ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এমন নাজুক, ভাষাহীন ভয়ানক লজ্জাকর পরিস্থিতির মধ্যে যেন কোন মা বাবাকে পরতে না হয় সেটা বলতে ইচ্ছে করে কিন্তু আমি বলে কি হবে? সারা বিশ্বে সারা দেশে যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে আরো কত বাবা মার জন্য না জানি কি পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে, কে জানে ।নিজের ছেলে সন্তানের মূখ জঙ্গীর লাশ হয়ে দেখা কেমন ভয়ানক অবস্থা কল্পনা করা যাইনা ।

কিছু দিন নিখোঁজ থাকার পর জঙ্গীর লাশ হয়ে যথন সেই নিজের রক্তের ছেলেকে দেখতে হয় তখন সেই মা-বাবার বুকের যন্ত্রনা, হৃদয়ের আকুতি কেমন হয় তা তারা ছাড়া কেউ উপলব্ধি করতে পারবেনা ।

সব বাবা মা যখন কোন শিশু জন্ম দেয় তখন অনেক আশা প্রত্যাশা লালন করে নিজেদের অজান্তেই সেই নতুন শিশুকে ঘিরে । জন্মের পর থেকে যেন কোন সমস্যার মধ্যেই পরতে না হয় এমন কত যত্ন কত আদর কত ব্যবস্থা একটি শিশুর জন্য সে যেন বড় হয়ে মানুষের মত মানুষ হয়, বাবা মা আত্নীয় স্বজন সবার মূখ যেন উজ্জ্বল করতে পারে এমন চাওয়া থাকে ।

যতই বড় হতে থাকে ততই যেন মা বাবা দায়িত্ব বাড়তে থাকে, তার পড়াশুনা, তার মৌলিক চাহিদা, তার চিকিৎসা সব কিছুই মা বাবাই একমাত্র সম্বল । স্কুল জীবন পার হয়ে যখন কলেজ র্পযায়ে উঠে তখন একটু যেমন দায়িত্বের বোঝা কমে আবার যখন এইচএসসি পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় র্পযায়ে যায় তখন আরো বেশী অন্যরকম নিশ্চিত হয় মা-বাবা কারন তখনই একজন সন্তান কোন র্পযায়ে প্রতিষ্ঠিত হবে তা মোটামোটি যেন স্থির হয়ে যায় ।অথচ যাদের জংগী হিসাবে দেখতে পাচ্ছি তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এ বয়সেরই, যেখানে মা বাবা একটু নিশ্চিন্ত হবার সময় তখনই এ পরিস্থিতি ।

আমি তুমি আমরা সবাই সন্তানের অবস্থা এবং অবস্থানের জন্য মাবাবাকে এক বাক্যে দোষ দিতে দ্বিধাবোধ করিনা । কারো সন্তান যদি খারাপ হয় তাহলে এককথাই বলি কেমন মা-বাবার সন্তান, কেমন পরিবারের সন্তান? এবং এটাই স্বাভাবিক ।

লিখতে গিয়ে আমি লিখতে পারছিনা । মাথায় কত চিন্তা খেলছে কত ভাবনা ঘুরছে কিন্তু সাজাতে পারছিনা । আমার সন্তানদের কথা চিন্তা করে আঁটকে যাচ্ছি । হঠাৎ যদি কোন দিন আমার এমন অযাচিত সংবাদ আমাকে গ্রহন করতে হয়? কি করবো আমি মা হয়ে? না ভাবতে পারিনা এসব ।

সব বাবা মাই চায় নিজের চেয়ে সন্তানেরা যেন আরো ভাল হয় আরো বড় মানুষ হয় আরো যেন সবার মন জয় করে তার ভাল আচরন দ্বারা । কিন্তু সবার স্বপ্ন কি বাস্তব হয়? তা হয়না, তাই বলে যা কোনদিন ভাবা যায়না এমন যদি হয় তাহলে প্রাণ নিয়ে বেঁচে থাকাটা কত যন্ত্রনার তা সেই বাবা মাই কেবল অনুভব করতে পারবে ।

তার বেদনা শুধু সেই বাবা মার না, এ বেদনা এ লজ্জা এ কষ্ট  সবারই, এ জন্য পরিবার সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দেশ সবারই এ মুর্হুতে অনেক বড় দায়িত্ব যেন কোন মা -বাবাকে এমন ভয়ানক পরিস্থিতির সন্মূখীন হতে না হয় ।