ব্যাংকার টু দি পুউর, ফাদার অফ মাইক্রো ক্রেডিটঃ মাইক্রো প্রতিক্রিয়া অফ দি পুউর ম্যাঙ্গো-জনগণ

ডঃ ইউনূসকে নিয়ে টুইটারের সাম্প্রতিক ’টপ টুইট’টি হলো, ‘ইউ আর ফায়ারড! নো! অ্যাম নট!’। দি ইকোনোমিস্ট ব্লগ পাতার এশিয়া ভিউতে ২রা মার্চে প্রকাশিত পোস্টের লিংকসহকারে এই শিরোনামের টুইটটি ইতোমধ্যে ১৭ জনেরও বেশি সংখ্যকবার টুইটার ব্যবহারকারীদের দ্বারা রি-টুইট করা হয়েছে। চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই রি-টুইটকারীদের অন্তত ইউজার নাম দেখে অধিকাংশকেই বাংলাদেশি ঠাওরানো দুস্কর হয়ে পড়ছে। ইংরেজি ছাড়াও অন্য বিদেশি ভাষাতেও একের পর এক টুইট আসছে। টুইটগুলো যে ডঃ ইউনূস সংক্রান্ত তা সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে #yunus এবং #Yunus ট্যাগের কারণে। অভ্যন্তরীণ ঘটনায় বাংলাদেশিদের অবস্থান কী তা যাচাইয়ে কালক্ষেপন না করে বহির্বিশ্বের অসংখ্য টুইটার ব্যবহারকারী বিগত ঘণ্টাগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে ডঃ ইউনূসকে অপসারণের সিদ্ধান্তে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।

নোবেল সন্মাননা হাতে ডঃ ইউনূস
আওয়ামী লীগ এবং ডঃ ইউনূসের মধ্যে ঠাণ্ডা সম্পর্ক বহুদিন ধরেই অনুভূত হলেও হালে সরকার অনেকটা স্বঘোষিতভাবেই এই নোবেল বিজয়ীর প্রতিপক্ষের জায়গায় নিজেদের বসিয়েছে। গত ৩০শে নভেম্বর ২০১০ –এ ডেনমার্কের পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক টম হেইনমান নির্মিত “ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদ” প্রামাণ্যচিত্রটি নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনআরকে –তে প্রচারিত হওয়ার পর এবং পত্রপত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন,
‘দারিদ্র্য বিমোচনের নামে ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে দরিদ্র মানুষের রক্ত চুষে খান তিনি (ইউনূস)। এ ঋণ নিয়ে কেউ দরিদ্রতা থেকে সর্বাত্মক মুক্তি পায়নি। গরিব মানুষের রক্ত চুষে বেশি দিন টেকা যায় না, সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।’

দারিদ্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার কথা নিয়ে ডঃইউনূসের বই
এটি সত্য যে, চুরি প্রমাণিত হওয়ার পূর্বে আইন যেমন কাউকে চোর সম্বোধনের অনুমতি দেয় না, তেমনি একজন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর আগাম সিদ্ধান্তমূলক মতামত একজন সরকার প্রধানের ’শাব্দিক প্রকোটল’ –এর মধ্যে পড়ে না। কারণ একজন সরকার প্রধানের মুখ থেকে এ ধরনের বক্তব্য সুষ্পষ্টভবাবে সরকারি অবস্থান এবং মনোভাবকে নির্দেশ করে। আর তাই যতই বলা হোক না কেন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে ডঃ ইউনূসকে অব্যাহতি প্রদাশের লিখিত নির্দেশ এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে, দেশি-বিদেশি প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকারিরা এটাকে সরকারি সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।
