ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সৌন্দর্য সচেতন, ফ্যাশনেবল নারীরা রূপচর্চা, মেকআপের জন্য পারসোনাকে স্টাইল আইকন মানেন। বলতে গেলে পারসোনা একটি দেশিয় ব্র্যান্ড [ওয়েব সাইট]। এর কর্ণধার কানিজ আলমাস ’বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড ২০০৯’ এর পাঁচজন সেরা ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বের একজন। তিনিও বিজনেস আইকন হয়ে উঠেছেন। ছুটির দিন, ঈদ উৎসব ছাড়াও পারসোনার প্রতিটা ব্রাঞ্চে তরুণী থেকে পঞ্চাশোর্ধ নারীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায় নিত্যদিনই। এমনকি ভীনদেশি নারীরাও আসেন। ঢাকার গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, ধানমণ্ডিতে পারসোনার বড় বড় আউটলেট রয়েছে। এ বছর চট্টগ্রামেও পারসোনার ব্রাঞ্চ উদ্বোধন হয়েছে। সেই পারসোনার বনানী ব্রাঞ্চে গ্রাহক-পারসোনা কর্মচারী ও পুলিশ মিলিয়ে একটা হৈচৈ পরিবেশ টিভি সংবাদে প্রচারিত হতে দেখে আঁৎকে উঠেছে সবাই! বিশেষত নারীরা!

ফেসবুক গ্রুপ বিকল্প মিডিয়া সাংবাদিক Nuruzzaman Labu এর সৌজন্যে বিস্তারিত সংবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে অনলাইন কমিউনিটিতে। জানা যায়,

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বারডেম হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসক পারসোনার বনানী শাখায় স্পা করাতে যান। ওই ভদ্রমহিলা একটি বিশেষ কক্ষে স্পা করাতে চাইলে তাকে আলাদা একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রথমে পোশাক পরিবর্তন করে নির্ধারিত পোশাক পড়তে বলা হয়। পোশাক পরিবর্তন শেষে তিনি ওই কক্ষে একটি গোপন ক্যামেরা আবিষ্কার করেন। পরে ক্যামেরা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে পারসোনা কর্তৃপক্ষ একেক সময় একেকরকম কথা বলতে থাকেন। এর মধ্যে খবর পেয়ে নারী চিকিৎসকের স্বামী ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হন। পরে পারসোনা কর্তৃপক্ষ ও তাদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল হয়। খবর পেয়ে গুলশান থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, পুলিশ যাওয়ার আগেই পারসোনা কর্তৃপক্ষ ভিডিও ক্যামেরাটি খুলে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানায়, ওই নারী চিকিৎসকের চাপের মুখে পারসোনা কর্তৃপক্ষ গোপন ক্যামেরার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে রেকর্ডকৃত অংশটুকু নারী চিকিৎসককে দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে। রেকর্ডকৃত অংশ একটি কম্পিউটারের মাধ্যমে লোড করার সময় পারসোনার দুই পুরুষকর্মী তাদের নিজেদের পেনড্রাইভে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারী চিকিৎসকের স্বামী তাদের কাছ থেকে ভিডিওকৃত অংশটুকু নিয়ে নেয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পারসোনা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টির সমঝোতা করার চেষ্টা করছিল।

বিক্ষুব্ধ নাগরিক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়তে সময় নেয়নি। ফেসবুকের ওয়াল পারসোনার নিন্দায় ভরে গেছে। পারসোনার ফেসবুক পাতায় অনলাইন ব্যবহারকারীরা নিন্দা জ্ঞাপন ও জবাবদিহিমূলক মন্তব্য করতে শুরু করে সংবাদ প্রচারের পর থেকেই। কিন্তু সকলেই জানান, প্রত্যেকের মন্তব্য মুছে দেয়া হচ্ছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে পারসোনার ফেসবুক [https://www.facebook.com/yourpersona] পাতাটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। অর্থ্যাৎ পারসোনা কর্তৃপক্ষ ঘটনা ও ঘটনার প্রতিক্রিয়া ধামাচাপা দিয়ে তাদের ব্যবসায়িক নামডাক রক্ষায় ’ওভার নাইট’ তৎপর হয়ে উঠেছেন!

