ক্যাটেগরিঃ অডিও

সগীরের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা তাকে দমাতে পারেনি, বরং উদ্যোম বাড়িয়ে দিয়েছে। ঢাবি’তে পড়ালেখা করা সগীর নিজের প্রতিবন্ধিতা জয় করার পাশাপাশি কাজ করছে সব ধরনের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে। সগীরের সাথে কথা বলে বোঝা গেল, সমস্যার শেকড় তার দেখা হয়েছে কাছ থেকে। তাই সমস্যা থেকে উত্তরণের চেষ্টা জারি আছে। সগীরের কথার যে বিশেষ অংশগুলো কানে নাড়া দিচ্ছিল -

১. একজন প্রতিবন্ধীর পরিবারকে জানতে হবে তার কিভাবে তার জীবনকে সহজ করে তোলা যায়
২. প্রতিবন্ধীদের সামাজিক যোগাযোগ, আচার-অনুষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা অনুচিত
৩. প্রতিবন্ধীকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা উচিৎ
৪. এডিবি’র পক্ষ থেকে ক্যাম্পেইন হয়েছিল, ঢাবি’র ভবনগুলো প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে
৫. ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব ক্যাম্পাস করতে বলছে, কিন্তু ইউজিসি’র ভবনে বিশাল বড় সিঁড়ি
৬. আগে অনেক স্কুলে প্রতিবন্ধী শিশুদের ভর্তি নিতে চাইতো না। সগীরের বেলাতেও তাই হয়েছিল। তবে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সরকারের সময় বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবন্ধী ভর্তি উৎসাহিত করা হয়েছে। সরকার ঘোষনা দিয়েছে, যে প্রতিবন্ধী বাচ্চা সাধারণ বাচ্চাদের সাথে পড়তে পারে, তাকে সেভাবেই ভর্তি করতে হবে
৭. প্রতিবন্ধীদের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের তত্ত্বাবধানে রেখে ‘কল্যাণ’ করা হবে কেন? প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক ’অধিকার‘ থাকতে হবে। যেমন, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষা মন্ত্রনালয় দেখবে।
৮. সুনির্দিষ্ট কোন সরকারি তথ্য নেই প্রতিবন্ধীদের নিয়ে
৯. দৃষ্টি প্রতিবন্ধীও বিশেষ সুবিধায়(সফটওয়্যার সহায়তা) কমপিউটার ব্যবহার করতে পারে
১০. বিসিএসে প্রতিবন্ধীদের সুযোগ রাখা হোক
১১. প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজে বিশেষত উচ্চ পর্যায়ে প্রতিবন্ধী প্রতিনিধি পাওয়া যায় না। ফলে মূল সমস্যা অনুধাবনে ব্যর্থ নীতিনির্ধারণী প্রস্তাবনাগুলো হাস্যকর হয়ে ওঠে
১২. সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ের এক সচিব একবার অভিমত প্রকাশ করেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার কী?
১৩. সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ে গেলে কর্মকর্তাদের কাছে পাত্তা পাওয়া যায় না। শারীরিক প্রতিবন্ধী সগীরকে প্রথমে ঢুকতে দেয়নি দাড়োয়ান, পা দিয়ে আটকানো হয়, তুই-তোকারি করা হয়, ভিক্ষুক মনে করা হয়
১৪. অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে, এটা আশংকাজনক

সগীরের সাথে কথা হচ্ছিল ছবির হাটে। তারিখ: শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০১১


৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. সগীর হোসাইন খান বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ।

    সুন্দর করে সঠিক বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন। আশা করি এতে করে মানুষের মাঝে কিছুটা হলেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

    একটি বিষয় আপনাকে সেইদিন বলা হয় নি। বললে আপনি আপনার লিকাটাকে আরো বেশী সুন্দর করতে পারতেন।

    “প্রতিবন্ধি কল্যাণ আইন ২০০১” কে পরিবর্তন করে “প্রতিবন্ধী অধিকার আইন” করা হচ্ছে যা এখনো খসরা আকারে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের যখন ডাকা হল এর উপর মন্তব্য করতে তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে সেখানে উপস্থিত থেেক বেশ কিছু গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় তুলে ধরি।
    আমি মোট সাতটি বিষয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। তার মধ্যে একটি ছিল ঈশারা ভাষা ও ঈশারা ভাষীদের সংজ্ঞা নিয়ে।
    তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী
    ঈশারা ভাষা: ঈশারা ভাষার মানুষ যে ভাষায় কথা বলে।
    ঈশারা ভাষী: যারা ঈশারা ভাষায় কথা বলে।

    ব্যপারটা হয়েছে – তুমি কে? সোহেলের ভাই। সেহেল কে? আমার ভাই।

    প্রথম কথা হল ঈশারা ভাষার মানুষ যে ঈশারা করে তাই ঈশারা ভাষা হয়ে যায় না। কতগুলো ঈশারাকে ঈশারা ভাষা হয়ে উঠতে হলে সেগুলোকে অনেকগুলো শর্ত মানতে হয়। মূল মৌখিক ভাষার ব্যাকরণ অনুসরণ করতে হয়। এরকম আরো অনেক শর্ত মানার পর সরকারী ভাবে যখন একটি একক ঈশারা ভাষার প্রচলন করা হবে তখন তা ঈশারা ভাষা হবে। বাংলাদেশে প্রতিটি বধীর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা ঈশারা রয়েছে যেগুলো দিয়ে তারা নিজেদের মনের ভাব ঠিকই প্রকাশ করতে পারছে। কিন্তু এক বিদ্যাষয়ের শিক্ষার্থী আরেক বিদ্যালয়ে গেলে কেউ কাউকে মনের ভাব বোঝাতে পারবে না। তাই সেগুলো কোন ভাবেই ঈশারা ভাষা নয়।

    এভাবে সংজ্ঞায়িত করলে কোন ভাবেই ঈশারা আর ঈশারা ভাষীদের চিহ্ণিত করা যাবে না।

    এমন ভুলগুলো আমাদের দেশের উচ্চা পর্যায় থেকে হয় বলেই প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন হচ্ছে না। আর তারা এমন ভুল করে কারন তাদের মধ্যে প্রতিন্ধীতা, বিশেষ শিক্ষা, একীভূত শিক্ষা ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান রাখে এমন লোক নেই। আমরা এর সমাধান চাই। আমরা কল্যাণ নয়, অধিকার চাই।

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...