ডঃ ইউনূসকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি আর দশটা বৃহৎ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদের অব্যাহতির মত সাধারণ ’ব্যাংকিং সেক্টর সংবাদ’ হয়ে থাকেনি একদমই। ‘ ড. ইউনুস বিষয়ে আমি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি ‘ শিরোনামের একটি ফেসবুক নোটে মাহবুব মোর্শেদ লিখেছেন,
“গুরুত্বের দিক থিকা একটা ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করা হইছে এই খবর সামান্য। এমডি পদে যিনি বইসা রইছেন তিনি ড. ইউনুস বা মো. জব্বার সেইটা বিষয় না। কিন্তু সরকারের, অর্থমন্ত্রণালয়ের এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎপরতা শুরু হওনের পর ড. ইউনুস এবং তার সমর্থক আন্তর্জাতিক মিডিয়া তিলরে তাল বানায়ে ফেলছে।”
বস্তুতই দেথা গেছে সংবাদ প্রতিক্রিয়ায় সুস্পষ্টভাবে পক্ষ-বিপক্ষ তৈরী হয়েছে- সরকার পক্ষ এবং ডঃ ইউনূস পক্ষ। ইউনূস পক্ষাবলম্বনকারীরা সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রকাশ মতামত ব্যক্ত করেছেন। কেউ বলছেন এই ঘটনা ডঃ ইউনূসের প্রতি আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসাপরায়নতা। প্রধান বিরোধী দল, বিএনপি, অভিযোগ করেছে ডঃ ইউনূস সরকারের প্রতিহিংসার শিকার। বিএনপি’র এই বক্তব্যে ব্লগাররা একমত কিনা জানতে সামহোয়্যার ইন ব্লগে ব্লগার মহাসচিব বিশ্ব ব্লগ সংস্থা একটি জরিপ পোস্ট করেছেন। ‘হ্যা, না এবং মন্তব্য নেই’ মতামত পদ্ধতির জরিপের ফলাফল অবশ্য চমকপ্রদ। ৮ জন ব্লগার ’হ্যা’ বলেছেন এবং ৩১ জন ব্লগার ’না’ বলেছেন।
যারা এই ঘটনায় সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা খুঁজে পান, তারা কারণ হিসেবে বলছেন, ডঃ ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তিতে আওয়ামী লীগ নাখোশ ছিল। কেউ বলছেন, ডঃ ইউনূসের রাজনৈতিক দল গঠন প্রক্রিয়ায় সরকার ভীত হয়ে উঠেছিল। ২০০৭ সালে, সেসময় সদ্য নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনূস নাটকীয়ভাবে দেশের নাগরিকদের কাছে খোলা চিঠির মাধ্যমে (চিঠি ১, চিঠি ২) রাজনীতিতে পদার্পনের আভাস দেন। এবং ’নাগরিক শক্তি’ নামে একটি দল গঠনের কথাও জানানো হয় পরবর্তীতে। তাঁর রাজনৈতিক দল গঠন ঘোষনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩-তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে ডঃ ইউনূসের উপস্থিতি নিয়ে তুমুল বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। রাজনৈতিক দল করতে যাচ্ছেন এমন কোন ব্যক্তিকে সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে অন্তর্ভূক্তিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন এক বৈঠকে উপস্থিত ১৯৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫ জন ছাড়া সবাই। যদিও পরবর্তিতে ডঃ ইউনূসের রাজনীতিতে আসার ঘোষনায় রদ হয় এবং ডঃ ইউনূস রাজনীতির মঞ্চে অবতরণের পূর্বেই স্বঘোষিত বিদায় নেন। সেক্ষেত্রে বর্তমানে একজন অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কি করে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারেন?