ব্লগার ও অনলাইন ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া জানা যাক এবার। সংবাদপত্রগুলোর ‍উপর বেশ খানিক অনাস্থা প্রকাশ করে আল হাসান বলেছেন,

পত্রিকায় এই খবর যদি আসে, আসলেও সেটা দায়সারা ভাবে আসতে পারে। নিজ দায়ীত্বে আমাদের উচিৎ সবাইকে সচেতন করা। যতদূর সম্ভব খবরটা ছড়িয়ে দেয়া। মক্ষিরানী কানিজ আলমাসের আসল চেহারা সবাই চিনে নিক।

M A Hossain Tonu এবং S. M. Ibrahim Lavlu ফেসবুক ওয়ালে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এভাবে,

shame on kaniz almas khan… she is doing porn business

শেম অন কানিজ আলমাস খান…শি ইস ডুইং পর্ন বিজনেস

ব্লগার কি নাম দিব বলেন,

আমি কানিজ আলমাস কে পরিমলের বউ বলসি, আমার কমেন্ট ও ডিলিট মার্সে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পর কানিজ আলমাসকে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তবে পরবর্তীতে কানিজ আলমাসের কাছ থেকে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। যেখানে তিনি ঘটনাটিকে একটি ’অনিচ্ছাকৃত’ ভুল উল্লেখ করে দু:খ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন [খবর সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম],

একজন ইলেক্ট্রিশিয়ানের ভুলের কারনে সিসি ক্যামেরাটি সামান্য ঘুরে যায় ফলে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটে ।

প্রতিষ্ঠা ও সুনামের পিঠ বাঁচাতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুল অনিচ্ছাকৃত ভুলে পরিণত হয়ে গেল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে! প্রথমে যে আতংক ছড়িয়ে ছিল, সেটিকে নিরুত্তাপ করার জন্য জানা গেল, হিডেন ক্যামেরা নয়, সিসি ক্যামেরা ছিল ওটা। কিন্তু ক্যামেরা যাই হোক না কেন, এর অবস্থান কোথায় ও ব্যবহার কি উদ্দেশ্যে হচ্ছে এখানে সেটাই মুখ্য ।

ইলেকট্রিসিয়ানের ভুলের কারণে ক্যামেরা ঘুরে যাওয়ার বক্তব্যের আগে এটা বোঝা জরুরী, বস্তুত ক্যামেরাটিই ভুল জায়গায় ছিল। যদি এ ধরণের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাজনিত কারণে সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকে তবে তা এনট্র্যান্স বা প্রবেশ পথে, রিসিপশনে, ক্যাশ কাউন্টারে থাকতে পারে। একটি বিউটি পার্লারে স্পা কক্ষে অথবা পোষাক পাল্টানোর কক্ষে বা এর আশেপাশের কোন কোণে যে কোন ধরণের ক্যামেরা বসানোর উদ্দেশ্য কোনভাবেই শুভ নয়, তা সে ক্যামেরা যে দিক ঘুরিয়েই বসানো হোক না কেন।

এরপর আসা যাক ক্যামেরা মনিটরিংয়ের বিষয়ে। ইতিমধ্যে জানা গেছে, পারসোনার পুরুষকর্মীরা তড়িৎ ভিডিও ফুটেজ পেন ড্রাইভে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তাহলে ওই পুরুষ কর্মীরা কানিজ আলমাসের সেই তথাকথিত ’অনিচ্ছকৃত ভুল’ বিষয়ে ভালভাবেই অবগত ছিলেন। প্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞ নারী ব্যবসায়ি কানিজ আলমাস এই পোষাক পরিবর্তন কক্ষে বসানো ক্যামেরা মনিটরিংয়ের জন্য পুরুষকর্মী নিয়োগ দিয়ে নিশ্চিতভাবে আরো একটি ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ করেছিলেন।

