ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

21_DB+Arrest_Safat_Shadman_120517_0002

কিছুদিন পরপরই ধর্ষণ, ধর্ষিত হওয়ার খবর নিয়মিত ভাবেই প্রকাশিত হচ্ছে। গ্রাম থেকে শহর, দরিদ্র থেকে ধনী, অশিক্ষিত থেকে উচ্চশিক্ষিত, চাষী থেকে বড় ব্যবসায়ী কোন শ্রেণীরই বাদ নেই এই পশুবৃত্তির হিংস্র থাবা থেকে।  সচেতন, অচেতন নারী-পুরুষ সকল ধরনের মানুষই জানে ধর্ষণ একটি জঘন্যতম শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং সামান্যতম মানবতাবোধ হৃদয় নামক স্থানে থাকলে এমন ধরনের নিকৃষ্টতম অপরাধ তার দ্বারা সংঘটিত হতে পারেনা।

আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে এবং তাদের বন্ধুমহল দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণ নিয়েই বলতে চাচ্ছিলাম। কত নাটক কত ড্রামা কত আলোচনা সমালোচনা পক্ষ-বিপক্ষ সবকিছুই যেন কেমন ইঙ্গিত দেয় বরাবরের মতই, যারা ধর্ষিত হয়েছে তাদের দিকেই যেন আঙ্গুল নির্দেশ করে অনেকেই। পরিবার, সমাজ, পুলিশ প্রশাসন যেন প্রকৃত অপরাধীদেরকেই বাঁচানোর জন্য এমন নাটক করে চলেছে।  মামলা নিতেই সময় লেগেছে ৪৮ ঘন্টা, তাও থানায় অবস্থান করার পর। যদিও ঘটনার পর মাস পেরিয়ে গেল।

এখানেও নানা মনের নানা মত, ধর্ষিত হওয়ার এতদিন পার হওয়ার পর কেন মামলা করলো। এতদিন তাহলে আপোষ মীমাংসা করার জন্য চেষ্টা চলছিল নাকি অন্যকিছু যা সমাধান হয়নি বলে মামলার সিদ্ধান্ত নিলো।  যদি ধর্ষিতই হতো সাথে সাথে মামলা করলো না কেন? আর সারারাত মেয়ে ঘরে ফেরেনি, কেমন অভিভাবক যে একবারও খোঁজ নিল না মেয়ে কোথায় এবং না ফিরলে পুলিশকে জানালো না কেন? এভাবে নানা প্রশ্নবানে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানেই অপরাধীর পক্ষে সাফাই গেয়ে ভিকটিমদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করার পায়তারা ছাড়া আর কিছুনা।

আমারা আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি, আচার আচরণের কথা একদম ভুলে যাই। যারা ভিকটিম তারা তো এ সমাজেরই সন্তান এ সমাজেরই কৃষ্টি কালচারের পরিধির ভিতরেই অবস্থান। যখন তাদের এমন নৃশংস ঘটনার শিকার হতে হয়েছিল তখন তাদের মানসিকতার পরিস্থিতি তারা এবং তাদের পরিবার ছাড়া আর কেউ উপলব্ধি করতে পারবেনা।  মেয়ের বিপদ মানেই চোখ বন্ধ করে পরিবার থেকে শুরু করে সবাই বলতে থাকে যে- মেয়েটিই খারাপ, তার চরিত্রই খারাপ, তার চলন বলনই খারাপ, তার পোশাক-পরিচ্ছদই খারাপ, সব কিছুই তার খারাপ।

এই যে এভাবে একটি মেয়েকে যদি কেউ সব দোষ তার উপরই চাপিয়ে দেয় তাহলে সেই মেয়েটি বড় বিপদে পরলেও কিভাবে কারো কাছে তার বিপদের কথা জানানোর সাহস করবে? সে তো বরং সবকিছুকে নিজে নিজে হজম করার চেষ্টা করবে কারণ সে শতভাগ ভাল থাকলেও তার উপরই সব দোষ চাপিয়ে দেয়া হয়।

যতগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্ষিতদের উপরই দোষ চাপিয়ে দিয়েছে অথচ ধর্ষকের বিচার হোক শাস্তি হোক এ নিয়ে কয়জনে খোলাখুলিভাবে একবাক্যে বিচার চায়? যখন ঘটনা ঘটে তখন শুরু হয় মেয়েটি কেমন ছিল, তার চরিত্র কেমন ছিল, তার মা-বাবা কি মেয়েকে ভাল শিক্ষা দেয়নি বা তার পোশাক-আশাক, চাল-চলনের কারণেই এমন হয়েছে। রাতে মধ্যরাতে ঘরের বাইরে যাওয়ার কারণেই এমন হয়েছে। ভাল ঘরের মেয়েরা রাতে বের হয় নাকি? কত হাবিজাবি যুক্তি সমালোচনা।

পোশাকই যদি তার কারণ হতো তাহলে দুই বছরের শিশু, পাঁচ বছরের শিশু, তারাও কিভাবে ধর্ষিত হয় নর পশুদের দ্বারা? পাশ্চাত্য দেশগুলোতে হাতাকাটা জামা, সর্ট, স্কার্ট শুধুমাত্র বুকের অংশ বা কোমরের নীচের অংশ ঢেকে বা কোথাও কোথাও সম্পূর্ণ খোলামেলাভাবেই পোশাক পরে চলাফেরা করে, তাদের তো এমন হতে শুনিনি। তারা মধ্যরাত কেন সারা রাতই ক্লাবে পুরুষ-মহিলা একসাথে ড্রিংকস করে, হার্ড সফট সব ধরনের ড্রিংকস করে, নাচে গায় হুইহুল্লুর করে তারপরও তো কারো দৃষ্টি হায়েনার মত তা তো শুনিনা।

সবকিছুর মূলে দৃষ্টিভঙ্গি মানসিকতা তা স্বীকার করবেনা হায়েনার বংশজাত জন্মগতভাবে যারা পশুপ্রবৃত্তির অধিকারী। অপরাধীদের বাঁচাতে কত তালবাহানা! পরিবারে হোটেলে আমোদ ফুর্তি করে বেড়ায় আর পুলিশ তাদের ধরতে পারেনা। জনগণের টাকা খেয়ে অপরাধীদের বাঁচানোর এমন পায়তারা আর কতদিন? অনেক করে আসছে, আরো করবে নিশ্চিত। কিন্তু চিরদিনতো এভাবে চলতে পারেনা। জনগণ এখন অনেক সচেতন, পুলিশ তাদের ধরতে না পারলে জনগণের হাতে ছেড়ে দিক।

যারা ধর্ষক তারাতো অপরাধী বটেই, কিন্তু তাদের বাবাসহ আত্মীয়, পুলিশ প্রশাসন যারা নাটক করে ধরতে পারছেনা তারাও অপরাধী। তাদের দোকান-পাট, ব্যাংক হিসাব সব জব্দ করা হোক অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য। তাদের কিভাবে নিন্দা জানাবো, ভাষা খুঁজে পাইনা, পথ খুঁজে পাইনা। তারপরও একটাই দাবি, অপরাধীদের ধরে নাটক না করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করা হোক। শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যেন সাধারণ জনগণ একটু হলেও আস্থা খুঁজে পায়।