যারা সরকারের পক্ষে বলছেন তাদের কেউ কেউ বলছেন আইন সবার জন্য সমান, তাই ডঃ ইউনূস –ই বা আইনের আওতা থেকে বাদ যাবেন কেন? ডঃ ইউনূসের সাথে আইন প্রসংগটি বারবার উত্থিত হয়, কারণ প্রথমত তাঁর নামে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ডঃ ইউনূস সম্পর্কিত এবারের অভিযোগ হলো বয়সোর্ত্তীণ হলেও তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বহাল আছে বিগত কয়েক বছর ধরে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক অবৈধ বলে চিহ্নিত করেছে। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান (দৈনিক প্রথম আলো, ৪ঠা মার্চ ২০১১),
‘১৯৯৯ সালের পরই অধ্যাপক ইউনূসের ৬০ বছর বয়স হয়ে যায়। তখনই তাঁর অবসর নেওয়ার কথা। বাংলাদেশ ব্যাংক অনেকবারই এটা বলেছে। কিন্তু এই বিষয়টির কোনো জবাবই দেয়নি গ্রামীণ ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক তার আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে।’
ডঃ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতির সংবাদে প্রতিক্রিয়া প্রকাশে সরকারকে তুলোধুনো করে বাংলা ব্লগে অসংখ্য মন্তব্য এসেছে। বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকারীরা মনে করেন এমডি পদ থেকে আচমকা অব্যাহতির সিদ্ধান্ত একজন নোবেল বিজয়ীর প্রতি সন্মানহানির সামিল। মাহবুব মোর্শেদ তার নোটের একটি অংশে এরকম ধুম্রজালে আবদ্ধ ধারনাকে ভাঙতে বলেছেন,
”এমন তো না যে, উনি যদি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি না থাকেন তাইলে কেউ তারে পাত্তা দিবো না। ওনার ক্রেডিবিলিটি ও পারসোনালিটি হারায়ে যাবে। তার চাইতে বড় কথা, এত বড় প্রতিষ্ঠান উনি গড়ছেন, এত সমৃদ্ধি পাইছেন, এত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাইছেন- তারপরও কী কারণে ওনার এমডি পদ দখলে রাখা জরুরি হয়া পড়লো?”

ডঃ ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তির সন্মানে প্রকাশিত ডাকটিকেট
ডঃ ইউনূসের প্রতি সমর্থন জানাতে বাংলাদেশি জনগণ, প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অগ্রগামী ভূমিকা রাখছে বিদেশী রাষ্ট্রগুলো। ’ফাদার অফ মাইক্রো ক্রেডিট’ এর অভিনব আইডিয়াকে কাজে লাগানোয় আমেরিকা সহ অসংখ্য দেশ কাজ করছে। আর সেই ব্যবসায়িক স্বার্থেই আমাদের দেশের নোবেল বিজয়ীকে প্রকৃত সন্মান দেয়ার সকল দায় মাথায় তুলে নিয়েছে দাতা গোষ্ঠিরা, বিশেষত ডঃ ইউনূস প্রেমী মার্কিন মুল্লুক। আমাদের ঘরোয়া ব্যাপারে বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর নাক গলানো নতুন কিছু নয়। তাদের ইতিবাচক-নেতিবাচক ইশারাতেই সরকারকে অসংখ্যবার আভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারনি বিষয়ে তাঁবেদারি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। হোক সে জ্বালানি তেলের মুল্য বৃদ্ধি অথবা বিদ্যুতের ইউনিট খরচ বাড়ানো। ডঃ ইউনূসকে নিয়ে এই অবধারিত বিদেশী কূটনৈতিক চাপকে শেখ হাসিনার সরকার কিভাবে মোকাবেলা করতে ইচ্ছুক সেটি এখন অনেকেরই কৌতূহল। কারো কারো মতে সরকার বোকামি করছে এবং এর প্রভাব পড়বে আগামীর নির্বাচনে। বিপরীতে কেউ কেউ বলছেন, এটি সরকারের একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। ডঃ ইউনূসকে নিয়ে বিদেশী দাতাগোষ্ঠির চাপের মুখে সরকার তাদের অনমনোনীয় অবস্থানে কিভাবে ঠিকে থাকে তাও দেখার বিষয়।

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে ডঃ ইউনূস
অপরদিকে ডঃ ইউনূস, যিনি সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে হঠকারি বলে মনে করছেন, তাঁর এমডি পদ বহাল রাখতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি গ্রামীণ ব্যাংককে কোন ‘ধাক্কা না দেওয়ার’ আবেদন জানিয়েছেন সরকারের প্রতি। এই আবেদনকে কেউ মনে করছেন, সরকারের প্রতি হুমকি। আসলেই কি তাই? নাকি ডঃ ইউনূসকে দ্বায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ভিত নাড়িয়ে দেয়ার পরিস্থিতিই উঠে এসেছে ডঃ ইউনূসের বক্তব্যে?
