বিষয়টি এসেছে সঠিক ভাবেই। এখনই সমস্ত ধৃষ্টতাপূর্ণ জামায়াতী অন্যায় পদচারণা বন্ধের উদ্যোগটি সরকারকে নিতে হবেই। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে জামায়াত অনেক কাল ধরেই। এখন তা ডিজিটালাইজড এতোটাই যে বিচার ব্যবস্থায় আড়িপাতার মতো দুঃসাহসে স্কাইপি হ্যাকিং-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ডটি ঘটিয়েছে এবঙ আরও অনেক অন্যায়ই হয়তো ঘটিয়ে ফেলতে পারে। সরকারের এখনই জরুরীভাবে জামায়াতের সকল কার্যক্রম বন্ধের নিষেধাজ্ঞা এবঙ রাষ্ট্রদ্রোহী কাজের জন্য শাস্তিবিধান করা উচিত।

  2. ফয়সল পারভেজ বলেছেনঃ

    তাহলে আপনিও সংবিধান এর ৩৯ ধারার বিরোধিতা করছেন আইন সবার জন্য সমান কিন্তু এ ঠিক যে বাংলাদেশ এ আইন সবার জন্য সমান নয়। আপনি যেমন পক্ষে মত প্রকাশ করার অধিকার রাখেন তেমনি তারা এর বিপক্ষে মত প্রকাশের অধিকার রাখে।
    শুধু জামায়েত কেন বিএনপি’র কথা বলেন না কেন তারাও তো এর বিরোধিতা এবং এই বিচার যে প্রহসনের বিচার বলে বক্তব্য দিয়েছে, সেটাও তো রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল (আপনার মতে)।

    আর বিচার প্রক্রিয়া কে তো সরকার নিজেই বাধাগ্রস্ত করছে। একজন লোক চুরি করল, এখন চোরকে ধরাই দোষ হয়ে গেছে। স্কাইপ এর ঘটনা নিয়ে বলতে হয় যে, বিলিয়ার চেয়ারম্যান ও আওয়ামী ঘরানার বাক্তি ,আইন বিশেসষজ্ঞ ড. শাহাদীন মালিক এর মন্তব্য “জাতীয় স্বার্থে হ্যাকিং করা যেতে পারে” । ট্রাইব্যুনাল এর চেয়ারম্যান এবং জড়িত লোকরা যে অপরাধ করেছে, সেসবকে তো আপনি জাস্টিফাই করতে পারেন না। ট্রাইব্যুনাল এর আরেক বিচারপতি যে এই ঘটনা প্রকাশ করার জন্য আমারদেশ দৈনিককে ধন্যবাদ দিয়েছে সে কথা বলেন না কেন।

    বিজিতের দারা পরাজিতদের বিচার কি হবে তা সবাই জানে, যেমনটা
    ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির নাৎসি বাহিনীর যেমন বিচার হয়েছে, আমেরিকা যে জাপান এ নিরপরাধ ৩ লক্ষ মানুষ মারল তা যুদ্ধাপরাধ হয় না। ঠিক বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা যেসব যুদ্ধাপরাধ করেছে তার বিচার কে করবে সে কথা কোনদিন বলতে শুনিনা ।

  3. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ। কিন্তু তথাকথিত জামাতকে অনলাইনের মাঠ দখল করার দায় কার? সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের। শুধু সরকারী দল বলে নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বের মৌরসি পাট্টার দলিল বগলে নিয়ে এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের লিপসার্ভিস দিলেও ডিজিটাল মিডিয়াতে বাংলাদেশ এক পা’ও এগোয়নি তার এতো চমৎকার এই সপ্রমান দলিল সেই লিপসার্ভিস দেয়াদের মুখে এক কষে থাপ্পর দিয়েছে। আমাদের একজন ডিজিটাল উপদেষ্ঠা আছেন। সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ভ্রমন করেন। কিন্তু সমন্বিত ডিজিটাল নীতি প্রণয়নে তিনি কী উপদেশ দিয়েছেন, তা আজো বাংলাদেশের মানুষ জানলোনা। এভাবে কি হয়?

