ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক, সমালোচনা

 

টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ মুখ হওয়াটা আলোচনায় একটা ভিন্ন মাত্রা আনে। ফেসবুকের কল্যাণে মার্ক জুকারবার্গ এমনিতে আলোচিত নাম। তারউপর ফেসবুকের অন্তরালের কাহিনীর রূপালী পর্দার সফল চিত্রায়ন ‘সো্স্যাল নেটওয়ার্কিং’ এ বছর আন্তর্জাল ব্যবহারকারীদের মাতিয়ে রাখে।

অন্যদিকে তথ্য আর প্রযুক্তি দুটো ক্ষেত্রকে ব্যবহার করে বিশ্ব কাঁপিয়ে দিচ্ছে জুলিয়ান অ্যাসঞ্জ। উইকিলিকস কেবল হলো তার ছোঁড়া সব মিসাইল। যা আঘাত করছে পরাশক্তিগুলোর দূর্ভেদ্য প্রাচীরে। এর খেসারত দিতে হচ্ছে অ্যাসঞ্জকে নানাভাবে। আমেরিকা আর তার তাবেদার রাষ্ট্রগুলো সুকৌশলে অ্যাসঞ্জকে জব্দ করার বন্দোবস্ত করতে থাকে। প্রথম আঘাতটা আসে আমাজন.কম ওয়েব সাইট থেকে, যাদের সার্ভারে ডাটা আপলোড করা হতো মেঘজাল প্রযুক্তি (ক্লাউড কমপিউটিং/টেকনোলজি) ব্যবহার করে। আমাজন অবশ্য যুক্তি দেখিয়েছে, উইকিলিকস এ.ডব্লিউ.এস (আমাজন ওয়েব সার্ভিস) চুক্তি ভঙ্গ করেছিল। যাতে উল্লেখ ছিল,এমন কোন তথ্যাদি প্রকাশ করা যাবে না যা অন্যের জন্য হুমকি স্বরূপ হয়।

উপরের এই দুই আলোচিত ব্যাক্তির উভয়েই আন্তর্জালে ঝড় তুলেছেন তাদের কাজের মাধ্যমে। এই একটা দারুণ মিল রয়েছে বটে তাদের। জুকারবার্গ সামাজিক যোগাযোগের একটা সহজ পদ্ধতি দেখিয়েছেন। আর অ্যাসঞ্জ বুঝিয়েছেন সাংবাদিকতা আসলে কেমন হতে পারে। এই দেখানো আর বোঝানোতে উভয়েই প্রযুক্তিকে বেছে নিয়েছেন।

টাইম ম্যাগাজিনে এই দুই আলোচিত ব্যক্তিকে নিয়েই একটা আলোচনা চলছিল জোরদার। কে হতে পারে পারসন অফ দ্য ইয়ার? প্রচ্ছদে ২৬ বছর বয়সী জুকারবার্গ এর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে কে সেই ব্যক্তি। টাইম কেন অ্যাসঞ্জ কে প্রচ্ছদে আনল না? এটা একটা প্রশ্ন হতে পারে। দুইজেনর কেউই কম জনপ্রিয় না। কম আলোচিত না। বরং অ্যাসঞ্জ দুম করে এসে বিশ্বকে হতবাক করে দিল। সেক্ষেত্রে ফেসবুকের কারণে জুকারবার্গ অনেকদিন ধরে ক্রমাগত আলোচিত। এবং এ বছর আলোচনাটা বেশী গুরুত্ব পায় সোস্যাল নেটওর্য়র্কিং সিনেমাটির জন্য।

জুকারবার্গ যদি ২৭ বছর বয়সে মানে আগামী বছর পারসন অফ দ্য ইয়ার হতেন, তাতে কোন সমস্যা ছিল না। এটা নিশ্চিত যে তিনি আলোচিত থাকবেন আরো অনেক বছর। অনেকটা বিল গেটস এর মত।

অ্যাসঞ্জ -ও আলাচনায় থাকবেন বলে আশা করা যায়, তবে অ্যাসঞ্জ এর জন্য এই মুহুর্তে কিছু উন্মুক্ত সমর্থন তার কাজকে শক্তিশালী করতে পারে আরো। জুকারবার্গ এর মাথার উপর কোন সমন নেই। নিষেধাজ্ঞা নেই। অপঘাতে মৃত্যু ভয় নেই। হাজত বাসের সম্ভাবনা নেই। এগুলো নিয়ে যুঝছেন অ্যাসঞ্জ। কিন্তু মার্কিন শক্তিকে খামোখা চটাতে চায় না কেউ। তাই অ্যাসঞ্জ এর সমর্থনে ব্যক্তিগত মতামত পাওয়া গেলেও কোন মিডিয়া স্পষ্টভাবে তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। টাইম এর প্রচ্ছদে অ্যাসঞ্জ এর মুখ একটি কৌশলী সমর্থন ও স্বীকৃতি হতে পারতো। কিন্তু টাইম সম্ভবত কৌশল করেই বিষয়টা এড়িয়ে গেল।