ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 
স্কুলে পাঠ্যবই থেকে প্রথম জানা: অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনকে ক্যানসার বলে। সেই নিয়ন্ত্রণ হারানো কোষ বিভাজন ঘটে চলবে ‘তার’ মস্তিষ্কে– এমনটা ঘূণাক্ষরেও ভাবনায় ছিল না। অথচ ২০১৬ সালের ‍জুনে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেড়ে ৭০ বছর ৯ মাস হওয়ার প্রতিবেদনে যখন উন্নয়নের ‘তৃপ্তি’ প্রকাশিত হয়, ‘তার’ অচেতন আয়ু তখন শেষের দিনগুলো কাটাচ্ছে হাসপাতালে।
 

ক্যানসার রোগটা ‘সিনেমাটিক’; কী সাদাকালো কী রঙিন, কোনো বিশেষ চরিত্রের ক্যানসার আর দর্শক কাঁদিয়ে সিনেমার কালজয়ী হয়ে ওঠা! পুরনো সিনেমায় ক্যানসার মানেই বেদম কাশি, কাশতে কাশতে সাদা রুমালে রক্ত আর চোখের তলে কালশিটে। উপস্থাপন ভিন্ন হলেও, ক্যানসার সিনেমায় এখনও ‘আবেদনময়’। অনেক সিনেমাতেই ক্যানসারের ধরন বলা হয় না। যেসব সিনেমায় উল্লেখ থাকে, সেখানে ব্রেইন টিউমারই পছন্দনীয়, নয়তো লিউকেমিয়া। ডকুমেন্টারি হলে স্তন ক্যানসার। ধূমপানবিরোধী প্রতিবেদন হলে ফুসফুসের ক্যানসার। সেলুলয়েডে ক্যানসার যেমন দেখা যায় ক্যানসার কতটা তেমন?

ইংরেজিতে ‘এ টু জেড’ পর্যন্ত প্রায় সব অক্ষরে একাধিক ক্যানসারের নাম পাওয়া যাবে। ব্রেইন ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, লিভার ক্যানসার, লিউকেমিয়া, চর্ম ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার, থাইরয়েড ক্যানসার, কিডনি ক্যানসার, ভাজাইনাল ক্যানসার, পাকস্থলির ক্যানসার এবং আরও একাধিক। ক্যানসার ভেদে চিকিৎসা ভিন্ন। পাশাপাশি বয়স ভেদে, ক্যানসারের গ্রেড ও স্টেজ ভেদে রোগীর আরোগ্য অথবা মৃত্যুর জন্য অপেক্ষার সময়সীমাও ভিন্ন।

স্বজনরা বলছিল ভারতে নিয়ে অপারেশন করাতে। সময়, লোকবল, অর্থ, ভিসাপ্রাপ্তি, হতবিহবলতা ইত্যাদি অনেক কিছু বিবেচনায় বিভ্রান্ত হয়ে যখন ডাক্তারের কাছেই আর্তি জানাতে হয়: কোনো মেডিকেল বোর্ড হয় কি? অথবা আপনার তত্ত্বাবধানে ভারত থেকে ডাক্তার এসে অপারেশন করানো সম্ভব? ডাক্তার সাহেব ধমকে উঠে রুম থেকেই বের করে দিয়েছিলেন। তবু অভিজ্ঞ নিউরোসার্জনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রায় ৮ ঘণ্টার একটি জটিল অপারেশন তিনি করেছিলেন।

দি ল্যাবরেটরেরির বায়োপসি রিপোর্ট গ্রেড-টু জানালেও নিউরোসার্জেন গ্রহণ করলেন ডেলটার বায়োপসি রিপোর্ট থেকে গ্রেড-থ্রি এসট্রোসাইটোমাস (Astrocytomas)। অনেকেরই বিভ্রান্তিকর অভিজ্ঞতা রয়েছে দি ল্যাবরেটরির রিপোর্ট নিয়ে। তবু অনেক ডাক্তারই ২-৩টি বায়োপসি রিপোর্ট ক্রসচেক করার কথা বলে দি ল্যাবরেটরির নাম রেফার করেই থাকেন।

৩০টা রেডিওথেরাপি আশা দেয় রোগী সুস্থ হবেই। ভারতে ‘রিলায়েন্স লাইফ সায়েন্সেস’এ (Reliance Life Sciences) স্লাইড পাঠিয়ে এমজিএমটি (MGMT Hyper methylation) টেস্ট করিয়ে রোগীকে টেমোজোলোমাইড (Temozolomide) শুরু করানো হল। রেডিও থেরাপি আর ওরাল কেমোতে বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেল না বলে পরিবার স্বস্তিতে।