  4. bokul বলেছেনঃ

    (১) রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে এই সংবিধানের দ্বিতীয়ভাগে বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনায় মূলনীতি সমূহের কোনো একটা পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করিবার উদ্দেশ্যে অনুরূপ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি, আদেশ দ্বারা, নির্দেশ দিতে পারিবেন যে রাষ্ট্রে শুধু একটা রাজনৈতিক দল (অতঃপর জাতীয় দল নামে অভিহিত) থাকিবে।
    (২) যখন (১) দফার অধীনে কোনো আদেশ প্রণীত হয়, তখন রাষ্ট্রের সকল রাজনৈতিক দল ভাঙ্গিয়া যাইবে এবং রাষ্ট্রপতি জাতীয় দল গঠন করিবার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।
    (৩) জাতীয় দলের নামকরণ, কার্যসূচি, সদস্যভুক্তি, সংগঠন, শৃঙ্খলা, অর্থসংস্থান এবং কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কিত সকল বিষয় রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্বারা পরিচালিত হইবে।
    (৪) (৩) দফার অধীন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত আদেশ সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি জাতীয় দলের সদস্য হইবার যোগ্য হইবেন।
    (৫) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে তাহা সত্ত্বেও যখন জাতীয় দল গঠিত হয় তখন কোনো ব্যক্তি—
    (ক) যদি তিনি যে তারিখে জাতীয় দল গঠিত হয় সেই তারিখে সংসদ সদস্য থাকেন, তাহা হইলে তিনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় দলের সদস্য না হইলে সংসদ সদস্য থাকিবেন না এবং সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে।
    (খ) যদি তিনি জাতীয় দলের দ্বারা রাষ্ট্রপতি বা সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রার্থীরূপে মনোনীত না হন, তাহা হইলে অনুরূপ নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি বা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হইবেন না।
    (গ) জাতীয় দল ছাড়া অন্য কোন দল গঠন করিবার বা অনুরূপ দলের সদস্য হইবার কিংবা অন্য কোনো অনুরূপ দলের কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করিবার অধিকার প্রাপ্ত হইবেন না।
    (১) এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত কোনো আদেশ পরবর্তী কোনো আদেশ দ্বারা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বলবত্ থাকিবে।
    ৩৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত বিশেষ বিধানে বলা হয় : সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও এই আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে, (ক) এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির পদে থাকিবেন না এবং রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবে।
    (খ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হইবেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করিবেন এবং উক্ত প্রবর্তন হইতে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকিবেন, যেন তিনি এই আইনের দ্বারা সংশোধিত বিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হইয়াছেন। (দৈনিক ইত্তেফাক : ২৬ জানুয়ারি, রবিবার ১৯৭৫)
    উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত বিশেষ বিধানে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ‘জাতির পিতা’ শব্দটি বসানো হয়। যে আইন বলে শেখ মুজিব রাষ্ট্রপতি হন, সে আইনটি ছিল একটি অস্থায়ী ক্রান্তিকালীন আইন। সে কারণে জাতির জনক উপাধিটি সংবিধানের অংশ নয়।
    এদিকে ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাকশাল গঠন সংক্রান্ত আদেশটি পরদিন অর্থাত্ ২৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকে হুবহু প্রকাশ করা হয়। ইত্তেফাকে প্রকাশিত বাকশাল গঠন সংক্রান্ত আদেশটি তুলে ধরা হলো :
    ১ নং আদেশ
    প্রেসিডেন্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র—এই মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতিসমূহের পূর্ণতাদানের উদ্দেশ্যে দেশে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের নির্দেশ দানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিয়াছেন। অতএব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭-ক অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রেসিডেন্ট দেশে এখন হইতে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল থাকিবে বলিয়া নির্দেশ দান করিতেছেন।
    ২ নং আদেশ
    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭-ক অনুচ্ছেদের (২) ও (৩) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রেসিডেন্ট নিজেকে চেয়ারম্যান করিয়া বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামে একটি জাতীয় দল গঠন করিয়াছেন। ইহা সংঘটনের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যবস্থা তিনিই গ্রহণ করিবেন এবং ইহার পরিচালনার যাবতীয় ক্ষমতা তাঁহার থাকিবে।
    ৩ নং আদেশ
    রাষ্ট্রপতি অন্য কোনো নির্দেশ দান না করিলে জাতীয় সংসদের অবলুপ্ত আওয়ামী লীগ দলীয় সকল সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীগণ বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের সদস্য বলিয়া গণ্য হইবেন। প্রেসিডেন্ট দলীয় সংগঠন নির্ধারণ না করা পর্যন্ত— অবলুপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত অন্যান্য সকল কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের কমিটি রূপে কাজ চালাইয়া যাইবে। (দৈনিক ইত্তেফাক : ২৫ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, ১৯৭৫)
    চতুর্থ সংশোধনী সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়, বাকশাল গঠনের আদেশ এবং সংসদে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ওই সময় দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। চতুর্থ সংশোধনী বিল পাসের পরদিন দৈনিক ইত্তেফাক ‘রাষ্ট্রপতি হিসাবে বঙ্গবন্ধুর শপথ গ্রহণ : প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার কায়েম’ শিরোনামে প্রধান প্রতিবেদন হিসেবে ৮ কলামে প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো :
    রাষ্ট্রপতি হিসাবে বঙ্গবন্ধুর শপথ গ্রহণ
    প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার কায়েম
    (ইত্তেফাক রিপোর্ট)
    সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের পরিবর্তে দেশে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার কায়েম করা হইয়াছে। গতকাল (শনিবার) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করিয়াছেন। দেশের সর্বময় ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুর হাতে ন্যস্ত থাকিবে। অতঃপর দেশে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল থাকিবে। জাতীয় সংসদের কোনো সদস্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত রাজনৈতিক দলের সদস্য তালিকাভুক্ত না হইলে তাঁহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হইয়া যাইবে। দেশের নির্বাহী কর্তৃত্ব রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং সংবিধান অনুযায়ী তিনি তাহা প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে তাঁহার অধীনস্থ কর্মচারীদের মাধ্যমে পালন করিবেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদানের জন্য একটি মন্ত্রিপরিষদ থাকিবে। রাষ্ট্রপতি একজন উপ-রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করিবেন। আজ নয়া মন্ত্রী পরিষদ শপথ গ্রহণ করিবে। চতুর্থ সংবিধান সংশোধনী বিল ২৯৪ ভোটে গৃহীত হয়। এই বিলের বিরোধিতা করে ৩ জন বিরোধী, ১ জন স্বতন্ত্র সদস্য ‘ওয়াক আউট’ করেন। জনাব আতাউর রহমান খান পূর্বাহ্নে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
    প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পাঁচ বত্সরের জন্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হইবেন। সংবিধান লঙ্ঘন ও গুরুতর অসদাচরণের দায়ে রাষ্ট্রপতিকে অভিযুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হইয়াছে। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে এই অভিযোগ আনা যাইবে। রাষ্ট্রপতি পূর্বাহ্নে ভাঙিয়া না দিলে বর্তমান সংসদের আয়ুকাল হইবে পাঁচ বছর। রাষ্ট্রপতি পরবর্তীকালে এক আদেশবলে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের বিলুপ্তি ঘোষণা করিতে পারিবেন। জাতীয় দলের নামকরণ, কার্যসূচি, সদস্যভুক্তি, সংগঠন, শৃঙ্খলা, অর্থসংস্থান এবং কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয় রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হইবে। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বিল পাসের অব্যবহিত পরেই জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত হন।