সাধারণ জনগণের একটাই প্রত্যাশা- সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ডঃ ইউনূসের মধ্যে বিরাজমান এই টানাপোড়নের সন্মানজনক, আইন সম্মত এবং বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রভাববিহীন আশু সমাধান। আমাদের ঘরের মানুষকে আমরা কিভাবে মূল্যায়ন করবো, তার স্বর্বসত্ব অবশ্যই আমাদের কর্তৃকই সংরক্ষিত থাকবে। নোবেল বিজয়ীকে সন্মান জানাতে দ্বিধা করেনি এ জাতি। সেই সন্মানকে ব্যক্তিগত গরিমা দিয়ে নয়, বরং আন্তরিকভাবে, স্বচ্ছ দ্বায়িত্ববোধের সাথে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার দ্বায়িত্ব যেমন সরকারের, তেমনি ডঃ ইউনূসেরও। তাই কিছু প্রশ্ন তোলাটা জরুরী হয়ে পড়ে, (১) ডঃ ইউনূস যে জোবরা গ্রামের উদাহরণ দিতে দিতে ফেনা তুলে ফেলেন সেই জোবরা গ্রামের ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা সোফিয়া’র দারিদ্র বিমোচনের ব্যর্থতার দায়ভার কার? সোফিয়ার অর্থনৈতিক পরিকল্পনাহীনতার? না গ্রামীণ ব্যাংকের বিতর্কিত ঋণশোধ ব্যবস্থাপনার? [প্রতিক্রিয়াঃ ১, ২](২) ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসায়িক আইডিয়াকে লুফে নিয়েছে দেশি-বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু জোবরা গ্রামের পর বাংলাদেশের মত একটি ক্ষুদ্র ব-দ্বীপের আর কোন গ্রাম ক্ষুদ্রঋণের সাফল্যের মডেল হিসেবে উঠে দাঁড়ালো না কেন? (৩) নোবেল প্রাপ্তির পর ডঃ ইউনূস আগামী তার আইডিয়া দিয়ে আগামী ‘এত’ বছরের মধ্যে দেশকে সম্মৃদ্ধ করে দেয়ার বানী দিয়েছিলেন। সেই ’এত’ বছরের মধ্যে ’কত’ বছর পার হয়েছে এবং তাঁর আইডিয়াতে এই দেশের গ্রামগুলো কতটুকু সম্মৃদ্ধ হয়েছে তার কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায় কি? (৪) ক্ষুদ্রঋণ আইডিয়ার প্রধান ক্রেতা এখন বিদেশী রাষ্ট্রগুলো। ব্যবসায়িক এবং ব্যক্তিগত পরিচিতির এই লাভের গুড় কার ঝোলায় যাচ্ছে? আমাদের গ্রামগুলোর দ্ররিদ্র মানুষের? ডঃ ইউনূসের? গ্রামীণ ব্যাংকের? (৫) ’ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প’ একটি অসামান্য আইডিয়া, তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকে একে যেভাবে পরিচালনা করা হয়, তাতে সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য অভিযোগের। হয়রাণির শিকার হচ্ছে গা্মাঞ্চলের অসংখ্য দরিদ্র ঋণগ্রহীতা। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি আইডিয়া’র ’ইমপ্লিমেন্টেশন‘ পরবর্তী ’মেইনটেনেন্স’ যেভাবে হচ্ছে সে ব্যাপারে ডঃ ইউনূসের এবং তাঁকে নিরঙ্কুশভাবে সমর্থনদানিকারি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের অভিমত কী?