যে বিষয়গুলো জানা দরকার এখন,

  • এ ধরনের কয়টি ক্যামেরা বসানো পাওয়া গেছে পারসোনার বনানী ব্রাঞ্চে পোষাক পরিবর্তন কক্ষে বা স্পা কক্ষে?
  • যেহেতু ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্যামেরা বসানো হয়েছে, তাহলে একাধিক ক্যামেরা বসানো থাকার কথা!
  • ক্যামেরাগুলো কবে বসানো হয়েছে?
  • ক্যামেরা ঘুরে গেছে তা এতো তাড়াতাড়ি কানিজ আলমাস নিশ্চিত হলেন কিভাবে?
  • ক্যামেরা ইলেকট্রিসিয়ানের দোষেই ঘুরেছে এটাই বা কানিজ আলমাস নিশ্চিত করে বলছেন কিভাবে?
  • তাহলে কানিজ আলমাস এটাও জানাক, ক্যামেরাগুলো ঠিক কবে ও কখন থেকে কত ডিগ্রী কোণে ঘুরে গেছে?
  • যদি ক্যামেরা আজকের আগে ঘুরে গিয়ে থাকে, তাহলে তার কর্মীরা এখন পর্যন্ত কতগুলো আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ গোপনে সংগ্রহ করেছে, তাও কানিজ আলমাস আমাদের জানাতে পারেন।
  • পারসোনার অন্যান্য ব্রাঞ্চগুলোতেও কি একই ধরনের কক্ষে ক্যামেরা বসানো আছে? সেখানকার ক্যামেরাগুলো কত ডিগ্রী ঘুরে আছে, তা কানিজ আলমাসের কাছে প্রশ্ন।
  • সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত নিরাপত্তাজনিত ফুটেজগুলো যে সব কর্মীরা পর্যবেক্ষণ করে, তাদের তত্বাবধান করে কে?
  • নিরাপত্তাজনিত কারণে বসানো সিসি ক্যামেরা দিয়ে ধারণকৃত ভিডিও রেকর্ডগুলো কি পরবর্তীতে নিয়মিত/অনিয়মিতভাবে রিভিউ হতো?
  • কে রিভিউ করতো?
  • পোষাক পরিবর্তন রূমের আশেপাশে থাকা সিসি ক্যামেরায় আসলে কি ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হতো পারসোনার?
  • উত্তরগুলো সন্তোষজনক না হলে বুঝতে হবে, পারসোনা ’ইচ্ছাকৃতভাবে’ এ ধরণের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছে। তাহলে সরল প্রশ্ন- কী করা হতে পারে এইসব ভিডিও ফুটেজ দিয়ে? উত্তরটা অবশ্য ভয়াবহ। এইসব ভিডিও ফুটেজ অবধারিতভাবে পর্নগ্রাফি হিসেবে সরবরাহ হয়।

    ব্লগার কালপুরুষ ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন,

    পারসোনার সবগুলো ব্রাঞ্চ সিজ করা হোক। ক্যামেরা অন্যগুলোতেও পাওয়া যাবে।

    এমন একটি আতংকজনক সংবাদ গণমাধ্যমগুলো দ্বায়িত্বের সাথে কতদিন ফলোআপ করবে, এটা একটা প্রশ্ন! একই সাথে আইন কিভাবে পারসোনার এই অপকর্মকে বিচার করে তাও দেখার বিষয়। পুরো ঘটনাটি ’যে কোন প্রকারে ‘ ধামাচাপা পড়ে গেলে তা নিশ্চয়ই একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি হিসেবে কানিজ আলমাসের কৃতীত্বই হবে!