  5. নাসির বলেছেনঃ

    আরে ভাই, তোমরা এত সময় কোথায় পাও? তোমরা কি কর? যতসব আলতু ফালতু প্যাঁচাল? দেশের জন্য কিছু কর, জামাত কে মানুষ ঘেন্না করবে, তোমাদের ভাল কাজের মাঝে। সারাদিন এইসব না করে সত্যি যদি দেশকে ভালোবাসো, তাহলে নিজের ভাল কাজের ফিরিস্তি দাও, মানুষ উৎসাহিত হবে। আর জামাত, সময় এসেছে ওদের বিদায় হওয়ার। কিন্তু, আমি খুব অবাক হই, নতুন প্রজন্ম যেভাবে জামাত কে বয়কট করছে, বা পাকিস্তান বিপক্ষে অবস্তান নিচ্ছে, তা খুব ভাল এবং প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু, তাদের লেখাতে কোথাও দেশের সমস্যা ( নারী নির্যাতন, শিশু হত্যা, কাজের লোক নির্যাতন, বেকারত্ব, শিক্ষা ) নিয়ে কথা নেই। আমদের বড় দুই দল, আওয়ামীলীগ বা বিএনপি এর কোন নেতার ছেলেমেয়েরা দল করে না। ২/১ জন করতে পারে, বাতিক্রম উদাহরণ না। তাদের একটা বড় অংশ বিদেশে নিজের ভবিষ্যৎ করে নিছে। আর আমারা ।।জদু মদু ছদু …বাপ ,মা না খেয়ে আছে, চাকরি নেই, বোনের বিয়ে হচ্ছে না। সেদিকে খেয়াল নেই, হাসিনার বা খালেদার মন্দ বললে খুন চাপে মাথায়, আমাদের এইসব দেখে হাসিনার ছেলে আমেরিকা থেকে অবাক হয়,মনে আমার মা’ কে এরা আমার থেকে বেশি ভালবাসে, আবার খালেরদার ছেলে ও লন্ডন থেকে হাসে। আমাদের খুব বড় সিমেন্টের দোকান আছে। আমি আর আমার বাপ এখানে বসি, সারাদিন সময় পাই না। প্রচুর বেচাকেনা। কিন্তু যখন সময় পাই, তখন নোট বুক নিয়ে বসি। আর প্রতি শনিবার বিকালে আমরা এই এলাকার ৩০ জন অনাথ শিশুকে প্রতি সপ্তাহের খাদ্য ও নগদ টাকা দিই এবং এরা সবাই স্কুল এ যায়। আর আমার আব্বা , হাজি নওশের শেখ, প্রতি শুক্রবার সকালে , এই বাজারে সব শিশু শ্রমিক কে আরবি ও বাংলা পড়ায়, এবং দুপুরে খাবার দেয়। হয়ত , বলবেন, আমাদের টাকা আছে বলে , আমারা করতে পারি, আমাদের বাজারে কোটিপতি আছে মোট ৮/১০ জন। কিন্তু তাদের সবাই খুব উচু মানের মানুষ, এইসব সস্তা হাবিজাবি কাজ কে তার গেন্না করে। তারা দলকে চাঁদা দেয়, গানের আশরে দেয়, মাস্তানদের দেয়। মোটকথা হচ্ছে, কিছু করতে গেলে মন থাকা লাগে। আমার বাপ খুব গরিব ছিল, এই বাজারে, একসময় মানুষের দুকানে কাজ করত, তখন বুড়া মানুষদের বোঝা মাথায় নেয়ার জন্য সবাই তাকে একটা অন্য নামে চিনত। বাংলাদেশের একটা বড় অংশ গরিব, তাদের কাছে ,এইসব জামাত ,বিএনপি কোন খবর নেই। তারা দুবেলা খেতে চায়। সারাদিন এরা কাজ করে, আমাদের এখানে ২০/২২ জন আছে, কোথায় ছেলে, কোথায় মেয়ে ,কোথায় বউ কোন খোঁজ নেই, সারাদিন মাথায় বোঝা চলছে তো চলছে। আমার ৫ বছরের মেয়ে মাঝে মাঝে ড্রাইভার এর সাথে আসে। আমার চেয়ারে বসে, শ্রমিকরা ওকে কত কিছু কিনে দেয়, ওকে আদর করে, শুদু মালিক একটু খুশি হক, এই কামনায়। কিন্তু তাদের ছেলেমেয়েকে কোনদিন ভাল কথা বলা বা কিছু কিনে দিবার ক্ষমতা তাদের নেই। আর এখানে মালিকের মেয়েকে খুশি করছে। কান্না আসে। ভাইসব, আসেন, কিছু করি, যার যা আছে ,তা নিয়ে কিছু করি।

