ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বেশ কিছুদিন ধরে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সারা দেশে সহিংসতা, তান্ডব ও নাশকতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর চোরাগুপ্তা আক্রমন সর্বশেষ আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদের গাড়িবহরের ওপর আক্রমন চালানোর মতো রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে। এ আক্রমন থেকে আইনমন্ত্রী অল্পের জন্যে রক্ষা পেলেও তাঁর এপিএসের গাড়িসহ পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। এ আক্রমনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। জামায়াত শিবিরের এ নগ্ন হামলায় বাংলাদেশের প্রগতিশীল সাধারণ সচেতন মানুষ এসব তান্ডব ও পরিকল্পিত নাশকতা সৃষ্টির ঘটনায় সোচ্চার হয়ে ওঠেছে। এ অবস্থায় দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ যখন জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলে রাজপথ উত্তাল করে তুলছে; তখন বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার শিবিরের সহিংসতা বন্ধের জন্য ওই ফ্যাসিষ্ট দল জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের সাথে সংলাপে বসার প্রস্তাব করেন তখন বাংলাদেশকে ভালবাসেন ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক শক্তি তার এ হীন প্রস্তাবকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে এ প্রস্তাবটা কি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভাবনা নাকি ড্যান মজিনার ব্যক্তিগত মত তা জানতে চেয়েছে। তবে ডেন মাজিনা যেহেতু বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সুতরাং মজিনার জামায়াত-শিবিরের সাথে সংলাপে বসার এ কুট ও কৌশলী প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক শিষ্টাচারহীনতারই প্রতিফলন বলে মনে করছে। যে সময় আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানার বাহিনীর পক্ষে দালালী ও সে সময় রাজাকার আলবদর বাহিনী গঠন করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত আব্রু হরণ করে বাংলাদেশে পোড়ামাটির নীতি গ্রহণ করে ‍যুদ্ধাপরাধ করেছে সেই রাজাকার আলবদরদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ চলছে, এবং অচিরেই সেই বিচারের রায় ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে ঠিক এমনই এক মুহূর্তে মজিনার জামায়াত-শিবিরের চলমান সংহিংসতা ও নাশকতা বন্ধের জন্য সরকারকে তাদের সাথে সংলাপে বসার প্রস্তাব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল ও বন্ধেরই নামান্তর।

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও সহিংসতার ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস গতকাল ১৫ নভেম্বর ২০১২ এক বিবৃতিতে এ সংঘাত ও মতপ্রার্থক্য দূর করতে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়। এ আহ্বানের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত-শিবিরের সাথে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে, যা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে আমেরিকার নতুন চাল বলেই মনে করে দেশের রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। কেননা, কোনভাবে একটা আলোচনার আয়োজন করাতে পারলেই প্রশ্ন আসবে চলমান যুদ্ধাপরাদের বিচার বন্ধ করে গ্রেফতারকৃত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তিদানের বিষয়টি। আমেরিকা যেহেতু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র সুতরাং সেই মিত্রদের লবিংয়ের কারণেই হয়তো যুক্তরাষ্ট্র এ ধরণের সংলাপের প্রস্তাব দিযে থাকতে পারে। আমেরিকার এ চালাকিটা সরকার ও সরকারের স্বরাষ্টমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন বলেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর এ সংলাপের প্রস্তাব প্রসঙ্গে বলেছেন,‘যারা দেশের আইনমন্ত্রীকে অকারণে আক্রমন করতে দ্বিধা করে না, যারা খুনি, ডাকাত, মানুষ হত্যা করে; তাদের সঙ্গে কিসের সংলাপ? আগে তাদের দমন করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের মাধমেই যে, যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপের প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে তা নিশ্চয়ই ড্যান মজিনার বোঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

সুতরাং আমরা চাইনা যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সব কিছুতেই নাক গলাক। সব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের সাথে সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে ড্যান মজিনা বা যুক্তরাষ্ট্র কা’দের স্বার্থ হাসিল করতে যাচ্ছে, তা সহজেই অনুমিত। যুক্তরাষ্ট্রের এ মনোভাবে অনেকেই সন্দেহ করে বলেছেন, দেখুন তারাই আবার সংলাপের অজুহাত সৃষ্টির জন্যে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছে কিনা ?