    ***
    [শনিবার ০১ অক্টোবর ২০১১ বিকাল ৪:৪২]

    ফলোআপ ১: পারসোনার ফেসবুক ফ্যান পেইজ পাতাটি বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে। যথারীতি বিভিন্ন জনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে এই পাতায়।

    ফলোআপ ২: ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ’ ফ্যান পেইজে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মন্তব্যের স্ক্রিণ শট দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পাতায় মন্তব্যে দেখা যায়, তারা বলছে,

    বাহ, কিছুক্ষণ আগে থেকে পারসোনা (Persona) ফান পেইজ থেকে এই পেইজ (Bangladesh) কে বান করা হয়েছে!! তাদের সততা দেখে অভিভূত হয়ে যাচ্ছি!!!

    এই ইংরেজি বক্তব্যের বাংলা অর্থ করলে বক্তব্যটি এমন –

    আমি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, যখন আপনার বনানী ব্রাঞ্চে ঘটনাটি চলছিল। সেই মহিলা স্পা ট্রিটমেন্ট নিচ্ছিলেন, ক্যামেরাটি সরাসরি তার দিকে ফোকাস করা ছিল যেমনটি তিনি বলেছেন। তিনি রিসিপশনে এ নিয়ে জানতে চান, তারা তর্ক করে, বলে, না, এটা প্রবেশ পথের দিকে ফোকাস করা। তথাপি তিনি সন্তুষ্ট হননি, তাই তিনি তার স্বামীকে ফোন করে আসতে বলেন দেখার জন্য। তিনি আসেন এবং সিসিক্যামেরা রেকর্ড চেক করে দেখেন এবং সংক্ষিপ্ত পোষোকে তার স্ত্রীর পুরো স্পা ট্রিটমেন্ট ভিডিও পান। তিনি সকল মহিলাদের এবং আমাদের সেই সিসিক্যামেরা কক্ষে আসতে বলেন ও ভিডিওটি দেখতে বলেন। কিন্তু আমরা যাবার আগেই এটা বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে আমরা কিছু দেখতে পারিনি। ম্যানেজার অথবা ইনচার্জ মহিলা জানায়, তারা গতকাল ক্যামেরা ফিক্স করেছে এবং সেই টেকনিশিয়ান এর ভুলে এটা ভুল দিকে ফোকাস হয়েছে, আসলে হওয়ার কথা ছিল প্রবেশ মুখে।

    এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো দেখা যাক –

  • সিসিক্যামেরা এনট্রান্স বা প্রবেশ মুখে দিকে থাকার কথা ছিল। স্প্যা ট্রিটমেন্ট নেয়া গ্রাহকের দিকে নয়। এই এ্যানট্রেন্স/প্রবেশ পথ কিসের? স্পা কক্ষের? নাকি পারসোনার প্রধান এ্যানট্রেন্স। প্রধান প্রবেশ মুখ হলে সমস্যা নেই কিন্তু বোঝা যাচ্ছে, এটা স্পা কক্ষের এ্যানট্রেন্স। এরকম জায়গায় সিসি ক্যামেরা ফোকাস করে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় পারসোনার? নারী গ্রাহকরা অনেক সময়ই স্পা সার্ভিস শেষ করে অন্য কোন সার্ভিস এরিয়াতে যাওয়ার সময় স্পা পোষাক পরিহিত অবস্থায় কক্ষ দিয়ে বার হন। তার মানে এই অবস্থাটি কিন্তু অবলীলায় ক্যামেরাবন্দী হয়!!!!
  • পারসোনার বনানী ব্রাঞ্চের ম্যানেজার/ইনচার্জ মহিলা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুততার সাথে ক্যামেরা টেকনিশিয়ানের উপর দোষ চাপিয়ে দিলেন! তাতে মনে হয় ক্যামেরার ফোকাস ঘুরে যাওয়ার বিষয়টা তিনি জানতেন আগেই! (অথবা ক্যামেরাটা ঘোরানোই থাকে ওভাবে!!!!!)
  • যদি, টেকনিশয়ানের ভুলের কারণে ক্যামেরা ঘুরতে থাকে, তবে তা ওই স্পা ট্রিটমেন্ট নিতে থাকা মহিলা কর্তৃক ক্যামেরা দেখার আগেই হয়েছে। তাহলে, অভিযোগ জানানোর আগেই কেন সিসি ক্যমেরা পর্যবেক্ষণকারী কর্মচারীরা এ ব্যাপারে রিপোর্ট করেনি?
  • ব্রাঞ্চের ম্যানেজার/ইনচার্জ মহিলা উপস্থিতভাবে টেকনিশিয়ানের উপর দায় চাপিয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, পরবর্তীতে কানিজ আলমাসও সেই একই ব্যাখ্যা মুখস্ত বুলির মত বলে গেছেন!
  • একটা বিশেষ প্রশ্ন –