    ১০
  6. nilima বলেছেনঃ

    “ইসলামে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কথা নেই, এমনকি কুরআনেও এ সম্পর্কিত কোনো আয়াত নেই”-এমন মন্তব্য করায় নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান শুক্রবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে!

    ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা মন্ত্রীর এ কথার ব্যাখ্যা দাবি করে হই-চই করতে থাকলে মন্ত্রী কোনো রকম ব্যাখ্যা না দিয়ে উত্তেজিত বক্তব্য রাখলে মুসল্লিরা তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা এসে তাকে উদ্ধার করেন। তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে দেন।

    সন্ধ্যা সাতটার দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সাহানে (মূল মসজিদের বাইরের পূর্বদিকের অংশে) একটি আন্তর্জাতিক ক্বেরাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। ‘ইন্টারন্যাশনালকোরআন রিসাইটেশন এসোসিয়েশন (ইকরা)’ নামে একটি সংগঠন দেশী-বিদেশী ক্বারীদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ইরান, মিশর, মালয়েশিয়া, ব্রুনাইসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ক্বারীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছেন।

    এতে নৌ পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান প্রধান অতিথি ছিলেন। বিকেল তিনটা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হলেও মূল বক্তব্য হয় সন্ধ্যার পর। সেখানে দেশী-বিদেশী কারীদের ক্বেরাত শুনতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

    নৌপরিবহণ মন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এক পর্যায়ে তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলা শুরু করেন।
    তিনি বলেন, “ইসলামে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কোনো স্থান নেই। কুরআনে এ সম্পর্কে কোনো আয়াত নেই। রাসুল (সা.) ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করতে না। তিনি এই কাজটি কখনো করেননি।”

    তখন মুসল্লিদের মধ্য থেকে একজন দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান, মুসলমান হিসেবে মন্ত্রী কেন তাহলে রাজনীতি করছেন।

    এ সময় নৌমন্ত্রী ওই মুসল্লির প্রতি রাগান্বিত হয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে বক্তব্য অব্যাহত রাখলে উপস্থিত মুসল্লিদের অনেকে দাঁড়িয়ে যান এবং সেখানে চরম হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

    মন্ত্রী এরই মধ্যে তার বক্তব্য অব্যাহত রাখেন। এই অবস্থায় মুসল্লিরা মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে মুহুর্মূহ জুতা নিক্ষেপ করতে থাকে। সেখানে উপস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনে মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজলসহ আয়োজকরা এতে হতভম্ব হয়ে যান।

