ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কথা হচ্ছে, অনেকে ভাবছেন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে চালকের দায় কমে যায়। অনেকে ভাবছেন, বাংলাদেশে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো নিয়ে কোনো আইনই নেই। এই ভাবনা অনেকে বাংলাদেশ আইন সম্পর্কে হতাশ হয়ে ভাবছেন।

মামলা মোকাদ্দমা ভারতীয় অভিনেতা সালমান খানের পিছু ছাড়েনি কখনই। সম্ভবত এ কারণেই তিনি এ বয়সেও থিতু হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। বন্যপ্রাণী হত্যা ছাড়াও তাকে নিয়ে আলোচিত এবং দীর্ঘসময় ধরে চলা মামলা হচ্ছে মদ্যম অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ব্যক্তি হত্যা।

খেয়াল করুন, এখানে অপরাধের ৩টি আঙ্গিক রয়েছে।

(১) গাড়ি চালিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যক্তি হত্যা।
(২) মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো।
(৩) মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ব্যক্তি হত্যা।

সন্দেহাতীতভাবে ধরে নিচ্ছি ঘটনাটি কোনোভাবেই সালমান খানের ইচ্ছেকৃত নয়। সালমান খানের গাড়ি থেকে এ ঘটনাটি সংগঠিত হয় এ বিষয়টিও প্রমাণিত। তাহলে সালমান খানের নিজেকে আদালতে ডিফেন্স করার মত কী থাকে???

(১) তিনি গাড়ি চালাননি। দুর্ঘটনা ঘটিত হওয়ার সময় তার ড্রাইভার গাড়ি চালিয়েছিল।
(২) তিনি মদ্যপ হালে গাড়ি চালাননি।

ভারতে ব্যক্তিগত ভাবে মদ পান নিয়ে আইনি বাধা নেই। তবে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো কড়াকড়ি দণ্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং সালমান খানকে কেবল সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যার থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হচ্ছে তা নয়। সালমান খানকে বারবার বলতে হচ্ছে তিনি গাড়ি চালাননি। এ কথা সালমান খান কেবল এজন্য বলছেন না যে, তিনি গাড়ি চালালে হত্যার দায় তার উপর বর্তাবে। বরং সালমান খান গাড়ি চালানোর বিষয়টি এজন্যও অস্বীকার করছেন যে তিনি মদ্যপ ছিলেন এবং আইন মেনে তিনি গাড়ির ড্রাইভিং সিটে ছিলেন না।

ভারতে সালমান খান মহীরূহ। তিনি একটি ইন্ডাস্ট্রি। তার কারনে একজন ব্যক্তির পরিবারে রুটিরুজির ব্যাঘাত ঘটতে পারে, কিন্তু হাজারো পরিবারের রুটিরুজি চলে। তার স্বজন-বন্ধু অসংখ্য। সুতরাং সালমানের জেল হোক এটা কিছু মানবাধিকার সংস্থা চাইলেও এ কথা সত্য যে তার জেল না হোক এমন চাওয়ার সংখাই অধিক। সালমানের এই বিপদে খোলাখুলিভাবে তার পাশে এসে সাহস জুগিয়েছেন অনেক বড় বড় তারকারা। খেয়াল করবেন, আইন-আদালত প্রশ্নে তারা কখনই বিরূপ মন্তব্য করেননি। ভারতের বাক স্বাধীনতা, এবং আইনের প্রতি প্রয়োজনীয় শ্রদ্ধা প্রদর্শের জায়গাটা এমনি ম্যাচিউরড। আমাদের মত নয় যে, কথায় কথায় ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির সাথে গুলিয়ে ফেসবুকে আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যাওয়া ক্রমাগত।

এতকিছু বলার কারণ হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম আলোর প্রধান ফটো সাংবাদিক জিয়া ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
এ ঘটনায় মডেল ও অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়াকে আটক করা হয়েছে। এবং তিনি ওই সময় মদ্যপ ছিলেন বলেও জানা যাচ্ছে। অভিনেতা কল্যাণের শুভাকাক্ষী-বন্ধুরা ইতমধ্যে তার পক্ষে অনেক মতামত দিচ্ছেন। অন্যদিকে কল্যাণের বিপক্ষেও অসংখ্য মতামত। পুরো ঘটনাটি প্রকৃত অর্থে ভিন্ন ছিল এবং কল্যাণ নিজেই আসলে ভিকটিম এমন কথা উঠে আসছে। সুতরাং আসলে দুর্ঘটনা কে-কীভাবে ঘটিয়েছিল তা ঘোলাটে হয়ে গেছে। তবে পুলিশ ও আইন নিশ্চয়ই সত্যতা উদঘাটন করবে।

কথা হচ্ছে, অনেকে ভাবছেন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে চালকের দায় কমে যায়। অনেকে ভাবছেন, বাংলাদেশে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো নিয়ে কোনো আইনই নেই। এই ভাবনা অনেকে বাংলাদেশ আইন সম্পর্কে হতাশ হয়ে ভাবছেন। আবার অনেকে ভাবছেন, এভাবে হয়ত পুরো ঘটনাটিকে কীভাবে কল্যাণ কোরাইয়ার পক্ষে আনা যায়।

অনেকে ভাবছেন, এটা সাধারণ জ্ঞানেই অপরাধ হওয়ার কথা। এটাও ভাবার কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের আইনে কী আছে কী নেই তা আমরা কমই জানি।

এখানে বলতেই হচ্ছে, ব্যক্তির অসততার কারণে আইন ম্যানিপুলেশনের ঘটনা ঘটলেও আমাদের অনেক আইনই রয়েছে। কেবল অজ্ঞতার কারণে আমরা সেই আইন নিয়ে ফোকাসড আলাপ করতে না পেরে ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করে যাই।

হ্যা, THE MOTOR VEHICLES ORDINANCE এ খুব স্পষ্ট করে বলা আছে – মদ্যপ বা ড্রাগ সেবন অবস্থায় গাড়ি চালানো আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

CHAPTER X
OFFENCES, PENALTIES AND PROCEDURE
Driving while under the influence of drink or drug

144. Whoever while driving or attempting to drive a motor vehicle is under the influence of drink or drug to such extent as to be incapable of exercising proper control over the vehicle, shall be punishable for a first offence with imprisonment which may extend to three months, or with fine which may extend to one thousand Taka, or with both, and for a subsequent offence with imprisonment which may extend to two years, or with fine which may extend to one thousand Taka, or with both and his driving licence shall be suspended for a specified period.

 

***

প্রকাশিতঃ মূলত ফেসবুক স্ট্যাটাস। সেখান থেকে অনুমতিক্রমে http://antorjal.com -এ প্রকাশিত।