  • যে দুই পুরুষকর্মী পেন ড্রা্ইভে করে ভিডিও ফুটেজ সরিয়ে নিচ্ছিল তাদের নাম প্রকাশ অত্যন্ত জরুরী। গণমাধ্যমগুলোতে এদের নাম অপ্রকাশিত কেন?
  • ***
    [শনিবার ০১ অক্টোবর ২০১১ রাত ১১:২৩]

    ফলোআপ ৩: পারসোনার ফেসবুক পাতায় দু:খ প্রকাশ করে কিছু ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

    Dear fans and valued clients,

    Recently, we have been getting reports implicating us in an incident involving “Hidden Cameras” in our premises. We want to assure you that all the cameras present at Persona Hair and Beauty Ltd. are CCTV cameras with proper signposting for each of them, and NOT “hidden cameras”. There are absolutely no cameras present in any changing room. The CCTV cameras are placed on “customer requests” to ensure security against thieves for customer’s materials/valuables.

    There have been incidents of theft earlier and under client pressure we monitor important public places of the Parlor with CCTV cameras to ensure safety of valuables our clients bring along. All the camera feeds are monitored by Female security experts. This is also being done in all other good parlors, restaurants, clothing stores and even in hospitals.

    We have always stood beside our clients and will continue to do so as long as we are here. We appreciate your support – always.

    Thank you

    বক্তব্যের বিপরীতে যে কথাগুলো চলে আসে তা হচ্ছে –

  • হিডেনক্যামেরা হোক আর সিসি ক্যামেরা হোক , মূল কথা হলো ক্যামেরা ছিল!
  • ক্যামেরা ছিল এমন জায়গায় যেখানে কোন যুক্তিতেই ক্যামেরা থাকার কথা না!
  • নিরাপত্তার জন্যই যদি ক্যামেরা ছিল তবে ওই অংশে ক্যামেরা বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষনী নোটিশবোর্ড কেন রাখা হয়নি? যেমনটা ৬৭ নম্বর মন্তব্যে অবাক বলেছেন,

    যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি ক্যামেরা থাকলে, কাস্টমারদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার করে লিখে দিতে হয় “this place is under surveillance”। …