গ্রামীন ব্যাংকের প্রথম ঋণগ্রহীতা সুফিয়া খাতুনের ঘর
ডঃ ইউনূস নোবেল বিজয়ী বলেই প্রত্যাশা বেশি। ডঃ ইউনূস আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব বলেই তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশা বেশি। আর আমাদের মনে রাখতে হবে এই দুই প্রাপ্তির মর্যাদা ডঃ ইউনূসকে আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরের কেউ করে তোলেনা।
————————————————————————————————
ছবি সূত্রঃ [১ , ২, ৩, ৪, ৫, ৬]
আইরিন সুলতানা
ব্লগে যোগদান করেছেন:
সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১০

আগে জানতাম বিডিনিউজ সরকারের দালালির দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে, আর এখন দেখি সাধারণ জনগণের নাম ভাঙ্গিয়ে বিডিনিউজ ব্লগ একই কাজে মাঠে নেমেছে।
মাইক্রো প্রতিক্রিয়াগুলো আপনার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়?
সম্ভবত আপনি বলতে চাইবেন ড. ইউনূসকে অসন্মান করা হচ্ছে। কিন্তু উনি এতোটাই সন্মানিত যে কিছু প্রশ্ন দিয়ে উনাকে অসম্মানিত করা যাবে না। তবে মাইক্রো প্রতিক্রিয়ার এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গেলে দরিদ্র জনগণ আশা-প্রত্যাশার যথাযথ মূল্যায়নকে হেয় করা হবে নিশ্চয়ই। আপনি নিশ্চয়ই তা চান না।
হাসান সাহেব,ভাল কাজকে আপনারা কখনো পছন্দ করেন না।
গরীব মানুষ ঋন শোধ করতে ঘরের টিন বেচলে আপনার কি? আপনার তো কিছু আসে-যায় না।
যাদের আসে-যায় তাদের তো সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে হবে।
বিষয়টা যখন ‘সত্য’কে ঘিরে, তখন সত্য দুই পক্ষ থেকেই উপস্থাপিত হতে হবে। ওটাই সমাধান।
এই সেরেছে!
এই পোস্টে রাষ্ট্রপ্রধানের নজর পড়েছে!
সব কিছুর উপরে উনি শোষনের পিতা। সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমা ও দৈত্য দাতা সংস্থাদের মানসপুত্র। উনাদের কারনে সেচ্ছাসেবা ও উন্নয়নের বাংলাধারা গতি পথ হারিয়েছে।
কাউকে মহানায়ক বানানোর প্রয়োজন নেই, তেমনি প্রয়োজন নেই ভিলেন বানানোর। যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু সন্মান অবশ্যই হোক এবং যেখানে যতটুকু স্বচ্ছতা প্রয়োজন, যতটুকু তদন্ত প্রয়োজন ততটুকু করা হোক।
Pingback: Bangladesh: Netizens Protest Nobel Laureate Muhammad Yunus’s Removal From Bank · Global Voices
Pingback: Bangladesh: Netizens Protest Nobel Laureate Muhammad Yunus’s Removal From Bank | Daringsearch
Pingback: Bangladesh: Netizens Protest Removal of Nobel Laureate Muhammad Yunus From Bank | Daringsearch
Pingback: Bangladesh: Netizens Protest Removal of Nobel Laureate Muhammad Yunus From Bank @ Current Affairs
Pingback: Bangladesh: Netizens Protest Removal of Nobel Laureate Muhammad Yunus From Bank :: Elites TV
আপনি কি হাসিনাকে খুশী করার জন্য এই ব্লগটা ব্যবহার করতে চাইছেন আইরিন? কোন লাভ হবে না সিস্টার। বাংলাদেশের ৮০% মানুষ ড: ইউনূছের পক্ষে। আর একবার চিন্তা করে দেখুন আপনি কি করতে চাইছেন!
