ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

সরকারের সংস্থাগুলোর অদক্ষতার কারণে প্রকৃত সামর্থ্যের উৎস থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় করতে পারে না। সেই সাথে কিছু কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অবাধ দুর্নীতি ফলে অনেক করদাতা প্রকৃত রাজস্ব না দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় নিজস্বার্থ বজায় রাখতে এবং সরকারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে রাজস্ব সংস্থাগুলো সরকারকে ভুল বুঝিয়ে অপেক্ষাকৃত সহজ উৎস হতে রাজস্ব আদায়ের ফন্দিফিকির করছে। বিপদের বিষয় হচ্ছে, সহজ উৎস গুলোর সাথে নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত তথা দেশের একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠী জড়িত যাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে দিনে দিনে সরকারের প্রতি অসন্তোষ বাড়বে।

এ বছরের ১ জুলাই হতে সরকার ভ্যাট আইন সর্বাত্মকভাবে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে, অথচ গত অর্থবছর সমূহে সীমিত আকারে যে সকল পন্যে ১৫% ভ্যাট ধার্য ছিলো তা থেকে কি সম্পূর্ণ ভ্যাট আদায় করতে পেরেছে? কিছু ব্যবসায়ী প্যাকেজ ভ্যাটের আওতাধীন ছিলো আর কেউ কেউ মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব কর্মকর্তাদের হাতে কিছু মাসোয়ারা গুঁজে দিয়ে পাড় পেয়ে গেছে। এমনকি প্যাকেজ ভ্যাটের আওতাধীন যারা ছিলো তাদের অনেকের প্যাকেজের পরিমাণ সঠিকভাবে নির্ধারণ হয়নি। এক্ষেত্রে প্রদর্শিত প্যাকেজের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হলেও আতাতের অংশটুকু সুবিধাভোগীদের পকেট ভারী করতো।

একটি সহজ উদাহরণ থেকে দেখতে পাই, মিষ্টি বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাট ধার্য করা থাকলেও আমরা গ্রামগঞ্জের গুলো দূরের কথা বড় শহরের অনেক বড় মিস্টির দোকানগুলো থেকেও মিস্টি ক্রয়ের সময় ভ্যাট চালান পাই না, ফলে এ সকল মিস্টির দোকানদার ভ্যাট জমা দেবার ক্ষেত্রে প্রকৃত বিক্রয়ের তথ্য প্রদান করে তা আশা করা যায় না। এমনকি কেউ কেউ সামান্য মাসোয়ারা দিয়ে পাড় পেয়ে যায়।

সর্বোপরি বলা যায়, রাজস্ব সংস্থাগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি করতে ব্যর্থ হলে, কর এর পরিমাণ ও আওতা বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে না। বরং যে সকল সৎ নাগরিক সঠিক ভাবে কর দিতে চান ওনাদের উপর চাপ দিনে দিনে বাড়বে ফলে সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, অসৎ নাগরিকগণ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় কর ফাঁকি দেবার নতুন নতুন পন্থা বের করবে।