    মন্ত্রীসহ অনেকের গায়ে জুতা গিয়ে পড়তে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকজন মন্ত্রীকে দ্রুত মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। এ সময় পিছন থেকে মুসল্লিরা ‘ধর, ধর’ আওয়াজ দিতে থাকে। দ্রুত মন্ত্রীকে গাড়িতে উঠিয়ে দেয়া হয়। এর এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ক্বেরাত প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

    ১১
  7. powerful magnet বলেছেনঃ

    লেখিকা নিজেই তো জামাত এর প্রচার করে দিলেন। তিনি যে জামাত এর পক্ষে কাজ করছেন না তার প্রমাণ কি? আর লেখিকা আপু অনলাইন হচ্ছে একটা মুক্ত জায়গা এখানে আপনি কাকে ঠেকাবেন? এই যে এতো এতো পর্নো সাইট আছে কেঊ কি পেরেছে এগুলো ঠেকাতে?

    ১২
  8. rafiq বলেছেনঃ

    লেখিকা সহ সহমত পোষনকারীদের উচিত জরুরী ভিত্তিতে একটি আইন বানানো যে, যারা জামায়াতে ইসলামী দল করবে বা সমথর্ন করবে, তাদের এদেশে থাকার কোন অধিকার নাই। আইন করে তাদেরকে অবিলম্বে মামার বাড়ি ভারত পাঠিয়ে দেয়া যেতে পারে। চাপাতি বাহিনী, ধষর্নের সেঞ্চুরী পালনকারী এবং লগি বৈঠা বাহিনীর লোকজন থাকতে এদেশে জামায়াতে ইসলামীর মত ধমভিত্তক দল রাজনীতি করবে, এটা কি করে মেনে নেয়া যায়? এরখম আইন করা এবং এখনই বাস্তবায়ন করার জন্য দ্রুত লেখিকার বাড়ীঘর ত্যাগ করা উচিত। ধন্যবাদ

    ১৫
  9. Md.Saiful Islam বলেছেনঃ

    এই সেক্যুলার সরকার বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের একটি চিত্র তুলে ধরতে চায়। আর তা হলো- বাংলাদেশ জঙ্গীতে ভরে গেছে। দাড়ি-টুপিওয়ালা এসব জঙ্গী এত বেশি বেড়ে গেছে যে, যখন-তখন তারা ক্ষমতা গ্রহণ করে বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলতে পারে। কাজেই এই জঙ্গীদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে- এই জঙ্গীদের দমন করে রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে।
    শাহজাহান খান তাই জেনেবুঝেই ইসলাম অবমাননাকর উক্তি করেছেন। ওনার মতো ঝানু মাল ‘না বুঝে’ আলেমদের সামনে আল্লাহর রাসূল সম্পর্কে এরকম ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য দেননি। বরং, ইসলাম অবমাননাকর উক্তির পর উপস্থিতি যখন তার বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকেন, তখন তিনি আরো উচ্চস্বরে বক্তব্য চালিয়ে যান ‘জুতা খাওয়ার জন্য। বিটিভি’র ক্যামেরায় ধারণকৃত এসব ছবি তিনি এইবার বিদেশিদের দেখাবেন- ‘দেখো, আমরা ক্ষমতায় থেকেও তাদের জুতা খেতে হচ্ছে। আমরা ক্ষমতায় না থাকলে এদের অভয়ারণ্য হবে বাংলাদেশ।’

    ১৬
  10. গিট্টুমামা বলেছেনঃ

    আপনার উচীত ছিল ঐ ওয়েবসাইটে কি কি তথ্য ভূল সেগুলো চিহ্নিত করা এবং এই ব্লগে তার ব্যাখ্যা করা। আমরা একটু শিখতাম। কিন্তু এ বিষয়ে আপনার কোন ব্যাখ্যা নাই। দাবী করছেন সাইটটি বন্ধ করে দেয়ার জন্য। এতে আপনার দূর্বলতা এবং কন্ঠরোধে বুনো স্বভাব প্রকাশ পাচ্ছে।

    ছোট বাচ্চাদেরকে মানুষ প্যাম্পার পড়ায় যাতে মল মুত্র মাখামাখি হয়ে না যায়। বড় হলে মানুষ প্যাম্পার পড়েনা।
    এখন বড়দের ও মনে হয় কন্ট্রোলে সমস্যা হচ্ছে তাই আপনি দেখছি বড়দেরকেও প্যাম্পার পড়িয়ে ছাড়বেন। দারুন :mrgreen: :mrgreen:

    ১৮
  11. ফয়সাল বলেছেনঃ

    জনাবা লেখিকা, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ কারণ আপনি অত্যন্ত অজ্ঞতার সাথে জামায়াত সম্পর্কে কিছু গবেষণা করেছেন। জামায়াতকে জানতে হলে কুরআন আর হাদীস পড়া শুরু করেন। আপনি মনে হয় মুসলিম ব্রাদারহুডের নাম শুনেন নাই। যদি শুনে না থাকেন তাদের সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর নেন। আপনার মত অনেক ভাদা আর হাসিনা মুজিব ওদের দেশেও ছিল। ওরা এখন কোথায়। মোবারক মিয়া জেল এ আছে। সেনাবাহিনী প্রধান ক্ষমতাচ্যুত …………..। এই ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৫০ বছর আপনার মত ইসলামের দুশমনেরা অনেক কিছুই করছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখেন এখন মিশরে কোন আইন চলে। ইসলামী আইন। সুতরাং অপেক্ষা করেন এই বাংলাদেশেও ইসলামী আইন চলবে এবং জামাতের মাধ্যমেই তা হবে। আর আমি আশা করি আপনার অবস্থাও হবে মোবারকের দালালদের যে অবস্থা হচ্ছে সেই রকম।

    ১৯
  12. bangla71 বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ লেখক কে

    আজকের প্রজন্মের জামায়াত-শিবির কর্মীরা তো যুদ্ধাপরাধী ছিল না, তাহলে তাদের দোষ কোথায়?

    উল্লেখিত প্রশ্নে পিঠ বাঁচানোর কৌশল থাকলেও অন্তত: যুক্তিগুলো অসার। যুদ্ধপরাধীদের নেতৃত্বে, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী এই সংগঠন দুটোর অনুসারীরা স্বাধীনতার পরে জন্ম নিলেও তারা একই আদর্শের অনুসারী। তাই তাদের ‘নব্য রাজাকার’ অভিধায় ভূষিত করাই শ্রেয়তর। জামায়াত যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থানকে ‘রাজনৈতিক ভুল’ বলে বাধ্য হয়ে স্বীকার করলেও ধর্ষণ, হত্যা কিংবা জ্বালাও পোড়াওর এর অভিযোগ স্বীকার করেনি। করলেই বা কি! ভুল ক্ষমা করা গেলেও খুন, হত্যা, ধর্ষণ কিংবা জ্বালাও-পোড়াও-এর সাথে যারা জড়িত ছিল, সেই অপরাধের তো ক্ষমা হতে পারে না।

    ২১
  13. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @ফয়সাল, নতুন করে খৎনা করা তথাকথিত জামাতকে জানতে আপনার ভাষায়, “জামায়াতকে জানতে হলে কুরআন আর হাদীস পড়া শুরু করেন।” কেন? তথাকথিত একদল ব্যবসায়ী, যাদের পন্য হচ্ছে ধর্ম, তাদেরকে জানতে কোরআন-হাদিসের কী সম্পর্ক? এসে একখান এলান করে দিলেই হলো? ভাবছেন, কোরআন-হাদিসের উল্লেখ করা থাকলে কেউ কিছু বললেই লুঙ্গি উড়িয়ে এছলামের অবমাননার কথা বলে চেঁচাবেন? স্যরি, খেল খতম, পয়সা হজম।

    ২২
  14. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    যখনই যৌক্তিক ভাবে জামায়াতের অপকর্মের তথ্যপ্রমাণ সমেত পোস্ট প্রকাশ হয় – তখন তেনাদের আঁতে ঘা পড়ে বলেই বিষোদগারের সীমা থাকেনা – কিন্তু এ আজ জনদাবী – “যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই”।। এবঙ এই একটি কারণেই জামায়াত-শিবির-জোট যতই অপততপরতা চালাক – বিচারিক রায়ের মাধ্যমেই যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তিবিধান হবেই বাংলার মাটিতে – সরকারের অঙ্গীকার জনগণের সঙ্গে।

    ২৩
  15. কান্টি টুটুল

    কান্টি টুটুল বলেছেনঃ

    অনলাইনে কেউ আমার ব্যক্তিস্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে আমি তার নাম পরিচয় অনুমতি ছাড়াই তুলে ধরব কিন্তু ষোল কোটি মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়া কার্যকলাপ প্রকাশ করায় যখন রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয় তখন আমি সরকারের পক্ষ হয়ে কথা বলব – আইরিন আপার এই অবস্থান দেখে হতাশ হলাম।

    ফয়সল পারভেজ @
    “জাতীয় স্বার্থে হ্যাকিং করা যেতে পারে” ড. শাহাদীন মালিক এর মন্তব্যটি তুলে ধরায় আপনাকে ধন্যবাদ। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা আমরা এখনো তৈরী করতে পারি নাই,তাই প্রাইভেসি সংক্রান্ত বিবিসি এডিটোরিয়াল গাইডলাইনের চুম্বক অংশ নিচে তুলে দিলাম

    The Public Interest

    Private behaviour, information, correspondence and conversation should not be brought into the public domain unless there is a public interest that outweighs the expectation of privacy. There is no single definition of public interest. It includes but is not confined to:

    * exposing or detecting crime
    * exposing significantly anti-social behaviour
    * exposing corruption or injustice
    * disclosing significant incompetence or negligence
    * protecting people’s health and safety
    * preventing people from being misled by some statement or action of an individual or organisation
    * disclosing information that assists people to better comprehend or make decisions on matters of public importance.