  • গ্রাহকদের ব্যক্তিগত/মূল্যবান জিনিসপত্রের (যেমন, ব্যাগ, গহনা ইত্যাদির) নিরাপত্তার জন্য কক্ষের প্রবেশ মুখে ক্যামেরা ফোকাস করতে হবে কেন? জিনিসপত্র তো গ্রাহকেরা স্পা বিছানার নীচে রেখে থাকেন অথবা নিজের পাশে রাখেন। এমতাবস্থায়, ক্যামেরা দিয়ে জিনিসপত্রের নিরাপত্তা মনিটর করা হচ্ছে মানে তো সরাসরি গ্রাহকের দিকেই ক্যামেরা ফোকাস হয়েছে মূলত!
  • যদি জিনিসপত্রের নিরাপত্তা মনিটরিং করার জন্যই ক্যামেরা বসানো হয় এবং কক্ষের প্রবেশ মুখের দিকেই ক্যামেরা ঘুরিয়ে রাখা হয়, তাহলে তো পুরো বিষয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়মিত লংঘিত হয়েছে। কারণ, স্পা ট্রিটমেন্ট শেষ করার পর অন্য কোন সার্ভিস নেয়ার জন্য পরের সার্ভিস এরিয়াতে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে, কেউ কেউ স্পা পোষাক পরেই কক্ষ থেকে বার হন অন্য সার্ভিস অংশে যেতে। ক্যামেরা প্রবেশ মুখে তাক করে রাখা মানে গ্রাহক কিন্তু সেই পোষাকে দিব্যি ক্যামেরা বন্দি হচ্ছেন!
  • জিনিসপত্রের চুরি ঠেকানে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পা কক্ষে ক্যামেরা বসানোর বদলে বাইরে আলাদাএকটা লকার ব্যবস্থার চিন্তা করা শোভনীয় ছিল নাকি?
  • যে পুরুষ কর্মীরা ভিডিও ক্লিপ পেন ড্রাইভে সরিয়ে ফেলছিল, তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে?
  • ***
    [রবিবার ০২ অক্টোবর ২০১১ সকাল ১১:১৩]

    ফলোআপ ৪: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম -এ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পারসোনার বক্তব্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরেনাম ‘ক্যামেরা সরাবে না পারসোনা’ [, ], যা মূলত পারসোনা কর্তৃপক্ষ হিসেবে কানিজ আলমাসের বক্তব্যের প্রতিফলন। এ ধরণের বক্তব্যকে ব্লগার একরামুল হক শামীম ’দম্ভোক্তি’ বলে সম্বোধন করেছেন।

    পারসোনা বলছে, নিরাপত্তার কারণে ক্যামেরা সরানো হবে না। মহিলা গ্রাহকের স্পা ভিডিও প্রসঙ্গে কানিজ আলমাস বলেন,

    আমাদের কর্মকর্তাদের সামনেই তিনি ভিডিওটি দেখেছেন। সেখানে তার শুধুমাত্র গলা পর্যন্ত দেখা যায়। সিসি ক্যামেরাটিতে শুধুমাত্র রুমের দরজাটি কাভার করার হয়েছে। সেখানে আপত্তিকর কিছু ভিডিও করার সুযোগ নেই।

    পারসোনার সহকারী ব্যবস্থাপক ফারহানা বলেছেন,

    কিছুদিন আগে পারসোনার এই শাখাটি থেকে চুরি হয়। এরপর থেকেই নিরাপত্তার খাতিরে এসব কক্ষে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