সমসাময়িক খবরে দেখা যেত, চিত্রনায়িকা দিতির ব্রেইন টিউমার, অপারেশন, রেডিওথেরাপি। দিতি চিকিৎসা করিয়েছিলেন ভারতে। রেডিওথেরাপি চলাকালীন দিতির সুস্থতার খবরে এক প্রকার গ্লানি কাজ করে, তাহলে ভারতে চিকিৎসা করালেই ভালো হত! কিন্তু ‘তিনি’ যখন একটু শারীরিকভাবে ভালো হয়ে উঠছিলেন, তখন দিতি কিন্তু অসুস্থ হয়ে পুনরায় ভারতে এবং দ্বিতীয় দফা অপারেশন। জানা ছিল না এই ধাপে পৌঁছুতে হবে তাকেও!

ডায়াবেটিক ডাক্তার বলেছিলেন, রেডিওথেরাপি শেষ হলে ওরাডেক্সন (Oradexon) বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত। অনকোলজিস্ট নিজে থেকে এ বিষয়ে কিছু বললেন না যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞেস করা হয়। ওরাডেক্সন মূলত স্টেরয়েড। বন্ধ হতেই একটু একটু করে শরীরের বোধ অসার হতে থাকল, কথা গেল জড়িয়ে। ইমারজেন্সি পরিস্থিতিতে ধরা পরে ইডিমা (Edema)। জানা গেল, রেডিওথেরাপিতে ‘টিউমার এরিয়া’ কমে গেছে, কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে ইডিমা।

দিতির ক্ষেত্রেও এমন ঘটেছিল। তারপর যুদ্ধটা আসলে আর ক্যানসারের সঙ্গে থাকেনি। বেঁচে থাকার যুদ্ধটা হয় ক্যানসার চিকিৎসায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে। চিত্রনায়িকা দিতি শেষ পর্যন্ত ক্যানসারে মারা যাননি। দিতির দ্বিতীয় অপারেশনটির পর তার পারকিনসন হয়েছিল। অপারেশন, রেডিওথেরাপি, কেমো কোনোটাই দিতিকে এক বছরও বাঁচিয়ে রাখতে পারেনি।

পৃথিবীতে কেবল সেই ডাক্তারই জানতেন সাকশন (suction) আর পিসমিল (piecemeal) করে কতটুকু টিউমার অপসারিত হয়েছিল আর কতটুকু রয়ে গিয়েছিল মস্তিষ্কের প্রকোষ্ঠে। তাই তিনি আত্মবিশ্বাসে রোগী আর স্বজনদের সামনেই হাতের কড়েতে মাস গুনতেন। রোগী ও পরিবারের সামনে বলে বসেন, “এ বয়সে এক-দুই বছর বাঁচলেই অনেক।”

পরিবার যখন চিকিৎসার সম্ভাবনা জানতে উদগ্রীব, তিনি গলা নিচু করে বৈষয়িক পরামর্শ দিলেন, কোথায় কী আছে সব জেনে নিন। অনকোলজিস্ট এবং নিউরোসার্জনদের মধ্যে ইগো সমস্যা নিয়েও অভিজ্ঞতা হয়ে যায়। অনকোলজিস্ট যখন ইডিমা কমাতে ধাপে ধাপে মেপে মেপে ওরাডেক্সন প্রেসক্রাইব করছেন, নিউরোসার্জেন সেই প্রেসক্রিপশন দেখে বক্রহাসি দিয়ে রোগীর সামনেই বলেন, “অর্ধেকটা করে ওষুধ, হোমিওপ্যাথি নাকি!”

হাসপাতালই বাড়ি হয়ে গেল, অর্থাৎ রোগী ক্রমাগত কাবু হয়ে পড়ছেন। অনকোলজিস্টের সহকারী কেমোর হিসেবে ভুল করলেন। তাই সেখান থেকে আরেক হাসপাতাল। ইউনাইটেড হাসপাতালে ডাক্তার বললেন, ইডিমা কমিয়ে দেবেন। কী ট্রিটমেন্ট দিলেন কে জানে, তারপর আচমকা রোগীর বিছানা টেনে নিতে নিতে জানানো হল টিউমার বেড়েছে, এখুনি রেডিওথেরাপি দিতে হবে।

অথচ কটা থেরাপি দিতে হবে, কী ধরনের রেডিওথেরাপি দেওয়া হবে, কত খরচ– কোনো কিছুই আলাপ হয়নি রোগীর পরিবারের সঙ্গে। যে রোগী মুখে খাওয়া বন্ধ করেছেন, চোখ খোলেন হঠাৎ হঠাৎ, তার শরীর কি রেডিয়েশন নেওয়ার মতো? আরেকটা হাসপাতাল খুঁজতে রোগী আর বিভ্রান্তি নিয়ে বেরিয়ে পরা দিনও দেখিয়েছিল ক্যানসার। তবে জীবনের শেষ কটা দিন যে হাসপাতালে কাটালেন সে হাসপাতালের নাম জানার মতো প্রাণশক্তি আর হয়নি ‘তার’।

ডাক্তার তো চাইলেই জীবন দিতে পারেন না। তবে সেই অভিজ্ঞ ডাক্তারের কড়ে গণনা প্রায় নির্ভুল হওয়ায় বুঝতে হল, ডাক্তাররা মৃত্যুর হিসেবে কতটা অভিজ্ঞ!