    ২৪
  16. nasir বলেছেনঃ

    স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়া কার্যকলাপ প্রকাশ করায় যখন রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয় তখন আমি সরকারের পক্ষ হয়ে কথা বলব – আইরিন আপার এই অবস্থান দেখে হতাশ হলাম।

    ২৫
  17. manik বলেছেনঃ

    স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়া কার্যকলাপ প্রকাশ করায় যখন রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয় তখন আমি সরকারের পক্ষ হয়ে কথা বলব – আইরিন আপার এই অবস্থান দেখে হতাশ হলাম।

    ২৮
  18. সেলিম উদ্দীন বলেছেনঃ

    আইরিন আপু ,
    যারা দেশের প্রচলিত আইন ভাঙ্গে তারা অবশ্যই অপরাধী। আর যারা সারা জাহানের মালিকের আইন ভাঙ্গে তাদেরকে কি বলবেন?

    ২৯
  19. জাফরুল বলেছেনঃ

    শ্রদ্ধেয় আইরিন আপু, আপনার যুক্তিগত কথা গুলো আমার অনেক ভালো লাগে। তথ্যসমৃদ্ধ হওয়ায় আপনার পোস্টগুলো ভালো ভালো ব্লগারদের পোস্টের মধ্যে স্থান পাবে। আমার কাছে মনে হয়, বেশি বেশি লেখার চেয়ে একটি তথ্যসমৃদ্ধ, সবার জন্য বোধগম্য ও অজানা কে জানার পোস্টই এনাফ। কিন্তু আপনার সাথে আমার একটি জায়গায় অমিল আছে। সেটা আপনি ও জানেন আমি ও জানি। এই জন্য আপনার ব্লগ পড়লেও মন্তব্য করতে ডর করে। কারণ কখন যে ঐ টি নিয়ে আপনার সাথে যুক্তিগত তর্ক বিতর্ক লেগে যায়। এমনিতে একবার তর্ক -বিতর্ক হওয়ার পর অনেক দিন ব্লগে পোস্ট ও মন্তব্য লিখি নি। পরে নতুন একাউন্ট খুলেছি। তবে যুক্তিধারীদের সাথে ফ্রেন্ডলি তর্ক বিতর্ক করতে বিশেষ একটা আনন্দ আছে। কারণ তারা আমার যুক্তিকে ভাঙ্গার ক্ষমতা রাখে। এই জন্য তাদেরকে আমার বেশি পছন্দ। আর লেখার চেয়ে আমার পড়তেই বেশি ভালো লাগে।

    শুভ কামনা করি আপনি আর ও তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট লিখেই যাবেন।

    আপনাকে ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।।

    ৩০
  20. আইরিন সুলতানা বলেছেনঃ

    সোনার বাংলা ব্লগ বন্ধ করলো বিটিআরসি
    নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2013-02-16 17:11:24.0 Updated: 2013-02-16 17:12:01.0

    ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারের হত্যার প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে সোনার বাংলা ব্লগ বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

    সোনার বাংলা নামের এই ব্লগটি জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা পরিচালনা করে আসছিল।

    বিটিআরসির সহকারী পারিচালক (মিডিয়া উইং) জাকির হোসেন খান বিডিনিউজ টোযেন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শনিবার দুপুরে ব্লগটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

    এরই মধ্যে দেশের সব ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়েগুলোকে (আইআইজি) এই বাংলা ব্লগটি বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”

    সোনার বাংলা ব্লগে একটি পোস্টে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল বলে ব্লগাররা জানান।

    স্থপতি রাজীবকে শুক্রবার রাতে মিরপুরের পলাশ নগরে তার বাড়ির সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়, যিনি শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

    বেশ কিছুদিন ধরেই তার লেখনিতে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিসহ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।

    =====================
    BTRC shuts down ‘pro-Jamaat’ blog
    Staff Correspondent, bdnews24.com
    Published: 2013-02-16 17:38:45.0 Updated: 2013-02-16 17:41:43.0

    Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BTRC) on Saturday shut down the ‘Sonar Bangla’ blog, known to have been operated by pro-Jamaat-e-Islami activists, following demand from the demonstrators at Shahbagh after their compatriot Ahmed Rajib Haider was found murdered on Friday.

    BTRC Assistant Director (Media Wing) Jakir Hossain Khan told bdnews24.com: “The blog site has been shut down since Saturday noon.”