লিয়াকত, আমি যদি এখন বলি আপনার এই মন্তব্যটিও বিশেষ কাউকে খুশি করার জন্য , তাহলে কেমন হবে? তবে আমি আপনার মত দৃষ্টিভঙ্গিতে আগ্রহী নই। আপনার মন্তব্য পড়ে যা যা ধারনা করা যায়,
- আপনি পোস্টটি ঠিকমত পড়ে দেখেন নি।
- অথবা আপনার হিসেবে ডঃ ইউনূস ধরাছোঁয়ার বাইরের ব্যক্তি। নোবেল প্রাপ্তি তাকে কম্পিউটার গেমগুলোতে থাকা ইম্যিউন পাওয়ার দিয়ে দিয়েছে!
- ব্লগ সম্পর্কে আপনার বিশেষ ধারনা নেই।
পোস্ট পড়লে সরকারের সমালোচনাও আপনার চোখে পড়ত।
পোস্ট পড়লে আপনার চোখে পড়ত, এখানে বিভিন্ন ব্লগ/সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট থেকে বিভিন্ন ব্লগারদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। ব্লগাররা তো ব্লগ প্লাটফর্মকে ব্যবহার করবেই , তাই না? এবং শুধু আমি কেন লিয়াকত, যতজন ব্লগারের মতামত দেয়া আছে, তারা নিজ নিজ প্লাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করছেন। কি বলেন ব্রাদার?
তাও ভাল আপনি ১০০% বলেননি, তাহলে সেটা পুরোপুরিই রাজনৈতিক নেতাদের কথার মত শোনাতো। সব দলই বলে, দেশে সব জনগণ তাদের সাথে আছে!
দরিদ্র জনগণ মূলত কারো পক্ষে থাকেনা, বিপক্ষে থাকেনা। জীবন তাদের পক্ষে-বিপক্ষে যাওয়া বিলাসী সুযোগ দেয় না। পক্ষে-বিপক্ষে যাওয়া সুযোগ এবং প্রয়োজনীয়তা থাকে সুশীল সমাজের, দাতাগোষ্ঠির।
জনগণ ডঃ ইউনূসের পক্ষে আছে, তাহলে জনগণের ঋণের টাকা ফেরৎ নিতে তাদের ঘরের টিন খুলে নেয়ার অভিযোগ উঠছে কেন?
কেউ কেউ বলেন, লোকে টাকা ফেরৎ দিতে গড়িমসি করেন, তখন এমন কিছু করতেই হয়। তাহলে গ্রামীণ ব্যাংক ডিফল্টারদের সাথে নেই! এবং এই ডিফল্টার কি আপনার বাকি ২০% ?
খুব সম্ভবত আমার পোস্টের শেষের দিকের কিছু পয়েন্ট আকারে তোলা প্রশ্নগুলো আপনাকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছে। আপনি যা করতে পারতেন, তা হলো, একটা একটা করে সেগুলোর উত্তর প্রদান করা। অথচ, ভেবে দেখেন, আপনি কী করলেন!!!!
Pingback: The 3rd world view Protests Against Removal of Nobel Laureate Dr. Muhammad … | The 3rd world View
ড. ইউনূস যা করেছেন সেরকম একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে, ভুলত্রুটিগুলো থেকে বের হয়ে সফল আরেকটি প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়ে, বাংলাদেশের ৮৩ লক্ষ লোককে একপ্ল্যাটফর্মে দাঁড় করিয়ে তারপর তাঁর সমালোচনা করলে মনে হয় আমরা যুক্তি খুঁজে পেতাম তিনি ভালো করেছেন না খারাপ করেছেন।
Pingback: Netizens of Bangladesh are divided on removal of Muhammad Yunus From Grameen Bank
I had got a dream to begin my company, but I didn’t earn enough amount of money to do it. Thank goodness my close colleague said to utilize the credit loans. So I used the collateral loan and made real my dream.
নাইস ইনফরমেশন.. গুড পোস্ট এন্ড থ্যাংকস ফর পোস্টিং দ্যাট।