একেকটা হাসপাতালের ক্যানসার বিভাগের করিডোরে হেঁটে, ওয়েটিংয়ে বসে দেখা হল কত কত মানুষ ক্যানসার থেকে বেঁচে ওঠার চেষ্টারত। নিয়ম করে শোনা হল ওই কেবিনের রোগী মারা গেলেন।

ক্যানসার এক কিংবদন্তী; ক্যানসার এক মিথ! কিন্তু পরিসংখ্যান বলে দেয় ক্যানসার আসলে রুঢ় বাস্তব।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ লাখের অধিক ক্যানসারে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর এই সংখ্যায় যোগ হচ্ছে আরও ২ লাখ। ২০৩০ সাল নাগাদ ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে ২ কোটির বেশি মানুষ। গত দশ বছরের সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতি বছর কোনো না কোনো তরুণ মুখকে ক্যানসার থেকে বাঁচানোর আকুতি কি নিয়মিত জানান দিচ্ছে না আমাদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি?

হাসপাতাল বিছানায় অচেতন দেহের অবসর পাওয়া নেহায়েত সাধারণ ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি চলে যাওয়াতে পৃথিবীর ক্ষতি হয় না। কিন্তু এ জাতির সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের দেহে ক্যানসার কোষ ছুটোছুটি করলে তা অপূরণীয় ক্ষতি। দেশে-বিদেশে প্রতিভাবানদের অনেকের মৃত্যু হয়েছে ক্যানসারে। দেশের পত্রিকাগুলোতে অপর্যাপ্ত রেডিওথেরাপি মেশিন নিয়ে প্রতিবেদন দেখা যায়। ক্যানসার দিবসে চিকিৎসকরা ক্যানসার চিকিৎসায় উন্নতির কথা বলেন। ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্যানসার নির্ণয়ে সেরা প্রযুক্তির দাবিদার। কিন্তু ক্যানসার আরোগ্য হতে কোনটি সেরা চিকিৎসা তা এক রহস্য।

আশা, শ্রম, সময়, অর্থ খরচ করে রোগীকে রেডিয়েশন আর কেমোচিকিৎসা করাতে করাতে শুনতে হয় এগুলো কেবল রোগীকে ‘সারভাইভ’ করানো। বাংলাদেশে হাসপাতাল বা ডাক্তাররা সত্যটা বলতে না পারলেও, হালের কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণা খুব স্পষ্ট করে বলছে, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি সবই আসলে হাসপাতালের ব্যবসা। রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি রোগীকে জীবন দেয় না বরং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোগীর জীবনীশক্তি দ্রুত নিঃশেষ করে তোলে। ক্যানসার রোগীরা ক্যানসারে নয়, মারা যান ক্যানসারের চিকিৎসায়।

‘ফাইভ স্টার’ হাসপাতাল সংখ্যা বাড়িয়ে ক্যানসারর সঙ্গে যুঝতে যাওয়া বৃথা। ডাক্তারদের রোগীর সঙ্গে আত্মিক হওয়ার প্রশিক্ষণ বরং বাধ্যতামূলক করা উচিত। মূলত ক্যানসার গবেষণায় বিনিয়োগ ভিন্ন ক্যানসার চিকিৎসায় উন্নতির গল্প বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির সর্বাধুনিক সংযুক্তিই ক্যানসার মোকাবিলা করতে পারে। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে ক্যানসার নিয়ে কী গবেষণা হয়, বাংলাদেশে চিকিৎসাক্ষেত্রে কতটুকু অবদান রাখে এই ইনস্টিটিউট তা কোনো গবেষণাপত্রে দেখানো যাবে কি?