    BTRC directed all International Internet Gateway (IIG) operators to close the Sonar Bangla blog earlier in the day, he said.

    Blogger and online activist Ahmed Rajib Haider was found murdered near his Palashnagar residence at the capital’s Mirpur on Friday night.

    His family and friends blamed it on the activists of the Jamaat-e-Islami and its students’ wing, the Islami Chhatra Shibir as he had been blogging against their activities which made him a possible “target” of the religion-based organisation for his interpretation of Islam from the standpoint of a self-proclaimed atheist.

    Online activists and protesters said that Rajib also received threats on his life through various online posts. One such threat was posted in “Sonar Bangla”. They are convinced that the Jamaat and Shibir are behind Rajib’s assasination.

    Meanwhile, the protesters at Shahbagh on Saturday vowed, in the name of Rajib, to continue with their demand seeking capital punishment for all war criminals, until death.

    Rajib was one of the voices that echoed the demand of the millions over the past 12 days.

    লিংক [,]

    ৩১
  21. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    সোনার বাংলা ব্লগসাইট বন্ধ হওয়া একটি বিজয় বটে অশুভ-অমঙ্গলের বিরুদ্ধে সত্যানুসন্ধানী মানুষের। বিজয় এভাবেই অর্জিত হয়। হবেই। সেই শাস্ত্রীয় বাণীর কথাই মনে আসছে –

    “রে ব্যাধ তোর বিস্তার হবে না দেখিস”

    ৩২
  22. আইরিন সুলতানা বলেছেনঃ

    ১২টি ব্লগ ও ফেইসবুক পেইজ বন্ধ
    নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2013-02-20 11:52:03.0

    ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ১২টি ব্লগ ও ফেইসবুক পেইজ বন্ধ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে বিশেষ টিম (বিডি-সিএসআইআরটি)।

    বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমের একজন সদস্য বুধবার বিকেলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এর মধ্যে রয়েছে সোনার বাংলা ব্লগ এবং বাঁশের কেল্লা ও ধর্মকারী নামের ফেইসবুক পেইজ।

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমের (বিডি-সিএসআইআরটি) আহ্বায়ক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাজনৈতিক দল বিবেচনায় নয়, প্রচলিত আইনেই ব্লগ বা ফেইসবুক পেইজ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।”

    রাষ্ট্রীয়, সমাজ বা রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায় এ ধরনের লেখা ও ছবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিডি-সিএসআইআরটি সব সময় কাজ করে বলে জানান তিনি।

    গত শনিবার সোনার বাংলা নামে একটি ব্লগ বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি।

    ব্লগার রাজীব খুনের জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে সোনার বাংলা ব্লগে একটি পোস্ট থেকে হুমকি দেয়ার কথা জানায় শাহবাগের আন্দোলনকারী ব্লগাররা।

    স্থপতি রাজীব গত শুক্রবার রাতে মিরপুরের পলাশ নগরে তার বাড়ির সামনে খুন হন। রাজীবের স্বজন ও ব্লগাররা বলছেন, জামায়াত-শিবির কর্মীরা এই খুনের সঙ্গে জড়িত।

    গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে একটি বিশেষ টিম গঠন করে বিটিআরসি। বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিডি-সিএসআইআরটি) নামে এই টিম সে সময় থেকে সাইবার ক্রাইম সনাক্তে কাজ শুরু করে।

    একই বছরের ২২ এপ্রিল থেকে contact@csirt.gov.bd ঠিকানায় সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে অভিযোগ ও পরামর্শ নেয়া শুরু হয়। অভিযোগ পাওয়া মাত্র তদন্ত করে গুরুত্ব বুঝে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় বিটিআরসি।

    বাংলাদেশে ২০১০ সালের ২৯ মে প্রথমবারের মতো ফেইসবুক ব্লক করেছিল সরকার। তবে কয়েকদিন পর তা খুলে দেয়া হয়।

    ৩৩
  23. আইরিন সুলতানা বলেছেনঃ

    ফেসবুকের ও অনলাইনে যত ধরণের জামাতি কর্মকাণ্ড আছে তা অবশ্যই রিপোর্ট করুন। কেবল নিজ নিজ ওয়ালে শেয়ার করেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না।

    ১. BD SCIRT কে ফেসবুক বার্তা পাঠান প্রয়োজনীয় সন্দেহভাজন/চিন্হিত লিংক সহকারে
    https://www.facebook.com/pages/Bangladesh-Computer-Security-Incident-Response-Team/427200473970111

    ২. বিটিআরসি -কে ফেসবুক বার্তা পাঠান – https://www.facebook.com/BTRCpage

    ৩. btrc@btrc.gov.bd , বিটিআরসি -কে সরাসরি ইমেইল করুন।

    ৩৪

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...