    এবার পারসোনার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করা যাক-

  • পারসোনা তাদের ফেসবুক পাতায় জানিয়েছিল, গ্রাহকদের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে। এখন তারা বলতে পারসোনা বনানী ব্রাঞ্চে চুরি হওয়ায় তারা সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে। দ্বিতীয় বক্তব্যে ধরে নেয়া যায়, এটা পারসোনর মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হওয়ার ঘটনা। তবে দুই পরিস্থিতিতে পারসোনার রিসিপশন, পারসোনার সদর দরজা ক্যামেরার আওতায় রাখা যেতে পারে। স্পা সার্ভিস করিডোর, স্পা কক্ষের দরজা বা স্পা কক্ষের আশেপাশে/ভেতরে ক্যামেরা বসানো পারসোনা কর্তৃপক্ষের অবশ্যই আপত্তিকর আচরণ।
  • ক্যামেরা যদি স্পা সার্ভিস করিডোর, স্পা কক্ষের দরজা, এটুকুও কাভার করে, তবে সেটাও গ্রাহকের প্রাইভেসি লংঘনের সামিল। কারণ গ্রাহকেরা স্পা পোষাক পড়ে এক সার্ভিস এরিয়া থেকে অন্য সার্ভিস এরিয়াতে যায়। তারমানে পুরো অংশটি ভিডিও হচ্ছে এবং পারসোনার সিসিক্যামেরা মনিটরকারিরা তা দেখছে!
  • স্পা কক্ষের অনেক দরজায় বেশ স্বচ্ছ/অর্ধস্বচ্ছ পর্দা দেয়া থাকে। গ্রাহকেরা কক্ষে পোষাক পরিবর্তন করলে, স্পা বেডে থাকলে সেটা দরজার দিকে ফোকাস করে রাখা ক্যামেরায় ঠিকই ধরা পড়বে।
  • যে গ্রাহকের স্পা ভিডিও তার স্বামী দেখেছেন এবং উপস্থিত অনেকেই দেখেছেন ও প্রাইভেসি লংঘন ও আপত্তিকর বলে মানছেন, তা কানিজ আলমাসের কাছে তেমন গুরুত্বই পাচ্ছে না! উপরন্তু তিনি বলছেন, ভিডিওতে আপত্তিকর কিছু নেই, কেবল গলা পর্যন্ত দেখা যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, ভিডিওতে গ্রাহকের গলা পর্যন্তই বা কেন দেখা যাবে? এবং এভাবে গ্রাহকের স্পা সেবা নেয়াকালীন ক্যামেরার আওতায় আনা রীতিমত আপত্তিকর আচরণ ও গর্হিত অপরাধ।
  • এমনকি পুলিশও জানিয়েছে, ক্যামেরার যে অবস্থান তা দিয়ে পুরো কক্ষ কাভার করা সম্ভব। পুলিশ এও বলছে, এ ধরণের জায়গায় ক্যামেরা বসানো ‍উচিৎ হয়নি। কিন্তু এই অনুচিৎ, আপত্তিকর আচরণটি স্বীকার করছেন না পারসোন কর্ণধার কানিজ আলমাস!
  • যে দুই পুরুষকর্মী ভিডিও ফুটেজ সরিয়ে নিচ্ছিল, তাদের ব্যাপারে পারসোনা কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি!
  • পারসোনা কর্তৃপক্ষ কিংবা কানিজ আলমাস ভাঙ্গা রেকর্ডের মত এক কথাই বলে যাচ্ছেন। এটা গোপন ক্যামেরা নয়, এটা সিসি ক্যামেরা। সিসি ক্যামেরা হলেই যে পুরো ঘটনা গ্রহণযোগ্য হয় না, সেটা উনারা না বোঝার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেই যাচ্ছেন। তাই আবারো কিছু প্রশ্ন –

  • পারসোনায় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত জিনিস রাখার জন্য লকার করা হয়নি কেন?
  • সিসি ক্যামেরা আছে, এমন জায়গাগুলোতে সতর্ক নোটিশ রাখা হয়নি কেন?
  • ***
    [রবিবার ০২ অক্টোবর ২০১১ দুপুর ১২:৩৩]

    ফলোআপ ৫: পারসোনার বনানী ব্রাঞ্চে স্পা কক্ষে পাওয়া ক্যামেরা নিয়ে মাছরাঙা চ্যানেলে প্রচারিত সেই প্রতিবেদনটির ইউটিউব ভিডিও দেয়া হলো। ক্যামেরা নিয়ে স্পা গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া রয়েছে প্রতিবেদনটিতে। ক্যামেরা ভিডিও মনিটরকারী কর্মীদেরও দেখা যাবে প্রতিবেদনটিতে।

    গ্রাহকের প্রশ্ন,

    সিসি ক্যামেরা অবশ্যই সিকিউরিটির জন্য। কিন্তু কিসের সিকিউরিটি? ওখানে তো আমি আমাকে দেখতে পাচ্ছি!

    *** *** ***
    পরবর্তী পোস্ট: কানিজ আলমাস, ক্যামেরা কিন্তু সরাতেই হবে!