অবশ্য এই জানাটা ইতিবাচক যে বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে ক্যানসারের ওষুধ। যেমন, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের অনকোলজি পণ্য টেমোজোলোমাইড জাতীয় ওষুধ টেমোনিক্স (Temonix)। তবে বিদেশ থেকে দামি ওষুধ আনালে কি তা বেশি কার্যকরী হত নাকি দেশেরটাই একই মানের? ভেজালের দেশে এমন ওষুধের মানদণ্ড নিশ্চিত হচ্ছে কী করে? দেশের হাসপাতালগুলোতে হেলাফেলা চিকিৎসায় বহু রোগী জীবন পর্যন্ত খেসারত দিয়েছেন। ডাক্তারদের চ্যালেঞ্জ করার কেউ নেই। রোগী হয়তো ‘সেকেন্ড অপিনিয়ন’ নিতে আরেক ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন, কিন্তু সেখানেও কি আছে নির্ভরতা?

ক্যানসার গবেষণা আর ডাক্তার-প্রদত্ত ট্রিটমেন্ট প্ল্যানের ‘সেকেন্ড ওপিনিয়ন’ হিসেবে বিশ্বে ভরসাযোগ্য হয়ে উঠছে ‘ওয়াটসন’ (Watson)। আইবিএম ওয়াটসন হেলথ (IBM Watson Health) ক্যানসারের সেরা চিকিৎসা পরিকল্পনাটি খুঁজে নিতে বিশ্বের চিকিৎসকদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

ভারতে ৩৭ বছরের এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নারীর স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে এবং প্রথাগত চিকিৎসায় তার উভয় স্তন অপসারণের পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়। তবে অনকোলজিস্ট ডা. সোমাশেখর এস. পি. রোগীর যাবতীয় উপাত্ত ওয়াটসন সুপার কমপিউটারে দেন। মাত্র ৬০ সেকেন্ডে ওয়াটসন শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পরিকল্পনার প্রস্তাব করে। বলাবাহুল্য, স্তন অপসারণ ছাড়াই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয়।

২০১৫ সালে ওয়াটসন সুপার কম্পিউটার আমেরিকার ১৪টি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হয় ক্যানসার গবেষণায় অবদান রাখতে। থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতাল বছর খানেকের বেশি সময় ধরে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির ওয়াটসন ব্যবহার করে আসছে। ভারতের একাধিক অনকোলজিস্ট ওয়াটসনে আগ্রহী হচ্ছেন। ওয়াটসন প্রদত্ত সিদ্ধান্ত হয়তো বেশিরভাগই ডাক্তারদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখছে, তবে ওয়াটসন অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে এবং এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। যেমন: স্টেজ টু কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীকে ডাক্তার কেমোথেরাপি দেওয়ার পরিকল্পনা নিলেও ওয়াটসন ভিন্ন পরামর্শ দেয়। শুধু তাই নয়, কেমোথেরাপি কেন সেই কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর জন্য ফলপ্রসূ নয়, তা ব্যাখ্যাও করেছিল ওয়াটসন।

গত বছর ২১টি হাসপাতালের সঙ্গে ক্যানসারবিরোধী যুদ্ধে যুক্ত হয়ে চীনে যাত্রা শুরু করে ওয়াটসন। বাংলাদেশে ক্যানসার ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করা সত্ত্বেও কেন আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থায় ওয়াটসন যুক্ত হচ্ছে না?

১৯৬৪ সালে বাংলাদেশে আইবিএমের একটি সুপার কম্পিউটার এসেছিল এবং তা নাকি অব্যবহৃত রয়ে গেছে। সেই বাংলাদেশ অবশ্য আজ ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় সামিল। সেই বাংলাদেশ আজ তথ্যপ্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প হাতে নিতে সক্ষম। তাহলে স্বাস্থ্য খাতে ক্যানসার চিকিৎসা ও গবেষণায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতেও ভালো বিনিয়োগ এখন সময়ের চাহিদা।

এশিয়াতে আইবিএম ওয়াটসনের সংযুক্তি হলে বাংলাদেশেও ওয়াটসন সংযুক্তি অসম্ভব নয়। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খোলাচোখে বিশ্বের চিকিৎসাব্যবস্থা দেখা জরুরি এবং সরকারি উদ্যোগে দ্রুতই আইবিএম ওয়াটসন টিমের কাছে প্রস্তাব পাঠানো ও আলোচনা শুরু করা জরুরি।

ক্যানসারে যে মানুষটি বেঁচে থাকার তীব্রতা নিয়ে মারা যান, তিনি এর নিত্যদিনের কষ্ট থেকে বেঁচে যান। ক্যানসারে মৃতের পরিবার ক্যানসারের কাছে নিজেদের অহসায়ত্ব নিয়ে বেঁচে থেকেও মারা যায়। ক্যানসারে সৃষ্ট এই মৃত্যুচক্র ভাঙতে সরকারকে সজাগ হতে হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ কি ক্যানসারের বিরুদ্ধে জিতবে না?

***
পূর্বে প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭, opinion.bdnews24.com